ইতিহাস

আনন্দ বক্সী

আনন্দ বক্সী

আনন্দ বক্সী (Anand Bakshi) একজন বিখ্যাত ভারতীয় কবি ও গীতিকার ছিলেন। হিন্দি ছবির স্বর্ণযুগের অধিকাংশ জনপ্রিয় ছবিতে তিনি সঙ্গীত রচনা করেছেন। কিছু ছবিতে গানও গেয়েছেন তিনি। তাঁর গানের কথা সহজ-সরল হওয়ার কারণে সহজেই জনমনে প্রভাব ফেলত।

১৯৩০ সালের ২১ জুলাই অধুনা পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে আনন্দ বক্সীর জন্ম হয়। তাঁর প্রকৃত নাম বক্সী আনন্দ প্রকাশ ভৈদ। তাঁর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন কাশ্মীরি মহিয়াল ব্রাহ্মণ। আনন্দ বক্সীর পাঁচ বছর বয়সে তাঁর মা সুমিত্রা দেবীর মৃত্যু হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হওয়ার পর তাঁরা একটি মালবাহী বিমানে চেপে ভারতের দিল্লিতে পৌঁছান এবং পুণে, মিরাট হয়ে দিল্লিতেই বসতি স্থাপন করেন।


বাংলায় শিখুন ওয়েব কন্টেন্ট রাইটিং ও আরও অনেক কিছু

ইন্টার্নশিপ

আগ্রহী হলে ছবিতে ক্লিক করে ফর্ম জমা করুন 


 

ছোটবেলা থেকেই আনন্দ কবিতা লিখতে ভালোবাসতেন, কিন্তু শুধু শখের কারণেই তখন তিনি লেখালেখি করতেন। তাঁর বরাবরের ইচ্ছা ছিল মুম্বই গিয়ে সেখানকার সিনেমা জগৎ অর্থাৎ বলিউডে যোগ দেওয়া যদিও তাঁর পরিবার এতে রাজি ছিল না। প্রয়োজনীয় পড়াশোনা শেষ করে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন। নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরও তিনি সিনেমা জগতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। হাজারো ব্যস্ততার মাঝে কখনো সখনো লেখার জন্য সময় বের করে লিখতেন। সেনা বাহিনীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর কবিতা ও গানগুলি পরিবেশন করতেন। অনেকবছর পর্যন্ত আনন্দ নৌবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। সেই সময় কাজের পাশাপাশি তিনি মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র জগতে তাঁর লেখা গানগুলি পরিচিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতেন।

আনন্দ বক্সী হিন্দি ছবির জগতে গায়ক এবং কবি হিসেবে বিখ্যাত হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বিখ্যাত হলেন গায়ক হিসেবে। ১৯৫৮ সালে তিনি বিখ্যাত পরিচালক ব্রিজ মোহনের ‘ভালা আদমি’ ছবিতে প্রথম গান লেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই ছবিতে তিনি মোট চারটি গান লিখেছিলেন যার মধ্যে একটি ‘ধরতি কে লাল না কর ইতনা মালাল’। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা ভগবান দাদা। এই চারটি গানের জন্য আনন্দ সে যুগে ১৫০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন।

বেশ কয়েকটি ছবিতে সঙ্গীত রচনা করার পরে তিনি প্রথম সাফল্য পান ১৯৬২ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘মেহেন্দি লাগি মেরে হাত’-এর জন্য। ছবিটি প্রযোজনা করেছিল ‘লাইমলাইট’। একই বছরে আনন্দ নিজের জন্য আরও একটি মাইলফলক স্থাপন করেছিলেন ‘কালা সমুন্দর’ ছবির জন্য ‘মেরি তসবির লেকর কেয়া করোগে তুম নামের একটি কাওয়ালি গান লিখে। ১৯৬৫ সালে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য পেয়েছিলেন ‘হিমালয় কি গোদ মে’ ছবিটির জন্য। ওই বছরেই মুক্তি প্রাপ্ত ‘জব জব ফুল খিলে’ ছবিতে তিনি সঙ্গীত রচনা করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে সুনীল দত্ত অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘মিলন’ এর জন্য তিনি সঙ্গীত রচনা করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এক দশকের মধ্যে ছয়টি ছবিতে আনন্দ বক্সীর জনপ্রিয়তা মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র জগতে গীতিকার হিসেবে তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছিল। সমগ্র জীবনে তিনি প্রায় ৬৩৮টি ছবির জন্য ৩৫০০-এরও বেশি গান লিখেছিলেন।

১৯৭২ সালে মোহন কুমার পরিচালিত ‘মম কি গুড়িয়া’ ছবিতে আনন্দ প্রথম গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর গাওয়া প্রথম গানটি ছিল একটি দ্বৈত সঙ্গীত, ‘বাগোঁ মে বাহার আয়ি হোঁঠো মে পুকার আয়ি’। এই গানে আনন্দের সহশিল্পী ছিলেন লতা মঙ্গেশকর এবং সুরকার ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল। এই ছবিতে তিনি ‘ম্যায় ঢুন্ড রাহা থা সপনো মে’ নামে একটি একক সঙ্গীতও গেয়েছিলেন। তিনি সত্তরের দশকে মুক্তি পাওয়া বিপুল জনপ্রিয় ছবি ‘শোলে’র জন্যও ‘চাঁদ সা কোই চেহরা নামে একটি কাওয়ালি গেয়েছিলেন যদিও গানটি মূল ছবিতে অনুপস্থিত ছিল। এটি ছিল একটি সমবেত সঙ্গীত এবং এই গানে আনন্দ ছাড়াও মান্না দে, কিশোর কুমার ও ভূপিন্দর কণ্ঠ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু ওই । এছাড়াও আনন্দ ‘মহা চোর’, ‘চরস’, ‘বালিকা বধূ’ প্রভৃতি বিখ্যাত ছবিতে গান গেয়েছিলেন।


প্রাকৃতিক খাঁটি মধু ঘরে বসেই পেতে চান?

ফুড হাউস মধু

তাহলে যোগাযোগ করুন – +91-99030 06475


 


আনন্দ বক্সী বহু বিখ্যাত সুরকার যেমন – লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল, আর.ডি.বর্মণ, কল্যাণজি আনন্দজি, এস.ডি.বর্মণ, অনু মালিক, রাজেশ রোশন, আনন্দ-মিলান্দ প্রমুখদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর রচিত গানগুলি সমস্ত বিখ্যাত গায়ক-গায়িকারা যেমন – সমশাদ বেগম, ইলা অরুণ, খুরশিদ বাওরা, আমিরবাঈ কর্ণাটকী, সুধা মালহত্রা প্রমুখরা গেয়েছেন। সুরকার হিসেবে আনন্দ বক্সী একাধিক প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। বহু উঠতি গায়ক-গায়িকাদের জন্য তিনি গান লিখেছেন যাঁদের মধ্যে শৈলেন্দ্র সিং, কুমার শানু, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি প্রমুখ রয়েছেন। ১৯৭২ সালে ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’ ছবির ‘দম মারো দম’ গানটিতে আনন্দ বক্সী তাঁর বহুমুখী প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন।

আনন্দ বক্সী বহু বিখ্যাত ছবিতে অনেক মন ছুঁয়ে যাওয়া গান লিখেছিলেন। তাঁর লেখা গানে সমৃদ্ধ কয়েকটি ছবি হল, ‘ববি’, ‘অমর প্রেম’, ‘আরাধনা’, ‘জীনে কি রাহ’, ‘মেরা গাঁও মেরে দেশ’, ‘আয়ে দিন বাহার কে’, ‘আয়ে শাওন ঝুম কে’, ‘সীতা অর গীতা’, ‘ধরম বীর’, ‘নাগিনা’, ‘লমহে’, ‘হাম’, ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘পরদেশ’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’ প্রভৃতি।

সমগ্র জীবনে তিনি চল্লিশ বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন এবং ৪ বার তিনি সেরা গীতিকারের পুরস্কার জিতেছিলেন। ১৯৭৯ সালে ‘আপনাপন’, ১৯৮২ সালে ‘এক দুজে কে লিয়ে’, ১৯৯৬ সালে ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ এবং ২০০০ সালে ‘তাল’ ছবির জন্য তিনি এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। এছাড়াও ২০০০ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ ছবির জন্য আইফা প্রদত্ত সেরা গীতিকার পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘তাল’ ছবির জন্য ‘সেরা গীতিকার’ বিভাগে তিনি পপুলার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। ‘মোহাব্বতে’ ছবির জন্য পেয়েছিলেন স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড।

অতিরিক্ত ধূমপানের জন্য শেষ জীবনে তিনি হৃদপিন্ড ও ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হন। ২০০২ সালের ৩০ মার্চ ৭১ বছর বয়সে মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে আনন্দ বক্সীর মৃত্যু হয়।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

শ্রীচৈতন্যের মৃত্যু আজও এক ঘনীভূত রহস্য



সেই রহস্য নিয়ে বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন