ইতিহাস

টি. এস. এলিয়ট

টি. এস. এলিয়ট

বিশ্বসাহিত্যের ধারায় বিংশ শতাব্দীতে যেসব সাহিত্যিকের আবির্ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল ঘটেছিল তাঁদের মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম একজন হলেন আমেরিকান-ইংরেজ কবি টি. এস. এলিয়ট (T.S.Eliot)। টি. এস. এলিয়ট কেবলমাত্র একজন কবিই নন, তিনি একাধারে নাট্যকার, প্রকাশক এবং একজন জনপ্রিয় সাহিত্য-সমালোচকও ছিলেন। এলিয়ট তাঁর জীবনকালে দেখেছেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা এবং পচনশীল রাষ্ট্রের ছবি। ফলত তাঁর কবিতায় পূর্বতন ভিক্টোরিয়ান যুগের রোম্যান্টিকতার বদলে সেই ধ্বংসের, দগদগে ক্ষতের চিত্র ফুটে ওঠে। এখান থেকেই বিশ্ব কবিতায় এক বাঁকবদল ঘটে বলা যেতে পারে। এলিয়টের লেখাই কবিতায় আধুনিকতার ধারণাটি আমদানি করেছে বলা যায়, যে প্রভাব বাঙালি কবিরাও বিশেষ এড়াতে পারেননি। বিষ্ণু দে’র মতো বাঙালি কবিরা এলিয়টের কবিতা অনুবাদ করেছিলেন বাংলায়। তাঁর লেখা বিখ্যাত নাটক ‘মার্ডার ইন দ্য ক্যাথিড্রাল’। ‘দি ওয়েস্টল্যাণ্ড’, ‘দি হলো মেন’ ইত্যাদি তাঁর শ্রেষ্ঠতম কাব্যগ্রন্থ। বিশ্ব কবিতায় অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৪৮ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

১৮৮৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মিসৌরির সেন্ট লুইসে টি. এস. এলিয়ট এর জন্ম হয়। তাঁর পুরো নাম ছিল থমাস স্টার্নস এলিয়ট। এলিয়টের বাবা হেনরি ওয়ের এলিয়ট পেশায় ছিলেন একজন নামজাদা ব্যবসায়ী এবং সেন্ট লুইসে অবস্থিত হাইড্রলিক-প্রেস ব্রিক কোম্পানির সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষ। এলিয়টের মা শার্লট চ্যাম্পে স্টার্নস নিজে কবিতা লিখতেন এবং সমাজসেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। শার্লট এবং হেনরির ছয়টি জীবিত সন্তানের মধ্যে এলিয়ট ছিলেন কনিষ্ঠতম। আমেরিকায় জন্ম হলেও এলিয়টদের বংশের শিকড় মূলত ইংল্যাণ্ড এবং নিউ ইংল্যাণ্ডে প্রোথিত। এলিয়টের ঠাকুরদা উইলিয়াম গ্রিনলিফ এলিয়ট ইংল্যাণ্ড থেকে মিসৌরির সেন্ট লুইসে চলে এসেছিলেন ইউনিটেরিয়ান ক্রিশ্চান চার্চ গঠন করবার জন্য। ১৯১৫ সালের ২৬ জুন কেমব্রিজ গভর্নেস ভিভিয়েন-হাই-উডকে বিবাহ করেছিলেন এলিয়ট। যদিও ১৯৪৭ নাগাদ ভিভিয়েনের মৃত্যু হলে এলিয়ট ৬৮ বছর বয়সে ১৯৫৭ সালের ১০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার বিবাহ করেছিলেন তাঁর কর্মক্ষেত্রের সেক্রেটারি এস্মে ভ্যালেরিয়া ফ্লেচারকে। ছোটবেলা থেকেই শারীরিক নানা অসুস্থতা কাবু করে রাখত এলিয়টকে। ইনগুইনাল হার্নিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে কোনরকম শারীরিক কসরতমূলক কার্যকলাপে অংশ নিতে পারতেন না তিনি, ফলে বন্ধুজগৎ থেকে এলিয়ট প্রায় দূরেই ছিলেন বলা যায়। তাঁর এই একাকিত্ব এবং নির্জনতার সঙ্গী হয়েছিল সাহিত্য। বর্বর জীবনের গল্প কিংবা মার্ক টোয়েনের রোমাঞ্চসন্ধানী টম সয়্যারের মতো চরিত্র শিশু এলিয়টকে আবিষ্ট করে রাখত। এলিয়ট নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর নিজের শহরই বিশেষ সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল তাঁকে।

১৮৯৮ সাল থেকে ১৯০৫ পর্যন্ত ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়েজ কলেজ প্রিপারেটরি ডিভিসন স্মিথ অ্যাকাডেমিতে এলিয়টের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়। সেখানে লাতিন, প্রাচীন গ্রিক, ফরাসি এবং জার্মান ভাষা শেখেন এলিয়ট। এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড কৃত ওমর খৈয়ামের ‘রুবাইয়াৎ’-এর একটি অনুবাদ প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছিল এলিয়টকে আর তার ফলেই মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন। বিদ্যালয়ের অনুশীলনের জন্য লেখা তাঁর কবিতা ‘আ ফেব্‌ল ফর ফেস্টারস’ এলিয়টের প্রথম প্রকাশিত কবিতা। ১৯০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্মিথ একাডেমি রেকর্ডে এটি ছাপা হয়েছিল। ১৯০৫ সালেরই এপ্রিল মাসে সেখানে এলিয়টের আরেকটি গীতিধর্মী লেখা শিরোনামহীনভাবে ছাপা হয়েছিল, পরে সেই লেখাটিই গান হিসেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পত্রিকা ‘দ্য হার্ভার্ড অ্যাডভোকেট’-এ পুনর্মুদ্রিত হয়। ১৯০৫ সালে এলিয়টের যে তিনটি ছোটগল্প প্রকাশিত হয় সেগুলি হল ‘বার্ডস অব প্রে’, ‘আ টেল অব এ হোয়েল’ এবং ‘দ্য ম্যান হু ওয়াজ কিং’। শেষ গল্পটিতে ১৯০৪ সালে সেন্ট লুইসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব মেলা পরিদর্শনকালে ইগোরেট গ্রাম অন্বেষণের কথা প্রতিফলিত হয়েছে। আদিবাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্রের এ এক আদর্শ নিদর্শন।

এলিয়ট তাঁর জীবনের প্রথম ষোলো বছর মিসৌরির সেন্ট লুইসের লোকাস্ট স্ট্রীটে বসবাস করেছেন৷ স্নাতক ডিগ্রির জন্য স্মিথ অ্যাকাডেমি ছেড়ে প্রথমে একটি প্রস্তুতিমূলক বছর এলিয়ট ম্যাসাচুসেটসের মিল্টন অ্যাকাডেমিতে কাটান। সেখানেই স্কোফিল্ড থায়ারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় যিনি পরবর্তীকালে এলিয়টের ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যাণ্ড’ প্রকাশ করেছিলেন। ১৯০৬ সাল থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত এলিয়ট তুলনামালক সাহিত্যের মতো একটি ইলেকটিভ প্রোগ্রামে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের জন্য হার্ভার্ড কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ১৯০৯ সালে স্নাতক উত্তীর্ণ হন। সাধারণত এখানে স্নাতক হওয়ার জন্য চার বছর সময়কাল পড়াশোনা করতে হয় কিন্তু মিল্টন অ্যাকাডেমিতে এক বছরের অভিজ্ঞতার জন্য এলিয়ট তিন বছরেই স্নাতক ডিগ্রি লাভের অনুমতি পেয়েছিলেন। পরের বছর এখান থেকেই ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছিলেন তিনি। ১৯০৮ সাল স্নাতক স্তরের পাঠক এলিয়টের জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বছর। এবছরই তিনি আর্থার সিমনের ‘দ্য সিম্বলিস্ট মুভমেন্ট ইন লিটারেচার’ বইটির হদিশ পান। এই বইটিই তাঁকে পরিচয় করায় জুলেস লাফোর্গু, আর্তুর র‍্যাঁবো এবং পল ভ্যালেরির সঙ্গে। এলিয়টের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গিতে একটা বড়োসড়ো আন্দোলন ঘটিয়ে দেয় এই বই। 

১৯০৯ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত হার্ভার্ডে দর্শনের সহকারী হিসেবে কাজ করবার পর প্যারিসে চলে যান এলিয়ট এবং ১৯১০ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত সরবোনে তিনি দর্শন অধ্যয়ন করেন। কিছুদিন পর তিনি হার্ভার্ডে ফিরে আসেন এবং ১৯১১ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত সেখানে ভারতীয় দর্শন এবং সংস্কৃত অধ্যয়ন করেন। ১৯১৪ সালে অক্সফোর্ডের মার্টন কলেজ থেকে একটি বৃত্তি লাভ করেন তিনি। সেবছরই এক চিঠিতে কনরাড আইকেনকে লেখেন ইউনির্ভাসিটি শহর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকদের তিনি ঘৃণা করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উত্তপ্ত অক্সফোর্ড ছেড়ে এলিয়ট চলে আসেন এবং লণ্ডন শহরে আশ্রয় নেন। এই শহরে বসবাস এলিয়টের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এখানেই বিখ্যাত আমেরিকান সাহিত্যিক এজরা পাউণ্ডের সঙ্গে পরিচয় হয় এলিয়টের। এলিয়টের কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের পিছনে এজরা পাউণ্ডের অবদান অনস্বীকার্য। সমস্ত জায়গায় এলিয়টকে পরিচিত করানোর জন্য সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিলেন এজরা পাউণ্ড। ১৯১৫ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত বার্কবেক কলেজে ইংরেজি পড়াতে শুরু করেন এলিয়ট। ১৯১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলিয়ট এফ.এইচ ব্র্যাডলির দর্শনে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা বিষয়ে গবেষণা সম্পূর্ণ করেন যদিও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবার জন্য তিনি হাজির হতে পারেননি।

হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুলে পড়বার সময় এমিলি হেল নামের এক নারীর প্রেমে পড়েন এলিয়ট। আমেরিকা ত্যাগের আগে তিনি এমিলি হেলকে নিজের মনের কথা জানান এবং অক্সফোর্ডে থাকাকালীন ১৯১৪ এবং ১৯১৫ সালে তাঁদের মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও ১৯২৭ পর্যন্ত আর তাঁদের সাক্ষাৎ হয়নি৷ পরে ভিভিয়েনের সঙ্গে বিবাহ হলেও ভিভিয়েনের স্বাস্থ্যের সমস্যার কারণে বিবাহিত জীবন খুব সুখের হয়নি তাঁদের। এই দাম্পত্য সম্পর্ককে অবলম্বন করেই এলিয়ট ‘টম অ্যান্ড ভিভ’ নামে এক নাটক রচনা করেন৷ এই নাটকটি থেকে একই নামে পরবর্তীকালে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল।

মার্টন কলেজ পরিত্যাগ করার পর লণ্ডনের হাইগেট স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন এলিয়ট।  সেখানে তিনি ফরাসি এবং লাতিন ভাষা পড়াতেন। পাশাপাশি তিনি বাকিংহামশায়ারে অবস্থিত হাই ওয়েকম্বের রয়্যাল গ্রামার স্কুলেও শিক্ষকতা করতেন। অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য এলিয়ট বিভিন্ন বইয়ের সমালোচনাও লিখতে শুরু করেছিলেন এবং লণ্ডন, অক্সফোর্ডের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সান্ধ্যকালীন যেসব কোর্স হতো সেগুলিতে লেকচারার হিসেবে কাজ করতেন। ১৯১৭ সালে লণ্ডনের লয়েডস ব্যাঙ্কে বিদেশি অ্যাকাউন্টস বিভাগে কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯২০ সালে প্যারিসে শিল্পীবন্ধু উইণ্ডহাম লুইসের সঙ্গে ভ্রমণকালে বিখ্যাত লেখক জেমস জয়েসের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল এলিয়টের। জেমস জয়েস প্রথম দিকে এলিয়টের কবিপ্রতিভায় সন্দেহ করলেও পরে তাঁদের বন্ধুত্ব দৃঢ় হয়। চার্লস হুইবলি নামে এলিয়টের এক শুভাকাঙ্ক্ষী বিখ্যাত প্রকাশক জিওফ্রে ফেবারের কাছে সুপারিশ করেছিলেন এলিয়টের নাম আর তার ফলেই বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ‘ফেবার অ্যাণ্ড ফেবার’-এ প্রথমে এলিয়ট একজন সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে সেই সংস্থার পরিচালক হয়ে ওঠেন। খ্যাতির আড়ালে থাকা বহু ইংরেজ প্রতিভাবান কবিদের খুঁজে এলিয়ট তাঁদের লেখা প্রকাশ করেছিলেন যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন, ডব্লিউ.এইচ. অডেন, স্টিফেন স্পেণ্ডার, চার্লস ম্যাজ প্রমুখ। ১৯২৭ সালের নভেম্বর মাসে এলিয়ট ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। এরপর তিনি সেন্ট স্টিফেনস্ গির্জার গির্জা-তত্ত্বাবধায়ক হন এবং ‘সোসাইটি অব কিং চার্লস দ্য মার্টিয়ার’-এর আজীবন সদস্যপদ গ্রহণ করেন। ১৯৩২- ‘৩৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য ‘চার্লস এলিয়ট নর্টন অধ্যাপক’-এর পদ গ্রহণ করবার জন্য যখন হার্ভার্ড থেকে এলিয়টকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তিনি তখন স্ত্রী ভিভিয়ানকে ইংল্যাণ্ডে ছেড়ে যান। ১৯৬০ সালের গোড়ার দিকে এলিয়ট ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটি প্রেসের সম্পাদক হিসেবে কাজ করতে থাকেন।

