সববাংলায়

সালার জং জাদুঘর ভ্রমণ

হায়দ্রাবাদ শহর শুধু চারমিনার বা গোলকোন্ডা দুর্গের জন্যই বিখ্যাত নয়, ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এখানে আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল সালার জং জাদুঘর। জাদুঘরে রয়েছে বিভিন্ন দেশের শিল্পকর্ম, প্রাচীন অস্ত্র, ভাস্কর্য, পাণ্ডুলিপি, ঘড়ি, আসবাবপত্র এবং রাজকীয় সংগ্রহ। সবচেয়ে বড় কথা, এই জাদুঘরের সংগ্রহ গড়ে উঠেছে নবাব মীর ইউসুফ আলী খান ওরফে তৃতীয় সালার জং -এর একার ব্যক্তিগত উদ্যোগে। তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে নিজের আয়ের বড় অংশ ব্যয় করে দেশ-বিদেশ থেকে বিরল ও মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করে এই জাদুঘর গড়ে তুলেছিলেন। এই জাদুঘরটি ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম জাদুঘর এবং একজন ব্যক্তির সংগ্রহ হিসাবে বিশ্বের প্রথম জাদুঘর।

সালার জং জাদুঘর কোথায়

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দ্রাবাদ শহরের পুরনো অংশে বা ওল্ড সিটির কাছাকাছি এলাকায় সালার জং জাদুঘর অবস্থিত। এটি মুসি নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত এবং হায়দ্রাবাদের অন্যতম ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। এটি হায়দ্রাবাদের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান চারমিনার থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হায়দ্রাবাদের প্রধান রেলস্টেশন সেকেন্দ্রাবাদ জংশন থেকে জাদুঘরের দূরত্ব আনুমানিক ৮–৯ কিলোমিটার এবং হায়দ্রাবাদ ডেকান (নামপল্লি) স্টেশন থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার। রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সালার জং জাদুঘরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। কাছাকাছি চারমিনার, মক্কা মসজিদ ও লাড বাজার থাকায় হায়দ্রাবাদ ভ্রমণে সালার জং জাদুঘর সহজেই একদিনের পরিকল্পনায় রাখা যায়।

সালার জং জাদুঘরের ইতিহাস

সালার জং জাদুঘরটি ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। জাদুঘরের সংগ্রহ এসেছে সালার জং পরিবারের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে, যারা হায়দ্রাবাদের নিজাম শাসনকালে দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর পদে ছিলেন। এই জাদুঘরের সবচেয়ে বড় সংগ্রাহক ছিলেন নবাব মীর ইউসুফ আলী খান ওরফে তৃতীয় সালার জং। তিনি হায়দ্রাবাদের সপ্তম নিজামের আমলে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে তিনি প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন দেশের শিল্পকর্ম, ভাস্কর্য, পাণ্ডুলিপি, আসবাবপত্র, অস্ত্র–শস্ত্রসহ বিরল ও মূল্যবান সংগ্রহ করেন। তাঁর সংগ্রহের উদ্দেশ্য ছিল শুধু সংগ্রহ নয়, বরং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সভ্যতা ও শিল্পকলার নিদর্শন এক জায়গায় ধরে রাখা। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বিশাল সংগ্রহ একটি ব্যক্তিগত জাদুঘর হিসেবে প্রদর্শিত হত। পরবর্তীকালে এই সংগ্রহের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বুঝে ১৯৫১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহরু জাদুঘরটিকে সরকারীভাবে খুলে দেন। তখনই এটিকে সালার জং জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

শুরুতে জাদুঘরটি পরিবারিক ভবনে হলেও সংগ্রহের বৃদ্ধি ও বসতি বহুগুণে বাড়ায় ১৯৬৮ সালে এটি এর বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমান স্থাপনার নকশা করে মহাম্মদ ফয়সালুদ্দিন, এবং ভবনটিতে মোট প্রায় ৩৮টি গ্যালারি রয়েছে যেখানে বিভিন্ন সময়ে সংগ্রহকৃত শিল্পকর্ম শ্রেণীবদ্ধভাবে প্রদর্শিত হয়। ১৯৬১ সালের সালার জং মিউজিয়াম অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে এটি জাতীয় প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বপ্রাপ্ত জাদুঘর হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পায় এবং সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে থাকে। বর্তমানে জাদুঘরটি শুধু শিল্পকর্ম সংগ্রহের স্থান নয়, বরং গবেষণা, শিক্ষা এবং ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সালার জং জাদুঘর কীভাবে যাবেন

হায়দ্রাবাদ শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই একদিনের জন্য জাদুঘর ঘুরতে যান। বাইরে থেকে ঘুরতে গেলে হায়দ্রাবাদ শহরের কোনও হোটেলে থেকে এখানে একদিনের জন্য ঘুরতে যাওয়া যায়। তবে এটি হায়দ্রাবাদ পুরনো অংশে অবস্থিত হওয়ায় হওয়ায় যানজটের কথা মাথায় রাখা ভালো।

হায়দ্রাবাদ মেট্রো ব্যবহার করলে সবচেয়ে কাছের মেট্রো স্টেশন হল এমজিবিএস। মেট্রোর গ্রিন লাইনে নেমে সেখান থেকে অটো বা ক্যাব নিতে হয়। এছাড়া হায়দ্রাবাদ শহরের সব জায়গা থেকেই অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব খুব সহজে পাওয়া যায় এবং সরাসরি প্রাসাদের বাইরে নামায়। নিজের গাড়িতে গেলে চারমিনার–আফজালগঞ্জ রুট ধরে যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।

সালার জং জাদুঘরে কোথায় থাকবেন

জাদুঘরের আশেপাশে খুব বেশি ভালো মানের হোটেল নেই। ভালো মানের হোটেলে থাকতে চাইলে আবিডস, নামপল্লি ও লাকড়িকাপুল এলাকায় থাকতে পারেন। বিলাসবহুল হোটেলে থাকতে হলে বাঞ্জারা হিলস বা জুবিলি হিলস এলাকায় থাকতে পারেন।

সালার জং জাদুঘরে কী দেখবেন

সালার জং জাদুঘরে এমন সব পুরোনো জিনিস সংরক্ষিত আছে, যেগুলোর বয়সকাল খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে শুরু করে খ্রিস্টীয় বিংশ শতাব্দীর শুরুর সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। জাদুঘরের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এখানে ৪৬ হাজারেরও বেশি শিল্পসামগ্রী, ৮ হাজারেরও বেশি পাণ্ডুলিপি এবং ৬০ হাজারেরও বেশি ছাপা বই রয়েছে। এই বিশাল সংগ্রহকে কয়েকটি বড় বিভাগে ভাগ করে রাখা হয়েছে এবং ৩৮টিরও বেশি গ্যালারিতে সেই প্রদর্শনী সাজানো রয়েছে। সালার জং পরিবারের ইতিহাস ও সংগ্রাহকদের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে একটি আলাদা গ্যালারিও রয়েছে, যেটি ‘ফাউন্ডার্স গ্যালারি’ নামে পরিচিত।

ভারতীয় শিল্প সংগ্রহ

অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এখানে মিনিয়েচার চিত্রকলা, আধুনিক চিত্রকলা, ব্রোঞ্জের কাজ, বস্ত্রশিল্প, হাতির দাঁতের কাজ, জেডের কাজ, বিদ্রি শিল্প, অস্ত্র ও বর্ম, পাথরের ভাস্কর্য, কাঠের খোদাই, ধাতব সামগ্রী এবং পাণ্ডুলিপি দেখা যায়। এই বিভাগের মধ্যে প্রাচীন অন্ধ্রপ্রদেশ অঞ্চলের ভাস্কর্য যেমন আছে, তেমনই মধ্যযুগের চিত্রকলারও উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ রয়েছে। জাদুঘরটি ১৯৬১ সালে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরে একটি অধিগ্রহণ কমিটি তৈরি হয়, এবং তার পরবর্তী সময়ে আধুনিক ভারতীয় শিল্পীদের বেশ কিছু কাজও এই সংগ্রহে যুক্ত করা হয়।

বিদ্রি শিল্প সংগ্রহ

অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী সালার জং জাদুঘরে বিদ্রি শিল্পের সংগ্রহ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড়গুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। এই শিল্পধারাটি মূলত ধাতব সামগ্রীর উপর সূক্ষ্ম নকশা ও অলংকরণের জন্য বিখ্যাত, এবং জাদুঘরে এর বহু মূল্যবান নিদর্শন দেখা যায়।

মিনিয়েচার চিত্রকলার সংগ্রহ

মিনিয়েচার চিত্রকলার সংগ্রহে মুঘল, রাজস্থানি, তাঞ্জাভুর, মালওয়া এবং দাক্ষিণাত্য ঘরানার কাজ দেখা যায়। এই ধরনের ছবিতে অনেক সময় পারস্য ও ভারতীয় প্রভাব একসঙ্গে দেখা যায়, আবার কোথাও কোথাও ইউরোপীয় প্রভাবের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। দাক্ষিণাত্য ঘরানার ছবিগুলোর মধ্যে গোলকোন্ডা, বিজাপুর, বিদর, গুলবার্গা ও আহমেদনগর অঞ্চলের শিল্পধারার প্রভাবও বোঝা যায়।

আধুনিক চিত্রকলার সংগ্রহ

সালার জং তৃতীয় কিছু আধুনিক চিত্রকলা নিজে সংগ্রহ করেছিলেন, তবে আধুনিক চিত্রকলার বড় অংশ জাদুঘর সংগ্রহ করে ১৯৬২ সালের পরে। এই অংশে রাজা রবি বর্মার কাজসহ আধুনিক শিল্পধারার কয়েকজন উল্লেখযোগ্য শিল্পীর কাজ সংরক্ষিত রয়েছে। রবি বর্মার ‘স্টোলেন ইন্টারভিউ’ এবং ‘দ্য কেরালা বিউটি’ নামের দুটি কাজ এখানে দেখা যায়।

হাতির দাঁতের কাজ

এই জাদুঘরের হাতির দাঁতের কাজের সংগ্রহ খুবই উল্লেখযোগ্য। এখানে আসবাবপত্র, ল্যাম্প, খেলার বোর্ড, দাবার ঘুঁটি এবং নানা ধরনের সূক্ষ্ম খোদাই করা সামগ্রী রয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত সংগ্রহগুলোর মধ্যে একটি হল টিপু সুলতানকে ফ্রান্সের রাজা লুই ষোড়শের পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া একটি হাতির দাঁতের চেয়ার। এছাড়াও মাইসোর থেকে আনা একটি হাতির দাঁতের ল্যাম্পকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

জেডের সংগ্রহ

জেডের সংগ্রহও সালার জং জাদুঘরের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। একটি প্রকাশনায় উল্লেখ আছে যে এখানে প্রায় ৯৮৪টি জেডের সামগ্রী ছিল। এর মধ্যে অনেকগুলোই মুঘল আমলের, এবং কিছু সামগ্রী আসফ জাহি বা নিজাম আমলের।

অস্ত্র ও বর্ম বিভাগ

ভারতীয় সংগ্রহের মধ্যে অস্ত্র ও বর্ম বিভাগে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রও সংরক্ষিত আছে। জাহাঙ্গীর, নূরজাহান ও শাহজাহানের সঙ্গে সম্পর্কিত জেডের কাজ করা ছুরি যেমন আছে, তেমনই আওরঙ্গজেব, টিপু সুলতান, মুহাম্মদ শাহ, বাহাদুর শাহ এবং কুতুব শাহী আমলের কিছু অস্ত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের শিল্প সংগ্রহ

মধ্যপ্রাচ্যের শিল্প বিভাগে পারস্য, সিরিয়া এবং মিশরের বিভিন্ন শিল্পবস্তু দেখা যায়। এখানে কার্পেট, পাণ্ডুলিপি, সিরামিক, কাচের কাজ, ধাতব সামগ্রী, আসবাবপত্র এবং ল্যাকার কাজের মতো জিনিস রয়েছে। এই বিভাগের একটি মূল্যবান সম্পদ হল পারস্যের কিছু কার্পেট, যেখানে ‘খসরু’ সম্পর্কিত গল্প বা দৃশ্য শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

পশ্চিমা শিল্প সংগ্রহ

পশ্চিমা শিল্প বিভাগের সংগ্রহে বিভিন্ন ধরনের শিল্পবস্তু রয়েছে। এই অংশে তেলরঙের চিত্রকলা, কাচের সামগ্রী, হাতির দাঁতের কাজ, এনামেল করা সামগ্রী, ঘড়ি এবং রাজকীয় আসবাবপত্র দেখা যায়। জাদুঘরের সবচেয়ে আলোচিত শিল্পকর্মগুলোর একটি হল ‘ভেইল্ড রেবেকা’ নামের একটি মার্বেলের ভাস্কর্য, যেটি জিওভান্নি মারিয়া বেঞ্জোনি তৈরি করেছিলেন এবং সালার জং প্রথম ইতালি সফরের সময় ১৮৭৬ সালে এটি সংগ্রহ করেছিলেন।

জাপান ও চীনের শিল্প সংগ্রহ

সালার জং জাদুঘরে জাপান ও চীনের শিল্পবস্তুর একটি বড় সংগ্রহও রয়েছে। এখানে জাপানি ও চীনা চীনামাটির সামগ্রী, ব্রোঞ্জ, এনামেল, ল্যাকার কাজ, সূচিকর্ম, চিত্রকলা, কাঠের কাজ এবং ইনলে কাজের মতো শিল্পবস্তু দেখা যায়।

শিশু বিভাগ

জাদুঘরের শিশু বিভাগটি তুলনামূলকভাবে আলাদা ধরনের। এখানে বিংশ শতাব্দীর শুরুর সময়ের একটি ছোট ট্রেন আছে, যেটি স্বল্প দূরত্বে চলাচল করে এবং এটিকে এই বিভাগের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও এই বিভাগে চীনামাটির সামগ্রী, ধাতব সামগ্রী, জেডের কাজ এবং খেলনা সৈন্যের মতো সংগ্রহ রয়েছে।

জাদুঘরের লাইব্রেরি ও পাণ্ডুলিপি বিভাগ

সালার জং জাদুঘরের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল এর গ্রন্থাগার ও পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ। এই লাইব্রেরি ১৯৬১ সালে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য খোলা হয়। এখানে থাকা পাণ্ডুলিপির সংগ্রহকে মানের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ সংগ্রহের মধ্যে ধরা হয়। এখানে এমন কিছু পাণ্ডুলিপিও আছে যেগুলোর উপর আকবর, আওরঙ্গজেব এবং জাহানারা বেগমের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে। লাইব্রেরির সংগ্রহে যে বই ও পাণ্ডুলিপি রয়েছে, তার কিছু অংশের সময়কাল ১৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পুরোনো।

লাইব্রেরি ও পাণ্ডুলিপি বিভাগ জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। এই গ্রন্থাগারে মোট ৬২,৭৭২টি ছাপা বই সংরক্ষিত আছে। এই বইগুলোর মধ্যে ইংরেজি, উর্দু, হিন্দি, তেলুগু, ফার্সি, আরবি এবং তুর্কি ভাষার বই রয়েছে। বিষয়বস্তুর দিক থেকে এই সংগ্রহে শিল্প, স্থাপত্য, প্রত্নতত্ত্ব, বিজ্ঞান, সাহিত্য, ইতিহাস এবং ভ্রমণসহ বহু ধরনের ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত। এই লাইব্রেরির সবচেয়ে পুরোনো বইটি ১৬৩১ খ্রিস্টাব্দে ছাপা একটি ইংরেজি বই।

সব মিলিয়ে সালার জং জাদুঘরে দেখার বিষয় এত বেশি যে যারা ইতিহাস, শিল্পকলা বা প্রাচীন সংগ্রহ দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি হায়দ্রাবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দর্শনীয় স্থান। এক জায়গায় এতগুলো দেশের ও সভ্যতার শিল্পবস্তু দেখা যায় বলেই এই জাদুঘরের অভিজ্ঞতা সাধারণ জাদুঘর ভ্রমণের থেকে অনেকটাই আলাদা হয়ে ওঠে।

সালার জং জাদুঘরে কখন যাবেন

সালার জং জাদুঘর সারা বছরই ট্যুরিস্টদের জন্য খোলা থাকে। তবে হায়দ্রাবাদ ভ্রমণের জন্য সাধারণভাবে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসকে সবচেয়ে ভালো সময় বলা হয়, কারণ এই সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক থাকে এবং জাদুঘরের ভেতরে ঘুরে দেখতেও স্বস্তি হয়। গ্রীষ্মকালে হায়দদ্রাবাদে গরম অনেক বেড়ে যায়, ফলে দিনের বেলায় বাইরে চলাচল কিছুটা কষ্টকর হতে পারে। বর্ষাকালে শহরে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলেও জাদুঘর দেখার ক্ষেত্রে সাধারণত বড় সমস্যা হয় না। দিনের মধ্যে জাদুঘর দেখার জন্য সকালবেলা যাওয়াই সবচেয়ে ভালো, কারণ তখন ভিড় কম থাকে এবং ধীরে ধীরে গ্যালারি ঘোরা যায়। সপ্তাহান্তে ও সরকারি ছুটির দিনে ট্যুরিস্টদের চাপ বেশি থাকে, তাই সময় থাকলে সপ্তাহের সাধারণ দিনে গেলে জাদুঘরটি তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশে দেখা সম্ভব। জাদুঘর শুক্রবার বন্ধ থাকে।

সতর্কতা ও পরামর্শ

  • টিকিট মূল্য জন্য মাথাপিছু ৫০ টাকা।
  • মোবাইলে ছবি তুলতে হলে ৫০ টাকার টিকিট লাগে।
  • পর্যটকদের জন্য জাদুঘর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
  • চত্বরে মদ্যপান, ধূমপান ও যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • সমগ্র জাদুঘর একদিনে ঘোড়া সম্ভব নয়। তাও হাতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় রাখলে অনেকটা অংশ ঘুরে নিতে পারবেন। আরামদায়ক পোশাক এবং জুতো পড়ুন।

সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. https://www.salarjungmuseum.in/
  3. https://en.wikipedia.org/
  4. https://hyderabad.telangana.gov.in/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading