ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে গান্ধীজীর নেতৃত্বে সংগঠিত যে-তিনটি আন্দোলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তারমধ্যে সর্বশেষ আন্দোলনটিই ভারত ছাড়ো আন্দোলন (Quit India Movement) নামে পরিচিত। আগস্ট মাসে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল বলে ইতিহাসে এটি আগস্ট আন্দোলন (August Movement) হিসেবেও খ্যাত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ সালে ভারতবাসী ব্রিটিশদের উদ্দেশে গর্জে উঠে বলেছিল ‘ইংরেজ ভারত ছাড়ো’ এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন স্বয়ং মহাত্মা গান্ধী। তবে এই আন্দোলনের রাশ চলে গিয়েছিল জনসাধারণের হাতে এবং তা আর গান্ধীজী প্রদর্শিত অহিংস পথে চলেনি বরং ভারতবর্ষের নানা প্রান্তে আন্দোলন হিংস্র বিক্ষোভের আকার নিয়েছিল। কেবলমাত্র পুরুষেরাই নয়, তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মেয়েরাও রাস্তায় নেমে এসে সামনে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে মাতঙ্গিনী হাজরার নাম অবধারিতভাবেই উঠে আসে। বাংলার গুপ্ত সমিতিগুলিও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল এইসময়। ভারতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক আধিপত্য ও গ্রহণযোগ্যতা যে কতখানি তা এই আন্দোলন প্রমাণ করে দেয়।
১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ছিল ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মেয়াদ। এর সূচনা হয়েছিল মূলত ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে। ততদিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯) সূত্রপাত ঘটে গেছে। ব্রিটিশ উপনিবেশ হওয়ার কারণে ভারতের ওপরেও সেই যুদ্ধের আঁচ নেমে এসেছিল স্বাভাবিকভাবেই। বিশেষত ভারতের ওপর যখন জাপানি আক্রমণের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে ওঠে তখন ব্রিটিশ বুঝেছিল তা প্রতিরোধ করতে হলে ভারতের শক্তি ও সম্পদের সহযোগিতা প্রয়োজন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল ১৯৪২ সালের মার্চ মাসে যুদ্ধে ভারতীয় সহায়তা এবং তার পরিবর্তে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আলোচনার জন্য স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসকে ভারতে পাঠান। ২৩ মার্চ ক্রিপস ভারতে আসেন এবং যেসব প্রস্তাব পেশ করেন ভারতীয় নেতৃবৃন্দ সেইসব প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হননি। কংগ্রেস এই প্রস্তাব গ্রহণে সম্মত হয়নি তার প্রধান কারণ, ক্রিপসের প্রস্তাবে ভারতকে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়াও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভারতীয়দের অধিকারের কথাও বলা হয়নি সেই প্রস্তাবে, অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনেরও কোন কথা তাতে ছিল না, এমনকি প্রদেশগুলিকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার দেওয়ার প্রসঙ্গটিও ছিল, যার অর্থ আদতে জিন্নার বিভাজন প্রস্তাব মেনে নেওয়া। ক্রিপসের বন্ধু জওহরলাল নেহেরুও এই প্রস্তাবগুলি পড়ে হতাশ হয়েছিলেন। জাতীয় কংগ্রেস যেমন উক্ত কারণগুলির জন্য ক্রিপস প্রস্তাব সমর্থন করেনি তেমনই মুসলিম লীগও আপত্তি জানিয়েছিল কারণ, তাতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের কথাও কোথাও উল্লেখ করা ছিল না। তাছাড়া ক্রিপস ছিলেন চার্চিলের প্রতিনিধি এবং সেই সাম্রাজ্যবাদী চার্চিলকে ভারতবাসী ঘোরতর অবিশ্বাস করত। এইসব কারণেই ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হয়। গান্ধীজী তাঁর ‘হরিজন’ পত্রিকায় লিখেছিলেন, ব্রিটিশের উপস্থিতির কারণেই ভারতে জাপানি আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা থেকে ভারতকে রক্ষা করতে হলে ব্রিটিশকে ভারত ত্যাগ করতে হবে। এছাড়াও যুদ্ধের ফলে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধকালীন ঘাটতির কারণেও জনগণের মধ্যে একটা অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল।
১৯৪২ সালের ১৪ জুলাই কংগ্রেস কার্যনির্বাহক সমিতিতে ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল সমস্তরকম সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিজয়লাভের জন্য ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন প্রত্যাহার প্রয়োজন। আরও বলা হয় যে, স্বাধীনতার পর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি নিয়ে ভারতে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হবে যারা সমবেতভাবে সকল শ্রেণীর জন্য একটি সংবিধান রচনা করবে। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট বোম্বের গোয়ালিয়র ট্যাঙ্ক ময়দানে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির বৈঠকে ভারত ছাড়ো বক্তৃতায় গান্ধীজী আওয়াজ তোলেন ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ (Do or die)। সেই অধিবেশনেই বিপুল ভোটে ব্যাপক অহিংস গণ-আন্দোলন চালানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। জাতির উদ্দেশে গান্ধীজী বলেছিলেন পূর্ণ স্বাধীনতার কম কোন কিছুতেই তিনি সন্তুষ্ট হতে পারবেন না।
৮ আগস্ট অধিবেশন থেকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর সেদিন গভীর রাতে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই গান্ধীজী, জওহরলাল নেহেরু, বল্লভভাই প্যাটেল, আজাদ-সহ কংগ্রেসের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বকে গ্রেফতার করা হয় এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের কংগ্রেস সংগঠন ছাড়া জাতীয় কংগ্রেস এবং তার সমস্ত শাখাকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল। কংগ্রেস নেতৃত্বদের বিশেষত গান্ধীজীর গ্রেফতারের খবর সারা দেশে আগুনের মতো ছড়িয়ে গিয়েছিল এবং তা ক্রমেই এক দাবানলের রূপ পরিগ্রহ করেছিল। গ্রেফতারের পরদিন অর্থাৎ ৯ আগস্ট থেকে পুরোদমে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়ে গিয়েছিল বলা চলে।
এখানে বলা দরকার যে অনেকেই কিন্তু ভারত ছাড়ো আন্দোলনের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেননি। হিন্দু মহাসভার মতো হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলগুলি প্রকাশ্যে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। মুসলিম লীগ এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আন্দোলনের বিরোধিতা করেন। বিশ্বযুদ্ধে জিন্নাহ ব্রিটিশ যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছিলেন। এছাড়াও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের আক্রমণের পর ব্রিটিশ যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছিল। আন্দোলনের প্রভাব দেশীয় রাজ্যগুলিতে পড়লেও বেশ কয়েকজন রাজপুত্র আন্দোলনের বিরোধিতাই কেবল করেননি বিরোধীদের অর্থায়নও করেছিলেন।
৯ আগস্ট থেকেই সারা দেশে বিক্ষিপ্তভাবে মিছিল, বিক্ষোভ ইত্যাদি শুরু হয়ে যায়। এই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ তখন ছিলেন না। সমগ্র রাশটাই প্রায় জনসাধারণের হাতে চলে গিয়েছিল। গান্ধীজী অহিংস পথে আন্দোলন পরিচালনার করবার কথা ঘোষণা করলেও সর্বসাধারণের হাতে তা আগুনের মতো হিংস্র হয়ে জ্বলে উঠেছিল। ড: বিপান চন্দ্র মন্তব্য করেছিলেন যে, কোনরকম নেতৃত্ব এবং সংগঠন ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় ছোটখাটো প্রতিরোধ ও সংঘর্ষ থেকে ব্যাপারটা শুরু হলেও ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচারে যেন সেই আগুনে বারুদের সংযোগ ঘটেছিল। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, কারখানা ইত্যাদি সরকারি কাজের জায়গায় ধর্মঘট হতে শুরু করল। বিক্ষুব্ধ জনসাধারণ টেলিফোন, টেলিগ্রাফের তার কাটা থেকে শুরু করে রেল লাইনচ্যুত করে দেওয়া, রেলপথ ও সেতু ধ্বংস করে দেওয়া, রেলস্টেশন, ডাকঘর, সরকারি অফিস-আদালতে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়ার মতো হিংসাত্মক কাজকর্ম শুরু করেছিল। সরকারি হিসেব অনুযায়ী ২৫০টি রেলস্টেশন ধ্বংস করা হয়েছিল, ৫৫০টি ডাকঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল, ৭০টি থানা ও ৮৫টি সরকারি গৃহ অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল, ৩৫০০ জায়গায় টেলিগ্রাফ ও টেলিফোনের তার কেটে দেওয়া হয়েছিল।
দিল্লি, কলকাতা, কানপুর, বোম্বে, লক্ষ্ণৌ, আমেদাবাদ প্রভৃতি জায়গায় ব্রিটিশ ফৌজের সঙ্গে রক্তাক্ত সংঘর্ষ চলেছিল প্রায় সপ্তাহব্যাপী। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম, মধ্যপ্রদেশ প্রভৃতি স্থানে কৃষকেরাও সমবেতভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল। প্রতিবাদস্বরূপ তারা খাজনা দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল। এমনই সব কার্যকলাপের পাশাপাশি আবার সন্ত্রাসবাদী নানারকম কার্যকলাপও চলতে থাকে। জয়প্রকাশ নারায়ণ, নরেন্দ্র দেবের মতো লোকজন তার নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিল। এছাড়াও বাংলার অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর দলও এই আন্দোলনে যোগদান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তমলুক ও কাঁথি মহকুমা, দিনাজপুরের বালুরঘাট, মহারাষ্ট্রের সাতারা, আসামের নওগাঁ উড়িষ্যার তালচের ইত্যাদি স্থানে বিকল্প স্বাধীন সরকারও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় একটি জেলা বালিয়ায় ছোটখাটো এক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল। জনগণ জেলা প্রশাসনকে উৎখাত করে দেয়, জেল ভেঙে ফেলে ও গ্রেফতারকৃত কংগ্রেস নেতাদের মুক্ত করে দেয় এবং নিজেদের স্বাধীন শাসন গড়ে তুলেছিল। বীরভূম ও দিনাজপুরের সাঁওতাল উপজাতির মানুষ ও মুসলিম কৃষিজীবীরাও প্রবল উৎসাহে এই আন্দোলনে সামিল হয়েছিল।
কেবলমাত্র পুরুষেরাই নয়, অসংখ্য নারী অন্দরমহলের চৌহদ্দি ছেড়ে বীরের মতো বেরিয়ে এসেছিলেন রাস্তায় এবং সামনে থেকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এ-প্রসঙ্গে অবশ্যই যাঁর নাম সর্বাগ্রে করতে হয় তিনি হলেন মেদিনীপুরের ৭৩ বছরের বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা। এছাড়াও আসামের ১৩ বছরের কিশোরী কনকলতা বড়ুয়া, পাঞ্জাবের গৃহবধু ভোগেশ্বরী ফুকোননির নাম এক্ষেত্রে স্মরণীয়। এমন জনবিক্ষোভের সময় ব্রিটিশ প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি বরং কঠোর দমননীতি অবলম্বন করেছিল। গ্রেফতারি, জরিমানা ছাড়াও লাঠি চালানো, গুলি ছোঁড়া, মেশিনগানের ব্যবহার ইত্যাদি খুবই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকারি হিসেব অনুযায়ী পুলিশ ৫৩৮টি জায়গায় গুলি চালিয়ে ১০২৮ জনকে হত্যা এবং প্রায় ৩০০০ জনকে আহত করেছিল। এছাড়াও সরকারি মতে, আন্দোলনে বন্দীর সংখ্যা ছিল ৬০,২২৯ জন। সরকারী দমননীতির তীব্রতার ফলেই ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই আন্দোলনের গতিবেগ শ্লথ হয়ে এসেছিল।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন বা আগস্ট বিপ্লবের ব্যর্থতার মূল কারণই ছিল নেতৃত্বের অভাব। বিশেষত গান্ধীজীর অনুপস্থিতি আন্দোলনকে আরও বেশি বিপথে চালিত করেছিল। এছাড়াও হিন্দু মহাসভা, মুসলীম লীগ, কমিউনিস্ট পার্টিদের বিরোধিতাও ব্যর্থতার জন্য অনেকাংশে দায়ী। তার ওপরে নিষ্ঠুর সরকারী দমননীতি আন্দোলনের কোমর ভেঙে দিয়েছিল। তবে যতই ব্যর্থ হোক না কেন, এই ভারত ছাড়ো আন্দোলন থেকেই বোঝা গেল যে মানুষ স্বাধীনতা লাভের জন্য প্রয়োজনে নিজের প্রাণ দিতেও এখন প্রস্তুত। সারা দেশে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা যে কতখানি তা আগস্ট আন্দোলনের ফলে আরও একবার প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল। জওহরলাল নেহেরু বলেছিলেন সম্পূর্ণ নেতৃত্বহীনভাবে একটি অসহায় জাতির বিদ্রোহী হয়ে ওঠা—এ-দৃশ্য সত্যিই বিস্ময়ের ব্যাপার। অন্যদিকে ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার এই আন্দোলনকে সৈনিকের যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছিলেন। নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটি একে ‘গণযুদ্ধ’-এর তকমা দিয়েছিল। স্বয়ং বড়লাট লিনলিথগো ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের পর সবচেয়ে বড় বিদ্রোহ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ড. অম্বাপ্রসাদ যথার্থই বলেছিলেন যে, ৪২-এর আন্দোলন ব্যর্থ হলেও তা ভারতের স্বাধীনতার ভিত্তি প্রস্তুত করে দিয়েছিল।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- ‘স্বদেশ, সভ্যতা ও বিশ্ব’, জীবন মুখোপাধ্যায়, শ্রীধর পাবলিশার্স, কলকাতা, পুনর্মুদ্রণ, জানুয়ারি, ২০২১।
- https://en.m.wikipedia.org/
- https://www.nextias.com/
- https://unacademy.com/
- https://www.drishtiias.com/
- https://www.hindustantimes.com/


আপনার মতামত জানান