ধর্ম

সতীপীঠ

সতীপীঠ

হিন্দুধর্মের পবিত্র তীর্থগুলির মধ্যে সতীপীঠ  হল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, বিভিন্ন সতীপীঠগুলোতে দেবী সতীর দেহের বিভিন্ন অঙ্গ রক্ষিত আছে। ৫১টি সতীপীঠের কথা বলা হয়ে থাকলেও পীঠের সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ আছে।

পৌরাণিক কথা অনুযায়ী দক্ষরাজার কন্যা তার পিতার অমতে শ্মশানবাসী শিবকে বিয়ে করে সংসার পাতেন। রাজা দক্ষ শ্মশানবাসী শিবকে একেবারেই পছন্দ করতেন না। শিবের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য রাজা দক্ষ তার বাড়িতে এক বিশাল যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। সেই যজ্ঞে তিনি তার মেয়ে জামাইকে ছাড়া অন্য দেব দেবীদের নিমন্ত্রন করেছিলেন। কিন্তু সতী তার পিতার এই অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে শিবের বারণ সত্ত্বেও শিবের সঙ্গীদের সাথে তার বাপের বাড়ি এসে উপস্থিত হন। রাজা দক্ষ সেদিন তার মেয়ে সতীর কোনো আদর আপ্যায়ন তো করেননি, উল্টে সকলের সামনে জামাই শিবের নিন্দা আরম্ভ করেন। সকলের সামনে স্বামীর নামে এত অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী তার পিতার আয়োজিত যজ্ঞেই দেহত্যগ করেন। শিবের কাছে এই খবর পৌঁছালে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে সতীর দেহ কাঁধে করে বিশ্বভ্রমণে বার হন এবং তান্ডব নৃত্য শুরু করেন। মহাদেবের এই রুদ্ররূপ দেখে পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কায় ভগবান বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১ টি খন্ডে খণ্ডিত করেন। আবার মতান্তরে ৫২ আবার কোথাও ১০৮ টি খণ্ডেরও উল্লেখ পাওয়া যায়। সতীর এই দেহ খণ্ডগুলি যে যে স্থানে পড়েছিল সেগুলিই শক্তিপীঠ নামে পরিচিত। এই পীঠগুলির বেশিরভাগ ভারতে অবস্থিত। তাছাড়াও  বাংলাদেশে, পাকিস্তানে, নেপালে, তিব্বতে এবং শ্রীলঙ্কাতেও কিছু সতীপীঠ অবস্থিত।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

সতীপীঠ গুলির মধ্যে চারটি প্রধান সতীপীঠের উল্লেখ করা আছে।

প্রথমটি ওড়িশার পুরীতে জগন্নাথ মন্দির চত্বরের মধ্যে অবস্থিত । এখানে দেবী সতীর পদ ভাগ পতিত হয়েছিল। যেটি বর্তমানে বিমলা সতীপীঠ নামে পরিচিত।মতান্তরে এখানে দেবীর নাভি পড়েছিলো বলা হয়।

দ্বিতীয়টি ওড়িশার বহরমপুরে অবস্থিত। এখানে মায়ের স্তন খন্ড পতিত হয়েছিল।যেটি বর্তমানে তারাতারিণী সতীপীঠ নামে পরিচিত।

তৃতীয়টি আসামের গৌহাটিতে অবস্থিত। এখানে সতীর যোনি খন্ড পতিত হয়েছিল। এটি বর্তমানে কামাখ্যাধাম সতীপীঠ নামে পরিচিত।

চতুর্থটি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত। এখানে সতীর মুখ খন্ড পতিত হয়েছিল। এটি বর্তমানে কালিঘাট নামে পরিচিত। এখানে দেবীকে দক্ষিণা কালিরূপে পুজো করা হয়। মতান্তরে এখানে দেবীর ডান পায়ের আঙুল পড়েছিল বলা হয়।

এ চারটি ছাড়াও ধর্মীয় গ্রন্থাবলী দ্বারা স্বীকৃত আরো ৫২টি বিখ্যাত সতীপীঠ রয়েছে।

সকল সতীপীঠসমূহে দেবী ভৈরবের সাথে অবস্থান করেন।  ভৈরব  শিবের একটি রূপ। 

18 Comments

18 Comments

  1. Pingback: সতীপীঠ শ্রীশৈল | সববাংলায়

  2. Pingback: সতীপীঠ শোন্দেশ | সববাংলায়

  3. Pingback: সতীপীঠ নাইনাতিভু নাগাপুশোনি আম্মান | সববাংলায়

  4. Pingback: সতীপীঠ মণিবন্ধ | সববাংলায়

  5. Pingback: সতীপীঠ বক্রেশ্বর | সববাংলায়

  6. Pingback: সতীপীঠ গোদাবরীতীর | সববাংলায়

  7. Pingback: সতীপীঠ প্রভাস | সববাংলায়

  8. Pingback: সতীপীঠ গুহ্যেশ্বরী | সববাংলায়

  9. Pingback: সতীপীঠ মানস | সববাংলায়

  10. Pingback: সতীপীঠ মণিকর্ণিকা | সববাংলায়

  11. Pingback: সতীপীঠ জ্বালামুখী | সববাংলায়

  12. Pingback: সতীপীঠ প্রয়াগ | সববাংলায়

  13. Pingback: সতীপীঠ বগুড়া | সববাংলায়

  14. Pingback: সতীপীঠ বৈদ্যনাথ | সববাংলায়

  15. Pingback: সতীপীঠ জয়ন্তী | সববাংলায়

  16. Pingback: ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির | সববাংলায়

  17. Pingback: কালীঘাট মন্দির | সববাংলায়

  18. Pingback: নলহাটেশ্বরী মন্দির | সববাংলায়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

মনোরথ দ্বিতীয়া ব্রতকথা নিয়ে জানতে


মনোরথ দ্বিতীয়া

ছবিতে ক্লিক করুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন