ভূগোল

আসানসোল

পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত পশ্চিম বর্ধমানের একটি অন্যতম প্রসিদ্ধ ইতিহাস বিজড়িত জনপদ আসানসোল (Asansol)। পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় সর্বাধিক বৃহত্তম এবং জনবহুল শহর আসানসোল। পশ্চিম বর্ধমান জেলার এই সদর শহর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্টের সমীক্ষা অনুসারে ভারতের এগারোতম দ্রুত উন্নয়নশীল শহর। আসানসোলের প্রশাসনিক কার্যাবলী সম্পাদিত হয় আসানসোল পৌর নিগমের মাধ্যমে।

ভৌগোলিক অবস্থান হিসেবে দেখলে এই শিল্পশহর ২৩.৬৮° উত্তর অক্ষাংশ থেকে ৮৬.৯৯°পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত ব্যাপ্ত। সমুদ্রতল থেকে এই জনপদের উচ্চতা ৯৭মিটার। আসানসোল মূলত একটি শিল্পাঞ্চল। এই শিল্পাঞ্চল থেকে একাধিক জেলার সাথে সহজেই সড়কপথে ও রেলপথে যোগাযোগ করা যায়। বর্ধমান জেলার পশ্চিমাংশ ও তৎ সংলগ্ন সুবিশাল এলাকা জুড়ে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের অবস্থান। এই শিল্পনগরীর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে দামোদর ও অজয় নদ। আসানসোল উত্তর এবং পশ্চিমে ঝাড়খণ্ড, পূর্বে বীরভূম জেলা এবং দক্ষিণে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলা দ্বারা বেষ্টিত।

আসানসোল মহানগরের মধ্যে বার্ণপুরে একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ইস্কো ইস্পাত কারখানার বিমানবন্দর রয়েছে। এটি ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হলেও বিমানবন্দরটির কোন টার্মিনাল নেই এবং কোন প্রকার এটিসি নিয়ন্ত্রণ ভবন নেই। অন্যদিকে আসানসোলের নিকটবর্তী অন্ডাল অঞ্চলে প্রায় সদ্য গড়ে উঠেছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম বিমান বন্দর।’

‘আসানসোল’ নামকরণ নিয়েও বিভিন্ন তরজা রয়েছে। তবে গবেষকগণের মতে আসান ও শাল এই দুটি গাছের নাম মিলিয়ে ‘আসানসোল’ নামের উৎপত্তি। আবার আসানসোলের প্রবীণ লেখক রামশঙ্কর চৌধুরীর মতে ‘সোল’ তথা উর্বর জমিতে আসান গাছের আধিক্য থেকেই এইরূপ নামকরণ। অনেকের মতো ‘সোল’ কথার অর্থ- বসতি, আর ঠিক এই কারণে আসানসোল লাগোয়া বিভিন্ন জায়গার যেমন –মুরগাসোল, শিয়ারসোল ইত্যাদি নামে ‘সোল’ কথাটির আধিক্য দেখা যায়।

প্রাচীনত্বের নিরিখে এই জনপদ বেশ পুরাতন। স্থানীয় গবেষক রামশঙ্কর চৌধুরীর মতে প্রায় দশ পুরুষ আগে পঞ্চকোট জমিদারীর কর্মচারী ন’কড়ি রায় এবং রামকৃষ্ণ রায় মৌজার জমিতে স্বত্ব পান এবং সেখানে নিজ জাতি আগুরী তথা উগ্রক্ষত্রীয়দের বসতি প্রতিষ্ঠা করেন। বুধা আগুরী পাড়ায় ন’কড়ি রায় ও রামকৃষ্ণ রায়ের মুর্তি আজও তার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। তাছাড়াও আসানসোল গ্রামে নয় দশকের বেশি অতিক্রম করা বিদ্যালয় রয়েছে যার নাম ‘ন’কড়ি রামকৃষ্ণ রায় পৌর নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়।’ ঐতিহাসিক উৎস থেকে জানা গেছে এই আসানসোল গ্রামের বয়স ২৫০বছর। আবার আসানসোল খ্যাত ঘাঘরবুড়ি মন্দির এর ফলক থেকে ১৬২০ সালের উল্লেখ এই জনপদের প্রাচীনত্বের প্রমাণ দেয়।

আসানসোলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আধিক্য যে রয়েছে তা ঘাঘরবুড়ি মন্দিরের নাম থেকেই বোঝা যায়। নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষা অনুসারে নিগ্রোয়েড তথা প্রটোঅস্ট্রাল জাতি বা অস্ট্রিক জাতি হলেন আসানসোলের আদিবাসীরা। ঘাঘরবুড়ি আদতে এই এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের আরাধ্যা দেবী। পরবর্তীতে অবশ্য ব্রাহ্মণ পরিবারের পূজাও ওই মন্দিরে হতে থাকে। বলা হয় ‘বাদনা’ নামক পরবে সাঁওতালরা এই মন্দিরে মিলিত হয় উপাসনার জন্য। এই ঘাঘরবুড়ি মন্দির আসানসোল মহানগরের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

বহু বিস্মৃত ইতিহাসের মোড়কে ঢাকা শহর হল আসানসোল। জনশ্রুতি অনুসারে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু একবার পুরী যাত্রা করার সময় যাত্রা পথে তাঁর সমস্ত সম্পদ দুষ্কৃতী দ্বারা লুন্ঠিত হয়ে খুইয়ে ছিলেন। পরে তা তাঁর প্রধান শিষ্য মানিকচাঁদ ঠাকুর, যিনি ছিলেন হীরাপুর বাসিন্দা তাঁর কাছে ফিরে পান। সেখানে আজো তাঁর নামে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠিত আছে আর আছে একটি উচ্চ বিদ্যালয়। শান্তিময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রন্থ “আসানসোল পরিক্রমা” থেকে জানা যায় যে সূদুর অতীতে স্বাধীনচেতা যে বাউরী সমাজ বর্গী দমনে বীরত্বের পরিচয় দেয় সেই বাউরীদের বেশির ভাগ বসতি গড়ে উঠেছিল আসানসোলের বারাবনী থানার অন্তর্গত জামগ্রাম নামক এলাকায়। এই অঞ্চলে জৈনধর্মেরও বিস্তার ধীরে ধীরে ঘটতে থাকে। পরবর্তীতে জামুরিয়া, সালানপুর ইত্যাদি এলাকার মানুষরা এই জৈনধর্মের প্রতি অনুরক্ত হয়। এখানে এখনো জৈনধর্মে আস্থাশীল মানুষেরা বংশপরম্পরায় রয়েছেন। তবে শাক্ত সম্প্রদায়ের আধিক্য এই অঞ্চলে রয়েছে। জামুরিয়ার নিকটবর্তী সিঙ্গারণ গ্রামে শ্মশানকালীর পূজা, মনসা পূজা ও শিব গাজনের খ্যাতি চিরকাল রয়েছে। আবার কিছু সময় পরে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবও এই অঞ্চলে পড়তে শুরু করে। আসানসোলের বুধাগ্রামের যে নামকরণ তা বুদ্ধগ্রাম থেকেই এসেছে। এখানে এক প্রকার শিবপুজা হয় যার নাম বুদ্ধেশ্বর শিব, যা খুবই বিখ্যাত। এমনকি বিভিন্ন অফিসিয়াল ডকুমেন্ট ও আঞ্চলিক ইতিহাসের গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে আসানসোলের জঙ্গল এলাকায় একসময় তন্ত্র সাধনা চর্চাও ছিল। আবার পীর, সুফি, ফকিরদের প্রভাবের ফলে ইসলাম ধর্ম ও এই অঞ্চলে বিস্তারিত হতে থাকে। চুরুলিয়া, বৈজুদ্দিপুর, পরিহারপুর,খোকনের, রহমৎনগর,নিয়ামতপুর ইত্যাদি এলাকাতে মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্মাবলম্বী মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ করে গান্ধীজীর সত্যাগ্রহ ও অসহযোগ আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছিল এই আসানসোলে। গান্ধীজীর ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯২১ সালে আসানসোলে গড়ে উঠেছিল কংগ্রেস সমিতি। আসানসোলে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন গান্ধীজীর শিষ্য বিজয় পাল। তাঁর নামে আসানসোলে একটি রাস্তা ও বি.এড কলেজ ও গড়ে উঠেছে বর্তমানে। গান্ধীজীর সাথে আসানসোলের উষা গ্রাম মিশনারী স্কুলের গভীর সম্পর্ক ছিল।

প্রাচীনতার রেশ গায়ে নিয়েই আসানসোলের নগরায়ন অতি দ্রুত হয়। রানীগঞ্জের কয়লাখনিকে কেন্দ্র করে বসতি ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৮৬৩ সালে আসানসোলে প্রথম রেললাইন বসানো হয়। ধীরে ধীরে রেল কোম্পানি এই অঞ্চলে নিজেদের ঘাঁটি তৈরী করে যে কারণে এখানে এই সময়কালে গড়ে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ‘অ্যাংলো ইন্ডিয়ান’ সম্প্রদায়ের বসতি। রেল কোম্পানির সমস্ত পদে তখন অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের রমরমা। হটোন রোডে অবস্থিত বিশাল জায়গা জুড়ে থাকা গির্জা, অনতিদূরে রেল কোয়ার্টার, ডুরান্ডের ‘সিনেমা হল’ তার সেই ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়। রেল কোম্পানির আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে আসানসোল আত্মপ্রকাশ করে ১৮৮৫ সাল থেকে।

১৮৮৫ অর্থাৎ যে বছর জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয় সেই বছর জন্ম হয় আসানসোল পৌরসভার। ১৮৯৬ সালে এই পৌরসভার সক্রিয়তা আরো বাড়তে থাকে। ক্রমশ বিভিন্ন মিশনারি স্কুল গড়ে উঠতে থাকে যার মধ্যে অন্যতম লরেটো কনভেন্ট স্কুল। আজও জি.টি রোডের দুধারে প্রায় হাজার বিঘা জমি রেল কোম্পানি নাহলে মিশনারি স্কুলের দখলে আছে। এখানকার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হল- রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়, মণিমালা গার্লস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, আসানসোল চেলিডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, তুলসী রানী বালিকা বিদ্যালয়, শান্তিনগর বিদ্যামন্দির, মাদ্রাসা উর্দু বিদ্যালয়, আসানসোল গার্লস কলেজ, বিধান চন্দ্র কলেজ, বি. বি কলেজ, আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, গুপ্তা কলেজ এবং ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত কাজী নজরুল বিশ্ব বিদ্যালয়।

আসানসোলের দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হল কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত আসানসোল গ্রাম। শরৎ গবেষকদের কথা অনুসারে তাঁর ছোট বোন সুশীলা দেবীর বিবাহ হয় আসানসোল গ্রামের নামো পাড়া নিবাসী মুক্তারাম বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র রামকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে। এখানে রাস্তার ধারে একটি বিশালাকার বাড়ি আছে যা শরৎচন্দ্রের জন্য বরাদ্দ থাকত। সুশীলা দেবী ও রামকিঙ্করের কন্যা উমারানীর নাম অনুসারে এখানে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় যার নাম উমারানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় বর্তমানে এটি মহিলা কল্যাণ বিদ্যালয় নামেও খ্যাতি অর্জন করে। অনেক সাহিত্যপ্রেমী ও শরৎ গবেষকরা এই অঞ্চলে প্রায়শই আসেন এই বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করেন। এই বাড়িতে বেশ কিছু শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত জিনিস সংরক্ষিত হয়েছে বর্তমানে।

আসানসোলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান যার নাম না করলে আসানসোলের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে সেটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত জন্মস্থান চুরুলিয়া গ্রাম। সেখানে নজরুল ইসলামের বিভিন্ন ব্যবহৃত দুর্লভ জিনিসগুলিকে সংরক্ষণ করে একটি নজরুল মিউজিয়াম গড়ে উঠেছে। এই গ্রামে বর্তমানে গড়ে উঠেছে ‘নজরুল অ্যাকাডেমি’। এই অ্যাকাডেমি প্রতি বছর নজরুলের জন্মদিনে ‘নজরুল মেলা’ আয়োজন করে। কল্লোল যুগের বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক কালীপদ ঘটকের বাসভবন ‘রৈবতক’ আসানসোলের ডিপোপাড়া এলাকায় অবস্থিত। এছাড়াও অনতিদূরে বিহারীনাথ পাহাড়ের সৌন্দর্য পর্যটকদের চিরকালীন আকর্ষণের জায়গা, শীতকালে ও বর্ষাকালে মাইথন বাঁধের সৌন্দর্য মন ভরিয়ে দেয় পর্যটকদের।

আসানসোলের অন্যতম প্রধান উৎসব গাজন। আগুরী সম্প্রদায় তথা উগ্র ক্ষত্রিয়দের অন্যতম প্রধান উৎসব হিসেবে এটি বিবেচিত হয়। চৈত্র মাসের পাঁচদিন মহাসমারোহে এই গাজন উৎসব পালন করা হয়। তথাকথিত অন্ত্যজ সম্প্রদায়ের মানুষ তথা হাঁড়ি,ডোম, মুচি, বাউরী, বাগদি সকলেই এতে অংশ নেয়।

ঘাঘরবুড়ি মন্দির ছাড়াও আসানসোলের অন্যতম বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান – কল্যানেশ্বরী মন্দির। মনে করা হয় প্রায় বারোশো বছরেরও বেশি প্রাচীন এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাজা বল্লাল সেন। এই কল্যাণেশ্বরী দেবীর নাম থেকেই মাইথন নামটির উৎপত্তি। ‘মাই কা থান’ (অর্থাৎ মা কল্যাণেশ্বরী দেবীর থান) থেকেই ক্রমে ছোট হয়ে মাইথন নাম প্রচলিত হয়।

এই জেলার কৃতী সন্তানদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম- কাজী নজরুল ইসলাম, নাট্য ও চলচ্চিত্র অভিনেতা অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিখ্যাত গল্ফ খেলোয়াড় অর্জুন অটওয়াল, বিখ্যাত রন্ধনশিল্পী বিবেক সিং প্রমুখ।

  • সববাংলায় সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আজই যোগাযোগ করুন
    contact@sobbanglay.com

  • এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

    আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com

তথ্যসূত্র


  1. আসানসোলের ইতিহাস:জগন্নাথ সামন্ত------প্রকাশক:অমিতাভ মুখপাধ্যায়, গীতা প্রিন্টার্স, ২০১৭(পৃষ্ঠা সংখ্যা:-৩৩,৩৪,৩৫, ৩৬,৪৬,৪৯,২২৩)
  2. আসানসোলের ইতিহাস ও সংস্কৃতি:নন্দদুলাল আচার্য, মিত্রম পাবলিকেশন, ১৯৯৮,(পৃষ্ঠা সংখ্যা:-৭৯,১০০, ১০১) 
  3. আসানসোল পরিক্রমা:শান্তিময় বন্দোপাধ্যায়, ট্রিনিটি ট্রাস্ট, আসানসোল, ১৯৯৯(পৃষ্ঠা সংখ্যা:-২৫, ৪৩) 
  4. Two Decades of Eastern coalfield:Anup kumar Gupta,  published from ECL Asansol branch)(from the introduction)
  5. https://en.wikipedia.org/

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

শুধুমাত্র খাঁটি মধুই উপকারী, তাই বাংলার খাঁটি মধু খান


ফুড হাউস মধু

হোয়াটস্যাপের অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন