ইতিহাস

সুধীন দাশ

সুধীন দাশ

কাজী নজরুল রচিত গানগুলির পুনরুদ্ধার এবং একইসঙ্গে নজরুলগীতির প্রামাণিক স্বরলিপি তৈরি করার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ সুধীন দাশ (Sudhin Das)। বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে যে সমস্ত সুরসাধকের আবির্ভাব ঘটেছে, তাঁদের মধ্যে কিছু মানুষ কেবল নিজেদের সুললিত কন্ঠের মাধ্যমেই নয় সঙ্গীতের প্রতি এক দায়বদ্ধতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিকরণের কাজ সম্পন্ন করে সমৃদ্ধ করে তুলেছিলেন সঙ্গীতের বিপুল ভান্ডারকে। মূলত নজরুলগীতির গায়ক হিসেবেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত। তাঁকে নজরুলের গানের একজন প্রবক্তা বললেও ভুল বলা হয় না। নজরুলগীতির স্বরলিপি তৈরির জন্য নজরুলগীতির বিভিন্ন পুরনো গ্রামোফোন রেকর্ডের সাহায্যও নিয়েছিলেন তিনি। আজীবন নানা রকম ঘরানার গানের চর্চা করেছিলেন তিনি, গেয়েওছিলেন বিভিন্ন ধারার গান। কিন্তু নজরুলের গানই ছিল তাঁর একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। তবে কেবল নজরুল নয়, তিনিই প্রথম লালন সাঁইয়ের গানের স্বরলিপি তৈরি করেছিলেন। নজরুল ইনস্টিটিউটের নজরুল সঙ্গীত প্রমাণীকরণ বোর্ডের সদস্যও ছিলেন সুধীন দাশ। সঙ্গীতে এই অনবদ্য অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’ সম্মানে ভূষিত হন।

১৯৩০ সালের ৩০ এপ্রিল ব্রিটিশ শাসনাধীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত কুমিল্লা জেলার (বর্তমানে বাংলাদেশে) তালপুকুরের বাগিচাগাঁও গ্রামে সুধীন দাশের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম নিশিকান্ত দাশ (Nishi Kanta Das) এবং মায়ের নাম হেমপ্রভা দাশ (Hemprabha Das)। তাঁর তিন দিদি এবং ছয় দাদা ছিলেন। কনিষ্ঠ সন্তান হওয়ার কারণে বাবা-মায়ের প্রভূত আদর ও স্নেহে মানুষ হয়েছেন তিনি। সেই অল্প বয়স থেকেই খুব একটা কড়া শাসনের গণ্ডি না থাকায় স্বভাবে একপ্রকার বাউন্ডুলেপনা ঢুকে গিয়েছিল তাঁর। ১৯৫৫ সালে সুরেন দাশের ছাত্রী তথা খ্যাতিমান নজরুলগীতির গায়িকা নীলিমা দাশকে বিবাহ করেন সুধীন দাশ। তাঁদের দুই সন্তান নিলয় দাশ এবং সুপর্ণা দাশ, দুজনেই প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই পরিচিত।

ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন সুধীন। তাঁর প্রাথমিক লেখাপড়া শুরু হয়েছিল বামচন্দ্র পাঠশালা থেকে। তাঁর নিজেরই স্মৃতি থেকে জানা যায় ক্লাসে প্রথম না হলেও তাঁর রোল নম্বর উপরের দিকেই থাকত বরাবর। এরপর প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা মোটামুটি সম্পন্ন হবার পর তৃতীয় শ্রেণিতে উঠে তিনি ভর্তি হন ঈশ্বর পাঠশালায়। কিন্তু সেই সময় বিশ্ব রাজনীতির চালচিত্রে এক ডামাডোলের সময়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আঁচ এসে লেগেছিল এই ভারতবর্ষের গায়েও। এখানকার বাজারে প্রভাব তো পড়েছিলই, পাশাপাশি আরও বেশকিছু ক্ষতিসাধন হয়েছিল সেই সর্বনাশা যুদ্ধের কারণে। সুধীনের তৎকালীন ঈশ্বর পাঠশালাটিও যুদ্ধের কবল থেকে রেহাই পায়নি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার অল্পদিন পরেই বোমা পড়ার ভয়ে কুমিল্লার সব সরকারি অফিস-কাছারি স্থানান্তরিত হতে শুরু করে। সুধীন তখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, সেই সময় যুদ্ধের কারণে ঈশ্বর পাঠশালা ব্রাহ্মণবেড়িয়ায় স্থানান্তরিত হয়ে গেলে সেখানে গিয়ে পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি সুধীনের পক্ষে। কিন্তু পাঠশালা বন্ধ হয়ে গেলেও সুধীনের পড়াশোনা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে তাঁর পরিবারের ছিল তীক্ষ্ণ নজর। অবশেষে তাঁকে কুমিল্লা জিলা স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয় অধ্যয়নের জন্য। পরবর্তী কয়েক বছর সেখানেই পড়াশোনা করেন সুধীন দাশ এবং সেই স্কুল থেকেই ১৯৪৬ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ভিক্টোরিয়া কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে প্রবেশ করেন উচ্চশিক্ষা লাভ করবার জন্য। সেসময় দাবা খেলার নেশা তাঁকে পেয়ে বসেছিল ভীষণভাবে। সেকারণেই ১৯৫০ সালে যখন বিএ পরীক্ষার সময় আসে, তখন আর পরীক্ষায় বসা হয়নি তাঁর।

ছোটবেলা থেকেই গানবাজনার প্রতি সুধীনের ছিল প্রবল আগ্রহ। তাঁর মধ্যে এই সঙ্গীতের বীজ বপন করে দিয়েছিলেন তাঁর দাদা সুরেন দাশ। বলা যায় তিনিই ছিলেন সুধীন দাশের প্রথম সঙ্গীতগুরু। ১৯৪২ সালে সুরেন দাশ কুমিল্লায় সঙ্গীত শিক্ষার্থী সম্মেলন প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানেই পরবর্তীকালে সুধীন গান শিখেছিলেন। সুরেন দাশের কাছে অনেক ছাত্র-ছাত্রী গান শিখতে আসত, কিন্তু প্রথম দিকে সুধীনকে তিনি গান শেখাতেন না। সুধীনের মা হেমপ্রভা এর কারণ জিগ্যেস করায় সুরেন বলতেন যে সুধীনকে সবার আগে পড়াশোনা করতে হবে, তারপরে সে গান শিখবে। কিন্তু সুধীন ছিলেন নাছোড়বান্দা আর সঙ্গীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল দুর্নিবার। ঘরের পিছনদিকে দাঁড়িয়ে সুরেন দাশের গান শেখানো শুনতেন সুধীন। যা শুনতেন, খোলা মাঠে এসে দাঁড়িয়ে নিজে নিজেই তা রেওয়াজ করতেন। একা একা গুনগুনও করতেন সেই সব গান। এই ঘটনা সুরেনের দৃষ্টি এড়ায়নি। পরে সুধীন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নিয়েছিলেন দাদা সুরেন দাশের কাছ থেকেই।

মূলত নজরুলগীতির গায়ক, প্রচারক ও গবেষক হিসেবেই পরিচিত হলেও সুধীন দাশ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান গেয়ে। ১৯৪৮ সালে কলেজের ছাত্র থাকাকালীন রেডিও পাকিস্তানে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছিল। ১৯৪৮ সালেরই ৮ মার্চ রেডিও পাকিস্তানে গান গেয়ে নিজের সঙ্গীত জীবন শুরু করেন সুধীন দাশ। সেই যুগ টেলিভিশনের যুগ নয়, ফলে রেডিও শোনাই মানুষের কাছে অন্যতম একটি বিনোদনের মাধ্যম ছিল। ফলত রেডিও শিল্পীদের খ্যাতিও তখন ভালই ছিল। সেই রেডিওতেই প্রথম দিন তাঁর গাওয়া দুটি গানের মধ্যে একটি গান ছিল নজরুলের ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’। তবে সেসময় নজরুলগীতি নামে আলাদা কোনও বিভাগ ছিল না, বাংলা আধুনিক গান বা রাগপ্রধান গানের মধ্যেই নজরুলের গানকে ধরা হত। মাসে তখন চার দিন রেডিওতে গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সুধীন। রবীন্দ্রসঙ্গীত, আধুনিক গান, রাগপ্রধান গান ইত্যাদি নানা রকম ঘরানার সঙ্গীত তখন পরিবেশন করা হত। গান গাওয়ার জন্য সাম্মানিক হিসেবে দশ টাকা করে পেতেন সুধীন দাশ। তাছাড়া সেসময় রেডিওতে সুরকারের অভাব ছিল, ফলে সুরকারের চাহিদাও ছিল প্রচুর। সুধীন দাশ সুরকার হিসেবেও কাজ করতে শুরু করেন তখন। একটা গানের সুর করলে নগদ পাঁচ টাকা পাওয়া যেত। সারাজীবন নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়াও অন্যান্য অনেক রকম ঘরানার গান গেয়েছিলেন তিনি। পাঁচজন কবি যাঁরা বিংশ শতকের শুরুতে গান রচনা ও সুরারোপ করেছিলেন, সেই ‘পঞ্চকবি’র গান গেয়েছেন সুধীন। সেই পাঁচজন কবি হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন এবং রজনীকান্ত সেন। বাংলা লোকসঙ্গীতের ঐতিহ্যও মন কেড়েছিল সুধীনের। তিনিই সর্বপ্রথম বাংলা লোকগীতিকার লালন সাঁইজীর গানের স্বরলিপি তৈরি করেন। ১৯৬৫ সালে সুধীন দাশ টেলিভিশনে প্রথম সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

ছোটবেলা থেকেই নানা গ্রামোফোন রেকর্ডে নজরুলের গান শুনেছেন সুধীন। খাতায় নানারকম গানের স্বরলিপি লিখে রাখতেন তিনি, ফলে গানের ক্ষেত্রে স্বরলিপির ভূমিকা যে কতখানি তা খুব ভাল করেই জানতেন সুধীন। নজরুল সারাজীবনে নানাসময়ে প্রভূত অর্থকষ্টে ভুগেছেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোর লোকের অভাব ছিল, তাঁর গানকে স্বতন্ত্র একটি ধারার মর্যাদা দেওয়ার কথা কেউই ভাবেননি তখন। শেষে ১৯৪২ সাল নাগাদ যখন নজরুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, তখন তাঁকে নিয়ে একপ্রকার মাতামাতি শুরু হয়। ১৯৫৪-৫৫ সালে নজরুলের গানকে পাকিস্তান রেডিওতে ‘নজরুলগীতি’ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হল। নজরুলের গান নিয়ে এই মাতামাতির সময়ে সবচেয়ে ক্ষতি হতে লাগল নজরুলগীতিরই। বিভিন্ন শিল্পী তাঁদের নিজেদের মতো করে নজরুলের গান গাইতে শুরু করেছিলেন। এর ফলে নজরুলের তৈরি গানের এবং সুরের শুদ্ধতা আর বজায় থাকছিল না। ছোটবেলা থেকে শোনা নজরুলগীতির পুরোনো এবং প্রামাণিক গ্রামোফোন রেকর্ডের গান ও তৎকালীন রেডিওতে আধুনিক শিল্পীদের গাওয়া গানে সুধীন দাশ খুঁজে পেলেন আকাশ-পাতাল তফাৎ। সুধীন বুঝেছিলেন, এর মূল কারণ নজরুলের গানের কোনও সঠিক এবং সংরক্ষিত স্বরলিপি নেই। অনেকের তুলনায় নজরুলের গানের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি যা প্রায় তিন হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ নিজের গানের স্বরলিপি তৈরি করে গিয়েছিলেন এবং বিশ্বভারতীর কাছে তার কপিরাইট সংরক্ষিত ছিল বলে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ওপর গায়কদের খোদকারি করা যে সম্ভব হয়নি, তা বুঝতে বাকি ছিল না সুধীনের। যথাযথ স্বরলিপি ও তাঁর সংরক্ষণের অভাবেই যে নজরুলের গান তখন দশহাতে পড়ে তার শুদ্ধতা খুইয়েছিল তা জলের মত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল তাঁর কাছে। তাছাড়া সেসময় হাতে গোনা কয়েকটিই মাত্র নজরুলের গান গাইতেন গায়করা, তাও কোনও নির্দিষ্ট স্বরলিপি না মেনেই, নিজেদের মত করে গাইতেন। নজরুলের কাছের মানুষেরাই তাঁর গান নিয়ে বাণিজ্য করতে নেমেছিলেন তখন। এইসব কান্ড সুধীন দাশকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল রীতিমতো।

১৯৭৬ সালে নজরুলের মৃত্যুর পর নজরুলগীতির প্রামাণিক স্বরলিপি নির্মাণের পরিকল্পনা কষতে শুরু করেন সুধীন দাশ। ১৯৭৬-৭৭ সালে ভারতের একটি প্রকাশনা নজরুলের ৯০০টি গানের স্বরলিপি ছাপায় যার বেশিরভাগ গান খাঁটি ছিল না। সেই স্বরলিপি লেখককে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন সুধীন। অনেকের কাছে স্বরলিপির বিষয়টা উত্থাপন করলেও প্রথমে বহু মানুষই তেমন আমল দেননি। শেষ পর্যন্ত নজরুল একাডেমী এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করলে কাজ শুরু করেন তাঁরা। সুধীনের পরিকল্পনা ছিল পুরনো গ্রামোফোন রেকর্ড শুনে তার অনুসরণেই স্বরলিপি তৈরি হবে, তবেই তা বিশুদ্ধ এবং সঠিক হয়ে উঠবে। সেই কারণে পুরনো গ্রামোফোন রেকর্ড সংগ্রহ করতে লাগলেন সুধীন দাশ। এই কাজে তাঁকে সমর্থন করেছিলেন নজরুল একাডেমীর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক কবি তালিম হেসেন। মূলত ১৯৪২ সাল পর্যন্ত সুস্থ থাকা অবস্থায় নজরুলের গানের যেসব রেকর্ড প্রকশিত হয়েছিল, কেবল সেগুলির ভিত্তিতেই এই স্বরলিপি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মোট ৫৫০টি নজরুল সঙ্গীতের স্বরলিপি তৈরি করেছিলেন সুধীন দাশ। অবশেষে প্রভূত পরিশ্রমের পর ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাসে ২৫টি স্বরলিপি নিয়ে নজরুল স্বরলিপির প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়। প্রতিটি খণ্ডেই ২৫টি করে স্বরলিপি স্থান পেয়েছিল। কিন্তু একাডেমীর কর্মকর্তারা গ্রন্থের উপরে স্বরলিপিকার হিসেবে সুধীনের নাম লিখতে রাজি হননি। তাঁদের মত, এটা সম্মিলিত কাজ এবং পরে এ কাজ আরও অনেকেই করবেন। ফলত অভিমানবশেই পাঁচটি খণ্ডের পর কাজ বন্ধ করে নজরুল একাডেমী থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। এরপর যখন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নজরুল ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়, তখন সেখান থেকেই সুধীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল নজরুলগীতির স্বরলিপি নির্মাণের জন্য। এরপর স্বরলিপির স্বচ্ছতা এবং শুদ্ধতা যথাযথভাবে রক্ষার জন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি প্রমাণীকরন পরিষদ’। পুনরায় কাজ শুরু হয় এবং এখান থেকে মোট ৩৩টি খণ্ড প্রকাশিত হয় স্বরলিপির। উল্লেখ্য যে, সুধীন দাশ নজরুল একাডেমী থেকে পাঁচটি এবং নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে ১৬টি মোট একুশটি স্বরলিপি-গ্রন্থের কাজ করেছিলেন। প্রতিটি গানের পাঠোদ্ধারে যে অনেক সময় লেগেছিল সুধীন দাশ নিজেই জানিয়েছিলেন সেকথা।

সুধীন দাশ নজরুল ইনস্টিটিউট ও নজরুল একাডেমির সঙ্গীত প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশ টেক্সট বোর্ডের সঙ্গীত বিষয়ক সিলেবাস কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। নজরুল সঙ্গীত প্রশিক্ষণ উপকমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সুধীন। টেলিভিশনে নজরুলগীতি বিষয়ক অডিশনে বিচারকের ভূমিকাও পালন করেছিলেন তিনি।

সঙ্গীতে অনবদ্য অবদান এবং নজরুলগীতির স্বরলিপি নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য নানা সময়ে বিবিধ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন সুধীন দাশ। ১৯৮৫ সালে তিনি পেয়েছিলেন ‘শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতি স্বর্ণপদক’। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’ দ্বারা সম্মানিত করা হয় তাঁকে। এছাড়াও ১৯৯৯ সালে ‘নজরুল পদক’, চুরুলিয়া নজরুল একাডেমীর ‘নজরুল পুরস্কার’, ‘নাসিরুদ্দিন স্বর্ণপদক’, ‘জেবুন্নেসা-মাহবুবুল্লাহ ট্রাস্ট স্বর্ণপদক’-এর মত পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন তিনি বিভিন্ন সময়ে।

২০১৭ সালের ২৭ জুন মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ৮৭ বছর বয়সে সুধীন দাশের মৃত্যু হয়।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

সববাংলায় তথ্যভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল - যা জানব সব বাংলায়