সববাংলায়

ভারত-চীন যুদ্ধ

স্বাধীনতার পর থেকে নানা রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষ এগোচ্ছিল। দেশভাগ, উদ্বাস্তু সমস্যা, খাদ্য আন্দোলন ইত্যাদি নানারকম সংকটে ভারতবর্ষ জর্জরিত। সেসব সামাল দিতে না দিতেই যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে এসে দাঁড়ায় ভারতবর্ষ। ১৯৬২ সালে ঘটে যাওয়া চীন এবং ভারতের সশস্ত্র সংঘাতই ইতিহাসে ভারত-চীন যুদ্ধ (India-China War) নামে পরিচিত। ভারত-চীনের সীমান্তদেশে এই সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছিল। মূলত আকসাই চীন এবং অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধই যুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আকসাই চীনকে ভারত লাদাখের সঙ্গে জুড়তে চেয়েছিল, চীন একে জিনজিয়াং-এর অংশ বলে দাবি করে। উভয়পক্ষের সেনাই এই যুদ্ধে নৌ বা বিমান বাহিনীর ব্যবহার করেনি, এটি ছিল পুরোপুরি এক স্থল যুদ্ধ। এই যুদ্ধে দুই দেশকেই বিরাট ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে আরও একটি যুদ্ধ হয়েছিল।

১৯৬২ সালের ২০ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর ভারত-চীন যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। অমীমাংসিত সীমান্ত নিয়ে বিরোধ এবং আকসাই চীন ও অরুণাচল প্রদেশের অধিকার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর এবং ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই ভারত সরকার চীনের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করে। ১৯৫০ সালে চাইনিজ লিবারেশন আর্মি তিব্বত আক্রমণ করে এবং তাকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করলে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ভারত প্রতিবাদ করে এবং তিব্বত বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠায়। অন্যদিকে আকসাই চীন সীমান্তে চীন সেনা মোতায়েন করার কাজে খুবই সক্রিয় ছিল। ১৯৫৪ সালে ভারত ও চীন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতি বা পঞ্চশীল নীতি দ্বারা চুক্তিবদ্ধ হয়। ভারত একটি সীমান্ত মানচিত্র পেশ করে এবং চীন তা মেনেও নেয়। সেই সময়তে ‘হিন্দি-চিনি ভাই ভাই’, এই স্লোগানটি খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। ১৯৫৪ সালেই জওহরলাল নেহেরু ভারতের সীমানা স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত এবং সীমাবদ্ধ করবার আহ্বান জানিয়ে একটি মেমো লিখেছিলেন। অন্যদিকে ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে চীনের প্রধানমন্ত্রী ঝো এনলাই আশ্বস্ত করেন যে, ভারতীয় ভূখন্ডের ওপর চীনের কোন দাবি নেই, যদিও চীনা সরকারি মানচিত্রে দেখা যায়, ১২০,০০০ বর্গ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখন্ড সেখানে চীনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দেখানো রয়েছে।

১৯৫৪ সালে নেহেরু যখন প্রকাশ্যে জানান যে, আকসাই চীন কয়েক শতাব্দী ধরেই আসলে লাদাখ অঞ্চলের অংশ এবং এর মাধ্যমে পরোক্ষে আকসাই চীনের ওপর তিনি নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করেন, তখন চীনা কর্মকর্তারা নেহেরুর বিরোধিতা করেননি। জর্জ এন.প্যাটারসনের মতে, বিতর্কিত ওই এলাকায় নিজেদের দাবি জানিয়ে ভারত সপ্রমাণ যে প্রতিবেদন তৈরি করে তাতে উল্লিখিত প্রমাণগুলির মান ছিল খারাপ, যার মধ্যে কয়েকটি আবার খুবই সন্দেহজনক ছিল। ১৯৫৬ সালে ঝো এনলাই জানান, যে, আকসাই চীন ইতিমধ্যেই চীনা এখতিয়ারের অধীনস্থ ছিল এবং তিনি যুক্তি দেন যে, যেহেতু সীমানা অনির্ধারিত ছিল এবং চীন ও ভারত সরকারের মধ্যে কোন চুক্তির মাধ্যমে তাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি, ফলত, ভারত সরকার আকসাই চীনের সীমানা একতরফাভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। এরই মধ্যে ১৯৫৬-৫৭ সালে চীন এমন একটি সড়ক নির্মাণ করে যা আকসাই চীনের মধ্যে দিয়ে গেছে এবং যেটি তিব্বত ও জিনজিয়াং-এর চীনা অঞ্চলগুলিকে সংযুক্ত করে। এই সড়কনির্মাণ ভারত-চীন সম্পর্ককে তিক্ত করে তোলে।

১৯৫৯ সালে চীনের বিরুদ্ধে তিব্বত আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর লাসা থেকে পলাতক ১৪তম দলাই লামাকে ভারত যখন আশ্রয় দিয়েছিল, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাও-সেতুঙ খুবই ক্ষুব্ধ হন। মাও মন্তব্য করেছিলেন যে, তিব্বতে লাসা বিদ্রোহ ভারতীয়দের দ্বারা সৃষ্ট।

অন্যদিকে ম্যাকমোহন লাইনের স্বীকৃতি না দেওয়ার ফলে চীনের মানচিত্রে নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এরিয়া এবং আকসাই চীন উভয়কেই চীনা ভূখন্ড হিসেবে দেখানো হয়। ১৯৬০ সালে ঝো এনলাই অনানুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে একটি প্রস্তাব দেয়, যে, নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এরিয়া থেকে চীন তাদের দাবি প্রত্যাহার করে নেবে, বিনিময়ে ভারতকে আকসাই চীনের ওপর থেকে দাবি প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু নেহেরু মনে করতেন এই দুটি অঞ্চলের ওপর চীনের কোন বৈধ দাবি নেই, তাই ঝো এনলাইয়ের প্রস্তাব অস্বীকার করেন তিনি। এই অনড় অবস্থানকে চীন তিব্বতে চীনা শাসনের বিপক্ষে ভারতীয় বিরোধিতা হিসেবে বিবেচনা করেছিল। আকসাই চীন এবং অরুণাচল প্রদেশ (তৎকালে ছিল নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এরিয়া) নিয়ে এই বিরোধ ক্রমে দুই দেশের সম্পর্ককে তিক্ত করে তুলতে থাকে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ১৯৬১-৬২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে বিবিধ দ্বন্দ্ব ও সামরিক ঘটনা ঘটে। ১৯৬২ সালের ১০ জুলাই চীনা সৈন্য চুশুলে একটি ভারতীয় পোস্ট দখল করে এবং গোর্খাদের বোঝানোর চেষ্টা করে যাতে তারা ভারতীয়ের বিরুদ্ধে লড়াই না করে।

অবশেষে ১৯৬২ সালের ২০ অক্টোবর চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি লাদাখে এবং তৎকালীন নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এজেন্সির ম্যাকমোহন লাইনের ওপারে ভারত আক্রমণ করে। যুদ্ধ শুরুর আগে পর্যন্তও ভারতের বিশ্বাস ছিল যে এই যুদ্ধ হবে না, সেকারণে তাদের প্রস্তুতিও তেমন ছিল না। এই চিন্তা করে, ভারত সংঘাতের অঞ্চলে মাত্র দুটি ডিভিশনের সৈন্য মোতায়েন করেছিল, যেখানে চীনা সেনাদের তিনটি রেজিমেন্ট ছিল। চীনারা ভারতীয় টেলিফোন লাইনও কেটে দেয়। প্রথম দিন চীনা পদাতিক বাহিনী পেছন দিক থেকে আক্রমণ চালায়। ক্ষয়ক্ষতির ফলে ভারতীয় সৈন্যরা ভুটানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ২০ অক্টোবর চীনা সৈন্য সহজেই চিপ চ্যাপ ভ্যালি, গালওয়ান উপত্যকা এবং প্যাংগং লেক দখল করে নেয়। ২২ অক্টোবর প্রায় ৪০০ চীনা সৈন্য আক্রমণ করে, কিন্তু ভারতীয় মর্টার ফায়ার প্রাথমিকভাবে সেই আক্রমণ প্রতিহত করেছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনী যখন আবিষ্কার করে যে চীনা বাহিনী একটি পাসে (pass) জড়ো হয়েছে, তখন তারা মর্টার এবং মেশিনগান দিয়ে গুলি চালায় এবং প্রায় ২০০ চীনা সেনাকে হত্যা করে। ২৪ অক্টোবর ভারতীয় বাহিনী রেজাং লা রিজ ধরে রাখতে কঠোর লড়াই করে। আক্রমণের তীব্রতার কারণে ভারতীয় পশ্চিমী কমান্ড দক্ষিণ-পূর্বে অনেক বিচ্ছিন্ন ফাঁড়ি প্রত্যাহার করে নেয়। ২৬ অক্টোবর চতুর্থ শিখদের প্রহরাকে ঘেরাও করে চৈনিকরা, সেই ঘেরাও ভাঙতে অক্ষম ছিল ভারতীয় সেনা। তখন একটি ভারতীয় ইউনিট লুকিয়ে ঢুকে চীনা সেনাদের আক্রমণ করে শিখদের মুক্ত করেছিল।
যুদ্ধ চলাকালীনই ঝো এনলাই নেহেরুকে চিঠি লিখে কয়েকটি প্রস্তাব দেন। তিনি আলোচনার মাধ্যমে সীমানা সমস্যা নিষ্পত্তির কথা বলেন। এছাড়াও তাঁর প্রস্তাব ছিল উভয়পক্ষই বর্তমান প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ লাইন থেকে ২০ কিলোমিটার সরে যাবে ও নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে, নর্থ ইস্টার্ন ফ্রন্টলাইন এরিয়ার উত্তর থেকে চীন নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবে এবং ভারত ও চীন কেউই আকসাই চীনের বর্তমান নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করবে না। নেহেরুর ২৭ অক্টোবর চিঠিতে শান্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত ছিল। ৪ নভেম্বর আরেকটি চিঠিতে ঝো এনলাই ১৯৫৯ সালের তাঁর যে উত্তর NEFA-তে ম্যাকমোহন লাইনে ফিরে আসার প্রস্তাব, তার পুনরাবৃত্তি করেন এবং চীনারা আকসাই চীনে ম্যাকডোনাল্ড লাইন দাবি করে। নেহেরু ঝো-এর প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে ১৪ নভেম্বর পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়। ওয়ালং-এ ভারত আক্রমণ করে। এই ওয়ালং যুদ্ধের কয়েক ঘন্টা পরে চীনারা আকসাই চীন ও NEFA-তে পুনরায় সামরিক তৎপরতা শুরু করে। ১৭ নভেম্বর চীন সে লা এবং বোমদি লা-এর কাছে ভারতীয়দের আক্রমণ করে। সড়কপথে আক্রমণের পরিবর্তে পাহাড়ি পথে আক্রমণ করে প্রায় ১০,০০০ ভারতীয় সৈন্যকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অন্যদিকে পশ্চিমেও ১৮ নভেম্বর চুশুলে চীন আক্রমণ করে ভারতীয়দের ওপর। ভারতীয় আর্টিলারি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চীনা বাহিনীকে আটকাতে পারেনি। চীনারা একযোগে রেজাং লা আক্রমণ করে। মাঝারি মেশিনগানের ফায়ার ভারতীয় প্রতিরক্ষা ভেদ করে দেয়। ভারতীয় বাহিনী ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

যে-লাইন চীন দাবি করেছিল পিএলএ সেই লাইনে পৌঁছে গিয়েছিল বলে আর অগ্রসর হয়নি এবং চীন একতরফা যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেছিল।

চীন এই যুদ্ধের পর আকসাই চীনে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে। অন্যদিকে ভারত এই পরাজয়ের পর নিজেদের সেনাবাহিনীকে আরও বেশি দক্ষ করবার দিকে মন দেয়। যুদ্ধশেষে ভারত প্রতিরক্ষা আইন পাশ করে চীনা-ভারতীয়দের বন্দী করতে থাকে।

তবে ১৯৬২ সালের এই সামরিক সংঘর্ষের অভিঘাত এরপরেও ফিরে ফিরে এসেছে। ১৯৬৭ সালের শেষদিকে সিকিমে ভারত ও চীনের দুটি সামরিক সংঘর্ষ হয়েছিল, যেদুটি যথাক্রমে ‘নাথু লা’ এবং ‘চো লা’ সংঘর্ষ নামে পরিচিত। নাথু লা সংঘর্ষ শুরু হয় ১৯৬৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং তা ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে। চীনা সৈন্য যখন নাথু লা-তে ভারতীয় ঘাঁটিগুলিতে আক্রমণ করে তখন এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সিকিম-তিব্বত সীমান্তের পাশে এই নাথু লা পাসে মোতায়েন করা চীন ও ভারতীয় সেনার অবস্থান সবচেয়ে নিকটবর্তী। ১৯৬৩ সাল থেকেই এই অঞ্চলে ছোটখাটো সংঘর্ষ লেগেই থাকত। ভারত ম্যাকমোহন লাইনকে তার সরকারী সীমানা হিসেবে বিবেচনা করে এবং চীন এটিকে আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে মানতে নারাজ হলে সংঘর্ষ বেড়ে যায়। অবশেষে ১১ সেপ্টেম্বর সংঘর্ষ একরকম যুদ্ধের আকার নেয়। এই যুদ্ধে অনেক চীনা পিএলএ ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারত। পূর্ববর্তী পরাজয়ের পর ভারতীয় সেনা নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। অন্যদিকে ১৯৬৭ সালের ১ অক্টোবরে চো লা-তে যে সামরিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল, সেটি ওইদিনই সমাপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এই যুদ্ধেও চীনা সৈন্যদের বিতাড়িত করতে সফল হয়েছিল ভারতীয় সেনা।

১৯৮৭ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে আরেকটি সংঘর্ষ হয়েছিল, কিন্তু উভয়পক্ষই সামরিক সংযম দেখিয়েছিল, ফলে এই সংঘর্ষ ছিল রক্তপাতহীন।

এরপর ২০২০-২১ সালে উভয় দেশ ঘোরতর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এই ভারত-চীন যুদ্ধটি ২০২০ সালের ৫ মে থেকে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলেছিল। এই সংঘর্ষের নানারকম কারণ ব্যাখা করা হয়। কেউ বলেন, এটি চীনের ভূখন্ড দখলের কৌশল। কেউ আবার বলেছেন, এই আক্রমণের আসল কারণ কোভিড মহামারীর ফলে অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক খ্যাতির ক্ষতিতে জর্জরিত চীনের শক্তি প্রদর্শন। এক চীনা বিশেষজ্ঞ বলেন, চীন-ভারতের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ভারত যে ডারবুক-শিওক-ডিবিও রোড নির্মাণ করছিল, তাকে চীন নিজেদের আঞ্চলিক অখন্ডতার জন্য হানিকারক বলে মনে করেছিল। কারও মতে, কোভিড-১৯-এর জন্য চীনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপের কারণে চীন সীমান্ত সমস্যা বাড়াচ্ছে। কেউ আবার এই সীমান্ত উত্তেজনাকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার এবং ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের অবস্থা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্তের সাথে মিলিয়ে দেখেছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর মন্তব্যও চীন হয়তো ভাল ভাবে নেয়নি। অমিত শাহ বলেছিলেন, আকসাই চীন ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান জোটকেও এই সংঘর্ষের কারণ হিসেবে ব্যাখা করেন কেউ কেউ। ২০২০-২১ সালের বিস্তর সময় জুড়ে দুই দেশের এই ধারাবাহিক সংঘর্ষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গালোয়ান উপত্যকার যুদ্ধ। দুই দেশেরই বহু সেনা নিহত হয়েছিল সে যুদ্ধে। জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইতালির মতো দেশগুলি গালওয়ান সংঘর্ষে নিহতদের জন্য সমবেদনা জানিয়েছিল।

২০২৩ সালের হিসেব অনুযায়ী ২০২০ সালের জুন থেকে প্রায় ২০০০ বর্গকিমি ভারতীয় জমি চীনের কাছে সমর্পণ করতে হয়েছে। ২০২০ সালের জুন থেকে পূর্ব লাদাখে ৬৫টি পেট্রোলিং পয়েন্টের মধ্যে ২৬টির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ভারত। উভয় দেশই এই যুদ্ধে প্রবল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading