বক্রেশ্বর ভ্রমণ

বক্রেশ্বর ভ্রমণ

পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র উষ্ণ প্রস্রবণের কারণে বক্রেশ্বরের খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তাছাড়া শৈবধাম এবং সতীপীঠের কারণেও বহু পর্যটকের ভিড় লক্ষ করা যায় এই বক্রেশ্বরে। পাপহরা আর বক্রেশ্বর এই দুই নদীর মাঝেই বীরভূমের এই মহাতীর্থ অবস্থিত। একদিকে বক্রনাথ শিব আর অন্যদিকে মহিষমর্দিনী দেবীর নানাবিধ কিংবদন্তী সঙ্গে নিয়ে বহু প্রাচীনকাল থেকেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বক্রেশ্বর। দুদিনের ছুটি পেলে তাই বক্রেশ্বরের উদ্দেশ্যে বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে বেরিয়ে পড়াই যায়।

বক্রেশ্বর জনপদটি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর মহকুমার দুবরাজপুর সম্প্রদায় উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত। জনপদের পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে বক্রেশ্বর নদী। সিউড়ি থেকে বক্রেশ্বরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার।

বক্রেশ্বরের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক সুপ্রাচীন পৌরাণিক আখ্যান। বক্রেশ্বর শিবের নামানুসারে এই শহরের নামকরণ হয়েছে বলে মনে করা হয়। পুরাণে আছে, সত্যযুগে দেবী লক্ষ্মী ও নারায়ণের বিবাহে দেবরাজ ইন্দ্র সুব্রত মুনিকে অপমান করেন। অপমানে ক্রুদ্ধ ঋষি সুব্রতর শরীর আটটি বাঁকে বেঁকে যায় এবং তিনি তখন থেকেই ‘অষ্টাবক্র মুনি’ নামে পরিচিত হন। দীর্ঘ সময় ধরে একযোগে শিবের তপস্যা করে অষ্টাবক্র মুনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন। ‘বক্রেশ্বর’ নামের মধ্যে রয়েছে ‘বক্র’ অর্থাৎ বাঁকা আর ‘ঈশ্বর’। বহুকাল ধরে তাই এখানে বক্রনাথ শিবের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে আছে। এছাড়া এই অঞ্চলটি আদি শক্তির অংশ হিসেবে ৫১টি সতীপীঠের একটি অন্যতম পীঠের মর্যাদায় উন্নীত। মনে করা হয়, দেবী সতীর ত্রিনয়ন পড়েছে এখানে। আবার অনেকে বলেন দেবী সতীর ভ্রু যুগলের মধ্যবর্তী স্থান পড়েছিল এখানে। জনশ্রুতি রয়েছে যে, বক্রেশ্বরের জঙ্গল থেকেই অষ্টাবক্র মুনি একটি শিবলিঙ্গ পেয়েছিলেন এবং তার সামনেই গভীর সাধনায় মগ্ন হয়ে সুস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই থেকেই সেই শিবলিঙ্গের নাম হয় বক্রনাথ আর এই অঞ্চল ডিহি গ্রামের পরিবর্তে বক্রেশ্বর নামে পরিচিত হতে শুরু করে। এখানে মহিষমর্দিনী দেবী পূজিতা হন বহুকাল ধরে। ঐতিহাসিকদের মত, বক্রেশ্বরের সতীপীঠে আগে অন্য মূর্তি ছিল। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘বীরভূম বিবরণ’ বইতে লিখেছিলেন যে আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগে মহিষমর্দিনী মন্দির থেকে কয়েকশ মিটার দূরে আচার্যদের দুর্গামন্দির সংলগ্ন ধরমগড় পুকুর থেকে একটি পাথরের দুর্গা মূর্তি পাওয়া গিয়েছিল। মনে করা হয় এই পাথরের দুর্গামূর্তিটিই এখানকার আসল দেবীমূর্তি।

বক্রেশ্বর ভ্রমণ বলতে প্রধানত বক্রেশ্বরের উষ্ণ প্রস্রবণ, ঐতিহ্যবাহী সতীপীঠ মহিষমর্দিনীর মন্দির এবং বক্রেশ্বর ও পাপহরা নদী দেখার জন্যেই বহু মানুষ ছুটে আসেন এখানে। বক্রেশ্বর একইসঙ্গে শৈবধাম এবং সতীপীঠ। বাবা বক্রনাথকে কেন্দ্র করে শিবলিঙ্গ আর মহিষমর্দিনী মন্দিরের পৌরাণিক কাহিনী তথা স্থান মাহাত্ম্য এই জায়গায় সৌন্দর্যকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলে। প্রচুর ভক্তেরা তাঁদের অপূর্ণ মনস্কামনা পূরণের জন্য এই পীঠে আসেন। তাছাড়া শীতকালে এই অঞ্চলের সবথেকে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে বক্রেশ্বরের বিখ্যাত উষ্ণ প্রস্রবণগুলি। কতগুলি প্রস্রবণের ঘাট সুদৃশ্যভাবে বাঁধানো রয়েছে স্নানের সুবিধের জন্য। রাজ্য পর্যটন দপ্তরের অর্থানুকূল্যে নীল-সাদা মার্বেল পাথরে সেজে উঠতে দেখা যাবে এই উষ্ণ প্রস্রবণগুলিকে। তাছাড়া এখানকার জলকে পরিস্কার রাখার ব্যবস্থাও লক্ষ্য করা যায়। স্নানের পর নোংরা জলের ধারার নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করে তোলা হয়েছে।

ট্রেনে করে বক্রেশ্বর আসতে হলে হাওড়া থেকে ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে হুল এক্সপ্রেস ধরে নামতে হবে সিউড়ি স্টেশনে। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে হুল এক্সপ্রেস সিউড়ি পৌঁছায়। এছাড়াও বিকেল ৪টে ২৫ মিনিটে ময়ূরাক্ষী এক্সপ্রেস ধরেও রাত্রি ৯টা ২ মিনিটে সিউড়িতে আসা যায়। সিউড়ি থেকে বক্রেশ্বরের দূরত্ব কম-বেশি ২৪ কিলোমিটার। তাছাড়া কলকাতার ধর্মতলা থেকে বাসে করে বক্রেশ্বরগামী বাস ধরে এখানে চলে আসা যায়। বাসে করে যেতে গেলে মোটামুটি ৪ ঘন্টা ১৫ মিনিট সময় লাগে। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী সাধারণ বাসভাড়া ১৬১ টাকা। এসি বাস হলে তার ভাড়া সামান্য বেশি হবে। নিজের গাড়ি থাকলে ১৯ নং জাতীয় সড়ক ধরে সোজা সাড়ে তিন ঘন্টার পথ পেরিয়ে চলে আসা যায় বক্রেশ্বর।

বক্রেশ্বরের দ্রষ্টব্য স্থানগুলো নিয়ে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হল।

বক্রেশ্বরের উষ্ণ প্রস্রবণ। ছবি ইন্টারনেট

উষ্ণ প্রস্রবণ – এখানকার উষ্ণ প্রস্রবণ বা কুণ্ডগুলির নাম ক্ষার, ভৈরব, অগ্নি, দুধ, সূর্য, শ্বেতগঙ্গা, ব্রহ্মাণ্ড এবং অমৃত কুণ্ড। অগ্নিকুণ্ড ছাড়া অন্যান্য উষ্ণ প্রস্রবণগুলির তাপমাত্রা কম-বেশি ৩২ ডিগ্রি থেকে ৭২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অগ্নিকুণ্ডের তাপমাত্রা সবথেকে বেশি, প্রায় ৮০ থেকে ৯৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এই কুণ্ড সোডিয়াম, পটাশিয়াম, সিলিকেট, ক্যালসিয়াম, ক্লোরাইড, বাইকার্বনেট ও সালফেট জাতীয় খনিজের আধার এবং এর মধ্যে বিজ্ঞানীদের অনুমান তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতিও থাকতে পারে। সব প্রস্রবণের জল উষ্ণ হলেও কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে অমৃত কুণ্ডের অপেক্ষাকৃত শীতল। দুধ কুণ্ডের জল একেবারে ভোরবেলায় ওজোনের অধিক ঘনত্বের কারণে অস্বচ্ছ সাদা রঙের হয়ে থাকে। এই কুণ্ডের জলের উষ্ণতাও কম-বেশি ৬৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রতিটি কুণ্ডের আলাদা আলাদা পৌরাণিক তাৎপর্য রয়েছে। এই সব কুণ্ডের জলই গিয়ে মিশেছে বক্রেশ্বর নদীতে। এই প্রস্রবণের নির্গত গরম জলে স্নান সেরে ভক্তরা বক্রেশ্বর শিবমন্দির ও মহিষমর্দিনী সতীপীঠে পুজো দিতে যান। সেখানে মহিলা ও পুরুষদের জন্য আলাদা স্নানের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু স্নানের সময় তেল বা সাবান ব্যবহার করা একেবারেই নিষিদ্ধ। বক্রেশ্বর ভ্রমণ মানে এই কুণ্ডগুলি তো ঘুরে দেখতেই হবে।

বক্রেশ্বর মন্দির। ছবি ইন্টারনেট

বক্রেশ্বর শিবের মন্দির – ওড়িশার রেখ-দেউল রীতিতে নির্মিত এই বক্রেশ্বর মন্দির আকারে অনেকটাই বড়ো। এই মন্দিরের গর্ভগৃহে একদিকে অষ্টাবক্রমুনির একটি শিলা আর তার পাশে বক্রনাথ শিবের শিলাখণ্ড দেখা যায়। জনশ্রুতি আছে, অষ্টাবক্র মুনি নাকি এখানেই প্রায় দশ হাজার বছর শিবের আরাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। শিবলিঙ্গের পাশে অষ্টাবক্র মুনির শিলাখণ্ডটি বর্তমানে অষ্টধাতু দিয়ে মোড়া। এই বক্রনাথ শিবমন্দিরকে কেন্দ্র করে এর চারপাশে আরও চার-পাঁচটি চারচালার মন্দির গড়ে উঠেছে। বাংলার সংস্কৃতিবিদ ও সাহিত্যিক বিনয় ঘোষ সম্ভবত এই কারণে বক্রেশ্বরকে ‘দেবতার গ্রাম’ আখ্যা দিয়েছিলেন।

বক্রেশ্বর মহিষমর্দিনী মন্দির – এই মহিষমর্দিনী মন্দিরটিই এখানকার সতীপীঠ । দেবী সতী এখানে মহিষমর্দিনী রূপে পূজিতা হন। বক্রনাথ শিবমন্দিরের ডানদিকে গেলেই এই মন্দিরের ভিতরে দশভূজা মহিষমর্দিনী দেবীর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে মাতা সতী নিজের বাপের বাড়িতে বাবার কাছে স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে সেখানেই দেহত্যাগ করেছিলেন। মাতা সতীর মৃতদেহ দেখে ক্রোধে উন্মত্ত মহাদেব সেই দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য চালু করেন। মহাদেবের তাণ্ডব নৃত্যে পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কায় শ্রীবিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দ্বারা মাতা সতীর দেহ একান্নটি খণ্ডে খণ্ডিত করেন। বলা হয় দেবী সতীর দুই ভ্রুর মধ্যবর্তী স্থান এখানে পড়েছিল। মতান্তরে বলা হয়ে থাকে এখানে দেবীর তৃতীয় নয়ন পড়েছিল।

ভৈরবনাথের মন্দির –  মহিষমর্দিনী মন্দিরের দক্ষিণ দিকেই রয়েছে ক্ষেত্রপাল বটুক ভৈরবের মন্দির। সতীপীঠের স্বাভাবিক নিয়মানুসারে এখানে এই ভৈরবের মন্দিরটি গড়ে উঠেছে।

পাপহরা নদী – বক্রেশ্বর মন্দিরের পিছন দিক দিয়ে শ্মশানের পাশ দিয়েই এই পাপহরা নদী বয়ে চলেছে। জলের স্রোত খুব একটা নেই। নদীর পাশেই রয়েছে অক্ষয়বট এবং তার নীচে ভগ্নপ্রায় হরগৌরীর মূর্তি। মনে করা হয় কালাপাহাড় এই অঞ্চল আক্রমণের সময় এই মূর্তিটি বিনষ্ট করেছিলেন, সেই থেকে এভাবেই পড়ে আছে এটি। মহাপ্রভু নিত্যানন্দের স্মৃতিমন্দিরও রয়েছে এই পাপহরা গঙ্গার পাড়ে। এই নদীর উষ্ণ প্রবাহে স্নানও করা যায়। মানুষের বিশ্বাস এই জলে স্নান করলে নাকি চর্মরোগ ও বাতের ব্যথা নিরাময় হয়।

এছাড়াও সাইটসিইং হিসেবে দেখে আসতে পারেন বৈতরণী গঙ্গা, হরিশ্বরী কালীমন্দির, বৈতরণী নদীর পাড়ে রুদ্রচণ্ডীর মন্দির এবং মন্দির সংলগ্ন মহাশ্মশানে অঘোরীবাবার সমাধি। বক্রেশ্বর প্রাচীনকালে শাক্ত ও শৈব সাধনার পীঠস্থান ছিল। ফলে এই শ্মশানে বহু সাধকের সমাধি রয়েছে। যদি এক রাত্রি থাকবেন মনে করে থাকেন, সেক্ষেত্রে প্রথম দিনে বক্রেশ্বরের এই দ্রষ্টব্যগুলি ভাল করে ঘুরে পরের দিন যেতে পারেন সাইটসিইং করতে।বক্রেশ্বরের কাছেই পাথরচাপুড়ির দাতাবাবার মাজারে। দাতাবাবার আসল নাম মেহবুব শাহওয়ালি। অনেক দান-ধ্যান করার জন্য তিনি বিখ্যাত এবং তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতি বছর চৈত্র মাসে তিন দিনের মেলা আয়োজিত হয়। হিন্দু, মুসলমান মিলে সকল ধর্মের বহু পুণ্যার্থী আসেন এই মেলায়। তখন এই স্থান হয়ে ওঠে এক বিরাট মিলনক্ষেত্র। মেলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঐ সময়ে আসতে হবে। সাধারণত একদিনেই ঘুরে আসা যায় বক্রেশ্বর, তবে এক রাত অনায়াসে থাকা যায় এখানে। মনে ভক্তি থাকলে ভোরবেলা উঠে কুণ্ডে স্নান করে বক্রনাথের পুজোও দিতে পারেন। তবে বক্রেশ্বর মন্দির কিংবা মহিষমর্দিনী মন্দির ঘোরার সময় অযথা চিৎকার-চেঁচামেচি করা একেবারেই উচিত নয়। মন্দির প্রাঙ্গণ এমনকি উষ্ণ প্রস্রবণগুলি কখনও নোংরা করবেন না। বাইরে থেকে কেনা খাবার নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণের ভিতরে প্রবেশ না করাই শ্রেয়।

বক্রেশ্বরের আশেপাশে প্রচুর থাকার হোটেল রয়েছে, কিছু পান্থশালা রয়েছে, এমনকি দু-তিনটে ধর্মশালাও রয়েছে। কম-বেশি বাজেটের মধ্যে হোটেল পাওয়াই যায় সবসময়। শিবরাত্রি বা শিবচতুর্দশীর সময় আসতে চাইলে আগে থেকে বুক করে রাখাই শ্রেয়। নচেৎ অন্য সময় এখানে এসেও হোটেল বুক করে রাখতে পারেন। রাসবিহারী ধর্মশালা, নিরালা সত্যপ্রিয় বিশ্রামাগার, সত্যানন্দ পান্থনিবাস ইত্যাদি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তরের অধীনে একটি ট্যুরিস্ট লজও রয়েছে বক্রেশ্বরে। হোটেলে সাধারণত খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা পাবেন না, বাইরে খেতে হবে। তবে খাওয়ার খরচ এখানে তুলনায় অনেকটাই কম।

বছরের যে কোনও সময় বক্রেশ্বরে আসা যায়। তবে ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী এবং চৈত্র মাসের শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে এখানে প্রচুর ভক্ত ও দর্শনার্থীর ভিড় হয়, ভিড় এড়াতে চাইলে অন্য সময় আসাই শ্রেয়। উষ্ণ প্রস্রবণে স্নানের ইচ্ছে থাকলে শীতকাল আদর্শ সময়।


ট্রিপ টিপস

  • কীভাবে যাবেন – ট্রেনে করে হাওড়া থেকে হুল এক্সপ্রেস ধরে সিউড়ী স্টেশনে নামতে হবে। তারপর বাস বা অটো কিংবা টোটো ধরে বক্রেশ্বরে চলে আসা যায়। এছাড়া হাওড়া ময়ূরাক্ষী এক্সপ্রেসও রয়েছে। কলকাতা থেকে সিউড়ীগামী বাস ধরেও সরাসরি এখানে চলে আসা যায়। নিজের গাড়ি থাকলে ১৯ নং জাতীয় সড়ক ধরে সাড়ে তিন ঘন্টার পথ পেরিয়ে সোজা পৌঁছে যাবেন বক্রেশ্বর।
  • কোথায় থাকবেন – আশেপাশে অজস্র হোটেল, পান্থনিবাস, ধর্মশালা রয়েছে। থাকার বিশেষ অসুবিধে নেই।
  • কী দেখবেন – উষ্ণ প্রস্রবণ, বক্রেশ্বর শিবমন্দির, ভৈরবনাথের মন্দির, মহিষমর্দিনী দেবীর মন্দির, পাপহরা গঙ্গা ও বৈতরণী গঙ্গা এখানকার অবশ্য দ্রষ্টব্য। তাছাড়া সাইটসিইং হিসেবে দেখে আসা যায় বৈতরণী গঙ্গা, হরিশ্বরী কালীমন্দির, বৈতরণী নদীর পাড়ে রুদ্রচণ্ডীর মন্দির এবং মন্দির সংলগ্ন মহাশ্মশানে অঘোরীবাবার সমাধি এবং পাথরচাপুড়িতে দাতাবাবার মাজার।
  • কখন যাবেন – বছরের যে কোনও সময় বক্রেশ্বরে আসা যায়। তবে শীতকাল আদর্শ সময়।
  • সতর্কতা –
    • বক্রেশ্বর মন্দির কিংবা মহিষমর্দিনী মন্দির ঘোরার সময় অযথা চিৎকার-চেঁচামেচি করা একেবারেই উচিত নয়।
    • মন্দির প্রাঙ্গণ এমনকি উষ্ণ প্রস্রবণগুলি কখনও নোংরা করবেন না।
    • বাইরে থেকে কেনা খাবার নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণের ভিতরে প্রবেশ না করাই শ্রেয়।
  • বিশেষ পরামর্শ –
    • সাধারণত একদিনেই ঘুরে আসা যায় বক্রেশ্বর, তবে এক রাত অনায়াসে থাকা যায় এখানে। মনে ভক্তি থাকলে ভোরবেলা উঠে কুণ্ডে স্নান করে বক্রনাথের পুজোও দিতে পারেন।

আপনার মতামত জানান