ইতিহাস

উইনস্টন চার্চিল

উইনস্টন চার্চিল

ব্রিটিশ রাষ্ট্রনায়ক এবং কূটনীতিক হিসেবেই কেবল নয়, বিশ্বসাহিত্যের দরবারেও অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন উইনস্টন চার্চিল (Winston Churchill)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তপ্ত সময়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মিত্রশক্তির অন্যতম বৃহৎ শক্তি যুক্তরাজ্যের সংগঠনে যে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি তা ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। প্রথমদিকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকার পর সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন তিনি। ব্রিটিশ ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময়ের রাজনীতিবিদ উইনস্টন চার্চিল একইসঙ্গে ছিলেন একজন অনবদ্য লেখক। প্রতিবেদনমূলক লেখা থেকে শুরু করে বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ তিনি রচনা করেছিলেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন উইনস্টন চার্চিল। সাহিত্য এবং রাজনীতি ছাড়াও একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে নিজের দক্ষতার প্রমাণ করেছিলেন তিনি।

১৮৭৪ সালের ৩০ নভেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারে ব্লেনহেইম প্যালেসে পৈতৃক পরিবারে উইনস্টন চার্চিলের জন্ম হয়।  তাঁর বাবা বিখ্যাত রাজনীতিবিদ লর্ড র‍্যানডল্ফ চার্চিল কনজার্ভেটিভ পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। চার্চিলের মা জেনি জেরোম ছিলেন একজন ধনী আমেরিকান ব্যবসায়ীর কন্যা এবং বিখ্যাত সুন্দরী রমণী। উইনস্টন চার্চিল সরাসরি মার্লবোরোর প্রথম ডিউকের বংশধর ছিলেন।১৮৭৬ সালে চার্চিলের ঠাকুরদা জন স্পেন্সার-চার্চিল আয়ারল্যান্ডের ভাইসরয় নিযুক্ত হলে র‍্যানডল্ফ তাঁর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেন এবং তাঁদের পরিবার ডাবলিনে স্থানান্তরিত হয়। সেখানেই  ১৮৮০ সালে চার্চিলের ভাই জ্যাক চার্চিলের জন্ম হয়েছিল। ১৮৮০-র দশকের বেশিরভাগ সময় র‍্যানডল্ফ এবং জেনি বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে জ্যাক এবং উইনস্টন চার্চিলের দেখাশোনা করতেন এলিজাবেথ এভারেস্ট নামের এক আয়া। চার্চিল লিখেছিলেন সেই আয়া তাঁর খুব প্রিয় হয়ে উঠেছিল।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

সাত বছর বয়সে উইনস্টন চার্চিল বার্কশায়ারের অ্যাসকটে অবস্থিত সেন্ট জর্জ স্কুলের বোর্ডিংয়ে থেকে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু এই আবদ্ধ বিদ্যায়তনিক শিক্ষায় তিনি যে উৎসাহ পেতেন না, তা তাঁর আচরণেই প্রকাশ পেত। ১৮৮৪ সালে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল হোভে অবস্থিত ব্রান্সউইক স্কুলে তাঁর স্থানান্তর ঘটে। সেই স্কুলে তাঁর অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার উন্নতি ঘটেছিল। ১৮৮৮ সালের এপ্রিল মাসে ১৩ বছর বয়সে হ্যারো স্কুলের প্রবেশিকা পরীক্ষায় কোনোরকমে উত্তীর্ণ হতে পেরেছিলেন উইনস্টন চার্চিল। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনায় চার্চিলের এই অনুৎসাহ এবং খারাপ ফলাফলের জন্য  মিলিটারিতে কেরিয়ার গঠনের জন্য ছেলেকে প্রস্তুত করবার কথা ভেবেছিলেন তাঁর বাবা র‍্যানডল্ফ। হ্যারো স্কুলের শেষ তিন বছর চার্চিল সেনা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্যান্ডহার্স্টের বিখ্যাত রয়্যাল মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ভর্তির চেষ্টায় দুবার ব্যর্থ হওয়ার পরে তৃতীয়বারে সেখানে প্রবেশ করতে সফল হয়েছিলেন চার্চিল। ১৮৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি অশ্বারোহী বাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে নির্বাচিত হন। স্যান্ডহার্স্টে ১৩০ জনের ক্লাসে উইনস্টন চার্চিল ২০তম স্থান লাভ করেন। স্যান্ডহার্স্ট থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার এক মাস পরে ১৮৯৫ সালের জানুয়ারি মাসে চার্চিলের বাবার মৃত্যু হয়েছিল।

১৮৯৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অন্তর্গত চতুর্থ রাণীর নিজস্ব অশ্বারোহী বাহিনীতে দ্বিতীয় লেফটেন্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন চার্চিল। তাঁর বেতন ছিল বছরে ১২০ পাউন্ড। ১৮৯৬ সালের ২০ মে তিনি লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হয়েছিলেন চার্চিল। ১৮৯৫ সালেই এক বন্ধুর সঙ্গে কিউবায় যান তিনি, সেখানে তখন স্বাধীনতার লড়াই চলছিল। চার্চিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দমনের প্রচেষ্টায় স্প্যানিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে লন্ডনের ‘ডেইলি গ্রাফিক’-এর জন্য তিনি কিউবার স্বাধীনতা যুদ্ধের রিপোর্ট করতে থাকেন। এরপর নিউইয়র্ক যান চার্চিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেন। ১৮৯৬ সালে চার্চিলের রেজিমেন্ট ভারতবর্ষের ব্যাঙ্গালোর স্টেশনে পৌঁছায়। ১৯ মাস ভারতে ছিলেন চার্চিল এবং তার মধ্যে তিনবার কলকাতা পরিদর্শন করেছিলেন তিনি। ১৮৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের মালাকান্ড ফিল্ড ফোর্স সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন চার্চিল। ১৬ সেপ্টেম্বর মাহমুদ উপত্যকার এক অভিযান চার্চিলের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। ১৮৯৫ সালে চার্চিলকে ‘ইন্ডিয়া মেডেল’ প্রদান করা হয়েছিল। উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের ফিল্ড ফোর্সের বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে চার্চিল লিপিবদ্ধ করেন ব্যাঙ্গালোরে এবং তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ‘দ্য স্টোরি অফ দ্য মালাকান্দ ফিল্ড ফোর্স’ নামে। এটি চার্চিলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। সেসময় ১৮৯৭ সাল নাগাদ তিনি একটি মাত্র কল্পকাহিনী ‘সাভ্রোলা’ রচনা করেছিলেন। ভারতবর্ষে থাকাকালীন প্লেটো, চার্লস ডারউইন, এডওয়ার্ড গিবনদের লেখা পড়েন চার্চিল এবং নিজেকে স্বশিক্ষিত করে তুলতে থাকেন।
এরপর চার্চিল প্রথমে তিরাহ অভিযানে যোগ দেন। পরে দরবেশদের কাছ থেকে সুদান পুনরুদ্ধারের জন্য জেনারেল কিচেনারের অভিযানে যোগ দেন তিনি। পাশাপাশি ‘দ্য মর্নিং পোস্ট’-এর সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করছিলেন চার্চিল। ১৮৯৮ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডে ফিরে তিনি ‘রিভার ওয়ার’ লিখতে শুরু করেন যা ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত হয়। ১৮৯৮ সালের ২ ডিসেম্বর চার্চিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন ও ভারতে যান। ১৮৯৯ সালের ২০ মার্চ রাজনীতিতে কর্মজীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বম্বে থেকে রওনা দেন উইনস্টন চার্চিল।

চার্চিল কনজার্ভেটিভ পার্টির মিটিংয়ে বক্তব্য রাখেন এবং ওল্ডহামে ১৮৯৯ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে পার্টির সংসদ প্রার্থী হিসেবে হয়েছিলেন। ওল্ডহামে প্রচার চালানোর সময় নিজেকে একজন কনজার্ভেটিভ এবং ডেমোক্র্যাট বলে উল্লেখ করেন তিনি।  দ্বিতীয় বোয়ার যুদ্ধের প্রাদুর্ভাবের পূর্বাভাস পাওয়া গেলেই ‘মর্নিং পোস্ট’-এর সম্পাদক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাত্রা করেন উইনস্টন চার্চিল। ১৯০০ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার লাইট হর্স রেজিমেন্টে যোগ দেন। জুলাই মাসে পদত্যাগ করে ব্রিটেনে ফিরে আসেন। ‘মর্নিং পোস্ট’-এ পাঠানো তার ডিসপ্যাচগুলি ‘লন্ডন টু লেডিস্মিথ ভায়া প্রিটোরিয়া’ নামে প্রকাশিত হয়। ১৯০০ সালের অক্টোবরে কনজার্ভেটিভ পার্টির সদস্য হিসেবে ওল্ডহামের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং ২৫ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই মাসেই তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ‘ইয়ান হ্যামিলটন’স মার্চ’ প্রকাশ করেন। আমেরিকায় চার্চিল রুজভেল্ট, মার্ক টোয়েন, প্রেসিডেন্ট ম্যাককিনলের সঙ্গে দেখা করেন। ১৯০১ সালে প্যারিস, মাদ্রিদ, জিব্রাল্টারে বক্তৃতা দেন।

১৯০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘হাউজ অব কমনস’-এ আসন গ্রহণ করেন উইনস্টন চার্চিল। হুগলিগান নামে পরিচিত কনজার্ভেটিভদের এক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কনজার্ভেটিভ পার্টির বিভিন্ন বিষয়কে সমালোচনা করেছিলেন চার্চিল। ১৯০৩ সাল নাগাদ কনজার্ভেটিভ পার্টির অর্থনৈতিক সুরক্ষাবাদ প্রচারের বিরোধিতা করেছিলেন চার্চিল ফলে তাঁর সঙ্গে পার্টির বিচ্ছিন্নতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯০৪ সালে কনজার্ভেটিভ পার্টি ত্যাগ করে তিনি লিবারেল পার্টিতে যোগদান করেন। ব্রিটেনে ইহুদিদের অভিবাসন রোধ করার জন্য যে এলিয়েন বিল, ১৯০৪ সালের মার্চ মাসে চার্চিল তার প্রতিবাদ করেন। সেই বছর মে মাসে হাউজ অব কমন্সে লিবারেল পার্টির সদস্য হিসেবে আসন গ্রহণ করেন তিনি।

১৯০৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে চার্চিল ম্যাঞ্চেস্টার নর্থ ওয়েস্ট থেকে জয়লাভ করেন। এসময়তেই লিবারেল পার্টির আলেকজান্ডার ম্যাককালাম স্কটের লেখা চার্চিলের প্রথম জীবনী প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি উপনিবেশের সেক্রেটারি অব স্টেট ভিক্টর ব্রুসের অধীনে কাজ করেছিলেন এবং এডওয়ার্ড মার্সকে নিজের সেক্রেটারি হিসেবে বেছে নেন। চার্চিলের প্রথম কাজ ছিল ট্রান্সভালের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়নে সহায়তা করা। ১৯০৮ সালের ৮ এপ্রিল অ্যাসকুইথের সরকার গঠিত হলে চার্চিল বোর্ড অব ট্রেডের সভাপতি নিযুক্ত হন। ১৮৬৬ সাল থেকে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রীসভার সদস্য ছিলেন। উপনির্বাচনের পুনঃনির্বাচনে কনজার্ভেটিভ পার্টির একজনের কাছে ম্যাঞ্চেস্টার নর্থ ওয়েস্টে হেরে যান। তাঁকে লিবারেল পার্টি ৯ মে ডান্ডির নিরাপদ একটি আসনে দাঁড় করায় এবং খুব সহজেই তিনি জয়লাভ করেন। ১৯০৮ সালের সেপ্টেম্বরে চার্চিল ওয়েস্টমিনস্টারের সেন্ট মার্গারেটসে ক্লেমেন্টাইন হোজিয়ারকে (Clementine Hozier) বিবাহ করেন। ১৯০৯ সালের জুলাই মাসে তাঁদের কন্যাসন্তান ডায়ানার জন্ম হয়। তাঁদের আরও তিন সন্তান হলেন, র‍্যানডল্ফ, সারাহ্ এবং মেরিগোল্ড।

চার্চিল মাইনস এইট আওয়ার বিল প্রবর্তন করে খনি শ্রমিকদের দিনে আট ঘন্টার বেশি কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। ১৯০৯ সালে তিনি লেবার এক্সচেঞ্জ বিলের প্রস্তাব করেন বেকার সমস্যা মেটানোর জন্য। ১৯১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, চার্চিলকে স্বরাষ্ট্র সচিব পদে উন্নীত করা হয়, তাঁকে পুলিশ এবং কারাগারের পরিষেবাগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রদান করা হয়। নির্জন কারাবাসের নিয়মগুলি কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল তখন। চার্চিল মহিলাদের ভোট দেওয়ার অধিকারকে সমর্থন করেন। ১৯১১ সালের মার্চ মাসে চার্চিল পার্লামেন্টে কয়লা খনি বিলের দ্বিতীয় পঠন উপস্থাপন করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় বীমা আইনের খসড়া তৈরিতে সাহায্য করেন চার্চিল। ১৯১১ সালের অক্টোবরে অ্যাসকুইথ চার্চিলকে অ্যাডমিরালটির প্রথম লর্ড নিযুক্ত করেন। এরপর নৌ-প্রস্তুতির দিকে মন দেন তিনি। রয়্যাল নেভাল এয়ার সার্ভিসের উপর নতুন করে মনোযোগ দেন চার্চিল।

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে চার্চিল ব্রিটেনের নৌ-বাহিনীর তদারকির দায়িত্ব পান। সেপ্টেম্বরে, তিনি ব্রিটেনের আকাশ প্রতিরক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন গ্যালিপলি সামরিক অভিযান চার্চিলের জীবনের এক বিতর্কিত অধ্যায়। ১৯১৫ সালের ২৫ নভেম্বর সরকার থেকে পদত্যাগ করে তিনি ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে অস্থায়ীভাবে লেফটেন্যান্ট-কর্নেল পদে উন্নীত করা হয়। লয়েড জর্জ সরকার ক্ষমতায় এলে ১৯১৭ সালের জুলাইতে যুদ্ধাস্ত্র মন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। ১৯১৯ সালে লয়েড জর্জ চার্চিলকে ‘সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ওয়ার’-এর দায়িত্ব দেন। লেনিনের কমিউনিস্ট পার্টির বিরোধী ছিলেন চার্চিল। চার্চিল ১৯২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপনিবেশের সেক্রেটারি অফ স্টেট নিযুক্ত হন। পরের মাসে প্যারিসে তাঁর চিত্রকর্মের প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২২-এর সাধারণ নির্বাচনে চার্চিল ডান্ডির আসনে পরাজিত হন।

তাঁর লেখা যুদ্ধের আত্মজৈবনিক ইতিহাস ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ক্রাইসিস’-এর প্রথম খণ্ড ১৯২৩-এ প্রকাশিত হয়। ১৯২৪ সালে চার্চিল ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে উপ-নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র সমাজতন্ত্রবিরোধী প্রার্থী হিসাবে দাঁড়ান কিন্তু পরাজিত হন। ২৯ অক্টোবর পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে কনজার্ভেটিভ পার্টির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। কনজার্ভেটিভ নেতা বাল্ডউইন তাঁকে এক্সচেকারের চ্যান্সেলার হিসেবে নিয়োগ করেন। ১৯২৪-এর ৬ নভেম্বর কনজার্ভেটিভ পার্টিতে পুনরায় যোগদান করেন তিনি। চার্চিল ১৯২৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট পাঁচটি বাজেট পেশ করেন। ১৯২৬-এর সাধারণ ধর্মঘটের সময় চার্চিল ‘ব্রিটিশ গেজেট’ সম্পাদনা করেন। ১৯২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে কনজার্ভেটিভ পার্টির পরাজয় ঘটে। এসময় রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকাকালীন লেখালেখি করেই অবসর যাপন করতেন চার্চিল। পূর্বপুরুষ জন চার্চিলের চার খণ্ডের আত্মজীবনী ‘মার্লবোরো: হিজ লাইফ অ্যান্ড টাইমস’ ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮-এর মধ্যে প্রকাশিত হয়। অক্টোবর ১৯৩০ সালে চার্চিল তার আত্মজীবনী, ‘মাই আর্লি লাইফ’ প্রকাশ করেন।

১৯৩৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, যেদিন ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল, চেম্বারলেন চার্চিলকে অ্যাডমিরালটির প্রথম লর্ড হিসাবে পুনরায় নিযুক্ত করেন। চেম্বারলেনের পদত্যাগের পর ১৯৪০ সালে সর্বদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন চার্চিল। চার্চিল নিজেই পরবর্তীতে চেম্বারলেন এবং আরও চারজনকে নিয়ে যুদ্ধ মন্ত্রীসভা গঠন করেন। চার্চিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর অতিরিক্ত পদ তৈরি করেন এবং গ্রহণ করেন। জার্মানির প্রবল প্রতাপান্বিত অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে মিত্রশক্তির জয়লাভে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চার্চিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধকালীন জোট ভেঙে গেলে ১৯৪৫-এর ২৩ মে চার্চিল প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পরের বছরগুলি কনজার্ভেটিভ পার্টির সদস্য হিসেবে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৫১ সালের সাধারণ নির্বাচনে কনজার্ভেটিভরা জয়লাভ করেন এবং পুনরায় চার্চিল প্রধানমন্ত্রী হন ও ১৯৫৫ সালে অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন।

চার্চিলের দুটি বিখ্যাত বই হল, বারো খন্ডে ‘দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার’ এবং ‘আ হিস্টোরি অব দ্য ইংলিশ-স্পিকিং পিপলস’। ১৯৫৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

১৯৬৫ সালের ১২ জানুয়ারি ভয়ংকর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং ২৪ জানুয়ারি ৯০ বছর বয়সে লন্ডনে উইনস্টন চার্চিলের মৃত্যু হয়।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন