একদিবসীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সর্বশ্রেষ্ঠ আসর হল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা যা ক্রিকেট বিশ্বকাপ নামে পরিচিত। ২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ (2003 Cricket World Cup) ছিল বিশ্বকাপের অষ্টম আসর। এই বিশ্বকাপের আসর ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং কেনিয়াতে অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রথমবার আফ্রিকায় ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজন করা হয়েছিল। সর্বমোট ১৪টি দেশ এই খেলায় অংশগ্রহণ করেছিল। এই বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া তৃতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ বিজয়ী হয়েছিল।
২০০৩ সালের এই বিশ্বকাপটির স্পনসর কোন বাণিজ্যিক সংস্থা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের অর্থায়নেই আয়োজিত হয়েছিল৷ বিশ্বকাপে এই প্রথমবার সবচেয়ে বেশি দল, অর্থাৎ ১৪টি দল অংশগ্রহণ করেছিল।
সেই সময় সদ্য সংযুক্ত বাংলাদেশ-সহ দশটি টেস্ট ক্রিকেট খেলা দল তো যোগ্যতা অর্জন করে ছিল এবং কেনিয়া আন্তর্জাতিক একদিবসীয় ক্রিকেটে সম্পূর্ণ পদমর্যাদালাভের কারণে বিশ্বকাপে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করে। বাকি তিনটি দল অর্থাৎ নেদারল্যান্ডস, কানাডা এবং নামিবিয়া ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফির মাধ্যমে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এই তিনটি দলই আইসিসি ট্রফির শীর্ষ তিনটি দল ছিল এবং নেদারল্যান্ডস চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ২০০৩ বিশ্বকাপটি ছিল নামিবিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ।
১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপটি যে ফরম্যাট মেনে খেলা হয়েছিল, ২০০৩ সালের এই বিশ্বকাপটিও সেই ফরম্যাটেই খেলা হয়। ১৪টি দলকে সাতটি করে দুটি দলে ভাগ করে দেওয়া হয়। গ্রুপ ‘এ’-তে ছিল অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’-তে ছিল শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কানাডা এবং বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বের একেকটি ম্যাচ জিতলে চার পয়েন্ট ধার্য করা ছিল। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে তিনটি করে মোট ছয়টি দল পরবর্তী সুপার সিক্স রাউন্ডে চলে যায়। সেখান থেকে চারটি দল যায় সেমিফাইনালে এবং তারপর অবশিষ্ট দুটি দলের মধ্যে হয়েছিল ফাইনাল খেলা।
দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া এবং জিম্বাবুয়ের যে সমস্ত স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের খেলাগুলি আয়োজন করা হয়েছিল, সেগুলি হল: ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম (দক্ষিণ আফ্রিকা), কিংসমিড ক্রিকেট গ্রাউন্ড (দক্ষিণ আফ্রিকা), নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড (দক্ষিণ আফ্রিকা), সেঞ্চুরিয়ান পার্ক (দক্ষিণ আফ্রিকা), গুডইয়ার পার্ক (দক্ষিণ আফ্রিকা), সেন্ট জর্জ ওভাল (দক্ষিণ আফ্রিকা), নর্থ ওয়েস্ট ক্রিকেট স্টেডিয়াম (দক্ষিণ আফ্রিকা), বাফেলো পার্ক (দক্ষিণ আফ্রিকা), ডি বিয়ার্স ডায়মন্ড ওভাল (দক্ষিণ আফ্রিকা), বোল্যান্ড পার্ক (দক্ষিণ আফ্রিকা), উইলোমুর পার্ক (দক্ষিণ আফ্রিকা), পিটারমারিটজবার্গ ওভাল (দক্ষিণ আফ্রিকা), হারারে স্পোর্টস ক্লাব (জিম্বাবুয়ে) এবং নাইরোবি জিমখানা ক্লাব (কেনিয়া)।
২০০৩ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি ৯ ফেব্রুয়ারি নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ রানে খেলাটি জিতেছিল। এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি ২৩ মার্চ অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের মধ্যে ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি ১২৫ রানে জিতে এই বিশ্বকাপের শিরোপা অর্জন করেছিল।
২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ-এ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল এবং তার প্রভাব পড়েছিল পয়েন্টস টেবিলে। গ্রুপপর্বের জিম্বাবুয়ে এবং ইংল্যান্ডের খেলাটি যেটি জিম্বাবুয়ের হারারেতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা ব্যহত হয়েছিল জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে। এমনকি জিম্বাবুয়ের তরফ থেকে মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল, ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার তাঁর দেশের টিমকে জিম্বাবুয়েতে না খেলতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আইসিসি অবশ্য জানিয়েছিল জিম্বাবুয়েতে খেলতে যাওয়া নিরাপদ, কিন্তু ইংল্যান্ড সেখানে বিষাক্ত গ্যাস দ্বারা হামলার পরিকল্পনাকারী সন্ত্রাসবাদীদের একটি সেল খুঁজে পেয়েছিল। আইসিসিকে ইংল্যান্ড ম্যাচটির স্থান পরিবর্তনের কথা বললেও সেটি সম্ভব হয়নি। অবশেষে ইংল্যান্ড ম্যাচটি খেলতে না যাওয়ায় জিম্বাবুয়েকে সেই ম্যাচে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সেই ম্যাচটি থেকে তারা চার পয়েন্ট পেয়েছিল ও সুপার সিক্সে পৌঁছনো তাদের পক্ষে সহজ হয়েছিল। কিন্তু অন্যদিকে পয়েন্ট হারিয়ে ইংল্যান্ড সুপার সিক্স রাউন্ডের জন্য কোয়ালিফাই করতে পারেনি।
ঠিক একইভাবে গ্রুপপর্বের কেনিয়া বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচটিও বন্ধ হয়ে যায়। কেনিয়ার নাইরোবি জিমখানা ক্লাব মাঠে খেলতে যেতে অস্বীকৃত হয় নিউজিল্যান্ড টিম এবং এখানেও সেই নিরাপত্তাজনিত কারণ। নাইরোবিতেও সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের কারণেই নিউজিল্যান্ডও আইসিসিকে ম্যাচটি স্থানান্তরিত করবার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে অবশেষে তা সম্ভব না হওয়ায় এবং নিউজিল্যান্ড কেনিয়াতে খেলতে যেতে অস্বীকার করায়, ম্যাচটিতে কেনিয়াকেই জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। কেনিয়ার এই জয় এবং এখান থেকে প্রাপ্ত পয়েন্ট তাদের সুপার সিক্স ও সেমিফাইনালে পৌঁছতে সাহায্য করে।
২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি ২৩ মার্চ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৯৬ রানে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং কেনিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ভারত ফাইনালে ওঠে। ফলে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল ভারতের, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দানবীয় পারফরম্যান্স ভারতের সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দেয়। টসে জিতে ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি ফিল্ডিং করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ওপেনিং জুটি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট এবং ম্যাথিউ হেডেন ব্যাটিং করতে নেমে ভীষণ আক্রমণাত্মক একটা ইনিংস খেলতে শুরু করেন। দুজনে মিলে ১০০ রানের পার্টনারশিপও করে ফেলেন এবং ১০৫ রানে গিয়ে ভারতীয় স্পিনার হরভজন সিং-এর বলে ৪৮ বলে ৫৭ রান করে আউট হন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। এরপর ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক রিকি পন্টিং। রিকি পন্টিং-এর এই ইনিংসটিকে তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শ্রেষ্ঠ ইনিংস বললেও অত্যুক্তি হয় না। ১২৫ রানের মাথায় হেডেন সেই হরভজন সিং-এর বলেই আউট হয়ে যান ৫৪ বলে ৩৭ রান করে। এরপর ড্যামিয়েন মার্টিন এবং রিকি পন্টিং ম্যাচটির হাল ধরেন শক্ত হাতে। পন্টিং-এর ব্যাটিং ভারতীয় বোলারদের ধরাশায়ী করে ফেলে। অন্যদিকে মার্টিনও পাল্লা দিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন। ভারতীয় অধিনায়ক আটজনকে দিয়ে বোলিং করিয়েও কোন সুফল পাননি। বীরেন্দ্র সেহওয়াগকেও বোলিং করতে এনেছিলেন সৌরভ, অবশ্য সেহওয়াগ অন্যদের তুলনায় ভালো বোলিং করেছিলেন (৩ ওভারে ১৪ রান দিয়েছিলেন)। রিকি পন্টিং সেই ম্যাচে ১২১ বলে ১৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং ড্যামিয়েন মার্টিন করেছিলেন ৮৪ বলে ৮৮ রান। শেষ দশ ওভারে ১০৯ রান তুলেছিলেন তাঁরা। ৫০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার মোট স্কোর দাঁড়িয়েছিল ২ উইকেটে ৩৫৯ রান।
বিপুল রানের লক্ষ্য নিয়ে ভারতের হয়ে ব্যাটিং করতে নামেন শচীন তেন্ডুলকর এবং বীরেন্দ্র সেহওয়াগ। তবে প্রথম ওভারেই গ্লেন ম্যাগ্রাথের বলে বিপর্যয় নামে ভারতীয় দলে। গোটা টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফর্ম করা শচীন তেন্ডুলকর প্রথম ওভারের পাঁচ নম্বর বলে মাত্র ৪ রান করে আউট হয়ে যান। প্রথম উইকেট পতনের পর ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি ব্যাটিং করতে নামেন। অথচ তিনিও আশাপ্রদ কিছু করতে পারেননি, মাত্র ২৪ রান করে আউট হয়ে যান। এরপর মিডল অর্ডারে মহম্মদ কাইফ আউট হন শূন্যতে, তারপর রাহুল দ্রাবিড় ৪৭ রান করে দলকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গেলেও যুবরাজ সিং (২৪ রান) বা দীনেশ মুঙ্গিয়ার (১২ রান) মতো ব্যাটাররা ভাল ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন৷ অস্ট্রেলিয়া তাদের কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্নকে ছাড়াও ভারতীয় দলকে বিধ্বস্ত করে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লী (২ উইকেট) গ্লেন ম্যাকগ্রাথ (৩ উইকেট) এবং অ্যান্ড্রু সিমন্ডস (২ উইকেট) দুর্দান্ত বোলিং করেন। ভারতের হয়ে একমাত্র বীরেন্দ্র সেহওয়াগই একটু ভাল ইনিংস খেলেন। তিনি ৮২ রান করে রান আউট হয়ে যান। ভারতের ব্যাটিং-এর সময় ১৭ ওভারের পর বৃষ্টি শুরু হলে একটা আশার আলো দেখতে পেয়েছিল ভারত, কিন্তু অবিলম্বে বৃষ্টি কমে পুনরায় ম্যাচ শুরু হয়। ভারত ৩৯ ওভার ২ বলে ২৩৪ রান করে অলআউট হয়ে যায় এবং ১২৫ রানে অস্ট্রেলিয়া ফাইনাল ম্যাচটি জিতে তৃতীয়বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হয়।
ফাইনালে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন সেই ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করা এবং গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলা অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক রিকি পন্টিং। ফাইনাল ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রাথ (৫২ রান দিয়ে ৩ উইকেট)।
২০০৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ৬৭৩ রান করে প্রথম স্থানে ছিলেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান শচীন তেন্ডুলকর। অনেকে এই ২০০৩ বিশ্বকাপকে শচীন তেন্ডুলকরের বিশ্বকাপ বলে অভিহিত করে থাকেন। তবে তালিকায় শচীনের পরেই মোট ৪৬৫ রান করে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। তালিকায় পরের দিকে রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্টরাও ছিলেন।
এই বিশ্বকাপে মোট ২৩টি উইকেট নিয়ে তালিকায় প্রথমে ছিলেন শ্রীলঙ্কার ফাস্ট বোলার চামিন্ডা ভাস। ১৮টি উইকেট নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিলেন ভারতীয় ফাস্ট বোলার জহির খান।
২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ খেতাব জিতেছিলেন শচীন তেন্ডুলকর। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে বহু ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচের শিরোপা পেয়েছিলেন তিনি। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ১৫২ রান করেছিলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ৯৮ রান, এছাড়াও সুপার সিক্স রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে করেছিলেন ৯৭ রান। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে এরকমই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্যই তাঁকে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ খেতাবে সম্মানিত করা হয়।
২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপে শচীন তেন্ডুলকরের পাশাপাশি আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ের কথা বলতে হয়। প্রথমেই বলতে হয়, ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির কথা। সেমিফাইনাল ম্যাচে কেনিয়ার বিপক্ষে ১০৭ রানের (অপরাজিত) যে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটি তিনি খেলেছিলেন তা মনে রাখার মতো। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একটি বিশ্বকাপে তিনটি সেঞ্চুরি করবার কৃতিত্ব সৌরভ অর্জন করেছিলেন এই ২০০৩-এর বিশ্বকাপের আসরে।
দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের বোলার শোয়েব আখতারের একটি বিশেষ কৃতিত্বের কথা এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন। ২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে তিনি ১৬১.৩ কিমি প্রতি ঘন্টার গতিতে একটি বল করে ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বিতর্কিত ঘটনাও ঘটেছিল। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্নের রুটিন ড্রাগ টেস্টের ফলাফল হয়েছিল পজিটিভ। তিনি যে মডুরেটিক নামক একটি ড্রাগ গ্রহণ করেছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল এবং সেই ড্রাগটি ছিল নিষিদ্ধ। সেই কারণেই শেন ওয়ার্নের মতো অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্বকাপ থেকে বাতিল হয়ে দেশে ফিরে যেতে হয়েছিল।
২০০৩ বিশ্বকাপের বিজেতা দল অস্ট্রেলিয়া এই বিশ্বকাপে তাদের খেলা ১১টি ম্যাচের একটিতেও পরাজিত হয়নি। অন্যদিকে ভারত গোটা টুর্নামেন্টে দুর্দান্তভাবে খেললেও ফাইনালে এসে তাদের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া ভারতকে অনেক রানের (১২৫ রান) ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য শিরোপা জিতে নিয়েছিল৷
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


Leave a Reply to আজকের দিনে ।। ৯ ফেব্রুয়ারি | সববাংলায়Cancel reply