১৯১০-‘১১ সালে যখন কলেজের ছাত্র থাকাকালীনই টি. এস. এলিয়ট লিখে ফেলেন ‘দ্য লাভ সং অব জে. অ্যালফ্রেড প্রুফ্রক’ এবং এই লেখাটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই পরীক্ষামূলক রচনাটি একটি সাহিত্যিক বিপ্লবের সূচনা করে বলা যায়। এছাড়াও আরও কবিতা তিনি রচনা করেছিলেন যেগুলি একত্র করে ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল ‘প্রুফ্রক অ্যাণ্ড আদার অবজারভেশন’। ১৯২২ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যাণ্ড’ এলিয়টকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিয়েছিল এবং কবিতায় আধুনিকতাবাদের উদ্ভবে এই বই খুবই গুরুত্বপূর্ণ নিঃসন্দেহে। ১৯২০ সালে তিনি ‘জেরোনিশন’ কবিতা রচনা করেন যা গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলেছিল। অ্যাংলো-ক্যাথলিক ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর ১৯৩০ সালে লেখা তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা ‘অ্যাশ ওয়েডনেসডে’ প্রকাশিত হয়। ইতিহাস এবং সময়ের প্রতি মনোযোগ লক্ষ্য করা যায় এলিয়টের কবিতায়। তাঁর কবিতাগুলি একত্রে যেসমস্ত গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেগুলি হল, ‘ফোর কোয়ার্টেটস’ (১৯৪৮), ‘বার্ন নর্টন’ (১৯৪১), ‘ইস্ট কোকার’ (১৯৪০), ‘দ্য ড্রাই স্যালভেজ’ (১৯৪১) এবং ‘লিটিল গিডিং’ (১৯৪২)।

কবিতা রচনার পাশাপাশি সমালোচনামূলক প্রবন্ধও লিখেছিলেন এলিয়ট। তাঁর বিখ্যত প্রবন্ধ ‘ট্র্যাডিশন অ্যাণ্ড দ্য ইনডিভিজুয়াল ট্যালেন্ট’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ১৯২০ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম সমালোচনা গ্রন্থ ‘দ্য সেক্রেড উডস’-এ। এর পরের বছর ‘দ্য মেটাফিজিকাল পোয়েটস’ এবং ‘অ্যান্ড্রিউ মারভেল’ নামে এলিয়টের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় যা পরে তাঁর ‘সিলেক্টেড এসে’ বইয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়  এলিয়টের আরেকটি সমালোচনার বই ‘দ্য ইউজ অব পোয়েট্রি অ্যাণ্ড দ্য ইউজ অব ক্রিটিসিজম’। ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি বিষয়ক চিন্তাভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে এলিয়টের এমন কয়েকটি প্রবন্ধের বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘থটস আফটার ল্যামবেথ’ (১৯৩১), ‘দ্য আইডিয়া অব আ ক্রিশ্চিয়ান সোসাইটি’ (১৯৩৯) এবং ‘নোটস টুয়ার্ডস দি ডেফিনিশন অব কালচার’ (১৯৪৮)।
এলিয়ট কবিতা এবং প্রবন্ধ লেখবার পাশাপাশি লিখেছেন বহু নাটক, যেগুলির মধ্যে অধিকাংশই কাব্যগুণান্বিত, বলা যায় কাব্যনাটক। এলিয়টের নাটক লেখা শুরু ‘সুইনি অ্যাগোনিস্টেস’ নাটকটি দিয়ে যেটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত এবং ১৯৩৪ সালে অভিনীত হয়েছিল। এলিয়টের লেখা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাটক ‘মার্ডার ইন দ্য ক্যাথিড্রাল’ প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে। এছাড়াও এলিয়টের আরও কিছু বিখ্যাত নাটক হল, ‘দ্য ফ্যামিলি রিইউনিয়ন’ (১৯৩৯), ‘দ্য ককটেল পার্টি’ (১৯৪৯), ‘দ্য কনফিডেনসিয়াল ক্লার্ক’ (১৯৫৩), ‘দ্য এলডার স্টেটসম্যান’ (১৯৫৮) ইত্যাদি। এলিয়টের চিঠির সংগ্রহটিও খুব জনপ্রিয় একটি গ্রন্থ।

কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক ইত্যাদি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অনবদ্য কৃতিত্বের জন্য ১৯৪৮ সালে সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মান নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন টি. এস. এলিয়ট । সেবছরই তিনি ইউনাইটেড কিংডমের ‘অর্ডার অব মেরিট’ সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৬৪ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রীডম ছাড়াও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

১৯৬৫ সালের ৪ জানুয়ারি লণ্ডনের কেনসিংটনে তাঁর নিজের বাড়িতে এম্ফিসিমায় আক্রান্ত হয়ে টি. এস. এলিয়ট এর মৃত্যু হয়।

  • অফিস ও হোম রিলোকেশন

     

    বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন

  • প্যাকার্স ও মুভার্স এর বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান 

    বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

ঈশ্বরচন্দ্র ও তাঁর পুত্রের সম্পর্ক



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন