ধর্ম

মৌনী অমাবস্যার ব্রত

মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যাকে মৌনী অমাবস্যা বলে। শিবরাত্রির আগের শেষ অমাবস্যা মৌনী অমাবস্যা ৷ এই তিথিতে সাধকেরা মৌনব্রত পালন করে থাকেন ৷ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই তিথিতে স্বর্গের দেবতারা প্রয়াগরাজের গঙ্গা-যমুনা-স্বরস্বতীর মিলনস্থল ত্রিবেনীসঙ্গমে স্নান করেন ৷ বলা হয় এই দিন সমস্ত নদীর এতটাই পবিত্র হয়ে ওঠে যে অশ্বমেধ যজ্ঞ করলে যে পুণ্য করা সম্ভব, এইদিন নদীতে স্নান করলেই সেই পুণ্যলাভ হয়৷  জেনে নেওয়া যাক এই ব্রতের পেছনে প্রচলিত কাহিনী।

এক দেশে এক বিধবা বামুনি ও এক গোয়ালিনি দুইজনে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ছিল। একে অপরকে সই বলে ডাকত তারা। বিধবা বামুনির এক মেয়ে ছিল। আর গোয়ালিনির স্বামী, ছেলে মেয়ে ছিল। একদিন দুপুরবেলায় বামুনি আর তার মেয়ে বসে সুতো কাটছিল এমন সময় এক ভিখারি ভিক্ষা নিতে এল।মেয়েটি ভিক্ষা দিতে গেলে ভিখারিটি বামুনির মেয়েকে দেখে আপন মনেই বলে ফেলল “হায় ভগবান এমন মেয়ের কপালেও বৈধব্য যন্ত্রনা আছে।”
বামুনি তা শুনতে পেয়ে তাড়াতাড়ি ভিখারিটির কাছে কাঁদতে কাঁদতে জানতে চাইল, “বাবা আপনি যা বললেন তা কি সত্যি?”
ভিখারিটি বলল, “হ্যাঁ এটা সত্যি। বাসর ঘরে মেয়েটির স্বামী হঠাৎ মারা যাবে।”
বামুনি তখন এর উপায় বলতে অনুরোধ করলে ভিখারিটি বলল যদি কেউ মৌনী অমাবস্যার ব্রত ফল ওর স্বামীর মুখে ছুঁইয়ে দেয় তাহলে তার স্বামী বেঁচে উঠবে। কিন্তু এই ব্রতফল দান করবে তার যে যেখানে আছে সবাই মারা যাবে।”
বামুনি তখন কাঁদতে কাঁদতে সেই ব্যক্তি এই বিপদ থেকে কিভাবে বাঁচবে তার উপায় জিজ্ঞাসা করলে ভিক্ষুক বলল, “উপায় একটা আছে। ঐ দূরে যে বন দেখা যাচ্ছে সেখানে এক কুষ্ঠরুগী বামুন বাস করে। তার গায়ে এক হাড়ি দই ঢেলে নিজের জিভে করে  দই চেটে আবার হাড়িতে তুলতে পারলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

এই বলে ভিক্ষুক চলে গেলেন। তারপর কিছু দিন কেটে গেল। বামুনির মেয়ের বিয়ে ঠিক হল। বামুনি বসে ভাবতে লাগল কার মৌনী অমাবস্যার সাতটি ব্রত ফল আছে আর কেই বা নিজের অনিষ্ট করে ব্রতের ফল দিতে চাইবে। অনেক ভাবার পর তার মনে পড়ল তার সই গোয়ালিনির সাতটি মৌনী অমাবস্যার ব্রত ফল আছে। তাকে খুশি করতে পারলে ব্রত ফল দিতে পারে। বামুনি রোজ সকালে উঠে গোয়ালিনির বাড়ি পরিষ্কার করে গোয়াল ঘর ঝাঁট দিয়ে, বাসুন মেজে দিয়ে আসে। গোয়ালিনি তাকে রোজই বলে, “তুমি বামুনের মেয়ে রোজ কেন আমার কাজ করে যাও?”
তখন বামুনি তার বিপদের কথা তার সইকে বলে তার সাহায্য চাইল, “তুমি যদি তোমার মৌনী অমাবস্যা ব্রতের ফল আমাকে দিতে পার তাহলে আমার এই বিপদ কেটে যাবে।”
যদিও এর পরের গল্প আর তার সইকে বলল না। গোয়ালিনি তাকে বলল, “তোমার বিপদে পাশে দাঁড়াতে না পারলে আমরা আর কি সই!”
সে তার ব্রতফল দিতে রাজি হয়ে গেল। তারপর বামুনির মেয়ের বিয়ে হল। বিয়ে হয়ে যাবার পর বর বউ বাসর ঘরে গেল। হঠাৎ জামাই বসে থাকতে থাকতে শুয়ে পড়ল। সবাই ধরাধরি করে বসাতে গিয়ে দেখে দেহে প্রাণ নেই। বাসর ঘরে কান্নার রোল পড়ে গেল। বামুনি আগে থেকে সব জানত বলেই সে তাড়াতাড়ি তার সই এর বাড়ি থেকে মৌনী অমাবস্যার ব্রত ফল এনে তার জামাইয়ের মুখে ঠেকাতে আবার তার জামাই বেঁচে উঠল। তা দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল।

পরদিন সকালে গোয়ালিনি ঘুম থেকে উঠে দেখে তার ছেলে বর সবাই মরে গেছে। সে কাঁদতে কাঁদতে ছুটে বামুনির বাড়ি গিয়ে সব বলল। বামুনি যেহেতু সবই জানত, তাই সে বলল, “চিন্তা কোরোনা। তোমার স্বামী, পুত্র সবাই বেঁচে উঠবে। তুমি এই দইয়ের হাড়িটা নিয়ে আমার সাথে এসো।”
তারপর তারা বনের মধ্যে গিয়ে দেখে কুঁড়ে ঘরে এক কুষ্ঠরুগী বামুন শুয়ে আছে। তাকে তুলে বামুনি বললো, “সই এই দইটা তুমি এই বামুনের গায়ে ঢালো, তারপর জিভ দিয়ে চেটে আবার ওই হাড়িতে তোলো।”
গোয়ালিনি মনে কোনো ঘেন্না না করে তাই করল আর দেখতে দেখতে কুষ্ঠরুগী বামুন সুস্থ হয়ে গেল। তারপর কুষ্ঠরুগী বামুন জানাল সে নিজেই নারায়ণ এবং তাদের এই ব্রততে বিশ্বাস আছে কিনা তা দেখার জন্যই এই পরীক্ষা। তা শুনে দুজনেই নারায়ণের পায়ে লুটিয়ে পড়ল। তারপর বাড়ি ফিরে তারা দেখল সবাই আগের মতই বেঁচে উঠেছে। এই ভাবে এই ব্রত চারদিকে প্রচার পেল।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


তথ্যসূত্র


  1. মেয়েদের ব্রতকথা, শ্রীকালিকিশোর বিদ্যাবিনোদ সংকলিত, শ্রী সুরেশ চৌধুরী কর্তৃক সংশোধিত, অক্ষয় লাইব্রেরি, পৃষ্ঠা ১৮৪
  2. https://bengali.news18.com/
  3. https://www.rojnamcha.in

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।