উনিশ শতকের বঙ্গীয় রেনেসাঁসের কথা প্রসঙ্গে যেসব ব্যক্তির নাম উঠে আসে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন রাধাকান্ত দেব (Radhakanta Deb)। এই সময়ে বাঙালি যে নব্যশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নবজাগরণকে তরান্বিত করতে পেরেছিল, তার নেপথ্যে ছিলেন এই রাধাকান্ত দেবের মতো মানুষেরা। হিন্দু কলেজের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ইংরেজি শিক্ষায় তো বটেই এমনকি নারীশিক্ষার ব্যাপারেও তিনি খুবই উৎসাহী ছিলেন এবং সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করেছিলেন। শিক্ষা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গ্রন্থও রচনা করেন তিনি। রাজপরিবারের মানুষ হওয়ায় হিন্দু সমাজে রাধাকান্ত দেবের প্রতিপত্তি ছিল বিস্তর। তবে তিনি একদিকে যেমন প্রগতিশীল মানসিকতার পরিচয় দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তেমনই ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং রক্ষণশীলতা তাঁকে নিন্দার পাত্রতেও পরিণত করেছিল। সতীদাহ রদ কিংবা বিধবাবিবাহ ইত্যাদি বিষয়ের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন রাধাকান্ত। তিনি যেন একপ্রকার গোঁড়া হিন্দুদের দলপতি ছিলেন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
১৭৮৪ সালের ১০ মার্চ কলকাতার শোভাবাজারে রাধাকান্ত দেবের জন্ম হয়। মহারাজা নবকৃষ্ণ দেবের পোষ্যপুত্র গোপীমোহন দেবের পুত্র ছিলেন রাধাকান্ত। পিতা ও পুত্র দুজনের মধ্যেই একটি স্বভাব ছিল খুবই প্রকট, তা হল স্বদেশপ্রীতি। পিতার থেকেই উত্তরাধিকার সূত্রে এই গুণটি পেয়ছিলেন রাধাকান্ত। স্বদেশের ভালমন্দ বিষয়ে, দেশের মানুষের কল্যাণসাধনের কাজে সর্বদাই এগিয়ে গিয়েছেন তিনি।
১৭৮৯ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকে গৃহশিক্ষক কৃষ্ণমোহন বসুর কাছে রাধাকান্তের শিক্ষা শুরু হয়। মাত্র দশ বছর বয়সেই তাঁর সঙ্গে গঙ্গামনি নামের একটি বালিকার বিবাহ হয়েছিল। রাধাকান্তের শৈশবে বঙ্গদেশে খুব প্রকটভাবে ইংরেজি শিক্ষা চালু হয়নি। তখনও মূলত আরবি, ফার্সি এবং সংস্কৃত— দেশীয় ভাষার পাশাপাশি এই তিন ভাষা সম্পন্ন গৃহস্থেরা অধ্যয়ন করতেন। সেই ধারা বজায় রেখেই রাধাকান্ত দেবও এই তিনটি ভাষা অধ্যয়ন করে আয়ত্ত করে ফেলেছিলেন।
তবে খুব শীঘ্রই ইংরেজি ভাষার প্রভাব বাড়তে শুরু করেছিল। বাঙালি ইংরেজি শিক্ষার তাগিদ অনুভব করতে থাকে, কারণ ইংরেজ শাসকের সঙ্গে তাদের কথাবার্তা বলতে হত, ব্যবসা বাণিজ্য করতে হত। ফলত তখন কলকাতা শহরে এমন কয়েকটি প্রাথমিক স্কুল তৈরি হয় যেগুলিতে ইংরেজি শিক্ষা প্রদান করা হত। কানিংহাম নামক এক সাহেবের তৈরি ক্যালকাটা একাডেমি তেমনই এক স্কুল। রাধাকান্ত দেব এই স্কুলে প্রাথমিক ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। যদিও এই স্কুলের পরে তাঁর ইংরেজি শিক্ষা থেমে থাকেনি, তিনি নিজের চেষ্টাতেই ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অতএব বাংলা, ইংরেজি, আরবি, ফার্সি এবং সংস্কৃত মোট পাঁচটি ভাষায় তিনি রীতিমতো পন্ডিত হয়ে উঠেছিলেন।
নিজে কেবল ইংরেজি শেখেননি, এও অনুভব করেছিলেন যে বাঙালির ইংরেজি শিক্ষাগ্রহণ কতখানি প্রয়োজন। বিদেশি এই ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হলে বাঙালির দৃষ্টির উদারতা তৈরি হবে, তা অনুভব করতে পেরেছিলেন তিনি। তাই ইংরেজি শিক্ষার বিস্তারে বরাবর উৎসাহ প্রদান করে গেছেন। ডেভিড হেয়ার যখন কলকাতার বুকে হিন্দু কলেজের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেন, তার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন গোপীমোহন এবং রাধাকান্ত দেব। হিন্দু কলেজের নিয়মবিধি প্রস্তুত করবার জন্য হাইড ইস্টের বাড়িতে একটি অধিবেশন হয় এবং সেখানে ইউরোপীয় ও ভারতীয় সদস্যদের নিয়ে তৈরি হয় একটি সাব-কমিটি। রাধাকান্ত দেব সেই সাব-কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। ১৮১৭ সালে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সূচনা থেকেই মহারাজা গোপীমোহন দেব এর ডিরেক্টর ছিলেন। পরবর্তীতে ১৮১৮ সালে রাধাকান্ত দেব হিন্দু কলেজের ডিরেক্টর নিযুক্ত হয়েছিলেন৷ ডিরেক্টর হিসেবে তিনি কলেজের ছুটি, ছাত্র ভর্তি হওয়ার নিয়ম, মাসিক বেতন ইত্যাদি নানা নিয়মাবলী গঠন করেছিলেন। হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর তিনি এই কলেজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
নব্যশিক্ষার জেরে ছাত্রদের মধ্যে হিন্দুসমাজের প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা ভাঙার এক উচ্ছৃঙ্খল মানসিকতা দেখা দেয়। ডিরোজিওর অনেক ছাত্র এমন কাজে যুক্ত থাকায় ডিরোজিওকে হিন্দু কলেজ থেকে অপসারণ করা হয়। এসময় কলকাতায় বেশ কিছু পাদরির আগমন ঘটে যাদের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু যুবকদের খ্রীস্টধর্মে দীক্ষিত করা। এমন ধরনের কোনও খ্রিস্টান পাদরি যাতে হিন্দু কলেজের অধ্যাপক হতে না পারেন সেদিকে রাধাকান্তের সতর্ক দৃষ্টি ছিল। তিনি শিক্ষার ব্যাপারে প্রগতিশীল ও উদারমনস্কতার পরিচয় দিলেও ধর্মের ক্ষেত্রে ছিলেন ভীষণই গোঁড়া ও রক্ষণশীল। এর ফলে পরবর্তীকালে তাঁকে নিন্দাও কুড়োতে হয়েছে।
১৮৩৫ সালে লর্ড মিন্টোর নেতৃত্বে সরকার-নিযুক্ত শিক্ষাবিষয়ক কমিটি তৈরি হয় এবং রাধাকান্ত সেই কমিটিরও সদস্য হয়েছিলেন। হিন্দু কলেজে মূলত ইংরেজি শিক্ষারই প্রাধান্য ছিল বেশি তবে এদেশীয় ছাত্রদের সুবিধার্থে বাংলায় শিক্ষাদানের জন্য কলেজের কাছেই কলেজেরই অধীনে ১৮৩৯ সালে একটি বাংলা পাঠশালা খোলবার আয়োজন করা হয় এবং এক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন রাধাকান্ত। পরবর্তীকালে গুরুচরণ সিংহ নামে কলেজের এক ছাত্রের খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণকে কেন্দ্র করে ড্রিঙ্কওয়াটার বীটন এবং রাধাকান্ত দেবের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ তৈরি হলে ১৮৫০ সালে এই কলেজের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করেন রাধাকান্ত।
জনশিক্ষা প্রচারের জন্য কেবল বিদ্যালয় হলেই তো হয় না উপযুক্ত পাঠ্যপুস্তকেরও প্রয়োজন পড়ে। সেই সময় বিদ্যালয়গুলিতে পড়ানোর জন্য পাঠ্যপুস্তকের অভাব থেকেই যুগোপযোগী পাঠ্যপুস্তক রচনা এবং প্রকাশের জন্য হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার ছয় মাস পরে ১৮১৭ সালের জুলাই মাসে কলকাতা স্কুল-বুক সোসাইটি স্থাপিত হয়। প্রথম থেকেই রাধাকান্ত এই স্কুল-বুক সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হলেন। ১৮১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটির নেটিভ সেক্রেটারি নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে কলকাতার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির সংস্কারের তত্ত্বাবধান করে স্কুল সোসাইটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা নেন।
স্কুল-বুক সোসাইটির সঙ্গে কেবল যুক্তই থাকেননি, ছাত্রদের উপযুক্ত গ্রন্থও তিনি রচনা করেছিলেন। তাঁর রচিত ‘বাঙ্গালা শিক্ষাগ্রন্থ’ বইটি ছাত্রদের ব্যবহারের জন্য একটি ছোট বিশ্বকোষের মতো। সেই বইতে ভাষার গঠন, বানানের নিয়ম, ভৌগলিক পদ এবং মৌলিক পাটিগণিতের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ‘সংক্ষিপ্ত বাঙ্গালা শিক্ষাগ্রন্থ’ নামেও একটি বই লিখেছিলেন তিনি। এছাড়াও ১৮১৮ সালে জে.ডি পিয়ার্সনের সঙ্গে যৌথভাবে ‘নীতিকথা’ নামক গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করেন। এছাড়াও ‘জ্যোতির্বিদ্যা’ নামে যেমন গ্রন্থ রচনা করেছিলেন তেমনি প্রাচীন ইতিহাসের ওপরেই মূল্যবান বই লিখেছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, উনিশ শতকে নারীশিক্ষার প্রসারের জন্যও আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। রাধাকান্ত দেব কিন্তু নারীশিক্ষার বিষয়ে খুবই উৎসাহী ছিলেন, এমনকি নিজের বাড়ির স্ত্রীদেরকেও বিদেশী শিক্ষয়িত্রীর কাছে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। রাধাকান্তের শোভাবাজারের বাড়িতে স্কুল সোসাইটির ছাত্রদের বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক পরীক্ষার ব্যবস্থা হত। তিনি গুণ অনুসারে ছাত্রদের পারিতোষিকও দিতেন। সেই পরীক্ষায় ফিমেল জুবিনাইল সোসাইটির বালিকারাও যোগদান করত। গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কারকে ‘স্ত্রী শিক্ষাবিধায়ক’ নামক গ্রন্থ রচনার সময় সংস্কৃত সাহিত্য থেকে নানা উপাদান সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন রাধাকান্ত। বেথুন সাহেব যখন এই গ্রন্থটির অভিনব সংস্করণ প্রকাশের পরিকল্পনা করেন তখন রাধাকান্ত দেব তাঁকে সমর্থন করেছিলেন এবং স্ত্রীশিক্ষার যাঁরা নিন্দা করতেন তাঁদের আচরণের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।
সংস্কৃত শিক্ষার উন্নতির জন্যেও চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ১৮৫৭ সালে শোভাবাজারে একটি সংস্কৃত কলেজ স্থাপন করেছিলেন তিনি। এখানে উল্লেখ্য যে, রাধাকান্ত তাঁর রচিত যে গ্রন্থটির জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেছিলেন সেটি হল ‘শব্দকল্পদ্রুম’। এই গ্রন্থটি মূলত একটি সংস্কৃত অভিধান যা বাংলা অক্ষরে মুদ্রণ করেছিলেন। ১৮১৫ সাল থেকে এই অভিধান সঙ্কলনের কাজ শুরু করেন। সম্পূর্ণ অভিধান প্রকাশ করতে তাঁর চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল। ১৮৫৬ সালে শেষ খন্ডটি প্রকাশিত হয়েছিল।
শিক্ষাবিস্তারের পাশাপাশি হিন্দু ধর্ম রক্ষার কাজে রাধাকান্ত ছিলেন সামনের সারিতে নেতার আসনে। গোঁড়া হিন্দুদের দলপতিই ছিলেন তিনি। ১৮৩৮ সালে পাদরিরা হিন্দু কলেজের সামনে গীর্জা তৈরির চেষ্টা করলে রাধাকান্ত দেব এবং আরও কয়েকজনের প্রতিরোধে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল। তবে পাদরিদের প্রভাবে যখন খ্রিস্টান হওয়ার ধুম পড়ে গেছে চতুর্দিকে তখন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা এর তীব্র বিরোধিতা করতে শুরু করে। দেবেন্দ্রনাথের পাশে এসে তাঁকে এই কাজে তখন সাহায্য করেছিলেন রাধাকান্ত দেব। ১৮৪৫ সালে হাজারেরও বেশি হিন্দুকে নিয়ে একটি জনসভা হয়েছিল এবং তার সভাপতি ছিলেন রাধাকান্ত দেব। হিন্দু বালক-বালিকাদের যাতে খ্রিস্টান পাদরিদের স্কুলে যেতে না হয় তার জন্য অবৈতনিক হিন্দু বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং রাধাকান্ত দেব বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য যে কমিটি তৈরি হয় তারও সভাপতি হয়েছিলেন। ১৮৪৬ সালে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয় এবং তৈরি হয় হিন্দু হিতার্থী বিদ্যালয়।
রাধাকান্ত দেবের এই রক্ষণশীল মানসিকতা আরও প্রকটভাবে দেখা দেয় যখন রাজা রামমোহন রায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক আইন করে বঙ্গদেশের নিষ্ঠুর প্রথা সতীদাহ রদ করে দেন। এই সতীদাহ রদের বিরুদ্ধে যাঁরা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অগ্রণী ছিলেন রাধাকান্ত দেব। হিন্দুদের এই এতদিন ধরে প্রচলিত সামাজিক প্রথায় হস্তক্ষেপ তিনি বরদাস্ত করতে পারেননি। এর প্রতিকারের জন্য আন্দোলন চালানোর উদ্দেশ্যে রাধাকান্ত দেব ১৮৩০ সালের ২৪ জানুয়ারি ‘ধর্মসভা’ নামের একটি সভা স্থাপন করেছিলেন। যদিও সতীদাহ প্রথা পুনরায় বহাল করাতে ব্যর্থ হলেও ধর্মসভার অস্তিত্ব তারপরেও অনেকদিন ছিল এবং রাধাকান্ত দেব ছিলেন তার সভাপতি।
বিদ্যাসাগর যখন বিধবাবিবাহের জন্য লড়াইয়ে নেমেছিলেন তখনও এই রাধাকান্ত দেব তাঁর তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছিলেন। এমনকি বিধবাবিবাহ প্রবর্তন হওয়ার বিপক্ষে সই সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাধাকান্ত। তাঁর এমন রক্ষণশীল মানসিকতার জন্যই অনেকে তাঁকে নিন্দা করেছেন।
রাধাকান্ত দেব লর্ড বেন্টিঙ্কের আমলে কলকাতার অবৈতনিক জাস্টিস অব দ্য পীস নিযুক্ত হয়েছিলেন। সপ্তাহে দুদিন বিচারে বসতেন তিনি। জমিদার-সভার কার্যনির্বাহক সভায় সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন রাধাকান্ত। ১৮৫১ সালে যখন কলকাতায় ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন তৈরি হল তখন তাঁর সভাপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত এর সভাপতির দায়িত্ব সামলেছিলেন। নীলদর্পণ নাটক অনুবাদের অভিযোগে বন্দী জেমস লঙের বিচারকালে বিচারপতি মর্ডান্ট ওয়েলস বাঙালি জাতিকে গালি দিলে তার প্রতিবাদে রাধাকান্ত দেবের শোভাবাজারের বাড়ির নাটমন্দিরে একটি সভার আয়োজন হয়েছিল। সুরাপান নিবারণের যেসব প্রচেষ্টা তখন করা হয়েছিল, সেইসব প্রচেষ্টার একজন উৎসাহী উদ্যোগী ছিলেন রাধাকান্ত।
১৮৩৭ সালে তিনি রাজাবাহাদুর উপাধি পান। পরবর্তীকালে কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়ে ১৮৬৪ সালে বৃন্দাবন চলে যান তিনি। যখন বৃন্দাবনে ছিলেন তখন ১৮৬৬ সালে কে.সি.এস.আই উপাধি পেয়েছিলেন এবং তিনিই ভারতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম এই উপাধি পান।
১৮৬৭ সালের ১৯ এপ্রিল ৮৩ বছর বয়সে উনিশ শতকের এই প্রগতিশীল এবং একই সঙ্গে রক্ষণশীল ও প্রভাবশালী মানুষ রাধাকান্ত দেবের মৃত্যু হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- ‘রাধাকান্ত দেব’ (সাহিত্য-সাধক-চরিতমালা ২০), শ্রীযোগেশচন্দ্র বাগল, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, বৈশাখ ১৩৫০ (পরিবর্তিত ও পরিবর্দ্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ)
- https://en.m.wikipedia.org/
- https://www.encyclopedia.com/
- https://www.telegraphindia.com/
- https://puronokolkata.com/


আপনার মতামত জানান