ইতিহাস

মোক্ষাগুন্দম্‌ বিশ্বেশ্বরায়া

মোক্ষাগুন্দম্‌ বিশ্বেশ্বরায়া

ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং একইসঙ্গে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সুপরিচিত মোক্ষাগুন্দম্‌ বিশ্বেশ্বরায়া (Mokshagundam Visvesvaraya)। ‘স্যার এমভি’ নামে সমধিক পরিচিত বিশ্বেশ্বরায়া মাইসোরের উনিশতম দেওয়ান পদে নিযুক্ত ছিলেন প্রায় সাত বছর। ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় সাম্রাজ্যে তাঁকে নাইট কমান্ডার সম্মানে ভূষিত করেন রাজা পঞ্চম জর্জ। কর্ণাটকের কাবেরী নদীর উপর কৃষ্ণ রাজা সাগর বাঁধ কিংবা মহারাষ্ট্রের লক্ষ্মী তালাব বাঁধ সবক্ষেত্রেই মুখ্য ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এম. বিশ্বেশ্বরায়া। হায়দ্রাবাদে বন্যা নিরোধক ব্যবস্থা নির্মাণেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। তাঁর জন্মদিন ১৫ সেপ্টেম্বর দিনটি ভারত সহ শ্রীলঙ্কা এবং তাঞ্জানিয়ায় ‘জাতীয় ইঞ্জিনিয়ার দিবস’ তথা ‘ইঞ্জিনিয়ার ডে’ হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৫৫ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ভারতরত্ন পুরস্কার পান ইঞ্জিনিয়ারএম. বিশ্বেশ্বরায়া।

১৮৬০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মহীশূর সাম্রাজ্যের অন্তর্গত মুদ্দেনাহাল্লি নামের একটি ছোট্ট গ্রামে এক তেলেগু ব্রাহ্মণ পরিবারে এম. বিশ্বেশ্বরায়ার জন্ম হয়। বর্তমানে এই গ্রামটি কর্ণাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলার অন্তর্গত। তাঁর বাবা মোক্ষাগুন্দম্‌ শ্রীনিবাস শাস্ত্রী একজন সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত ছিলেন এবং তাঁর মায়ের নাম ছিল ভেঙ্কটলক্ষ্মম্মা। তাঁদের আদি নিবাস ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের মোক্ষাগুন্দম্‌ গ্রামে। মাত্র বারো বছর বয়সেই বিশ্বেশ্বরায়ার বাবা মারা যান। ফলে আকস্মিক দারিদ্র্যের মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি গৃহ-শিক্ষকতা করতে শুরু করেন কিছু অর্থ উপার্জনের জন্য।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

চিক্কাবল্লাপুর জেলার স্থানীয় বিদ্যালয়েই বিশ্বেশ্বরায়া প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করেন। তারপর উচ্চশিক্ষা জন্য তিনি চলে আসেন ব্যাঙ্গালোরে এবং এখানে ওয়েসলিয়ান মিশনারী হাই স্কুলে ভর্তি হন বিশ্বেশ্বরায়া। ১৮৮১ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ব্যাঙ্গালোরের সেন্ট্রাল কলেজ থেকে মানবীবিদ্যায়(Humanities) স্নাতক উত্তীর্ণ হওয়ার পরে অভাবিতভাবে পুনের কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য। তাঁর শিক্ষাজীবনে মানবীবিদ্যার জগত থেকে একেবারে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এই স্থানান্তর পরবর্তীকালে তাঁর খ্যাতির অন্যতম কারণ। জলসেচ এবং বন্যা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষা সম্পূর্ণ করে ১৮৮৪ সালে বিশ্বেশ্বরায়া বম্বের পূর্ত বিভাগে সহকারী প্রকৌশলীর পদে যোগ দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৮৮৫তে ঐ পদে থাকাকালীনই নাসিক, খন্দেশ ও পুনেতে নানা প্রকল্পে কাজ করেছেন তিনি। ১৮৯৬ সালে সুরাটের কার্যনির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে, ১৮৯৭ থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত সহকারী সুপারিনটেণ্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এবং ১৮৯৯ সালে পুনেতে কার্যনির্বাহী ইঞ্জিনিয়াররের পদে কাজ করেছেন বিশ্বেশ্বরায়া। ইতিমধ্যে ১৮৯৮ সালে চিন ও জাপান ভ্রমণ করেন তিনি। ১৯০১ সালে বম্বের স্যানিটারি বোর্ডের সদস্য হিসেবে স্যানিটারি ইঞ্জিনিয়ারের পদে নিযুক্ত হন তিনি। এরপরে তিনি ভারতীয় জলসেচ কমিশনে যোগ দেন যেখানে দাক্ষিণাত্য ভূমিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য জলসেচ প্রকল্প নির্মাণ করেন তিনি। দাক্ষিণাত্য মালভূমির উপর ১৯০৩ সালে স্যার এম.ভি স্বয়ংক্রিয় ফ্লাডগেট নির্মাণ করান যা প্রাথমিকভাবে পুনের কাছে খরাভাসলা বাঁধে বসানো হয়। এই নতুন পদ্ধতির ফ্লাডগেটকে তিনি নাম দেন ‘ব্লক সিস্টেম’। এখানে সঠিকভাবে এবং সফলভাবে ফ্লাডগেটটি স্থাপনের পরে একইরকম আরো দুটি ফ্লাডগেট নির্মাণ করেন তিনি যেগুলি যথাক্রমে গোয়ালিয়রের তিগ্‌রা বাঁধ ও কর্ণাটকের কাবেরী নদীর উপর কৃষ্ণরাজা সাগর বাঁধে বসানো হয়। এই ফ্লাডগেট বসানোর ফলে বাঁধগুলি আগের থেকে অনেক বেশি পরিমাণে জল সঞ্চয় করে রাখতে শুরু করে বাঁধের ন্যূনতম কোনো ক্ষতি ছাড়াই।

কাবেরী নদীর উপর কেআরএস বাঁধ ওরফে কৃষ্ণরাজা সাগর বাঁধ নির্মাণ বিশ্বেশ্বরায়া র ইঞ্জিনিয়ারজীবনের অন্যতম সফল স্থাপনা। ১৯০৪ ও ১৯০৫ সালে ভারত সরকারের অধীনে সিমলা জলসেচ কমিশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন স্যার এম. বিশ্বেশ্বরায়া । এরপরে ১৯০৬- সালে ভারত সরকার তাঁকে অ্যাডেন শহরে পাঠায় জল সরবরাহ এবং জলনিকাশি ব্যবস্থা সম্পর্কে আরো বিশদে পড়াশোনা করার জন্য। তাঁর নির্মিত প্রকল্পটি প্রথমে অ্যাডেন শহরেই স্থাপিত হয়। সুপারিনটেণ্ডিং ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ১৯০৭ সালে এম. বিশ্বেশ্বরায়া মিশর, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ায় কাজ করেছেন। ১৯০৯ সালে হায়দ্রাবাদের মুসী নদীর উপর নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন তিনি এবং ক্রমেই সমগ্র হায়দ্রাবাদ শহরকে বন্যার বিপদ থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা নির্মাণ করে ভারতে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। সে সময় নিজাম রাজ্যের কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার পদে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। বিশাখাপত্তনম বন্দরকে সমুদ্রের ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে তিনি বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারব্যবস্থার উদ্ভাবন করেছেন। যখন এই বাঁধ তৈরি হয়, তা ছিল এশিয়ার সর্ববৃহৎ বাঁধ। বিহারের গঙ্গা নদীর উপর মোকামা ব্রিজের সংস্কারের পিছনেও বিশ্বেশ্বরায়ার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯০৯ সালে বিশ্বেশ্বরায়া ব্রিটিশ সরকারের চাকরি থেকে অবসর নেন এবং মাইসোরের রাজ্য সরকারের মুখ্যসচিবের পদে যোগ দেন। ৯০ বছর বয়সেও তিনি অক্লান্তভাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ করে গিয়েছেন।

মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের এক অনালোকিত দিক ভারতের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গান্ধীজি এবং বিশ্বেশ্বরায়া উভয়েরই মতাদর্শ ছিল ‘শিল্পায়ন অথবা বিনষ্টি’ (Industrialize or Perish)। কিন্তু গান্ধীজি যখন ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন, সে সময় এই আন্দোলনে অসম্মতি জানিয়ে বিশ্বেশ্বরায়া তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন। ১৯২৭ সালের আগস্ট মাসে গান্ধীজি মাইসোর ভ্রমণে এসে ‘কেআরএস বাঁধ’ নির্মাণ প্রসঙ্গে বিশ্বেশ্বরায়াকে এক অন্যতম দেশপ্রেমিক ব্যক্তি বলে সম্বোধন করেছিলেন।

মাইসোর সরকারের মুখ্য সচিব পদে থাকাকালীন মাইসোর সাবান কারখানা, কীটনাশক কারখানা, ভদ্রাবতীতে মাইসোর আয়রন অ্যাণ্ড স্টিল ওয়ার্কস, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ মাইসোর, মাইসোর চেম্বার অফ কমার্স ইত্যাদির মতো অজস্র প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। ব্যাঙ্গালোর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাঙ্গালোর জয়াকামারাজেন্দ্র পলিটেকনিক, ইউনিভার্সিটি বিশ্বেশ্বরায়া কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন স্যার এম.ভি। আর এই কারণেই তাঁকে ‘আধুনিক মাইসোর রাজ্যের জনক’ বলা হয়। পরবর্তীকালে ভদ্রাবতীর লৌহ-ইস্পাত কারখানাটির নাম বদলে হয় ‘বিশ্বেশ্বরায়া আয়রন অ্যাণ্ড স্টল লিমিটেড’। মাইসোরের দেওয়ান থাকাকালীন তিরুমালা এবং তিরুপতির মধ্যে সড়ক নির্মাণের এক উন্নত পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কন্নড় ভাষার প্রতি অসীম ভালবাসার তাগিদেই স্যার এম.ভি গড়ে তোলেন ‘কন্নড় পরিষৎ’ যা কন্নড় ভাষার অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধিতে যথেষ্ট অবদান রেখেছে। ১৯১২ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত মোট সাত বছর মাইসোরের দেওয়ান ছিলেন তিনি। মাইসোরের এই উন্নতিকল্পে তাঁকে প্রভূত সহায়তা করেছিলেন মাইসোরের মহারাজা চতুর্থ কৃষ্ণরাজা ওদেয়ার। বলাই বাহুল্য ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ইউনিভার্সিটি বিশ্বেশ্বরায়া কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং’ ভারতে প্রতিষ্ঠিত প্রথম প্রকৌশলীবিদ্যার কলেজের শিরোপা পেয়েছিল। ১৯০৯ সালে মাইসোরের দেওয়ান থাকাকালীনই তাঁর পরিকল্পনায় ব্যাঙ্গালোর-চিক্কাবল্লাপুর গজ রেললাইন নির্মিত হয়। ১৯১৫ সাল থেকে চালু হওয়া এই রেললাইনটিই ছিল ভারতে বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত প্রথম রেললাইন। মাইসোর প্রদেশের মহারাজার সঙ্গে এই চুক্তিতেই বেসরকারি সংস্থাটি এই নির্মাণ প্রকল্প করে যে যদি কোনো কারণে সংস্থাটি পাঁচ ডলারের থেকে কম লাভ করে, তখন বাকি লভ্যাংশ দিতে হবে মাইসোর প্রদেশকে আর প্রভূত লাভ হলে তা মাইসোর প্রদেশ এবং সেই সংস্থার মধ্যে সমানভাবে বন্টিত হবে। ন্যারোগেজ লাইন থেকে পরে এই রেললাইনটি ব্রডগেজে পরিণত হয়। আর এই রেললাইনের ধারেই তৈরি হয়েছিল নন্দী হল্ট যে বাড়িটির স্থাপত্যনির্মাণ প্রকৌশলীও স্যার এম.ভির পরিকল্পিত।

‘প্ল্যান্‌ড ইকোনমি ফর ইণ্ডিয়া, ১৮৬১-১৯৬২’ নামে তিনি প্রথম একটি বই লেখেন ১৯৩৪ সালে। তারপর ১৯৫৪ সালে ‘মেমোয়ারস অফ মাই ওয়ার্কিং লাইফ’ নামে তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থটিও প্রকাশিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় ব্যাঙ্গালোর প্রেস থেকে তাঁর লেখাপত্র প্রকাশ পেয়েছে যার মধ্যে ১৯৩২ সালে প্রকাশিত ‘আনএমপ্লয়মেন্ট ইন ইণ্ডিয়া : ইটস কজেস অ্যাণ্ড কিওর’ এবং ১৯৪৩ সালে ‘পোস্ট-ওয়ার রিকনস্ট্রাকশন ইন ইণ্ডিয়া’ এই বই দুটি খুবই সমাদৃত।

আজীবন অজস্র সম্মান ও উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ১৯০৪ সালে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের জন্য লণ্ডনের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাম্মনিক অর্জন করেন এম. বিশ্বেশ্বরায়া। তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯০৬ সালে ‘কাইসার-ই-হিন্দ্‌’ উপাধিতে ভূষিত হন তিনি। এরপর ১৯১১তে ‘কম্প্যানিয়ন অফ দ্য ইণ্ডিয়ান এম্পায়ার’ (CIE) উপাধিতে এবং ১৯১৫ সালে ‘নাইট কমাণ্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য ইণ্ডিয়ান এম্পায়ার’ (KCIE) উপাধিতে ভূষিত হন এম. বিশ্বেশ্বরায়া। পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যথাক্রমে ১৯২১, ১৯৪৪ এবং ১৯৫৮ সালে তাঁকে ডি.এস.সি উপাধিতে ভূষিত করে। এছাড়া ১৯৩৭ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং ১৯৫৩ সালে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট উপাধি পান বিশ্বেশ্বরায়া । ১৯৪৮ সালে মাইসোর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে সম্মানিত করে। ১৯৫৫ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘ভারতরত্ন’ খেতাব অর্জন করেন বিশ্বেশ্বরায়া ।

১৯৬২ সালের ১৪ এপ্রিল স্যার এম. বিশ্বেশ্বরায়ার মৃত্যু হয়।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন