সববাংলায়

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

পৃথিবীর ইতিহাস এমন একেকজন মানুষের আলোকময় উজ্জ্বল উপস্থিতিতে আলোকিত হয়ে উঠেছে সময়ে সময়ে, যে পরবর্তী প্রজন্মের মানুষকেও তাঁদের সংগ্রাম প্রভূত প্রেরণা জুগিয়েছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী ব্যাপ্টিস্ট ধর্মগুরু এবং মানবাধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র (Martin Luther King, Jr.) হলেন তেমনই উজ্জ্বল এক ব্যক্তিত্ব। নাগরিক অধিকার আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। মূলত কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের অধিকারের লড়াইকে তিনি চালনা করেছিলেন সারাজীবন ধরে। এই লড়াই মার্টিন লুথার কিং লড়েছিলেন সম্পূর্ণ অহিংস পদ্ধতিতে। এই অহিংসা, অসহযোগ ও কৃষ্ণাঙ্গদের বিপক্ষে গঠিত আইন অমান্য করবার আদর্শ তিনি ভারতবর্ষের মহান নেতা মহাত্মা গান্ধীর দর্শন থেকে লাভ করেছিলেন। স্কুলে, বাসে, রেস্তোরাঁয়, সর্বত্র তখন যেভাবে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ চলছিল, মার্টিন লুথার সেসবই ভেঙে দিয়ে সমস্ত বর্ণের আমেরিকানদের জন্য সমতা এবং ন্যায়বিচার অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আফ্রিকান-আমেরিকানদের ভোটাধিকারের জন্য সংগঠিত আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। সারজীবনব্যাপী এই জাতিবৈষম্যের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল।

১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার অন্তর্গত আটালান্টা শহরে দক্ষিণী কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতির এক মধ্যবিত্ত পরিবারে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের জন্ম হয়। যদিও জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয়েছিল মাইকেল কিং জুনিয়র। মার্টিন লুথারের পিতা মার্টিন লুথার কিং সিনিয়র (Martin Luther King Sr.) এবং মাতা আলবার্টা উইলিয়ামস কিং (Alberta Williams King) দুজনেই বেশ উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। মার্টিন লুথার সিনিয়র তাঁর শ্বশুরমশায় আফ্রিকান-আইরিশ বংশোদ্ভূত অ্যাডাম ড্যানিয়েল উইলিয়ামসের উত্তরসূরী হিসেবে এবেনজার ব্যাপ্টিস্ট চার্চের যাজক হয়েছিলেন। তিন সন্তানের মধ্যে মার্টিন লুথার ছিলেন মধ্যম। তাঁর দিদির নাম ক্রিস্টিন কিং ফারিস এবং ছোট ভাই আলফ্রেড ড্যানিয়েল কিং। ধর্মীয় এক আবহে বড় হওয়ার ফলে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের মধ্যেও একরকম ধর্মবোধ এবং বিশ্বাস গড়ে উঠেছিল।

শৈহবে দুই ভাইবোনের সঙ্গে মার্টিন লুথার বাবার নির্দেশ মেনে উচ্চস্বরে বাইবেল পাঠ করতেন। এই সময়ে মার্টিন তাঁর মাতামহীর সঙ্গে আনন্দে সময় কাটাতেন। ছোটবেলাতেই মার্টিন লুথার দোতলার জানালা থেকে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন কারণ অজ্ঞান হওয়া মাতামহীকে মৃত ভেবে নিজেকে দোষ দেন তিনি। ১৯৪১ সালে মাতামহীর মৃত্যু মার্টিনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল ভিতর থেকে।

১৯৩৫ সালে ছয় বছর বয়সে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য নির্ধারিত  ইয়ং স্ট্রীট এলিমেন্টারি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন মার্টিন লুথার কিং। তখন এক শ্বেতাঙ্গ বন্ধুর সঙ্গে তিনি খেলাধুলা করতেন। কিন্তু একদিন সেই বন্ধু জানিয়েছিল যে, তার বাবা মার্টিন লুথারের সঙ্গে তাকে খেলতে নিষেধ করেছেন কারণ শ্বেতাঙ্গ শিশুরা এখন আলাদা স্কুলে পড়ছে। শৈশব থেকেই এই বর্ণবৈষম্যের অভিজ্ঞতা তাঁর মনের মধ্যে প্রোথিত হয়ে ছিল। মার্টিন পিতামাতাকে এই ঘটনা বললে, তাঁরা মার্টিনকে আমেরিকার বর্ণবৈষম্য এবং দীর্ঘ দাসত্বের ইতিহাসের কথা বলেছিলেন। মার্টিন নিজের পিতাকেও কখনও কখনও বিচ্ছিন্নতা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেখেছিলেন। খুব ছোটবেলা থেকেই মার্টিন লুথার কিং হিম (hymn) করতে পছন্দ করতেন। গির্জার জুনিয়র গায়ক দলের সদস্য হয়েছিলেন তিনি। পিয়ানো বাজানো এবং অপেরা উপভোগ করতেন। অভিধান পড়ে বড় হওয়ার কারণে বিপুল শব্দভান্ডার সঞ্চয় করেছিলেন তিনি। ১৯৩৯ সালে আটলান্টায় ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে সমস্ত শ্বেতাঙ্গ দর্শকের সামনে দাসের পোশাকে গির্জার গায়কদলের সদস্য হিসেবে গান করেছিলেন।

১৯৪০ সালে ১১ বছর বয়সে আটালান্টা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন মার্টিন। বয়ঃসন্ধিকালে জাতিগত অবমাননার কারণে প্রাথমিকভাবে শ্বেতাঙ্গদের ওপর ক্ষোভ জন্মেছিল তাঁর মনে। ১৯৪২ সালে ১৩ বছর বয়সে ‘আটালান্টা জার্নাল’-এর সংবাদপত্র বিতরণ স্টেশনের সর্বকনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক হয়েছিলেন। সেই বছরই মার্টিন নবম শ্রেণী এড়িয়ে গিয়ে বুকার.টি ওয়াশিংটন হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ নেতাদের অনুরোধে শহরে এই একমাত্র আফ্রিকান-আমেরিকান স্কুল তৈরি করেছিলেন সরকার।

ব্যাপ্টিস্ট বাড়িতে বড় হওয়ার ফলে তিনি খ্রিস্টধর্মের কোন কোন দাবির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেন। সানডে স্কুলের সময় যীশুর শারীরিক পুনরুত্থানের কথা অস্বীকার করেছিলেন মার্টিন।

হাইস্কুলে পড়াকালীন জনসাধারণের সামনে বাগ্মীতার পরিচয় দিয়ে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। স্কুলের বিতর্কে যোগ দিতেন মার্টিন লুথার কিং। ইংরেজি এবং ইতিহাসের প্রতি প্রভূত আকৃষ্ট হন। স্কুলে ইংরেজি ও সমাজবিজ্ঞান ছিল তাঁর প্রধান বিষয়। ১৯৪৪ সালের ১৩ এপ্রিল এক প্রতিযোগিতায় প্রথম প্রকাশ্যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনযাপনের উল্লেখ করে বর্ণবৈষম্যের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন মার্টিন লুথার কিং।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রদের যুদ্ধের তালিকাভুক্ত করার ফলে আর পাঁচটা কৃষ্ণাঙ্গ কলেজের মতো একটি নিগ্রো প্রতিষ্ঠান মোরহাউস কলেজেরও ছাত্রসংখ্যা কমতে থাকে। সে কারণে জুনিয়র হাইস্কুলের ছাত্রদের পড়াশোনার জন্য আহ্বান করে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৪৪ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করে এই কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৪৮ সালে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এই কলেজে মার্টিনের বাবা এবং ঠাকুরদাও পড়াশোনা করেছিলেন।

এরপর পেনসিলভেনিয়ার আপল্যান্ডে অবস্থিত ক্রোজার থিওলজিকাল সেমিনারি থেকে থিওলজি বা ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন। এখানেই মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আদর্শের সঙ্গে পরিচিত হন। সেখানে শ্বেতাঙ্গ সিনিয়র শ্রেণীর সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ছাত্র সংঠনেরও সভাপতি ছিলেন মার্টিন। ১৯৫১ সালে সেখান থেকে ব্যাচেলার অব ডিভিনিট ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক হন। ক্রোজারে একটি ফেলোশিপ জিতে নিয়ে তিনি বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। ১৯৫১ সালেই মার্টিন লুথার কিং বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মানুগ ধর্মতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। গবেষণার পাশাপাশি তিনি টুয়েলভথ ব্যাপ্টিস্ট চার্চে উইলিয়াম হান্টার হেস্টারের সঙ্গে সহকারী ধর্মগুরুর কাজ করতেন। ১৯৫২ এবং ১৯৫৩ সালে মার্টিন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫৪ সালে ২৫ বছর বয়সে মন্টগোমারির ডেক্সটার অ্যাভিনিউ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের যাজক হিসেবে পরিচিত হন তিনি। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন মার্টিন লুথার কিং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।

বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধু মেরী পাওয়েল মার্টিনকে কোরেটা স্কটের সন্ধান দেন। মাত্র দুবারের আলাপেই মার্টিন লুথার তাঁর মনমতো সঙ্গিনীকে খুঁজে পেয়েছিলেন কোরেটা স্কটের মধ্যে। ১৯৫৩ সালের ১৮ জুন কোরেটা স্কটকে (Coretta Scott) আলাবামার হেইবারগারে (কোরেটা স্কটের নিজের শহর) মার্টিন বিবাহ করেছিলেন। এই দম্পতির চার সন্তান হলেন—ইয়োলান্ডা কিং, মার্টিন লুথার কিং ৩, ডেক্সটার স্কট কিং এবং বেরনিস কিং। ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মন্টগোমারিতে পাঁচ বছর থাকার পর তিনি আটালান্টায় ফেরত আসেন এবং সেখানে আমৃত্যু এবেনেজার ব্যাপটিস্ট চার্চে পিতার সঙ্গে সহ-যাজক হিসেবে কাজ করেন।

মন্টগোমারিতে এক বাসে জাতি বিদ্বেষের ঘটনার কারণে ১৯৫৫ সালে মন্টগোমারি বাস বয়কট আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং তার নেতৃত্ব দেন মার্টিন লুথার কিং। তাঁর বয়স তখন ২০ বছর এবং সবেমাত্র এক কেরানীর চাকরি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। অন্যান্য মন্ত্রীরা তাঁকে নেতৃত্বদানে উৎসাহ দিয়েছিল। এই বয়কট মোট ৩৮২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যে মার্টিনের বাড়িতে বোমা হামলাও হয়েছিল। এসময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অবশেষে আন্দোলনের জেরে ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ব্রাউডার ভি. গেইল আইন প্রণয়ন করে যা-কিনা মন্টগোমারির বাসে জাতিগত বিচ্ছিন্নতাকে নিষিদ্ধ করেছিল।

১৯৫৭ সালে সাউদার্ন ক্রিশ্চিয়ান লিডারশীপ কনফারেন্স (SCLC) গঠনে সাহায্য করেন মার্টিন লুথার কিং। এই প্রতিষ্ঠান সমস্তরকম বর্ণ ও জাতিগত নিপীড়ন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদের জন্য যুক্তফ্রন্ট তৈরি করে। ১৯৫৭ সালে এসসিএলসির অধীনে প্রেয়ার পিলগ্রিমেজ ফর ফ্রীডম নামে একটি বিক্ষোভ হয়েছিল। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের (Civil Rights movement) প্রথমদিককার ঘটনা এটি। সেই বিক্ষোভে প্রথম মার্টিন জাতীয় শ্রোতাদের সম্বোধন ক’রে ‘গিভ আস দ্য ব্যালট’ শীর্শ বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

মার্টিনের আইন উপদেষ্টা হ্যারি ওয়াচটেল অহিংস আন্দোলনকে সহায়তার জন্য একটি কর-মুক্ত তহবিল গঠন করেন যার নাম, গান্ধী সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস। মার্টিন এর সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। মার্টিন লুথার কিং কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার , বিচ্ছিন্নকরণ , শ্রমিক অধিকার এবং অন্যান্য মৌলিক নাগরিক অধিকারের জন্য মিছিল সংগঠিত করেন ও নেতৃত্ব দেন । এই অধিকারগুলির বেশিরভাগই ১৯৬৪ সালের নাগরিক অধিকার আইন এবং ১৯৬৫ ভোটিং অধিকার আইন পাসের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনের স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৫৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু মার্টিন এবং তাঁর দলবলকে সাদরে অভ্যর্থনা জানায়। সেখানে মার্টিন গান্ধীজীর অনুসরণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে অহিংস সত্যাগ্রহের ধারণা লাভ করেন এবং অনুভব করেন যে, অহিংস প্রতিরোধই স্বাধীনতার সংগ্রামে নিপীড়িত মানুষের কাছে উপলব্ধ সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

১৯৬০ সালের মার্চ থেকে আটালন্টা স্টুডেন্ট মুভমেন্ট শহরের ব্যবসা এবং পাবলিক স্পেশগুলিকে আলাদা করার জন্য আটালান্টা সিট-ইন গঠন করে। মার্টিনকে তারা অক্টোবরে একটি গণঅবস্থানে অংশগ্রহণে আহ্বান জানায়, যেখানে ১৯৬০ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারণায় কীভাবে নাগরিক অধিকারকে উপেক্ষা করা হয়েছিল তা তুলে ধরার পরিকল্পনা হয়েছিল। ১৯ অক্টোবর এটি অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন অনেকের সঙ্গে মার্টিন লুথার কিং-কেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১৯শে অক্টোবরের অবস্থান এবং অস্থিরতার পর আটালান্টায় বিচ্ছিন্নকরণ নিয়ে আলোচনার জন্য ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। আলোচনা ব্যর্থ হলে ধর্মঘট, বয়কট চলতে থাকে।

১৯৬১ সালের নভেম্বর মাসে বিচ্ছিন্নতার প্রতিবাদে আলবানিতে একটি আন্দোলন গড়ে ওঠে৷ ডিসেম্বরে মার্টিন তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। হাজার হাজার নাগরিক একত্রিত হয়ে যে অহিংস আন্দোলন সেদিন গড়ে তুলেছিল, দেশব্যপী তা আলোড়ন ফেলেছিল। দীর্ঘদিনের পর আন্দোলন স্তিমিত হয়ে এলে মার্টিন ‘তপস্যা দিবস’ পালনের আহ্বান জানায়।

১৯৬৩ সালে আলাবামার বার্মিংহামে এসসিএলসি জাতিগত বিচ্ছিন্নতা এবং অর্থনৈতিক অবিচারের বিরুদ্ধে এটি অভিযান শুরু করে। কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে নিয়ে মিছিল, প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘন ইত্যাদি কর্মসূচী ছিল সেই অভিযানের অংশ। শিশু এবং তরুণদেরও এই আন্দোলনে সামিল করা হয়। যদিও পুলিশ জলকামান এবং পুলিশি কুকুরকে ব্যবহার করে বিদ্রোহ দমনের জন্য। মার্টিন লুথার কিং-কে গ্রেফতার করাও হয়েছিল এবং জেল থেকে যে চিঠি লিখেছিলেন তা বিখ্যাত হয়ে রয়েছে।

১৯৬৩ সালে চাকরি এবং স্বাধীনতার দাবিতে মার্চ অন ওয়াশিংটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। এই মিছিল দাবি তুলেছিল স্কুলে বিচ্ছিন্নতার অবসানের, পুলিশি বর্বরতা থেকে নাগরিক অধিকার কর্মীদের সুরক্ষার, কর্মসংস্থানে জাতিগত বৈষম্য নিষিদ্ধ আইনসহ অর্থপূর্ণ নাগরিক অধিকার আইন ইত্যদির। এই সমাবেশেই মার্টিন ২৮ অগাস্ট তাঁর ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ নামক বিখ্যাত বক্তৃতাটি দিয়েছিলেন।

১৯৬৪ সালের ৭ মে সেন্ট ফ্রান্সিস কলেজে ‘দ্য নিগ্রো অ্যান্ড দ্য কোয়েস্ট ফর আইডেন্টিটি’ নামক একটি বক্তৃতা দেন। সেই বছরই সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। ১৯৬৪ সালেই আংশিকভাবে ওয়াশিংটন মার্চের কারণে ঐতিহাসিক সিভিল রাইটস অ্যাক্ট পাস হয়।

নাগরিক আইন পাসের পর ১৯৬৫ সালে আলাবামায় আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভোটাধিকারের জন্য একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন। শান্তিপূর্ণ মিছিলে কাঁদানে গ্যাসের প্রয়োগ পর্যন্ত করা হয়। সেলমা থেকে মন্টগোমারি পর্যন্ত লং মার্চ করেছিলেন তাঁরা। সেলমায় এই আন্দোলনের ফলে ১৯৬৫ সালে ভোটাধিকার আইন প্রণনয় করা হয়।

১৯৬৬ সাল নাগাদ মার্টিনরা শিকাগোতে বেশ কিছু বৃহত্তর মিছিলের পরিকল্পনা করেন এবং তাকে বাস্তব রূপও দিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভিয়েতনামের যুদ্ধে আমেরিকানদের জড়িত থাকার বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি ‘বিয়ন্ড ভিয়েতনাম : আ টাইম টু ব্রেক সাইলেন্স’ নামে বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

১৯৬৮ সালে, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং এসসিএলসি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য “পুওর পিপলস ক্যাম্পেন’ শুরু করেছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য একটি বই হল, ‘হোয়্যার ডু উই গো ফ্রম হেয়ার : ক্যাওস অর কমিউনিটি’। ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল মেমফিসের লরেন মোটেলের ব্যলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকার সময় জেমস আর্ল রে-র করা গুলিতে আহত হন এবং সেন্ট জোসেফ হাসপাতালে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের মৃত্যু হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading