সববাংলায়

মিস শেফালি : কাজের মেয়ে থেকে ক্যাবারে কুইন

কঠিন জীবন সংগ্রামে হার না মেনে এগিয়ে চলা এবং সাফল্যের উত্তুঙ্গ শিখরে পৌঁছনো নারীদের কাহিনি আমাদের বিস্মিত করে। গত শতাব্দীর এক অত্যন্ত জনপ্রিয় বাঙালি রমণীর জীবনও ঠিক তেমনই বিচিত্র ও বিস্ময়কর ছিল। তিনি জনমানসের কাছে মিস শেফালি (Miss Shefali) নামে পরিচিত ছিলেন। পূর্ববঙ্গের এক উদ্বাস্তু পরিবার থেকে উঠে আসা সেই মেয়ে কীভাবে একজন ক্যাবারে ডান্সার এবং সেখান থেকে চলচ্চিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় মুখ হয়ে উঠেছিলেন তা সত্যিই অবাক করে দেয়। সত্যজিৎ রায়ের মতো বিশ্ববরেণ্য চিত্রপরিচালকও তাঁকে সিনেমার জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলেন। প্রথম বাঙালি এই ক্যাবারে ডান্সারের ভক্ত ছিলেন উত্তম কুমারের মতো আরও অনেক খ্যাতনামা মানুষ। মিস শেফালিকে চিনত না এমন বাঙালি তখন দুর্লভ। তাঁর লাস্যময়তা এবং নৃত্যশৈলীর জন্য তিনি ‘কলকাতার হেলেন’ নামেও পরিচিত ছিলেন।

১৯৪৪ সালের ৪ মার্চ ব্রিটিশ অধ্যুষিত ভারতবর্ষের অধুনা বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে এক বাঙালি হিন্দু পরিবারে মিস শেফালির জন্ম হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, তাঁর আসল নাম অর্থাৎ পারিবারিক নাম ছিল আরতি দাস (Arati Das)। তিন বোনের মধ্যে আরতি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর পিতার নাম রামকৃষ্ণ দাস এবং মা ছিলেন সুভাষিণী দাস। আরতির বাবা এক পাট ব্যবসায়ীর গদিতে খাতা লেখার কাজ করতেন। এছাড়াও রামকৃষ্ণবাবু কথকতাও করতেন। পূর্ববঙ্গে থাকতে তাঁদের খাওয়া-পরার অভাব হয়নি কোনদিন। তবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গ থেকে উৎখাত হয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে তাঁদের চলে আসতে হয়েছিল এপার বাংলায়, কলকাতায়। আরতির বাবা কোনক্রমে উত্তর কলকাতার আহিরীটোলায় একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই জোগাড় করতে পেরেছিলেন। ওপার বাংলার সেই স্বচ্ছল পরিবার এপারে এসে ক্রমে আর্থিক সংকটের মুখে পড়ল। ওদেশ থেকে আনা পুঁজি ক্রমেই ফুরিয়ে গেল। সেই সময় পেট চালানোর জন্য আরতির মা বাধ্য হয়ে লোকের বাড়ি রান্নার কাজ, ধোওয়া-মোছার কাজে ঢুকলেন। অন্যদিকে আরতির বাবা এক ফল ব্যবসায়ীর তিন-চারটে দোকানের হিসেব রাখবার কাজ জুটিয়েছিলেন।

সংসারের অবস্থার কারণেই ভাল কোন স্কুলে ভর্তি হতে পারেননি আরতি, আহিরীটোলার একটি পাঠশালায় যেতেন পড়াশোনার জন্য। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শেফালি লিখেছেন যে, যখন তাঁর পাঁচ-ছয় বছর বয়স তখন থেকেই নাচতে ভালবাসতেন তিনি। সন্ধেবেলা হলেই তাঁর পা-দুটো নেচে উঠত।

আরতি ক্রমশ যখন বড় হয়ে উঠতে লাগলেন তাঁর স্বপ্নও বাড়তে লাগল। তিনি চাইতেন কিছু একটা চাকরি করতে, কিন্তু পাঠশালার পর আর পড়াশোনা তো এগোয়নি, ফলে ভাল কোন চাকরি পাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। অবশেষে বাণী নামের একটি মেয়ে তাঁকে একটি বাড়িতে কাজের কথা বলে। প্রথমে আরতির মা তাতে রাজি না হলেও পরে মেনে নিয়েছিলেন। বাণী তাঁকে চাঁদনি চকের এক অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের বাড়িতে কাজে ঢুকিয়ে দিল। আরতির কাছে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান বলে আলাদা কিছু ছিল না, সে সাদা চামড়ার সেই মানুষগুলিকে সাহেব বলেই বুঝত। সেই বাড়িতে একরকম দাসীবৃত্তির কাজই করতে হত আরতিকে। অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের সেই বাড়িতে ঘন ঘন পার্টি লেগেই থাকত। রোজ সন্ধেবেলা সেখানে অতিথি সমাগম হত এবং গল্পগুজবের সঙ্গে চলত অঢেল মদ্যপান। পার্টি চলাকালীন এঁটো গ্লাসগুলি ধুয়ে পরের রাউন্ডের জন্য রেডি রাখা, মালকিনের হুকুম অনুযায়ী স্ন্যাকস সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কাজ তাঁকে করতে হত। সেখানে অজ্ঞাত কোন এক হাতের দ্বারা রাত্রে যৌন হেনস্তাও সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সেই অ্যাংলো ইন্ডিয়ান বাড়ির পার্টিতে আরতির নেশা লেগে গিয়েছিল একটিই কারণে, তা হল নাচ। নানারকম ওয়েস্টার্ন ঘরানার নাচ যেমন, চা চা চা, রক অ্যান্ড রোল, ওয়ালৎস ইত্যাদি নাচের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটে তাঁর। পর্দার আড়াল থেকে তিনি অতিথিদের নাচ দেখতেন, তালে তালে সেই আড়ালে দাঁড়িয়েই পা নাড়তেন তিনি। পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে আরতির সেই নাচ দেখে ফেলেছিলেন ভিভিয়ান হ্যানসন নামের এক অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সাহেব। তিনি মোক্যাম্বো রেস্টুরেন্টে গান গাইতেন। ভিভিয়ান খুব আন্তরিকভাবেই কথা বলতেন আরতির সঙ্গে। মাস ছয়-সাত সেই বাড়িতে ঝি-গিরি করে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন আরতি, তখন একদিন ভিভিয়ানকে তিনি নিজের জন্য একটি কাজ জোগাড় করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

বাড়িতে না জানিয়েই এই ভিভিয়ান হ্যানসনের সঙ্গে আরতি গিয়ে হাজির হয়েছিল ওবেরয় গ্র্যান্ড হোটেলে। যদিও শহরের সেই সেরা হোটেলে নর্তকী হিসেবে একটি নতুন মেয়ের সুযোগ পাওয়া যে মুশকিল ভিভিয়ান তা বুঝতে পেরেছিল। তখন আরতিকে নিয়ে তিনি গিয়ে হাজির হয়েছিলেন চাঁদনি চকেরই ফিরপো হোটেলে। সেখানেই ক্যাবারে নর্তকীর কাজ পেয়ে গিয়েছিলেন আরতি। সেই সময় কলকাতায় অভিজাত ও বিত্তবান মানুষদের বিনোদনের উপাদান ছিল এই ক্যাবারে নাচ। সাধারণত বিদেশি এবং বেশিরভাগ অ্যাংলো ইন্ডিয়ান মেয়েরাই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকত। রক্ষণশীল, মার্জিত রুচির বাঙালি সমাজের কাছে সেই নাচ অশ্লীল, ফলত বর্জনীয়। সেই সময় এক বাঙালি মেয়ের ক্যাবারে ডান্সার হিসেবে আত্মপ্রকাশ স্বভাবতই খুব বৈপ্লবিক ছিল। অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ক্যাবারে ডান্সারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও আরতির কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু তবুও তিনি নিজের জমি ছাড়েননি। মাত্র ১২ বছর বয়সে ফিরপো হোটেলের ক্যাবারে নর্তকী হয়েছিলেন তিনি। ছোট্ট ঘুপচি ঘর থেকে হোটেলের প্রাসাদসুলভ কামরায় থাকার সুযোগ মিলে ছিল তাঁর। নাচের ট্রায়ালে পাশ করে প্রচুর হাততালি কুড়িয়েছিলেন আরতি। সেই ফিরপো হোটেলেরই উচ্চপদস্থ রামনাথ কাপুর আরতি নাম বাতিল করে তাঁর নাম রেখেছিলেন শেফালি। এখান থেকেই শেফালির যে যাত্রা শুরু হল তা আর কেউ আটকাতে পারেনি। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। সেই হোটেলের লিডো রুমে শো করবার পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন নাচের ট্রেনিংও চলত তাঁর। ফিরপোর উপরতলার ব্যাঙ্কোয়েট হলে, যেখানে কেবল অভিজ্ঞ নর্তকীরা নাচতেন একদিন সেখান থেকেও ডাক এল শেফালির। নাচের সঙ্গে সঙ্গে নৃত্যশিক্ষাও সমানতালে চলত। ফিরপোতে শেফালির নাচ দর্শকদের মুগ্ধ করতে শুরু করেছিল। রোজগারের টাকা শেফালি নিয়মিত বাড়িতে পাঠাতেন। ক্যাবারে ডান্সার হওয়ার কারণে নানারকম কুকথা শুনতে হত তাঁর পরিবারকেও। ফলে সোদপুরে বড় রাস্তা থেকে অনেক ভিতরের দিকে নিজের টাকায় একটি জমি কিনেছিলেন শেফালি। সেখানেই নিজেদের বাড়ি হল। শেফালি ক্যাবারে নর্তকী হিসেবে জনপ্রিয় হতে শুরু করলেন।

যে হোটেল ওবেরয় গ্র্যান্ড থেকে একদিন চলে আসতে হয়েছিল, একদিন ফিরপো হোটেলে সেই গ্র্যান্ড থেকেই লোক এসে শেফালিকে জানায় ভিকি ওবেরয় অর্থাৎ ওবেরয় গ্র্যান্ডের মালিক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। ওবেরয় গ্র্যান্ডের গোল্ডেন পিকক্-এর ডান্সার হিসেবে নিযুক্ত হলেন শেফালি। ছেড়ে দিলেন ফিরপো হোটেল। শহরের সবচেয়ে সেরা হোটেলের ক্যাবারের ডান্সার হওয়া মানে জনপ্রিয়তার জৌলুসও বেড়ে যাওয়া। মাসে তিন হাজার টাকা মাইনে দিয়ে গ্র্যান্ড শেফালিকে রেখেছিল। ফিরপোতে থাকতেই শেফালি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। শেফালি থেকে হয়ে গিয়েছিলেন মিস শেফালি। যখন তিনি গ্র্যান্ডে চলে এলেন এবং খবরটা যখন রাতারাতি ছড়িয়ে পড়েছিল তখন রাতের বেলার একটা বিরাট সংখ্যক মানুষের ভিড় ফিরপো হোটেল থেকে চলে এসেছিল গ্র্যান্ড হোটেলে। উত্তমকুমারের মতো মানুষও মিস শেফালির গুণমুগ্ধ ভক্ত ছিলেন। তিনি শেফালিকে ‘প্রিয় শফু’ বলে সম্বোধন করতেন। এমনকি অমিতাভ বচ্চন এবং রেখা যখন কলকাতায় ‘দো আনজানে’ ছবির শ্যুটিং করতে এসেছিলেন তখন গ্র্যান্ডে তাঁরাও শেফালির শো দেখতে গিয়েছিলেন। রাতের কলকাতার কাছে তখন একটাই নাম – মিস শেফালি, যিনি ক্যাবারে কুইন নামেও পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

বাংলা থিয়েটারেও মিস শেফালির প্রবেশ ঘটেছিল। রুচিশীল বাঙালি যতই ক্যাবারে নৃত্যকে অশ্লীল বলে বর্জন করুক না কেন, থিয়েটারের মঞ্চে সেই বাঙালিই শেফালির ক্যাবারে নৃত্য দেখার জন্য ভিড় করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মঞ্চস্থ বিশ্বরূপা থিয়েটারের ‘চৌরঙ্গী’ নাটকে মিস শেফালি প্রথম অবতরণ করেছিলেন। বাংলা রঙ্গমঞ্চে সেই ক্যাবারে নৃত্যের অনুপ্রবেশ পেশাদারী থিয়েটারের ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব ঘটনা। মিস শেফালির কারণেই বলা যায়, চৌরঙ্গী নাটক  এক হাজার রাত্রি অভিনীত হয়েছিল। সহস্রতম অভিনয়ের সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন সেই সময়কার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। থিয়েটারে ক্যাবারের অনুপ্রবেশ ঘটানো বিশ্বরূপার মালিক রাসবিহারী সরকারের একটি ব্যবসায়িক কৌশল ছিল। তাঁর সেই কৌশল অত্যন্ত সফলও হয়। চৌরঙ্গীর পরে বিমল মিত্রের ‘আসামী হাজির’ নাটকেও ছিল মিস শেফালির ক্যাবারে এবং সে-নাটকও হয়েছিল সুপার হিট। এছাড়াও আরও বেশ কিছু নাটকে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। ঝাঁকেঝাঁকে বাঙালি দর্শক মিস শেফালির ক্যাবারে নৃত্য উপভোগ করতেই থিয়েটারে ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন। বিশ্বরূপা যে পথ দেখিয়েছিল, তা অনুসরণ করতে শুরু করেছিল মিনার্ভা, রঙমহল, প্রতাপ মেমোরিয়াল ইত্যাদি থিয়েটার। তবে মিস শেফালির বঙ্গ রঙ্গমঞ্চে অনুপ্রবেশকে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো অনেক প্রথিতযশা শিল্পী তীব্র কটাক্ষ ও নিন্দা করেছেন এবং বাংলা বাণিজ্যিক থিয়েটারের অসুস্থতার দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন।

মিস শেফালিকে বিশ্ববরেণ্য চিত্রপরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সিনেমাতেও দেখা গিয়েছিল। ফিরপো হোটেলের লিডো রুমেই শেফালির নাচ দেখে সত্যজিতের ভাল লেগে গিয়েছিল। তারপরই সত্যজিৎ রায়ের টিমের তরফ থেকে শেফালির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সত্যজিৎ তাঁর ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ এবং ‘সীমাবদ্ধ’ ছবিতে মিস শেফালিকে নিয়েছিলেন। ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ সিনেমায় একজন নার্সের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন শেফালি। সেই চরিত্রটিকে একবার কাঁচুলি (ব্রেসিয়ার) পরা অবস্থায় পর্দায় দেখিয়েছিলেন সত্যজিৎ। মিস শেফালির মতো একজন ক্যাবারে নর্তকীকে নার্সের ভূমিকায় নেওয়া এবং অমন একটি দৃশ্যের কারণে এই সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পরে নার্সদের তরফ থেকে একটি প্রতিবাদ উঠেছিল। এমনকি ফিল্মের স্ক্রিনিং বন্ধ করার জন্য নার্সরা একটি মিছিল করারও পরিকল্পনা করেছিল। অবশেষে সত্যজিৎ নার্স ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলে ব্যাপারটিকে শান্ত করেন এবং সেই মিছিলের পরিকল্পনাও তারপর বাতিল করা হয়। এছাড়াও ‘সীমাবদ্ধ’তে একজন ক্যাবারে ডান্সার হিসেবেই মিস শেফালি অভিনয় করেছিলেন। বাংলা ছবি ছাড়াও বড় বড় তারকাদের বলিউড ছবিতেও জায়গা করে নিয়েছিলেন মিস শেফালি। ‘কল গার্ল’, ‘শোর’, ‘রাতো কা রাজা’, ‘আপনে দুশমন’, ‘রাম বলরাম’ ইত্যাদি জনপ্রিয় সব হিন্দি সিনেমায় দেখা গিয়েছিল শেফালিকে৷

রবিন নামের এক আমেরিকানের সঙ্গে শেফালির প্রেম হলেও ভারতে নিজের পরিবারের কাছে থাকবেন বলেই আর বিয়ে করেননি তিনি৷ এত উজ্জ্বল এক দুনিয়ায় থাকলেও শেষ জীবনে কিন্তু মানুষের ভালবাসার আশ্রয় তেমন পাননি। এর কারণ অবশ্যই তাঁর পেশা। মানুষ এককালে ভিড় করে ফিরপো কিংবা গ্র্যান্ড হোটেলে, থিয়েটারে মঞ্চে, সিনেমার পর্দায় তাঁর নাচ দেখে, তাঁর লাস্যময় শরীর দেখে মোহিত হয়ে গেছে, কিন্তু যখনই তিনি কেরিয়ারের উপান্তে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর জৌলুস কমে গিয়েছিল, তখনই মধ্যবিত্ত রুচিশীল বাঙালি ভদ্রলোকের দল শেফালির দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল। নিজের বিচিত্র জীবনের নানা কথা তিনি সাজিয়ে লিখে রেখে গেছেন ‘সন্ধ্যারাতের শেফালি’ গ্রন্থটিতে। সেই বই পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তু একটি মেয়ের বাড়ির ঝি থেকে ক্যাবারে কুইন হওয়ার এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে রয়েছে।

২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৭ বছর বয়সে সোদপুরের বাড়িতে বাংলার প্রথম ক্যাবারে নর্তকী মিস শেফালির মৃত্যু হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. সন্ধ্যারাতের শেফালি, মিস শেফালি (অনুলিখন : শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়), আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ডিসেম্বর ২০১৪।
  2. https://en.m.wikipedia.org/
  3. https://www.thequint.com/
  4. https://www.indiatoday.in/
  5. https://www.telegraphindia.com/
  6. https://www.anandabazar.com/
  7. https://timesofindia.indiatimes.com

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading