ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম খ্যাতনামা অভিনেত্রী মধুবালা (Madhubala)। তাঁর সময়কালের সর্বাধিক প্রভাবশালী ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবেও মধুবালার নাম ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে অগ্রগণ্য। অশোক কুমার, রাজ কাপুর, দেব আনন্দ, দিলীপ কুমার, কিশোর কুমারের মত কিংবদন্তি অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করে আপন প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছিলেন তিনি। সৌন্দর্যের বিচারে তাঁকে বিশ্ববিখ্যাত হলিউড নায়িকা মেরিলিন মনরোর সঙ্গে তুলনা করে ‘প্রাচ্যের মেরিলিন মনরো’ও বলা হয়ে থাকে। ষাটের দশকে মধুবালা অভিনীত ‘মুঘল-ই-আজম’ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের একটি মাইলফলক ছবি। মাত্র ছত্রিশ বছরের জীবনে তাঁর সৌন্দর্য ও শারীরিক গঠনের কারণে তাঁকে ‘ভেনাস অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা’ এবং ‘বিউটি উইথ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
১৯৩৩ সালের ১৪ ফ্রেব্রুয়ারি মধুবালার জন্ম হয় দিল্লির এক দরিদ্র পরিবারে। তাঁর পুরো নাম মমতাজ জাহান বেগম দেহলভী। হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে আসার পরে কিংবদন্তি অভিনেত্রী দেবিকা রানি তাঁকে ‘মধুবালা’ নামটি দেন। ক্রমে তিনি সেই নামেই বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। মধুবালার বাবার নাম আতাউল্লাহ খান এবং মায়ের নাম আয়েশা বেগম। তাঁদের এগারোটি সন্তানের মধ্যে মধুবালা ছিলেন পঞ্চম সন্তান। আতাউল্লাহ খানের পূর্বপুরুষ ছিলেন পেশোয়ার উপত্যকায় পশতুন ইউসুফজাই উপজাতির অন্তর্ভুক্ত। তিনি পাকিস্তানের ইম্পেরিয়াল ট্যাবাকো কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ১৯৪০ সালে উর্ধ্বতন অফিসারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার জন্য আতাউল্লাহের চাকরি চলে যাওয়ায় তিনি মুম্বইতে চলে আসেন। মূলত অর্থাভাবের কারণেই মাত্র আট বছর বয়সে মধুবালা চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে আসেন। মধুবালার এগারোজন ভাই-বোনের মধ্যে শেষ পাঁচজনের অকালমৃত্যু হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে মধুবালার সঙ্গে কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপকুমারের দীর্ঘ নয় বছর প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল। কিছু ব্যক্তিগত কারণে তাঁদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দিলীপকুমার ছাড়াও পরিচালক কেদার শর্মা ও কমল আমরোহীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা শোনা গেলেও ১৯৬০ সালে মধুবালা প্রবাদপ্রতিম গায়ক ও তাঁর সহ-অভিনেতা কিশোর কুমারের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। আমৃত্যু তিনি কিশোরকুমারের স্ত্রী ছিলেন।
গোঁড়া মুসলিম পরিবার হওয়ার কারণে মধুবালার বাবা আতাউল্লাহ তাঁর কন্যাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিরুদ্ধে ছিলেন। শুধুমাত্র মধুবালার বোন জাহিদা ছাড়া আর কারোরই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। বাড়িতে বাবার তত্ত্বাবধানে উর্দু, হিন্দি ও পশতু ভাষা শিখেছিলেন মধুবালা। এই তিনটি ভাষা তিনি সাবলীলভাবে বলতে পারতেন। তিনি পরবর্তীকালে গাড়ি চালানোও শিখেছিলেন।ছোটবেলা থেকেই তাঁর অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রের অনুকরণ এবং নাচা তাঁর অন্যতম প্রিয় শখ ছিল। বাবার তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও মধুবালা অভিনেত্রী হওয়ার তীব্র বাসনা পোষণ করতেন মনে। মাত্র সাত বছর বয়সে ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’তে খুরশিদ আনোয়ারের রচিত একটি গান গাওয়ার সুযোগ পেলে সেখানেই মধুবালার পরিচয় হয় বম্বে টকিজের ম্যানেজার চুনীলালের সঙ্গে। তিনি মধুবালাকে চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বম্বে আসার আমন্ত্রণ জানান।
জীবিকার সন্ধানে মধুবালার বাবা আতাউল্লাহ তাঁর পরিবার নিয়ে বম্বে এসে পৌঁছান। বম্বে আসার পরে মধুবালার পরিবার বিখ্যাত পরিচালক হিংমাশু রায়ের প্রযোজনা সংস্থা বম্বে টকিজের পাশ্ববর্তী মালাড অঞ্চলের বস্তিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। এই সময়ে ‘বেবি মমতাজ’ নামেই মধুবালা পরিচিত ছিলেন। ১৯৪১ সালে হিংমাশু রায়ের বম্বে টকিজের পরবর্তী ছবি ‘বসন্ত’-এর জন্য শিশুশিল্পী হিসেবে নয় বছর বয়সে মাত্র ১৫০ টাকা পারিশ্রমিকে চলচ্চিত্রে সুযোগ পান শিশু মধুবালা। ‘বসন্ত’ ছবিটি বক্স অফিসে বিরাট সাফল্য পেলেও পরবর্তী তিন বছর কোন কাজ না পাওয়ায় মধুবালার বাবা আতাউল্লাহ তাঁর পরিবার নিয়ে পুনরায় দিল্লি ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। ১৯৪৪ সালে বম্বে টকিজের ছবি ‘জোয়ার ভাটা’তে দেবিকা রানির সঙ্গে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজের সুযোগ পান মধুবালা। এরপরে ছান্দুলাল শাহের প্রযোজনা সংস্থা ‘রঞ্জিত মুভিটোন’-এর সঙ্গে মাসিক তিনশো টাকা চুক্তিতে শিশু শিল্পী হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। ‘বেবি মমতাজ’ নামে মধুবালা শৈশবেই ১৯৪৪ সালে ‘মমতাজ মহল’, ১৯৪৫ সালে ‘ধন্য ভারত’, ১৯৪৬ সালে ‘রাজপুতানি’, ‘ফুলওয়ারি’, ‘পূজারি’ ইত্যাদি ছবিগুলিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হন। ১৯৪৬ সালে মোহন শাহের ছবি ‘চিত্তোর বিজয়’ দিয়ে শিশু শিল্পী থেকে পরিণত অভিনেত্রীর যাত্রাপথ শুরু করেন মধুবালা। কেদার শর্মার নাটক ‘নীলকমল’এ মুখ্য অভিনেত্রী হিসেবে মধুবালা আত্মপ্রকাশ করেন। এই ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেলে বম্বে টকিজের মালিক হিমাংশু রায়ের স্ত্রী অভিনেত্রী দেবিকা রানি তাঁর নাম রাখেন ‘মধুবালা’। সেই নামেই পরবর্তী চার দশক ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্রের জগতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে চলচ্চিত্র জগতের এক কিংবদন্তি অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন মধুবালা। খুব অল্প বয়সে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রাখতে সক্ষম হন। ১৯৪৭ সালে কেদার শর্মার ‘নীলকমল’ ছবির প্রধান অভিনেত্রী কমলা চ্যাটার্জীর মৃত্যু হলে মধুবালা এই চলচ্চিত্রে প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয় করার সুযোগ পান। কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কাপুরের সঙ্গে মধুবালার অভিনীত ‘নীলকমল’ সাফল্য অর্জন করার পাশাপাশি মধুবালাও জনপ্রিয়তা পান। ‘লাল দুপাট্টা’ নাটকে অভিনয় করে মধুবালা বাণিজ্যিকভাবে প্রথমবার সাফল্য অর্জন করেন। ১৯৪৮ সালে ‘পারাই আগ’ এবং ১৯৪৯ সালে ‘পারস’ ও ‘সিঙ্গার’ ছবিতে তাঁর পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে কাজ দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। ১৯৪৯ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম ভৌতিক ছবি কামাল আমরোহীর ‘মহল’এ তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেতা অশোক কুমারের সঙ্গে মধুবালার জুটি দর্শক সমাদর পায়। ‘মহল’ ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য অর্জন করার পাশাপাশি মধুবালাকে তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা এনে দেয়। তৎকালীন অভিনেত্রীদের মধ্যে সেই সময় তাঁর সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ছিল। এরপরে ১৯৪৯ সালে ‘দুলারি’, ১৯৫০ সালে ‘বেকসুর’ বক্স অফিসে একের পর এক হিট ছবি মধুবালাকে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে একচ্ছত্র আধিপত্য এনে দেয়। ১৯৫০ সালে মধুবালা অভিনীত ‘হাসস্তে আনসু’ ভারতের প্রথম প্রাপ্তবয়স্ক সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ছবি। ১৯৫১ সালে ‘অ্যাডভেঞ্চার অফ রবিনহুড’-এর অবলম্বনে অমিয় চক্রবর্তীর ছবি ‘বাদল’-এ মধুবালার অভিনয় দর্শকদের কাছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সেই বছরই অর্থাৎ ১৯৫১ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্য এক কিংবদন্তি অভিনেতা ও নায়ক দিলীপকুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে রোমান্টিক কমেডি ছবি ‘তারানা’তে অভিনয় করে দিলীপকুমার ও মধুবালার জুটি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক জুটির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। তাঁরা একের পর এক সুপারহিট ছবি দর্শকদের উপহার দেন। তার মধ্যে ১৯৫২ সালে ‘সঙ্গেদিল’ এবং ১৯৬০ সালে ঐতিহাসিক কাহিনী অবলম্বনে তৈরি ‘মুঘল-ই-আজম’ ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটি আইকনিক ছবিতে পরিণত হয়। কে আসিফ পরিচালিত ‘মুঘল-ই-আজম’ ছবিতে আনারকলি চরিত্রটি মধুবালার অভিনয় জীবনের একটি মাইলফলক। এই ছবিটির জন্য মধুবালাকে এক লক্ষ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয় যা সেইসময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ছিল।
আকাশছোঁয়া সাফল্যের পরে মধুবালাকে ব্যর্থতারও সম্মুখীন হতে হয়েছিল। ১৯৫০ সালের পর থেকে তাঁর অভিনয় জীবনে বির্পযয় শুরু হয়। তাঁর অভিনীত ছবিগুলি বক্স অফিসে বাণিজ্যিকভাবে অসফল হতে থাকে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেকগুলি ছবি তাঁর হাতছাড়া হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন হয় যে সেই সময় মধুবালাকে ‘বক্স অফিস বিষ’ নামে অভিহিত করা হত। ১৯৫৩ সালে ‘মধুবালা প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা খোলেন তিনি। ১৯৫৪ সালে মাদ্রাজে ‘বহুত দিন হুয়া’ ছবিটির শ্যুটিং চলাকালীন মধুবালা অসুস্থ হয়ে বম্বে ফিরে আসেন। এই ঘটনার কিছুদিন পরে ১৯৫৪ সালে মধুবালার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা থেকে পরিচালক মেহবুব খানের ছবি ‘অমর’ মুক্তি পায়। কিন্তু এই ছবিটিও বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য পায়নি। নিজস্ব প্রোডাকশন থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ১৯৫৫ সালে ‘নাতা’ ছবিটিও চূড়ান্ত ব্যর্থ হলে মধুবালাকে আর্থিক লোকসান হওয়ায় তাঁর নিজের বাংলো পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে হয়। সেই বছরই পরিচালক গুরু দত্তের পরিচালনায় কমেডি ছবি ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ৫৫’ মধুবালাকে আবার সাফল্যের মুখ দেখায়। ১৯৫৬ সালে পরিচালক বি আর চোপড়া ‘নয়া দৌড়’ ছবিটির জন্য মধুবালাকে মনোনীত করেন। কিন্তু বি আর চোপড়া চূড়ান্ত অসহযোগিতা ও অপেশাদারিত্বের অভিযোগে মধুবালাকে ছবিটি থেকে বাদ দিয়ে তিরিশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই একই বছর তাঁর দুটি ছবি ‘রাজ হাত’ এবং ‘শিরি ফরহাদ’ বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য লাভ করে। ১৯৫৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া’তে মধুবালার অভিনয় প্রশংসিত হয়। ১৯৫৮ সালে দেব আনন্দের সঙ্গে ‘কালা পানি’ এবং অশোক কুমারের সঙ্গে ‘হাওড়া ব্রিজ’ ছবি দুটি মধুবালাকে আবার তাঁর সাফল্য ফিরিয়ে দেয়। ‘হাওড়া ব্রিজ’ ছবিতে একজন ক্যাবারে ডান্সারের চরিত্রে তাঁর লিপে ‘আইয়ে মেহেরবা’ গানটি প্রভূত জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৫৮ সালে সত্যেন বোসের ছবি ‘চলতি কা নাম গাড়ি’ ছবিতে মধুবালা কিংবদন্তি গায়ক ও নায়ক কিশোর কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে বক্স অফিসে সাফল্য এনে দেয়। কিশোর কুমারের সঙ্গে তাঁর ১৯৬১ সালে ‘ঝুমরু’ ও ১৯৬২ সালে ‘হাফ টিকিট’ ছবি দুটি আর্থিকভাবে সফল হওয়ার পাশাপাশি জনপ্রিয়তাও লাভ করে। ১৯৬০ সালে পরিচালক শক্তি সামন্তের ‘জালি নোট’ এবং ‘বরসাত কি রাত’ ছবি দুটি মধুবালাকে ষাটের দশকের সবচেয়ে সফল অভিনেত্রী হিসেবে পরিচয় করায়। এছাড়াও ১৯৬১ সালে ‘বয়ফ্রেন্ড’ ও ‘শরাবি’ নামে তাঁর খুবই জনপ্রিয় দুটি ছবি মুক্তি পায়। ১৯৬৬ সালে তিনি ‘জ্বালা’ ছবিটির শ্যুটিং শুরু করলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা শেষ করতে পারেননি। এই ছবিটিই ছিল মধুবালার শেষ ছবি।
মধুবালা তাঁর ক্ষণস্থায়ী জীবনে সাফল্যের শীর্ষে পদার্পণ করেছিলেন। ১৯৫১ সালে আমেরিকান ম্যাগাজিন ‘লাইফ’এ জেমস বার্ক তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে অভিহিত করেন। দেশ ছাড়িয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা ইউরোপ, আমেরিকা, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পূর্ব আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। হলিউড থেকে অভিনয়ের প্রস্তাবনা আসে তাঁর কাছে। কিন্তু তাঁর বাবার আপত্তিতে সেই প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। ১৯৫৯ সালে লন্ডনের ‘টাইমস’ ম্যাগাজিনের জানুয়ারি সংখ্যায় মধুবালাকে ‘ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি স্টার’ বলে অভিহিত করে। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ সাল এবং ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সাল অবধি বক্স অফিসের সাফল্যের নিরিখে সাতবার তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পান। ‘মুঘল-ই-আজম’-এর জন্য তিন লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন তিনি আর এই ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। ‘লাক্স’ এবং ‘গোদরেজ’ কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার ছিলেন মধুবালা। ২০০৮ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ তাঁর নামে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। ২০১৭ সালে দিল্লিতে মাদাম তুসোর মিউজিয়ামে মধুবালার একটি মোমের মূর্তি বসানো হয়।
১৯৬৯ সালের ২৩ ফ্রেব্রুয়ারি মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মধুবালার মৃত্যু হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান