মে মাসে গরমে নাজেহাল অবস্থা। কিন্তু এই গরমেও বাঙালির ঘোরার বিরতি নেই। তবে এই সময়ে জায়গা বেছে না ঘুরতে গেলে আপনারও নাজেহাল অবস্থা হবে। ভাবছেন তো কোথায় যাওয়া যায়? মে মাসে বাংলার আশেপাশে ঘোরার জন্য অনেক জায়গা রয়েছে। মে মাসে ঘুরে আসুন বাংলার আশেপাশের এই জায়গাগুলো
আরও পড়ুন: ঘুরে আসুন তিনচুলে
১) দার্জিলিং
কথাতেই বলে দী-পু-দা অর্থাৎ দীঘা, পুরী আর দার্জিলিং হল বাঙালির প্রিয় ঘোরার জায়গা। গরম পড়লেই ব্যাগ গুছিয়ে দার্জিলিং বেরিয়ে পড়া বাঙালির বার্ষিক রুটিন এর মধ্যে পড়ে। দার্জিলিংকে বলা হয় “পাহাড়ের রানী”! পাহাড়ি এলাকার মনোরম পরিবেশ, কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ, দারুণ চা-এর স্বাদ, ট্রয় ট্রেন সব মিলিয়ে দার্জিলিং ভ্রমণ কখনও পুরনো হয় না। দার্জিলিং-এর চা তো পৃথিবীবিখ্যাত। এখানের চায়ের বাগান গুলো ঘুরে দেখুন। সেখানে বা ফ্যাক্টরি আউটলেট থেকে বিভিন্ন ধরনের চা কিনতে পারেন। আপনাকে যদি বলা হয়, মে মাসে ঘুরে আসুন বাংলার আশেপাশে, তাহলে প্রথমেই দার্জিলিং এর কথা মাথায় আসবে।
শুধু চা-ই নয়, দার্জিলিং এর ট্রয় ট্রেনও পৃথিবী বিখ্যাত। ইউনেস্কো এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকাভুক্ত করেছে। দার্জিলিং গেলে অবশ্যই টয় ট্রেনে চড়বেন, বিশেষ করে সঙ্গে যদি বাচ্চা থাকে। টয় ট্রেনের টিকিট কীভাবে কাটবেন, কোথা থেকে ট্রেনে চড়বেন, ট্রেনে চেপে কোথায় কোথায় ঘুরবেন এইরকম ট্রয় ট্রেন ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে। আর যেটা ছাড়া দার্জিলিং অসম্পূর্ণ তা হল, টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যোদয় দেখা। দার্জিলিং-তে ভ্রমণের স্মৃতি হিসাবে সকলের অ্যালবামে বা সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে এই ছবিটি থাকবেই। নাহলে লোকে যেন বিশ্বাসই করতে চায় না আপনি দার্জিলিং ঘুরেছেন।
দার্জিলিং এ বিভিন্ন বাজেটের হোটেল, রিসোর্ট, লজ এবং হোম স্টে পাওয়া যায়। হোটেলগুলো দার্জিলিং মল অঞ্চলে নিলে যাতায়াতের সুবিধা। হোটেলের রুমগুলিতে গিজার ও রুম হিটার আছে কি না দেখে নেবেন। জলের ব্যবস্থা কেমন সেটাও জেনে নেওয়া ভালো। গাড়ি করে ঘোরার জন্য অনেক সংস্থা রয়েছে, সেখান থেকে গাড়ি বুক করুন। সঙ্গে সাইটসিইং-এর কী প্যাকেজ রয়েছে সেটা অবশ্যই জেনে নিন। দার্জিলিং ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
২) কালিম্পং
এই গরমে কালিম্পং একটি উপযুক্ত গন্তব্য। হিমালয়ের পাদদেশে গভীর এক উপত্যকার মধ্যে অবস্থিত এই শহর পর্যটকদের নিমেষেই মুগ্ধ করে দিতে পারে। তাছাড়া অর্কিডের জন্যও খুবই বিখ্যাত কালিম্পং। অসংখ্য মনাস্ট্রি, পাহাড়ি নির্জনতা, কুয়াশার মায়া—সব মিলিয়ে কালিম্পং বাস্তবিকই যেন এক জাদু শহর। পাইন ভিউ নার্সারি, ডেলো পাহাড়, মরগ্যান হাউস, নেওরা ভ্যালি ন্যাশানাল পার্ক, লাভা মনাস্ট্রি এরম আরও অনেক সুন্দর জায়গা রয়েছে। আপনাকে যদি বলা হয়, মে মাসে ঘুরে আসুন বাংলার আশেপাশে, তাহলে কালিম্পং-এর নামও আপনার মাথায় অবশ্যই আসবে।
কালিম্পং জনপ্রিয় পর্যটন স্থান বলে এখানে বিভিন্নরকম দামের থাকবার হোটেলের অভাব হবে না। সেইসব হোটেল থেকে পাহাড়ের দৃশ্য দারুণ উপভোগ করা যায়। কালিম্পং ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
আরও পড়ুন: দার্জিলিং-এর সব দর্শনীয় স্থান
৩) মার্তাম গ্রাম
পশ্চিম সিকিমের একটি স্বল্পপরিচিত গ্রাম হল মার্তাম। প্রায় ১,৫০০ মিটার উচ্চতায় সবুজের ঘেরাটোপের মধ্যে পাহাড়ি অনুভূতির এক নতুন ঠিকানা। নতুন বলা হচ্ছে কারণ পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বার্মিওক, রিনচেনপং, কালুক ইত্যাদি জনবহুল টুরিস্ট স্পট থাকা সত্ত্বেও, এই মার্তাম গ্রামটির নাম খুব অল্প লোকেই শুনেছে। গাড়ি মার্তাম গ্রামের এলাকায় ঢোকার পর একটা বাঁক নিতেই নজরে আসবে একটা বড় কালো পাথর। তাতে লেখা রয়েছে ‘ধুংগে ওয়েলকামস ইউ’। ‘ধুংগে’ শব্দটির অর্থ ‘দিকচিহ্ন’। এই কালো পাথরটিই হল মার্তাম গ্রামের ল্যান্ডমার্ক।
এখানে কিছু ছোট হোটেল বা হোমস্টে রয়েছে। এছাড়াও এই গ্রামের অনেক পরিবার তাদের নিজেদের ঘরকেও হোমস্টে রূপে ভাড়া দিয়ে থাকে। মার্তাম গ্রাম ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
৪) দীঘা
কথাতেই বলে দী-পু-দা অর্থাৎ দীঘা, পুরী আর দার্জিলিং হল বাঙালির প্রিয় ঘোরার জায়গা। পশ্চিমবঙ্গের বীচ ঘুরতে যাবার কথা বললে প্রথমেই যে নামটা মনে আসে, তা নিঃসন্দেহে দীঘা। দীঘাকে ‘বাঙালির গোয়া’ বলেও আখ্যায়িত করে কেউ। আবার ওয়ারেন হেস্টিংস তাঁর একটি চিঠিতে দীঘাকে ‘প্রাচ্যের ব্রাইটন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। দীঘা বাঙালির কাছে কখনও পুরনো হয় না। তাই সারা বছর ধরেই এখানে প্রচুর ভিড় থাকে। বিশেষ করে স্কুলগুলোয় গ্রীষ্মের ছুটিতে এখানে প্রচুর মানুষ ঘুরতে যাচ্ছেন। তাছাড়া সম্প্রতি দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের পর মানুষের ভিড় আরও বেড়েছে। গত ৩০ এপ্রিল পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে এই মন্দিরের উদ্বোধন হয়।
দীঘাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ওল্ড দীঘা এবং নিউ দীঘা। দুই জায়গাতেই থাকার প্রচুর জায়গা রয়েছে। সমস্ত মূল্যের হোটেল ভাড়া পাওয়া যায়। অনেক কম মূল্যের হোটেল যেমন আছে, আবার অনেক বেশি মূল্যের খুব ভালো হোটেলও ভাড়া পাওয়া যায়। দীঘা ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
৫) সুন্দরবন
যদিও শীতেই সুন্দরবন ভাল লাগে, তাও বর্তমানে সারা বছর ধরেই সুন্দরবন খোলা থাকে। বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেখাও পেতে পারেন। তাছাড়া লঞ্চে করে ঘুরতে ঘুরতে রোদ পোহাতে থাকা কুমীর তো আছেই। বাঘ বা কুমীর ছাড়াও হরিণ, গোসাপ, সজারু, মেছো বিড়াল, বন বিড়াল, , বাঁদর, বুনো শূকর, ভোঁদড়ের দেখা মিলবে। পাখিদের মধ্যে চোখে পড়বে গারাপোলা, মদনটাক, বাঁশকুয়াল, গয়াল, করমকুলি, বুনোহাঁস, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, টিয়া, দোয়েল, ফিঙে, দুধরাজ, রক্তরাজ, হাট্টিমাটিম ইত্যাদি নানা প্রজাতির পাখি। তবে সুন্দরবন সফরের মজাটাই হল নদীর বুকে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং রোমাঞ্চ। বিশেষ করে মাতলা নদীর বুকে যখন লঞ্চ ছুটে চলে, তখন মাতলার ব্যাপ্তি এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ জোগায় মনে।
সুন্দরবনের পাখিরালয়, দয়াপুর এলাকায় প্রচুর বেসরকারি লজ, হোটেল বা রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া সজনেখালিতে আছে সরকারি পর্যটন আবাস এখানে সেখানে থাকতে হলে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটে আগে বুকিং করতে হবে। সুন্দরবন ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫
আরও পড়ুন: দার্জিলিং-এর মনাস্ট্রি
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- নিজস্ব সংকলন


আপনার মতামত জানান