ইতিহাস

১৯৫০ বিশ্বকাপ ফুটবলে ভারত অংশ নেয়নি কেন

প্রতি চার বছর অন্তর বিশ্বকাপ ফুটবল আসে আর একশ কোটির বেশি জনসংখ্যা নিয়ে ভারতীয়রা আক্ষেপ করে বিশ্বকাপ ফুটবলে ভারত অংশ নিতে না পারার জন্যে। ফুটবলপ্রেমী ভারতীয়রা গলা ফাটায় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ইত্যাদি বিভিন্ন দেশের হয়ে। অথচ ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৫০ এর আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে সেটা কাজে লাগালে হয়ত ইতিহাস অন্যরকম হত, অন্তত একবার হলেও বিশ্ব ফুটবল মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ পেত ভারতীয় ফুটবলাররা। সঙ্গে একশ কোটি ভারতীয়ের বিশ্বকাপ ফুটবলে একবারও খেলতে না পারার আক্ষেপ কিছুটা মিটত।

তবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ১৯৫০ এ অংশগ্রহণ না করা নিয়ে বিভিন্ন কল্প-কাহিনী ছড়িয়ে আছে। যেমন ভারতীয় ফুটবলাররা খালি পায়ে খেলতে অভ্যস্ত ছিলেন এবং তাঁরা ফিফার নিয়মানুসারে জুতো পরে খেলতে রাজি হননি; অথবা সদ্য স্বাধীন দেশ ভারতের কাছে ব্রাজিল যাওয়ার মত টাকা ছিল না ইত্যাদি। তবে এই সমস্ত প্রচলিত ধারণাই ভুল। এই লেখায় আমরা জেনে নেব, ১৯৫০ বিশ্বকাপে ঠিক কি ঘটেছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এটাই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ। এর আগে ১৯৪২ এবং ১৯৪৬ বিশ্বকাপ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে করা হয়ে ওঠেনি। বিশ্বযুদ্ধ শেষে ফিফা আবার বিশ্বকাপের জন্য উঠেপড়ে লাগে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের যা অবস্থা, তাতে  ইউরোপের কোন দেশই নিজের দেশে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠান করাতে তেমন আগ্রহী ছিল না। তারপরে ব্রাজিল তাদের দেশে বিশ্বকাপ করার জন্য আবেদন জানায় এবং ফিফা সেই আবেদন সানন্দে গ্রহণ করে। স্বাগতিক ব্রাজিল ও বিশ্বকাপজয়ী ইতালি ছাড়া ইউরোপের ৭ টি, আমেরিকা থেকে ৬টি ও এশিয়া থেকে ১ টি দল নিয়ে মোট ১৬ টি দলের খেলার কথা হয়।

১৯৪৮ সালের অলিম্পিকে খালি পায়ে (কয়েকজন মোজা পড়ে খেলেছিলেন) ফুটবল খেলে ফ্রান্সের সাথে নির্ধারিত সময়ের প্রায় শেষ অব্দি ১-১ ড্র ও  খেলা শেষের দুমিনিট আগে ১-২ গোলে হেরে গেলেও বিশ্ব ফুটবলে ভারতীয় দল সাড়া ফেলে দেয়। তাই এশিয়া থেকে যোগ্যতা অর্জন পর্বে  ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, বার্মা (বর্তমান মায়ানমার) এর সঙ্গে ভারতও ডাক পায়। প্রথম তিনটি দল অংশ নিতে না চাইলে ভারত বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

অথচ, ভারতের ফুটবল ফেডারেশন (AIFF),  খেলার সূচী তৈরি (২২শে মে, ১৯৫০) হয়ে যাওয়ার পর ভারতীয় দলের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ হিসেবে, ব্রাজিল যাওয়া আসার খরচ, প্র্যাকটিস করার সময়ের অভাব, দল নির্বাচন নিয়ে সমস্যা ইত্যাদি নানা কারণ দেখায়।যদিও ফিফা পরিবহন খরচের অনেকটাই নিজেরা বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

পরবর্তীকালে তৎকালীন ভারতীয় দলের অধিনায়ক শৈলেন মান্না  ২০১১ স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে  বলেন , “আমাদের বিশ্বকাপ নিয়ে কোনও ধারণা ছিল না । যদি থাকতো তাহলে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিতাম যাওয়ার জন্য। সেসময় আমাদের জন্য অলিম্পিকই ছিল সবকিছু। কোনো কিছুই অলিম্পিক থেকে বড় ছিল না ।” ফুটবলারদের খালি পায়ে খেলতে চাওয়া নিয়ে প্রচলিত মিথের বিরুদ্ধে তাঁর মত, AIFF নিজেদের ভুল সিদ্ধান্তকে চাপা দিতেই এইরকম একটা রটনার আশ্রয় নিতে হয়েছে বলেছেন।

তবে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিলে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসটা অন্যরকম হত।

  • telegram sobbanglay

২ Comments

২ Comments

  1. Pingback: ভারতীয় ফুটবলের করুণ ইতিহাস (খালি পায়ে ফুটবল খেলার ইতিহাস) – My Blog

  2. Pingback: ভারতীয় ফুটবলের করুণ ইতিহাস (খালি পায়ে ফুটবল খেলার ইতিহাস) – My Blog

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

বুনো রামনাথ - এক ভুলে যাওয়া প্রতিভা



এখানে ক্লিক করে দেখুন ইউটিউব ভিডিও

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন