পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পিকনিক স্পট। শীতকাল হলেই সেখানে মানুষ সেখানে ভিড় জমায়, জায়গাগুলো কানায় কানায় ভরে ওঠে। আসুন এক নজরে বর্ধমানের জনপ্রিয় পিকনিক স্পট কী আছে দেখে নিই।
১) পূর্বস্থলীর চুপির চর
বর্ধমানের জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে প্রথমেই চুপির চরের নাম আসবে। পূর্ব বর্ধমান জেলার সবচেয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলোর একটি হল পূর্বস্থলীর চুপির চর। বিলজুড়ে পদ্মপাতা, জলের ওপর ভেসে থাকা পাখি আর দূর দূরান্ত থেকে আসা অতিথি পাখিদের কলরব — এসবই একে করে তুলেছে শীতকালের এক অনন্য পিকনিক স্পট। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে এখানে বসে গল্প, খাওয়া-দাওয়া, ছবি তোলা — সবকিছুরই আলাদা মজা আছে। অনেকে সকালে এসে নৌকা ভ্রমণ করে বিলের ভেতর দিয়ে পাখি দেখতে যায়, তারপর পাশে গাছতলায় বসে পিকনিক উপভোগ করে।
বর্ধমান শহর থেকে পুর্বস্থলী প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। ট্রেনে পুর্বস্থলী স্টেশন পর্যন্ত এসে রিকশা বা টোটো করে চুপির বিল পৌঁছানো যায়। রাস্তার পথেও সহজে যাওয়া সম্ভব। প্রবেশে কোনো নির্দিষ্ট টিকিট নেই, তবে নৌকা ভাড়া দিতে হয় (প্রতি নৌকা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা)। এখানে পিকনিক করা যায়, তবে রান্না করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহার করতে হয় এবং আগুন জ্বালানোর নিয়ম মানতে হয়। মদ্যপান বা উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো নিষিদ্ধ। সকালে এলে পাখি দেখা আর বিকেলে সূর্যাস্ত — এই দুই সময়ই সবচেয়ে সুন্দর। পিকনিক ছাড়াও এখানে আলাদা যারা ঘুরতে যেতে চান, তাঁরা সেই ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
২) পাল্লারোড পিকনিক স্পট
বর্ধমানের জনপ্রিয় পিকনিক স্পটের মধ্যে অন্যতম দামোদর নদীর তীরে অবস্থিত পাল্লারোড পিকনিক স্পট। বর্ধমান শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই পিকনিক স্পটটি বর্ধমান শহরের বাসিন্দাদের কাছে খুব পরিচিত একটি পিকনিক স্পট। চারপাশে বিশাল খোলা জায়গা, নদীর বালুচর, গাছের ছায়া আর পাখির ডাক – সব মিলিয়ে এক শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ। শীতকালে সকালে রোদে নদীর জল চিকচিক করে ওঠে, আর সেই দৃশ্যের সঙ্গে সকালের চায়ের কাপ হাতে আড্ডা দেওয়া, একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। পরিবার, বন্ধু বা অফিসের টিম – যে কারও সঙ্গে এসে এখানে সারাদিন কাটানো যায় এখানে।
বর্ধমান স্টেশন থেকে ভাড়ার গাড়ি করে পাল্লারোডে পৌঁছানো খুব সহজ। এখানে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগে না। এখানে নিজের মতো করে রান্না করা যায়। তবে নদীর ধারে রান্না করার সময় সাবধানে থাকা দরকার, কারণ জলস্তর অনেক সময় অচেনা ভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়াও নদীর ধারে বেশ কিছু জায়গা বেশ বিপজ্জনক, যেখানে সাবধানে হাঁটাচলা করতে হয়। মাইক্রোফোন বা বড় সাউন্ডবক্স ব্যবহার না করাই ভালো। তবে গানবাজনা, খেলাধুলোতে কোনো বাধা নেই।
৩) রানধিয়া ব্যারাজ
রানধিয়া ব্যারাজ বর্ধমান জেলার অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি পিকনিক স্পট। দামোদর নদীর ওপর তৈরি এই ব্যারাজটি শুধু নদীর জল নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, বরং স্থানীয় মানুষ আর পর্যটকদের কাছে এক মনোরম ভ্রমণকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। শীতকালে যখন নদীর জল কমে আসে, তখন ব্যারাজের আশেপাশে বিশাল বালুচর তৈরি হয় — সেখানেই ছোট ছোট দলে মানুষ পিকনিক করতে আসে। সবুজ গাছপালা, নদীর কলতান আর আকাশভরা সূর্যের আলো — সব মিলিয়ে জায়গাটা যেন প্রকৃতির কোলে বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা।
বর্ধমান শহর থেকে রানধিয়া প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। শহর থেকে গাড়িতে বা স্থানীয় বাসে যাওয়া যায়; রাস্তা একেবারে ভালো এবং মনোরম। এখানে কোনো প্রবেশমূল্য নেই, সম্পূর্ণ ফ্রি স্পট। ব্যারাজের পাশে বড় খোলা মাঠ ও নদীর ধারে বসে রান্না করার সুযোগ আছে। তবে রান্না শেষে জায়গা পরিষ্কার রাখা বাধ্যতামূলক। আশেপাশে ছোটখাটো খাবারের দোকান আছে, কিন্তু বড় কোনো রেস্তোরাঁ নেই — তাই খাবারদাবার সঙ্গে নিয়ে আসাই ভালো। নদীর জলে নামা বা ব্যারাজের কাছে যাওয়া নিষিদ্ধ, তাই সাবধান থাকা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট
৪) মেজিয়া ব্যারেজ
অজয় নদীর ওপর তৈরি মেজিয়া ব্যারেজ বর্ধমান জেলার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত, যা নদী ও প্রকৃতির সৌন্দর্য পছন্দ করা মানুষদের কাছে এক দারুণ পিকনিক স্পট। ব্যারেজের আশেপাশে বিশাল খোলা মাঠ, নদীর ধারে গাছগাছালি আর নির্মল বাতাস — সব মিলিয়ে এক প্রশান্ত পরিবেশ তৈরি করে। শীতের সকালে রোদে বসে আলু পোড়া বা দুপুরে খোলা আকাশের নিচে খিচুড়ি রান্না, এই জায়গার মূল আকর্ষণই হলো প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো।
বর্ধমান শহর থেকে মেজিয়া প্রায় ৬০ কিমি দূরে। গাড়ি বা লোকাল বাসে পৌঁছানো যায়। ব্যারেজের পাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। প্রবেশে কোনো ফি নেই, তবে নিরাপত্তার কারণে ব্যারেজের গেটে বেশি ভিড় করা নিষেধ। নদীর পাড়ে ও মাঠে পিকনিক করা যায়, কিন্তু ব্যারেজের উপরে নয়। কাছাকাছি চা, জল আর খাবারের দোকান আছে। শীতকালেই জায়গাটা সবচেয়ে জনপ্রিয়, কারণ গরমে নদীর জল শুকিয়ে যায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে স্থানীয়রাও খুব সহায়ক মনোভাব দেখান।
৫) রামনাবাগান অভয়ারণ্য
বর্ধমান শহরের মধ্যেই অবস্থিত রামনাবাগান অভয়ারণ্য, যাকে স্থানীয়রা “ডিয়ার পার্ক” বলেও চেনে। প্রায় ১৩.৫ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত এই সবুজ বনভূমি শহরের কোলাহল থেকে একেবারে আলাদা এক প্রশান্ত জায়গা। এখানে হরিণ, ময়ূর, খরগোশ, নানা প্রজাতির পাখি আর ছোট ছোট সরীসৃপ দেখা যায়। পরিবার নিয়ে ছুটির দিনে এখানে আসলে একদিকে বাচ্চাদের জন্য শিক্ষা, অন্যদিকে বড়দের জন্য বিশ্রাম। গাছগাছালি, পাখির ডাক, আর বনভূমির ঠান্ডা হাওয়া মিলে জায়গাটিকে করে তুলেছে ছোটখাটো প্রাকৃতিক রিসোর্টের মতো।
এটি বর্ধমান শহরের মধ্যেই অবস্থিত, তাই রিকশা বা অটোতেই সহজে পৌঁছানো যায়। প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ১০ টাকা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। অভয়ারণ্যের ভেতরে রান্না করা যায় না, তবে বাইরে খোলা জায়গায় বসে খাওয়া ও আড্ডা দেওয়া যায়। এখানে গানবাজনার অনুমতি নেই, তবে পরিবারের সঙ্গে শান্তভাবে পিকনিক করার পরিবেশ আছে। কাছাকাছি খাবারের দোকানও পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ইকো পার্কের পিকনিক স্পট
৬) খন্ডঘোষ লেক সাইড
যারা নিরিবিলি, ভিড়হীন জায়গায় সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য খন্ডঘোষের লেক সাইড এক আদর্শ পিকনিক স্পট। চারপাশে গাছপালা আর মাঝখানে এক শান্ত লেক – এ যেন ছবির মতো দৃশ্য। সকালে কুয়াশার ভেতর লেকের জলে সূর্যের আলো পড়লে পুরো জায়গাটা রুপালি হয়ে ওঠে। স্থানীয় মানুষরা প্রায়ই এখানে দল বেঁধে আসে — কেউ মাছ ধরে, কেউ চুলায় রান্না করে, কেউ গান গায়।
বর্ধমান শহর থেকে খন্ডঘোষের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। বাস বা প্রাইভেট গাড়িতে পৌঁছানো যায়। কোনো প্রবেশ ফি নেই, জায়গাটা সম্পূর্ণ ফ্রি। লেকের ধারে বসে রান্না করা যায়, তবে আগুনের নিরাপত্তা রাখতে হয়। এখানে কোনো দোকান বা হোটেল নেই, তাই খাবার, জল সব কিছু সঙ্গে আনতে হয়। জায়গাটা শান্ত, তাই বড় স্পিকার বা ডিজে চালানো একেবারেই বারণ।
৭) কালনা রাজবাড়ির ঘাট
কালনা শহরের রাজবাড়ি ঘাট এক ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন পিকনিক স্পট। গঙ্গার ধারে অবস্থিত এই জায়গায় আছে পুরনো রাজবাড়ির স্থাপত্য, মন্দিরের সারি আর নদীর হাওয়া। শীতকালে এখানে গঙ্গার ধারে বসে খাওয়া-দাওয়া, গল্প, ছবি তোলা — সবই আনন্দের। আশেপাশের রাজবাড়ির মন্দিরগুচ্ছও দেখার মতো সুন্দর, বিশেষত নবকৃষ্ণ মন্দির ও ১০৮ শিবমন্দির।
বর্ধমান শহর থেকে কালনা প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে। ট্রেনে বা বাসে কালনা পৌঁছে ঘাট পর্যন্ত রিকশায় আসা যায়। জায়গাটা সম্পূর্ণ ফ্রি, তবে রাজবাড়ির ভেতরে প্রবেশের জন্য টিকিট লাগে ₹২০ মতো। নদীর ধারে বসে পিকনিক করা যায়, কিন্তু মন্দিরের ভেতরে নয়। আশেপাশে চায়ের দোকান, খাবার ও জল সহজেই পাওয়া যায়।
৮) কাটোয়া ঘাট এলাকা
কাটোয়া ঘাট বর্ধমান জেলার আরেকটি জনপ্রিয় নদীতীরবর্তী পিকনিক স্পট। গঙ্গার তীরে ছোট ছোট ঘাট, নদীর জল, আর বাতাসে মিশে থাকা ঠান্ডা হাওয়া — এই জায়গাটা শীতকালে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা দল বেঁধে আসে, কেউ রান্না করে, কেউ খেলাধুলা করে, কেউ আবার গঙ্গার ধারে গল্পে মেতে ওঠে।
বর্ধমান শহর থেকে কাটোয়া প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে। ট্রেন বা বাসে সহজে যাওয়া যায়। জায়গাটা ফ্রি, কোনো টিকিট লাগে না। নদীর ধারে বসে রান্না করা যায়, তবে ঘাটের খুব কাছে আগুন জ্বালানো উচিত নয়। মদ্যপান বা অতিরিক্ত শব্দ করলে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পিকনিকের জন্য জায়গাটা সবচেয়ে উপযুক্ত।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় পিকনিক স্পট
৯) চৌবিল
ভাতার এলাকার চৌবিল একদম গ্রামীণ পরিবেশে ঘেরা এক সুন্দর বিল। শীতকালে এই বিলের চারপাশে নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায়, আর গ্রামের মানুষরা এখানে খোলা মাঠে পিকনিক করতে আসে। যারা শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে গিয়ে নিস্তব্ধতা খুঁজতে চান, তাদের জন্য এই জায়গা আদর্শ। সকালে সূর্যের আলোয় বিলের জলে প্রতিফলন, গাছের ছায়া, আর বাতাসের ঠান্ডা স্পর্শ এক অনন্য অনুভূতি দেয়।
বর্ধমান শহর থেকে ভাতার প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। গাড়িতে সহজে যাওয়া যায়, রাস্তা ভালো। এখানে কোনো প্রবেশমূল্য নেই। খোলা মাঠে বসে রান্না করা যায়, তবে জায়গাটা প্রাকৃতিক তাই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। দোকানপাট নেই, তাই খাবারদাবার সব সঙ্গে আনতে হয়।
১০) কাঞ্চননগর পার্ক
কালনা শহরের কাঞ্চননগর পার্ক একটি সরকারি পার্ক হলেও সাধারণ পিকনিকের জন্য একদম উপযুক্ত। সুন্দর ফুলের বাগান, হাঁটার পথ, বসার জায়গা আর বাচ্চাদের খেলার সরঞ্জাম — সবই আছে এখানে। পারিবারিক ঘুরে আসা বা ছোটদের নিয়ে পিকনিক করার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।
বর্ধমান শহর থেকে কালনা হয়ে কাঞ্চননগর পার্কে পৌঁছানো যায় সহজেই। প্রবেশমূল্য ₹১০–₹২০ মতো। পার্কের ভেতরে রান্না করা যায় না, তবে বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় বসে খাওয়া যায়। এখানে বড় স্পিকার বা সাউন্ড সিস্টেম চালানো নিষিদ্ধ, কিন্তু শান্তভাবে বসে খাওয়া, গল্প, ফটো তোলা — সবই করা যায়।
এখানে উল্লিখিত পিকনিক স্পটগুলি ছাড়াও বর্ধমানে আরও যে পিকনিক স্পট রয়েছে যেগুলো মূলত প্রাইভেট পিকনিক স্পট। তবে সেই সমস্ত জায়গাকে এখানে উল্লেখ করা হয়নি কারণ আগে সমস্ত পিকনিক মানেই বড় খোলা জায়গায় বা মাঠে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে একসঙ্গে রান্না বান্না করে খাওয়া দাওয়া করা বোঝাত। বর্তমানে অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় পিকনিক বলতে দল বেঁধে রিসোর্ট ভাড়া করে সেখানে খাওয়া দাওয়া করাকে বোঝায়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিকনিকের সংজ্ঞা বিভিন্ন হওয়ার ফলে কোন জায়গাকে পিকনিক স্পট বলা হবে আর কোন জায়গাকে বলা হবে না তাই নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
তাই সববাংলায় এর থেকে “পিকনিক স্পট” আখ্যা দেওয়ার জন্য কিছু শর্ত বানানো হয়েছে এবং যে জায়গাগুলো সেই শর্তাবলী মানছে তাদের পিকনিক স্পটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই সমস্ত শর্তাবলীসমেত পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় পিকনিক স্পটগুলো নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- নিজস্ব সংকলন


আপনার মতামত জানান