ভারতবর্ষে ভক্তিধর্মের প্রসারের ইতিহাস খুবই প্রাচীন। ভক্ত এবং ঈশ্বরের মধ্যে সংযোগ সেতু কোন আচার-অনুষ্ঠান নয়, বরং নির্ভেজাল ভক্তিই যথেষ্ট — এই মতবাদ জোয়ারের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে। ঈশ্বরের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ভক্তের হৃদয় থেকে উৎসারিত হয়েছিল ঈশ্বরের নামগান, যা কীর্তন গান বা সঙ্কীর্তন নামেই পরিচিত। ভারতবর্ষে মূলত বৈষ্ণব ধর্মের ধারাবাহিকতার সঙ্গেই এই কীর্তন গানের উদ্ভব ও প্রসারকে ব্যাখা করা যায়। তবে কীর্তনের গন্ডি কেবল এই একটিমাত্র ধর্মের পরিসরে আবদ্ধ থাকেনি কীর্তন মূলত ঈশ্বরভজনার গান—এই অর্থেই এর বহুল ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ভাগবতপুরাণ বা ভক্তিরাসমৃতসিন্ধুর মতো ধর্মীয় গ্রন্থে কীর্তনগানের মহিমার কথা উল্লিখিত রয়েছে। বঙ্গদেশে মূলত চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পর থেকেই এই কীর্তন গান প্রসার লাভ করেছিল। চৈতন্যদেব যখন ভক্তিধর্মকে বাংলার ঘরে ঘরে উচ্চনীচ নির্বিশেষে পৌঁছে দিলেন এবং কীর্তনকে ঈশ্বরসাধনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেন, তখন থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত এই কীর্তনগানের খ্যাতি অম্লান রয়ে গিয়েছে।
কৃৎ ধাতু থেকে কীর্তন শব্দের উৎপত্তি। কীর্তনের শব্দের সাধারণ অর্থ – কথন, বচন, বর্ণন, ঘোষণা। তবে, কীর্তন বলতে আমরা যা বুঝি তা হল, ঈশ্বরের বিশেষত শ্রীকৃষ্ণের গুণগান ও যশগান। কীর্তি এবং কীর্তন—এই দুটি শব্দেরই জন্ম কৃৎ ধাতু থেকে যার অর্থ প্রশংসা। মৃত ব্যক্তির যে যশ তাকেই সাধারণত কীর্তি বলা হয়ে থাকে, কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতে বৃন্দাবনে প্রবেশের সময় কৃষ্ণের সুন্দর দেহ এবং নয়নাভিরাম সজ্জার যে প্রশংসা ব্রজবাসীরা গানের মাধ্যমে করেছিলেন তাকে ভাগবৎকার ‘গীতকীর্তি’ বলেছেন। ভক্ত ও সাধকদের কাছে তাই বরাবরই রূপে, শৌর্যে, জ্ঞানে ও কর্মে যিনি শ্রেষ্ঠ সেই পরমেশ্বরের গুণ ও যশসূচক গানই কীর্তন গান হিসেবে প্রচলিত। খগেন্দ্রনাথ মিত্রকে উদ্ধৃত করে বলা যায়, ‘কীর্তন বলিতে ভগবদবিষয়ক সংগীত বুঝায় এবং বিশেষভাবে কৃষ্ণলীলা অবলম্বন করিয়া যে সংগীত তাহাকেই কীর্তন নামে অভিহিত করা হয়’।
এখানে উল্লেখ্য যে, কীর্তন একক সঙ্গীত হিসেবেও গীত হতে পারে আবার সমবেতভাবেও এই কীর্তন গান করা হয়। তবে ভাগবতের অধিকাংশ জায়গায় সম্মেলক কীর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। জীব গোস্বামীর রচনা অনুযায়ী সমবেতভাবে ঈশ্বরের নামযশগুণাবলীর গান করাকে সঙ্কীর্তন বলা হয়ে থাকে। ভক্তিধর্মের আদর্শ ও সর্বজনীনতার কথা মাথায় রেখে ভাবলে সমবেতভাবে কীর্তনগানেই তার সার্থকতা।
তবে কীর্তন শব্দটিকে একচেটিয়াভাবে কেবল এই বঙ্গদেশের ভাবা চলবে না, কারণ মহারাষ্ট্রের সাধক কবি তুকারাম যে গান গাইতেন তাকেও কীর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তুকারাম কীর্তনকে পবিত্র গঙ্গার ধারার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে মহারাষ্ট্রের নামদেবের কীর্তনও খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।
ঈশ্বর বা দেবতার নামগানের প্রচলন ভারতবর্ষে বহু প্রাচীন। বৈদিক যুগে উপাসনার অঙ্গ হিসেবে সঙ্গীতের ব্যবহার লক্ষ করা গেছে। প্রাচীন ঋষি নারদকেও পদ্মপুরাণে কীর্তনকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঈশ্বরসাধনার বিশেষ পদ্ধতি হিসেবে কীর্তন ভক্তিধর্মের প্রচলনের পর থেকেই ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। দাক্ষিণাত্যে ঈশ্বর-আরাধনার জন্য সঙ্গীতের ব্যবহার প্রথম লক্ষ করা গিয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন। তামিলনাড়ু ও কেরলের আড়বার সন্তরা, যাঁরা আনুমানিক ষষ্ঠ থেকে নবম শতকে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে মনে করা হয়, তাঁরা বিভিন্ন মন্দিরে, দেবস্থানে শ্রীকৃষ্ণের নামগুণলীলার গান গেয়ে উপাসনা করতেন। তাঁরা ‘দিব্যপ্রবন্ধম’ নামে প্রায় চারহাজার এমন গান রচনা করেছিলেন। চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে সারা ভারত জুড়ে ভক্তিধর্মের জোয়ার আসে এবং সেইসঙ্গেই ভজন-কীর্তনও ব্যাপকভাবে প্রসারলাভ করে। এই ভজন এবং কীর্তনের মধ্যেও আবার যে পার্থক্যটি রয়েছে সেটি ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ভজন একক সঙ্গীত এবং কীর্তন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমবেত সঙ্গীত। ভগবদ-সঙ্গীত অনেক জায়গাতেই ভজন নামে পরিচিত কিন্তু বাংলার কীর্তন সঙ্গীত যে অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় কতখানি স্বতন্ত্র এবং অতুলনীয় তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন খগেন্দ্রনাথ মিত্র।
অনেকে মনে করে থাকেন যে, জয়দেবের গীতগোবিন্দ বঙ্গদেশে কীর্তনের আবির্ভাবের নেপথ্যে দারুণভাবে সক্রিয় ছিল। বাংলা সাহিত্যে যখন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ রচিত হয় তাতে গীতগোবিন্দের ব্যপক প্রভাব দেখা যায়। তবে বাংলায় চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পরেই কীর্তন এই বঙ্গদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মহাপ্রভু নিজে কীর্তনগান করে যখন কৃষ্ণের মহিমা প্রচার করতেন সারা বঙ্গদেশ তাঁর সঙ্গে গলা মেলাত। চৈতন্যদেব যেন বাংলার মানুষকে কীর্তনের মহিমা বুঝিয়ে দিয়ে নতুন এক উপলব্ধির জগতে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
কীর্তনের সাধারণত যে দুটি প্রকার সাধারণ্যে প্রচলিত তা হল, নামকীর্তন এবং লীলাকীর্তন বা রসকীর্তন। সুরে ভগবানের নামটুকু কেবল গীত হয় যেখানে, সেটিই নামকীর্তন নামে পরিচিত। একটানা কেবল হরে কৃষ্ণ হরে রাম বলে যাওয়াতে একঘেয়েমি আসার কথা, কিন্তু কখনই গায়কদের মধ্যে সেই একঘেয়ে বিরক্তি লক্ষ করা যায় না, ভাবের মাদকতায় সকলেই মোহিত হয়ে থাকেন। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবই আসলে এই নামকীর্তনের প্রবর্তন করেছিলেন। যখন মহাপ্রভু তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে নগরের পথে পথে এই নামকীর্তন করে বেড়াতেন, তখন তার নাম হয় নগর-কীর্তন।
লীলাকীর্তন সবচেয়ে প্রাচীন। কৃষ্ণরাধার বা গোপীগণ ও শ্রীকৃষ্ণের নানারকম লীলার বর্ণনা যে কীর্তন গানে থাকে, সেটিই লীলাকীর্তন নামে পরিচিত। জয়দেবের গীতগোবিন্দের গানগুলি এই লীলাকীর্তনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে। চৈতন্যদেবও পরবর্তীকালে লীলাকীর্তনের বিষয় হয়ে উঠেছিলেন। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য লীলাকীর্তন হল: গোষ্ঠ, মাথুর, নৌকাবিলাস, নিমাই সন্ন্যাস ইত্যাদি।
এই দুই ভাগ ছাড়াও কীর্তনের আরও যে ভাগগুলি রয়েছে, সেগুলি হল: বন্দনা কীর্তন, প্রার্থনা কীর্তন, আরতি কীর্তন, অধিবাস কীর্তন, পরবগান, সূচক কীর্তন, পদাবলী কীর্তন। পরবর্তীকালে অবশ্য এই পদাবলী কীর্তন লীলাকীর্তনেরই অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল।
নারদীয় কীর্তন হল কীর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা। মহারাষ্ট্রে প্রচলিত নারদীয় কীর্তনে সাধারণত একজন বড়জোর দুজন কীর্তনকার গান করেন। নামকীর্তন এই নারদীয় কীর্তনেরই একটি ভাগ।
চৈতন্য-উত্তর যুগে এই লীলাকীর্তন আবার স্থানভেদে পাঁচটি ধারায় বিকশিত হয়েছিল, যথা, গড়ানহাটি, মনোহরশাহী, রেনেটি, মন্দারিনী এবং ঝাড়খন্ডি। এই পাঁচ ধারার প্রবর্তকও আবার ভিন্ন ভিন্ন। গড়ানহাটি ধারার প্রবর্তন করেন নরোত্তম দাস। প্রথমে গৌরচন্দ্রিকা গাওয়ার পর তিনি মূল কীর্তন গাওয়ার রীতিটি প্রচলন করেছিলেন। মনোহরশাহী ধারার প্রবর্তন করেছিলেন জ্ঞানদাস মনোহর। রেনেটি ধারার প্রবর্তক ছিলেন বিপ্রদাস ঘোষ, মন্দারিণী কীর্তনের প্রবর্তন হয় মন্দারণ সরকার নামের এক জনৈক কীর্তনীয়ার হাতে এবং ঝাড়খন্ডি কীর্তনের প্রবর্তন হয়েছিল মূলত ঝাড়খন্ড অঞ্চলে। উনবিংশ শতকে টপ্পাগানের প্রাদুর্ভাবের পর আরেকটি নতুন ধারা ঢপকীর্তনের প্রবর্তন হয়।
কীর্তন মূলত ভাবাবেগের গান হলেও সময় নির্বিশেষে বিশেষ কিছু রাগ-রাগিনী অবলম্বন করে কীর্তন গাওয়া হয়ে থাকে। সকালে ভৈরবী রাগে, দুপুরে বাগেশ্রী রাগে, সন্ধ্যায় পূরবী ও ইমন-কল্যাণ রাগে এবং রাত্রে বেহাগ রাগে কীর্তন গাওয়া হয়। অষ্টপ্রহর, ষোলো প্রহর, চব্বিশ প্রহর কখনও বা আটচল্লিশ প্রহরও টানা নামগান চলতে দেখা গেছে। খোল ও করতাল হল কীর্তনের দুটি প্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্র। মনে করা হয় কীর্তনে খোলের প্রবর্তন করেছিলেন স্বয়ং মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব। চৈতন্যদেবের আবিষ্কার বলে বৈষ্ণবেরা খোলের আগে সম্মানসূচক ‘শ্রী’ যুক্ত করে কীর্তনের খোলকে শ্রীখোল নামে পরিচিত করে তুলেছে।
কীর্তন বঙ্গসংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। উৎসবে কিংবা কখনও মৃত্যুপরবর্তী শোকের আসরেও কীর্তন গান গীত হতে দেখা যায়। একটি মহোৎসবের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়, সেটি হল খেতরী মহোৎসব। রাজা সন্তোষ দত্ত এই উৎসবে ছয়টি বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেই উপলক্ষে বৈষ্ণব জগতের শ্রেষ্ঠ সব মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেখানে জাহ্নবী দেবী, শ্রীনিবাস আচার্য্য, মহাকবি গোবিন্দদাস, জ্ঞানদাস, রঘুনন্দন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি সমবেত হয়েছিলেন। কীর্তনের সর্বোচ্চ শিখর যেন এই মহোৎসবেই দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। এখানে যে কীর্তনের সুর প্রবর্তিত হয়েছিল সেটিই আসলে গরানহাটী স্টাইল নামে পরিচিত। এই খেতরী মহোৎসব আজও সমানভাবেই জনপ্রিয় রয়ে গেছে। রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে বা বৈষ্ণব মঠ বা আশ্রমে আজও নিয়মিত কীর্তনের আসর বসে। সেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা জড়ো হন ভক্ত মানুষের দল। কীর্তনের সেই পুরাতন জৌলুস কমে গেলেও আজও বিশেষ বিশেষ সময়ে আজও কীর্তন গানই শুনতে পাওয়া যায়।
যদি জয়দেবের গীতগোবিন্দ থেকে বঙ্গদেশে কীর্তনগানের আবির্ভাব ধরা হয়, তারপর থেকে এই কীর্তনের নানারকম বিবর্তন ঘটেছে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হয়ে বৈষ্ণব পদাবলী পেরিয়ে উনিশ শতক পর্যন্ত কীর্তন সমৃদ্ধ যেমন হয়েছে, তেমনি নতুন জিনিস মিশে তার কিছু কিছু পরিবর্তনও হয়েছে। চৈতন্যপূর্ব যুগে কীর্তনের আবির্ভাব হলেও কীর্তন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এবং এর ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল চৈতন্যদেবের সময় থেকেই। এতদিন মূলত লীলাকীর্তনের অস্তিত্ব ছিল, চৈতন্যদেব এসে নামকীর্তনের প্রবর্তন করলেন। দলবল নিয়ে নগরের পথে পথে ঘুরে কীর্তন করলেন, যার নাম হল নগরকীর্তন। বিভিন্ন পদকর্তার রচিত খন্ডকবিতা বা পদগুলিও অসংখ্য গায়ক বঙ্গদেশে কীর্তন করে বেড়িয়ে রসপ্রবাহ বইয়ে দিয়েছিলেন। কীর্তনের ধাঁচে বৈষ্ণব সাহিত্যের পদগুলি গীত হলেই সেগুলির চরম সার্থকতা। চন্ডীদাস, গোবিন্দদাস, জ্ঞানদাস, বলরাম দাসের মতো পদকর্তাদের রচনায় পদাবলী সাহিত্য সমৃদ্ধ হতে থাকে এবং কীর্তনও উচ্চশিখরে পৌঁছে যায়। এরপর খেতরীর মহোৎসবে কীর্তন শুরুর আগে গৌরচন্দ্রিকা গাইবার রীতি প্রবর্তিত হয়েছিল। পদাবলীর যুগ পেরিয়ে যখন আধুনিক যুগে এসে কীর্তন পদার্পণ করেছিল, তার সঙ্গে টপ্পা, ঠুংরি, কবিগানের মিশেল হতে শুরু করে। টপ্পার মিশ্রণে ঢপকীর্তন নামে একটি কীর্তনের ধারার প্রচলন পর্যন্ত হয়েছিল। যাত্রায় এমনকি থিয়েটারেও কীর্তনের নানা সুর ভেঙে গায়কদের নতুন সুর সৃষ্টি করতেও দেখা গিয়েছিল। ঐসমস্ত সুর কীর্তন নামেই চলত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রেণেটি ও মন্দারিণী সুরের সঙ্গে অন্য সুর মিলিয়ে সেইসব সুর তৈরি হত। ফলত, কীর্তনের আসল গাম্ভীর্য তা থেকে আন্দাজ করা মুশকিল হয়ে পড়েছিল এবং কীর্তন বলতে সেসময় একটি লঘুছন্দের গীত-পদ্ধতি বোঝাতে শুরু করেছিল। অবশ্য ক্রমে সেই লঘু ও তরল ধারণার অবসান হলেও কীর্তনের জৌলুস বর্তমানে অনেকটাই কমে গিয়েছে।
বঙ্গদেশের কয়েকজন বিখ্যাত কীর্তনিয়া যাঁরা কীর্তন গানকে দারুণ জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে শ্রীনিবাস আচার্য, নরোত্তম দাস ঠাকুর, শ্রী শ্যামানন্দ, রসিক দাস, গণেশ দাস, নন্দকিশোর দাস, কৃষ্ণচন্দ্র দে, রাধারাণী, রথীন ঘোষ, ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিদাস কর প্রমুখ খুবই উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে কীর্তনের প্রচলন থাকলেও তার জনপ্রিয়তা যে কমেছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আদিবাসী ও তথ্যসংস্কৃতি দফতরের সহযোগিতায় এবং নবদ্বীপ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান নবদ্বীপেই সর্বপ্রথম ‘রাজ্য কীর্তন উৎসব ২০১৪’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কীর্তনের উজ্জ্বল ঐতিহ্যকে জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরার এই প্রয়াস সত্যিই প্রশংসনীয়। ভাববিহ্বল ঈশ্বর আরাধনার এই কীর্তন গানের যে আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব তার মূল্য সত্যিই অপরিসীম।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- বাংলা কীর্তনের ইতিহাস, হিতেশরঞ্জন সান্যাল, কে পি বাগচী, ২০১২
- বাংলার কীর্তন গান, ড. মৃগাঙ্কশেখর চক্রবর্তী, সাহিত্যলোক, ১৯৯৮
- কীর্তন, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দ
- https://en.m.wikipedia.org/
- http://gourikirtan.com/
- http://onushilon.org/


আপনার মতামত জানান