জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ

ঘন অরণ্য, নির্জনতা, পাখির কূজন আর মাঝে মাঝে বন্য জন্তুর ডাকের মধ্যে কেউ যদি অসীম আনন্দ অনুভব করেন, তাহলে তার জন্য জঙ্গলে ভ্রমণ সবথেকে আদর্শ। জঙ্গল বা অরণ্য বলতেই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে যে দুটি নাম প্রথমেই মনে আসে তার মধ্যে অন্যতম জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান (Jaldapara National Park)। তোর্সা নদীর তীরে অবস্থিত জলদাপাড়া ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান হিসেবে বিখ্যাত। হাতির পিঠে হাওদায় চেপে দুলতে দুলতে বিরাট বিরাট গাছেদের ছায়া ঘেরা নির্জনতার মধ্যে হঠাৎ বাঘ দেখার উত্তেজনা, কিংবা হরিণ শিশুর দ্রুত চপল গতিতে পুলকিত হওয়ার আনন্দ পেতে চাইলে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান আসতেই হবে। ডুয়ার্সের মায়াময় পরিবেশ এই অরণ্যেও রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট গ্রাম পঞ্চায়েতে অবস্থিত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ভূটানের সীমান্তে শিলিগুড়ি থেকে ১২৪ কিলোমিটার দূরে তোর্সা নদীর পশ্চিম দিকে অবস্থিত। আয়তনের দিক থেকে এই অভয়ারণ্য প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার ব্যাপ্ত। বিশাল ডুয়ার্স বনভূমির অংশ এই জলদাপাড়া। জলদাপাড়ার আশেপাশে তাই অন্যান্য অরণ্যভূমিও রয়েছে যার মধ্যে গরুমারা এবং বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প অন্যতম। তাছাড়া মোটামুটি ৩০ কিমি.র মধ্যেই রয়েছে ফুলশিলিং পাহাড়। শিলিগুড়ি থেকে সেবক রোড হয়ে পূর্বদিকে গেলে প্রথমে পড়ে গরুমারা জাতীয় উদ্যান। এই গরুমারা থেকে উত্তর-পূর্বে তিস্তা নদীর ধার দিয়ে শুরু হয়েছে চাপড়ামারি অরণ্য এবং চাপড়ামারি থেকে সতেরো নং জাতীয় সড়ক দিয়ে পূর্বদিকে গেলেই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান পড়বে। 

মনে করা হয় বহু প্রাচীনকালে ‘জলদা’ নামে এক আদিম জনগোষ্ঠী ছিল। তাদের নামানুসারেই এই জায়গাটির নাম ‘জলদাপাড়া’ হয়। ১৮০০ সালেরও আগে এই অঞ্চলে বাস করত টোটো ও বোড়ো উপজাতিরা এবং তাদের কারণেই এই অঞ্চল পরিচিত হয়েছিল ‘টোটোপাড়া’ নামে। তারা বর্তমানে দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লেও জায়গাটির নাম একই আছে। বিস্তীর্ণ এই বনভূমিটি  বন্যপ্রাণ ও উদ্ভিদ সংরক্ষণের জন্য ১৯৪১ সালে অভয়ারণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এর পরে ২০১২ সালের ১০ মে জলদাপাড়া অভয়ারণ্য ‘জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান’ হিসেবে ঘোষিত হয়।

সবুজ শ্যামলিমায় মোড়া এই বনভূমির মুখ্য আকর্ষণ হল এশীয় একশৃঙ্গ গণ্ডার। আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের পরে এই জাতীয় উদ্যানেই সর্বাধিক একশৃঙ্গ গণ্ডার দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও হাতি, সম্বর হরিণ, মায়া হরিণ, চিতল হরিণ, হগ ডিয়ার, বুনো শুয়োর দেখতে পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে চিতাবাঘেরও দেখা মেলে। পাখিপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য জলদাপাড়া। এখানে ক্রেষ্টেড ঈগল, ফিশিং ঈগল, শিরকা, বনমোরগ, ময়ূর, তোতা, বেঙ্গল ফ্লোরিক্যান, লেসার পেইড, হর্নবিল ইত্যাদি নানা জাতের পাখি দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও অত্যন্ত মাঝে মধ্যে দুর্লভ নীলকণ্ঠ পাখিরও দেখা মেলে এই জাতীয় উদ্যানে। শীতকালে পরিয়ায়ী পাখিরাও এখানে আসে। সরীসৃপদের মধ্যে অজগর, গিরগিটি, ক্রেট কোবরা, গুইসাপও রয়েছে। শাল, সেগুন, খয়ের, বহেড়া লালি গাছের আধিক্য এখানে বেশি। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বুড়ি তোর্সা, তোর্সা, মালঙ্গি, হলং, কেলিঝোরা নদী বয়ে চলেছে অবিরাম অনলস গতিতে। মূলত সাভানা ঘাস দিয়ে ঢাকা এই উদ্যানটির মাঝে  রয়েছে  দুটি ওয়াচ টাওয়ার।  সাভানা বনের মাঝে মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে সুউচ্চ শাল, সেগুন গাছ। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার মাঝেই রয়েছে মানুষের তৈরি সরু রাস্তা যা একমাত্র সভ্যতার চিহ্ন। জঙ্গলের মাঝে বয়ে চলা নদীগুলি শুধুই যে জঙ্গলের অধিবাসীদের তৃষ্ণা নিবারণ করে তা নয়,  জঙ্গলের সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। অনন্ত আকাশের নীচে বন্যপ্রাণীদের চারণভূমি এই উদ্যান। নিস্তব্ধতার মাঝে পশুপাখির ডাক মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির এক আদিম সত্তাকে এবং একইসঙ্গে রোমাঞ্চের শিহরণ জাগায় সমস্ত শরীরে।

বেশিরভাগ সময় উত্তরবঙ্গের যে কোনও অংশে যেতে গেলে প্রধান স্টপেজ হিসেবে নিউ জলপাইগুড়িতে নামতে হয়। ট্রেনে করে এখানে নামলেও সোজা জলদাপাড়া পৌঁছানো যায় গাড়ি করে। কিন্তু জলদাপাড়ার সবথেকে কাছের স্টেশন হাসিমারায় নামলে খুব সহজে এবং কম সময়ে জলদাপাড়ায় পৌঁছানো যায়। সব ট্রেন এই স্টেশনের উপর দিয়ে যায় না। নিউ আলিপুরদুয়ার থেকে গাড়ি করে ৫০ কিমির পথে জলদাপাড়া আসতে ঘন্টা খানেক লাগবে। ট্রেনে আসতে চাইলে যে সব ট্রেনে পরের দিন দুপুরের মধ্যে নিউ জলপাইগুড়ি বা নিউ আলিপুরদুয়ারে পৌঁছায়, সেগুলি ধরলেই ভাল। ট্রেন ছাড়া কেউ বিমানে আসতে চাইলে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে শিলিগুড়ি হয়ে ১৪৫ কিমি পথ পেরিয়ে পৌঁছানো যায় জলদাপাড়া। তাছাড়া শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি নিজের গাড়ি করে ১৭ নং জাতীয় সড়ক ধরে আড়াই ঘন্টা থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে ঢুকে পড়া যায় জলদাপাড়ার গভীর অরণ্যে। বাসে আসতে চাইলে কলকাতার ধর্মতলা থেকে ভলভো বা রকেট বাসে করে প্রথমে শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাসস্ট্যাণ্ড এবং সেখান থেকে জয়গাঁও-এর বাসে করে মাদারিহাট আসা যায়।

জলদাপাড়ায় থাকার সবচেয়ে ভালো জায়গা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হলং বনবাংলো। এই বনবাংলোটির পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। বাংলোর সামনে জলাশয়ের ধারে সল্টলেকে বন্যজন্তুরা জল খেতে আসে। ফলে ভাগ্য সহায় থাকলে বাংলোতে বসেই বন্যজন্তুদের দেখা পাওয়া যেতে পারে। ২০২০ সালের তথ্যানুসারে বাংলোর ভাড়া প্রতি রাত মাথাপিছু ২৫০০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে বনবিভাগের জলদাপাড়া ট্যুরিষ্ট লজ যেখানে দ্বিশয্যার ভাড়া ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও কিছু প্রাইভেট হোটেল আছে আর জাতীয় উদ্যানের বাইরেও হোটেল বা হোম স্টে রয়েছে। তবে থাকার জন্য অন্তত এক মাস আগে থেকে হোটেল বুক করে রাখা উচিত, নাহলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে সবথেকে ভালো হয় ৬ মাস আগে থেকে হোটেল বুক করে রাখলে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষ হলে বনের ভিতরে কাঠের বাংলোতে থাকলে সবথেকে ভালো আমেজ পাওয়া যেতে পারে।

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে অবশ্য দ্রষ্টব্য স্থানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হাতি সাফারি। হাতির পিঠে চেপে গভীর জঙ্গলে যাওয়া যায়। নদীর উপর দিয়ে গভীর জঙ্গলে হাতি, বাইসন, গণ্ডার এদের খুব কাছ থেকে দেখতে পাওয়া যায়। খুব ভোরে এবং সন্ধ্যায়  এই হাতিসাফারি হয়। একটা হাতিতে চারজন করে পর্যটক যেতে পারে। ভোরের আবছা আলোয় হাতির পিঠে জঙ্গলে যেতে যেতে হঠাৎই থমকে দাঁড়িয়ে পড়তে হতে পারে। কারণ সামনেই হয়তো দেখা যাবে জল খেতে আসা গণ্ডার অথবা একদল হরিণ কিংবা পেখম তুলে নৃত্যরত ময়ূর। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের ক্ষেত্রে গাইডের নির্দেশ মেনে চলা অবশ্য কর্তব্য। এছাড়াও রয়েছে কার সাফারি যেখানে একটা গাড়িতে ছয়জন করে যেতে পারে। তবে কার সাফারির জন্য অতি অবশ্যই আগে থেকে বুকিং করা জরুরি। বনবাংলো সংলগ্ন অঞ্চলে সন্ধ্যায় স্হানীয় আদিবাসীরা পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য নৃত্য পরিবেশন করে থাকে। আগে থেকে টিকিট বুকিং করে এই নৃত্য উপস্থাপনা উপভোগ করা যায়। জলদাপাড়া অভয়ারণ্য সংলগ্ন টোটোপাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নৃতাত্ত্বিক পর্যটনস্হল। বিশ্বের টোটো উপজাতির একমাত্র আবাসস্থল এটি। সংখ্যায় মাত্র ৫০০০ জন টোটো এখানে বাস করেন। এদের জীবনযাত্রাকে প্রত্যক্ষ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বিচালি, বাঁশ দিয়ে ছোট্ট কুঁড়েঘরগুলি জমি থেকে একটু উঁচুতে তৈরি করে বন্যপ্রাণীর আক্রমণের হাত থেকে বাঁচার জন্য। মানুষের সাথে বন্যপ্রাণীর এক অদ্ভুত সহাবস্হান। এ তো গেল জাতীয় উদ্যানের গহন অরণ্যের ভিতরের কথা। তবে জলদাপাড়া ঘুরতে এসে এখান থেকেই চলে যাওয়া যায় গরুমারা জাতীয় উদ্যান, চাপড়ামারির জঙ্গল, খয়ের বাড়ি নেচার পার্ক। জলদাপাড়া থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত খয়েরবাড়ি চিতাবাঘ আর বাঘের পুনর্বাসন কেন্দ্র। এছাড়াও জলদাপাড়া থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আরও একটি বনভূমি বক্সা জয়ন্তী আর রয়েছে চিলাপাতার জঙ্গল। জলদাপাড়া ও চিলাপাতা দুটি বনভূমি পাশাপাশি রয়েছে। এই চিলাপাতা অরণ্যের মধ্যে আছে পঞ্চম শতাব্দীতে তৈরি নল রাজাদের দুর্গ। কোভিড পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সাল থেকে দেড় বছর জলদাপাড়ায় হাতি সাফারি বন্ধ থাকলেও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তা আবার চালু হয়েছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের কার সাফারির মূল্য ১১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ টাকা হয়েছে এবং গাইডের সাম্মানিক ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা হয়েছে। কার সাফারিতে এখন ছয়জনের পরিবর্তে চারজন করে যাওয়া যাচ্ছে।

১৫ জুন থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাদ দিয়ে অন্যান্য সময় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান খোলা থাকে। এই সময়ে বর্ষার কারণে উদ্যানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু বাধা থাকে। তাছাড়াও এই সময়টা পশু-পাখিদের প্রজননের সময়। সেই কারণেই তাদের নিরাপত্তা ও সতর্কতার কারণে জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই উদ্যান  বন্ধ থাকে। মার্চ, এপ্রিল, মে, অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি  নতুন ঘাস জন্মায় বনে। সবচেয়ে ভালো সময় অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। এইসময় পাতা ঝরে গিয়ে বনভূমি অনেকটাই পরিষ্কার থাকে, ফলে পশু-পাখিদের স্পষ্টভাবে দেখতে পাওয়া যায়। তাছাড়া এই সময় আবহাওয়াও খুব মনোরম থাকে। কেউ যদি শুধুই জঙ্গলের শোভা উপভোগ করতে চান তাহলে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের শুরুর দিক উপযুক্ত সময়। এই সময় জঙ্গল থাকে সবুজ ও সতেজ।

ট্রিপ ট্রিপস

  • কীভাবে যাবেন – ট্রেনে হাসিমারা স্টেশনে নেমে সেখান থেকে গাড়িতে করে যাওয়া যায় অথবা নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশনে নেমে সোজা গাড়ি করে জলদাপাড়ায় পৌঁছানো যায়। ধর্মতলা থেকে বাসে শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাসস্ট্যান্ডে নেমেও একইভাবে গাড়ি করে যাওয়া যায়। আকাশপথে ভ্রমণ করতে চাইলে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নামতে হবে বাগডোগরা বিমানবন্দর। তাছাড়া নিজের গাড়িতে ১৭ নং জাতীয় সড়ক ধরে শিলিগুড়ি থেকে ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই জলদাপাড়ায় আসা যায়।
  • কোথায় থাকবেন – পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনবাংলো ও বনবিভাগের বনবাংলো রয়েছে। এছাড়াও প্রাইভেট হোটেল ও হোম-স্টে আছে। হোটেলের ভাড়া মোটামুটিভাবে মাথাপিছু ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। জাতীয় উদ্যানের বাইরে অনেক সস্তার হোটেলও রয়েছে। তবে অন্তত এক মাস আগে থেকে বুকিং করতে হবে।
  • কী দেখবেন    জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণী ও দুষ্প্রাপ্য পাখি আছে। এছাড়া বিস্তৃত বনভূমির সৌন্দর্য বড়োই উপভোগ্য। অরণ্যের মধ্যে হাতির পিঠে চেপে অথবা গাড়িতে করে ঘোরার আনন্দ উপভোগ করা যায়। জলদাপাড়া থেকে আশেপাশে চাপড়ামারি, গরুমারা অরণ্যও ঘুরে আসা যায়।
  • কখন যাবেন – ১৫ জুন থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাদ দিয়ে অন্যান্য সময় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান খোলা থাকে। সবচেয়ে ভালো সময় অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। কেউ যদি শুধুই জঙ্গলের শোভা উপভোগ করতে চান তাহলে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের শুরুর দিক উপযুক্ত সময়।
  • সর্তকতা –
    • জাতীয় উদ্যানের সমস্ত পশু-পাখির যাতে কোনওরকম আঘাত না লাগে বা পরিবেশের  যাতে কোনওরকম ক্ষতি না হয় সেই বিষয়ে সদা সতর্ক থাকা উচিত।
    • গভীর জঙ্গলে গাইডের কথা বিশেষভাবে মেনে চলা প্রয়োজন।
    • সকাল দশটায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে যাওয়ার জন্য টিকিটের কাউন্টার খোলে। অনেক লম্বা লাইন পড়ে। তাই আগে থেকেই সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোভিড পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সাল থেকে জলদাপাড়ায় হাতি সাফারি বন্ধ রয়েছে।
    • হলং বনবাংলো এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ট্যুরিষ্ট লজ অনন্ত ছয় মাস আগে থেকে অনলাইনে বুকিং করে যাওয়া উচিত, চাহিদা প্রচুর হওয়ার কারণে এই ব্যবস্থা অবলম্বন করলে অসুবিধে হয় না।
  • বিশেষ পরামর্শ : জলদাপাড়ায় ভোরে  ও সন্ধ্যায় এই দুই সময়ে হাতি সাফারি হয়। নির্জন নিস্তব্ধ বনাঞ্চলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য পূর্ণিমা রাত হলে খুব ভাল হয়। চাঁদের আলোয় প্রকৃতির রূপ দ্বিগুণ সুন্দর হয়ে ওঠে।

আপনার মতামত জানান