সববাংলায়

কলকাতা ভ্রমণ

ভারতের বুকে এমন অনেক প্রাচীন শহর রয়েছে যারা ইতিহাস বুকে নিয়ে আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এইরকম কিছু শহরের তালিকা করলে কলকাতা (Kolkata) শহরটি সেখানে যে একেবারেই উপরদিকে স্থান পাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কবিরা ভালবেসে কলকাতাকে তিলোত্তমা, কল্লোলিনী কলকাতা, কত নামেই না অভিহিত করে গেছেন। সদা ব্যস্ত, প্রাণোচ্ছল এই শহরের আরেক নাম কেন ‘সিটি অব জয়’ (City of Joy) তা এখানকার রাস্তায়, অলি-গলিতে, মাঠে-ময়দানে ঘুরে না বেড়ালে, দূরে বসে বুঝতে পারা অসম্ভব। এককালে কলকাতা যেহেতু ব্রিটিশ প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, সেই কারণেই ইংরেজ শাসনের নানারকম নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কলকাতার বুকে। পুরোনো এই শহরটিকে ঘুরে দেখলে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা যাবে তা অমূল্য হয়ে থেকে যাবে মনের মনিকোঠায়।

কলকাতা হল গঙ্গা তীরবর্তী একটি শহর। হাওড়া এবং কলকাতার মধ্যিখান থেকে গঙ্গা নদী প্রবাহিত হয়েছে। হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে বিখ্যাত রবীন্দ্র সেতু বা হাওড়া ব্রিজ অতিক্রম করে অপর পাড়ে গেলেই কলকাতা শহর। বর্ধমান শহর থেকে কলকাতার দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার এবং জলপাইগুড়ি থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ৬১৫ কিলোমিটার।

কলকাতা নামটির উৎপত্তি নিয়ে অনেকগুলি মত প্রচলিত রয়েছে। কেউ বলেন কালীঘাট থেকে, কেউ বলেন কালীক্ষেত্র থেকে কলকাতা নামটির উদ্ভব হয়েছে। মতান্তরে, এই এলাকাটিতে একসময় কলিচুন উৎপাদন করা হত,তাই এটি কলিকাতা নামে পরিচিত হয়েছিল। আবার অনেকে মনে করেন কিলকিলা (সমতল ভূমি) শব্দটি থেকে কলকাতা নামটির উদ্ভব। নামের উৎস নিয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন এখানে। তবে উৎস যাই হোক না কেন, ২০০১ সাল পর্যন্ত ইংরেজি বানান ও উচ্চারণ অনুযায়ী কলকাতা ছিল ক্যালকাটা (Calcutta), কিন্তু বাংলা ‘কলকাতা’ উচ্চারণকে মাথায় রেখে ইংরেজি বানানটিও ক্যালকাটা থেকে কলকাতা (Kolkata) করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি এও মনে রাখতে হবে যে, আলিবর্দি খানের নাম অনুসারে এককালে কলকাতার নাম রাখা হয়েছিল আলিনগর।

অনেক ঐতিহাসিকের মতে, জব চার্নক সাহেব ১৬৯০ সালে কোম্পানির কাজে এসে কলকাতা শহরের পত্তন করেছিলেন। অবশ্য ২০০৩ সালে কলকাতা হাইকোর্ট জব চার্নককে এই কৃতিত্ব দিতে অস্বীকার করেছিল। কলিকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর, মূলত এই তিনটি গ্রামকে একত্রিত করেই এই কলকাতা শহর গড়ে উঠেছিল। মুঘল সম্রাটদের হাত থেকে এই শহর ব্রিটিশদের হাতে চলে এলে একে তাঁরা তাঁদের বাণিজ্যের কাজে লাগানোর জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছিলেন। কলকাতা ব্রিটিশদের বাণিজ্য নগরী হিসেবে গড়ে ওঠায় এর গুরুত্বও বেড়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হয়ে উঠেছিল এই কলকাতা। উনিশ শতকের বঙ্গীয় রেনেসাঁসের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই শহর। আরও পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানীরা এই শহরের ওপর বোমা হামলাও করেছিল। ১৯৪৬ সালের দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং তো দুঃস্বপ্নের ইতিহাস হয়ে রয়ে গেছে আজও। এত প্রাচীন ও বিচিত্র ইতিহাস বুকে নিয়ে শহর কলকাতা আজও স্বমহিমায় বিরাজমান।

কলকাতার মতো প্রাচীন শহরের প্রত্যেকটি রাস্তায়, গলিতে, পুরাতন বাড়ির গায়ে-গায়ে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসের ধুলো। এছাড়াও ব্রিটিশদের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র হওয়াতে এই শহরকে তাঁরা নিজেদের মতো করে সাজিয়েও নিয়েছিলেন। ফোর্ট উইলিয়াম থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ব্রিটিশদের তৈরি এমন আরও কত ঐতিহাসিক নিদর্শন যে কলকাতার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। তবে ব্রিটিশ নিদর্শন ছাড়াও রামমেহন রায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের মতো কলকাতা শহরে বসবাসকারী আরও কত বিখ্যাত মানুষের বাসভবন, কার্যালয় আজও সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে যত্নসহকারে—সেগুলির ঐতিহাসিক মূল্য ও গুরুত্ব ভারতবাসী মাত্রেই অনুভব করতে পারবেন। সেইসব নিদর্শনের সামনে দাঁড়ালে অসাধারণ রোমাঞ্চ অনুভব করা যায়। মনে হয় যেন চারশো-পাঁচশো বছরের পুরোনো ইতিহাসকে স্পর্শ করা গেল। কেবল সেইসমস্ত প্রাচীন ঐতিহাসিক ভবনই নয়, এমন অনেক রাস্তা রয়েছে, এমন অনেক ছোটখাটো জিনিস ইতস্তত ছড়িয়ে রয়েছে যেগুলি নীরবে ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। সেইসঙ্গে উপরি পাওনা অবশ্যই কলকাতা শহরে অবস্থিত কালীঘাটের মত বিখ্যাত সব মন্দির দর্শন এবং প্রিন্সেপ ঘাটের মত গঙ্গা তীরবর্তী সুসজ্জিত সব স্থানগুলি ভ্রমণের অনবদ্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। অতএব কলকাতা ভ্রমণ করে হতাশ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই, বরং একবার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এই শহরের প্রতি পর্যটকদের এবং স্থানীয় মানুষদেরও একটি আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে দিতে পারে।

ট্রেনে করে কলকাতায় যেতে হলে হাওড়া কিংবা শিয়ালদহ স্টেশনে নামতে হবে। হাওড়া স্টেশনে নেমে হাওড়া ব্রীজ পেরলেই কলকাতা। অপরদিকে শিয়ালদহ স্টেশন কলকাতারই অংশ। স্টেশনে নেমে বাস বা ট্যাক্সিতে করে বিশেষ গন্তব্যে যেতে পারেন। যদি সড়কপথে বাসে করে কলকাতায় যেতে হয় তবে মূলত ধর্মতলায় শহিদ মিনার বাস টার্মিনাসে এনে বাস নামাবে। এই বাস টার্মিনাসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে রোজ অজস্র বাস আসা যাওয়া করে। কলকাতার মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হলে, প্রায় প্রত্যেকটি জায়গা থেকেই বহু সরকারী ও বেসরকারি বাস পাওয়া যাবে। তাছাড়াও অটো, ট্যাক্সি বা রিক্সা এইসব যানবাহনও প্রচুর রয়েছে। বিমানপথে কলকাতা যেতে হলে সেক্ষেত্রে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামতে হবে পর্যটকদের। সেখান থেকে বাস বা ট্যাক্সিতে করে বিশেষ গন্তব্যে যেতে পারেন।

গোটা কলকাতা শহরের চতুর্দিকেই থাকবার জন্য অসংখ্য হোটেল ছড়িয়ে রয়েছে। কম খরচের হোটেল যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি বিলাসবহুল হোটেলেরও অভাব নেই এই শহরে। কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায়, শিয়ালদহ স্টেশনের কাছে, পার্কস্ট্রিট অঞ্চলে কিংবা নিউটাউনের দিকে প্রচুর পরিমাণে থাকবার হোটেল পাওয়া যায়।

এই কলকাতা শহরের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান, যেগুলি না-দেখলেই নয়, সেগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হল। এই জায়গাগুলো বিভিন্নভাবে ঘোরা যায়। মেট্রো করে কিছু কিছু জায়গা যেমন ঘোরা যায়, আবার সাধারণ বাস, ট্রামে করেও কিছু জায়গা ঘোরা যায়। কিছু জায়গা, বিশেষ করে উত্তর কলকাতায় অবস্থিত দর্শনীয় স্থানগুলো, কাছাকাছি অবস্থিত বলে পায়ে হেঁটে ঘোরা যায়। এছাড়া প্রাইভেট গাড়ি, ট্যাক্সি বা লোকাল ট্যুর বুক করেও ঘোরা যায়।

হাওড়া ব্রিজ – রবীন্দ্র সেতু বা হাওড়া ব্রিজ কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ। এই ব্রিজের ওপরে দাঁড়িয়ে গঙ্গার অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

কলকাতা ভ্রমণ | সববাংলায়
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। ছবি সববাংলায়।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল – কলকাতার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রাণী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত এই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। বিরাট বড় চত্বরে সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি অপূর্ব এক স্থাপত্য। এর ভিতরে রয়েছে জাদুঘর, যেখানে দুর্লভ কিছু সংগ্রহ দেখা যাবে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের বহুদূর বিস্তৃত সবুজ সৌন্দর্যে ভরপুর চত্বরে ঘুরে দারুণ সময় কাটানো যায়। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

ভারতীয় জাদুঘর – কলকাতায় এই ভারতীয় জাদুঘর বিশ্বের নবম প্রাচীনতম যাদুঘর এবং ভারতের বৃহত্তম যাদুঘর। প্রাচীন অলঙ্কার, জীবাশ্ম, বর্ম, মমি, মূর্তি, মুঘল চিত্রকর্মের মতো দুর্লভ অনেক সংগ্রহে ভরপুর এই যাদুঘর। ভারতীয় জাদুঘর ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

কালীঘাট মন্দির – কলকাতার মন্দির বললেই প্রথমে মনে আসে কালীঘাটের কথা। কলকাতা নামটির সঙ্গেও এই মন্দিরটি জড়িয়ে রয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। প্রাচীন এই মন্দিরটি ৫১টি সতীপীঠের একটি মন্দির। কথিত আছে, এখানে সতীর ডান পায়ের আঙুল পড়েছিল। সতীপীঠ কালীঘাটের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

শহীদ মিনার – ধর্মতলা চত্বরে অবস্থিত শহিদ মিনার কলকাতার একটি অন্যতম আকর্ষণ। এই শহীদ মিনার চত্বর একটি অসাধারণ আড্ডার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সন্ধেবেলা শহিদ মিনারের গায়ের আলোর খেলা অপূর্ব দেখতে লাগে।

ময়দান – কলকাতার বুকে একখন্ড সবুজ তৃণক্ষেত্র দেখতে হলে যেতে হবে ময়দানে। সেখানে ঘাসের ওপর বসে আড্ডা জমানো যায়। সেইসঙ্গে দেখা যাবে ঘোড়াদের আনাগোনা, দূরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা কলকাতার সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের চূড়াটি।

কলেজস্ট্রিট – কলেজস্ট্রিট বইবাজার হল এশিয়ার বৃহত্তম বইয়ের বাজার। বইপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য এই জায়গা। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে যে বই কলেজস্ট্রীটের বাজারে পাওয়া যায় না, তা ভূভারতে কোথাও পাওয়া যায় না। এই কলেজস্ট্রিট চত্বরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি কলেজ (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়), সংস্কৃত কলেজ (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়), হিন্দু স্কুলের মতো বেশকিছু ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। কলেজস্ট্রিটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হল ইন্ডিয়ান কফিহাউস। দীর্ঘকাল থেকে এই কফিহাউস বুদ্ধিজীবী এবং সংস্কৃতিকর্মীদের আড্ডার কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত।

কলকাতা ভ্রমণ | সববাংলায়
নন্দন চত্বর। ছবি সববাংলায়।

নন্দন চত্বর – কলকাতার অন্যতম একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হল এই নন্দন চত্বর। নন্দন নামে সরকারি একটি সিনেমাহল তো রয়েছেই, তাছাড়াও এই চত্বরের মধ্যেই দেখা যায় রবীন্দ্র সদন হল, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির কার্যালয় এবং এই চত্বরের বাইরে পিছনদিকে গেলে পাওয়া যাবে একাডেমি অব ফাইন আর্টসের ভবনটি।

সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল – কলকাতার রবীন্দ্রসদন এলাকায় অবস্থিত একটি অ্যাংলিকান ক্যাথিড্রাল হল এই সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল। এটি একটি ইন্দো-গথিক স্থাপত্য শৈলীর অসাধারণ নিদর্শন। এই বিশাল কাঠামোটি ঔপনিবেশিক সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম – কলকাতার চৌরঙ্গী রোডে অবস্থিত সাঁচীর বৌদ্ধস্তুপের মতো দেখতে এই বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম বা তারামন্ডল হল এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্ল্যানেটোরিয়াম। এখানে জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক প্রভূত জ্ঞানলাভ করা যায়। বিরাট হলঘরের মধ্যে মহাকাশ দর্শনের অভিজ্ঞতা এবং সেইসঙ্গে গ্রহ-নক্ষত্র বিষয়ক নানারকম তথ্য মুগ্ধ করে দেবে। এছাড়াও এখানে রয়েছে একটি ইলেকট্রনিকস ল্যাবরেটরি।

সায়েন্স সিটি – কলকাতার অন্যতম প্রধান একটি আকর্ষণ হল সায়েন্স সিটি। এটি ভারতের বৃহত্তম বিজ্ঞান জাদুঘর। এখানে মজা করে বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি শিখে নেওয়া যায়। শিশুরা তো বটেই, বড়রাও এখানে দারুণ আনন্দ  উপভোগ করবেন।

আলিপুর চিড়িয়াখানা – কলকাতার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই আলিপুর চিড়িয়াখানা। এটি ভারতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রাচীনতম প্রাণীবিদ্যা উদ্যান। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও এই চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ, হাতি, গন্ডার, বেবুন, জেব্রা ইত্যাদি আরও নানা জীবজন্তুর সংগ্রহ দেখে দারুণ অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। এটি এই অঞ্চলের জনপ্রিয় পিকনিক স্পট, যেখানে শীতকালে বহু মানুষ পিকনিক করতে যান।

জাতীয় গ্রন্থাগার – আলিপুর চত্বরেই চিড়িয়াখানা ছাড়াও রয়েছে জাতীয় গ্রন্থাগার। এটি হল ভারতের বৃহত্তম গ্রন্থাগার। দ্বারকানাথ ঠাকুর এই লাইব্রেরির প্রথম মালিক ছিলেন। লাইব্রেরিটিকে কেন্দ্র করে এখানে বিশাল একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা চত্বর রয়েছে।

ফোর্ট উইলিয়াম – ১৬৯৬ সালে তৈরি এই ফোর্ট উইলিয়াম ব্রিটিশদের এক অসাধারণ নির্মাণ। এর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন রবার্ট ক্লাইভ। দুর্গটির রাজকীয় স্থাপত্য মুগ্ধ করে দেয়। বর্তমানে এই ফোর্ট উইলিয়াম ভারতীয় সেনাবাহিনীর সম্পত্তি।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি – দ্বারকানাথ লেনে অবস্থিত এই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হয়েছিল৷ বর্তমানে এই ঠাকুরবাড়িতে একটি মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে রবীন্দ্রনাথ এবং ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা জিনিস দেখা যায়। গোটা বাড়িটিতে পায়ে হেঁটে ঘুরলে রোমাঞ্চ জাগে। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।

বিবেকানন্দের বাড়ি – কর্নওয়ালিস স্ট্রিট বা বিবেকানন্দ রোডের ওপরেই অবস্থিত স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িটি। এই বাড়িতেই বিবেকানন্দ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। একটি মিউজিয়ামও রয়েছে এই বাড়িতে।

রাজা রামমোহন রায়ের বাড়ি – উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটের ওপর রাজা রামমোহন রায়ের পারিবারিক বাড়িটি অবস্থিত। এখন এটিকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়েছে। সেখানে রামমোহন রায়ের ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখতে পাওয়া যাবে।

নেতাজি ভবন – ভবানীপুর অঞ্চলে অবস্থিত এই নেতাজি ভবনটি হল বিখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাসভবন। এখানে টিকিটের বিনিময়ে দর্শনার্থীরা নেতাজির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন জিনিস দেখতে পারেন।

মাদার হাউস – এই মাদার হাউসে বিখ্যাত সন্ত মাদার টেরেজার সমাধি রয়েছে। মাদার টেরেজাই এই চ্যারিটি কেন্দ্রটি তৈরি করেছিলেন। মাদার হাউসের সদস্যরা দারিদ্র্যপীড়িত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে পরিষেবা প্রদান করে।

মার্বেল প্যালেস – উত্তর কলকাতার চোরবাগান অঞ্চলে অবস্থিত এই মার্বেল প্যালেস ১৮৩৫ সালে রাজেন্দ্র মল্লিক নির্মাণ করেছিলেন। এই প্রাচীন রাজকীয় প্রাসাদটি ভ্যান গগ, রেমব্রান্টের মতো বিখ্যাত সব শিল্পীর চিত্রকর্মের সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত।

কুমোরটুলি – ৩০০ বছর পুরোনো এই স্থানটি মূলত কুমোরদের কর্মস্থল বলেই এর নাম কুমোরটুলি। কলকাতার সবচেয়ে বড় মূর্তিনির্মাণ কেন্দ্রই হল এটি। যে-কোনো পুজো বিশেষত দূর্গাপুজোর আগে কুমোরটুলির কর্মব্যস্ততা চোখে পড়বার মত।

কলকাতা ভ্রমণ | সববাংলায়
শোভাবাজার রাজবাড়ি। ছবি সববাংলায়।

শোভাবাজার রাজবাড়ি – শোভাবাজার অঞ্চলে অবস্থিত এই রাজবাড়িটি পুরোনো সময়কে হঠাৎ জীবন্ত করে তুলতে পারে। তিনদিক জুড়ে বিস্তৃত প্রাসদোপম এই বাড়ির বিরাট বারান্দা, সারি সারি থাম, ঠাকুরদালান নিমেষে নস্টালজিক করে দিতে পারে। এই রাজবাড়ির দুর্গাপূজা যেমন প্রাচীন তেমনই বিখ্যাত।

ইডেন গার্ডেন – ভারতের বৃহত্তম এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম হল এই ইডেন গার্ডেন। ১৮৬৪ সালে জেনারেল অকল্যান্ড এটি তৈরি করেন। এই স্টেডিয়াম কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে অবস্থিত।

নাখোদা মসজিদ – বড়বাজারের চিৎপুর অঞ্চলে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন এই নাখোদা মসজিদটি হল কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত মসজিদ। এই মসজিদের গম্বুজ ও মিনারগুলির সঙ্গে ফতেপুর সিক্রির স্থাপত্যশৈলীর মিল পাওয়া যেতে পারে।

পার্কস্ট্রিট – পার্কস্ট্রিট অঞ্চলের একটি আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। সাহেবি কায়দার প্রচুর ক্যাফে এবং রেস্তোরাঁ এখানে দেখতে পাওয়া যায়। সর্বক্ষণই এখানে যেন এক উৎসবের মেজাজ বিরাজ করছে। তবে বড়দিন থেকে ইংরেজি নববর্ষ পর্যন্ত কয়েকদিন পার্কস্ট্রিট অন্যরূপে সজ্জিত থাকে। এই সময়ে কলকাতা গেলে অবশ্যই পার্কস্ট্রিট ঘুরে আসুন। এখানে ১৭৬৭ সালে সাউথ পার্ক কবরস্থানটি ব্রিটিশরা নির্মাণ করেছিলেন। গা ছমছমে এই কবরস্থানটিতে বহু বিখ্যাত মানুষের সমাধি দেখতে পাওয়া যাবে।

সেন্ট জন’স চার্চ – কলকাতার প্রাচীনতম চার্চগুলির মধ্যে একটি হল সেন্ট জন’স চার্চ, এটি ব্রিটিশ শাসনকালে তৈরি হয়েছিল। এই চার্চটির মধ্যে নিওক্লাসিক্যাল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। যে-জমিতে এটি তৈরি, একসময় তা কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, ফলে এই চার্চ প্রাঙ্গনে অনেক স্মৃতিচিহ্ন ও সমাধি দেখা যায়।

টাউন হল – কলকাতার বিবাদি বাগ অঞ্চলে অবস্থিত টাউন হলটি রোমান ডোরিক স্থাপত্যের একটি অসাধারণ নিদর্শন। এর ভিতরে ব্রিটিশ ভারতের রাজা, রাণী এবং বহু ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের প্রতিকৃতি দেখতে পাওয়া যাবে।

রবীন্দ্র সরোবর লেক – প্রায় ৭৫ একর জায়গা জুড়ে একটি বিরাট জলাশয়কে কেন্দ্র করে এই রবীন্দ্র সরোবর লেকটি গড়ে উঠেছে। শীতের মরশুমে রাশিয়া ও সাইবেরিয়া থেকে আসা পরিযায়ী পাখি দেখা যায় এখানে। এই লেকের চারপাশ সবুজ গাছপালায় ভরপুর। স্থানীয় মানুষেরা এখানে সকাল-বিকেল হাঁটতে বা আড্ডা জমাতেও আসেন।

কলকাতা ভ্রমণ | সববাংলায়
কলকাতা রেসকোর্স। ছবি সববাংলায়।

কলকাতা রেসকোর্স – ভারতের প্রাচীনতম রেসকোর্সগুলির মধ্যে একটি হল কলকাতার এই রেসকোর্স। ১৮২০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়ার অভিজাত সমাজের লোকেদের বিনোদনের জন্য এটি তৈরি হয়েছিল। আজও সরকারি ছুটির দিন ও সপ্তাহান্তে ঘোড়দৌড়ের আসর জমে এখানে।

বিড়লা মন্দির – কলকাতার বালিগঞ্জ অঞ্চলে অবস্থিত রাধাকৃষ্ণের এই বিড়লা মন্দিরটির নিঁখুত স্থাপত্যশৈলী মুগ্ধ করে দেয়। মন্দিরের এসব কারুকার্যের জন্য আগ্রা, মির্জাপুরের মত জায়গা থেকে কারিগর আনানো হয়েছিল। রাধাকৃষ্ণ ছাড়াও অন্যান্য অনেক দেবতার বিগ্রহ দেখা যায় এখানে।

বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম – এটি ভারতের প্রথম বৈজ্ঞানিক ও শিল্প জাদুঘর। অসাধারণ এক গ্যালারি এবং থ্রিডি শো-এর জন্য এটি বিখ্যাত। কলকাতার অন্যতম প্রধান একটি আকর্ষণ এই মিউজিয়াম।

পরেশনাথ জৈন মন্দির – কলকাতার মন্দিরের তালিকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল জৈন তীর্থঙ্করকে উৎসর্গীকৃত পরেশনাথ মন্দির। মার্বেল এবং কাচের অসাধারণ সূক্ষ্ম কারুকাজ এই মন্দিরের গায়ে লক্ষ করা যাবে

প্রিন্সেপ ঘাট – গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই প্রিন্সেপ ঘাট শান্তিতে সময় কাটানোর এক দারুণ জায়গা। হুগলী সেতুর ঠিক নীচে গ্রীক স্থাপত্যশৈলীর এক নিদর্শন এখানে দেখতে পাওয়া যায়। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই প্রিন্সেপ ঘাট কলকাতার মানুষের কাছে অবসর যাপনের জন্য অন্যতম পছন্দের ঠিকানা।

বাবুঘাট – প্রিন্সেপ ঘাটের খুব কাছেই রয়েছে বাবুঘাট। প্রিন্সেপ ঘাট থেকে যেমন হুগলী সেতুর অসাধারণ দৃশ্য চোখে পড়ে, তেমনি বাবুঘাট থেকে দেখা যায় হাওড়া ব্রিজের অনবদ্য এক রূপ। এখানে গঙ্গার পাড়ে হাঁটাহাঁটি করবারও অবকাশ পাওয়া যাবে।

কলকাতার পার্ক – কলকাতা শহরের বুকে সুসজ্জিত কয়েকটি পার্ক রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পার্ক হল মিলেনিয়াম পার্ক, মোহরকুঞ্জ, এলিয়ট পার্ক, সেন্ট্রাল পার্ক ইত্যাদি।

এই সমস্ত স্থান ছাড়াও কলকাতার আশেপাশে আরও বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

সারাবছরই কলকাতা ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। তবে বিশেষত শীতকালে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি কলকাতা ঘোরা যায় তবে পরিবেশ বেশ মনোরম পাওয়া যাবে। এখানে উল্লেখ্য যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে দুর্গাপুজোর সময় এবং ডিসেম্বরে বড়দিনের ছুটিতে কলকাতার অনেক দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকতে পারে। সুতরাং পুজোর আগে বা পরে কলকাতার দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে যাওয়া যায়। তবে কলকাতার রাস্তায় জল জমার জন্য বর্ষাকালটা এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। এখানে বলে রাখা ভাল যে তবে পুজোর সময় কলকাতা অন্যরূপে সেজে ওঠে এবং কলকাতায় দুর্গাপুজো কাটাতে পারলে তা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়ে স্মৃতিতে থেকে যাবে আজীবন।

কলকাতা কেনাকাটার জন্য নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উপযুক্ত একটি স্থান। এখানে আলাদা আলাদা অঞ্চলে আলাদা মার্কেট রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নিঃসন্দেহে এসপ্ল্যানেড এবং নিউ মার্কেট। এছাড়া হাতিবাগান, চাঁদনি চক, গড়িয়াহাট—কলকাতার এইসমস্ত অঞ্চল বিরাট বাজার এলাকা হিসেবে পরিচিত। সবচেয়ে বড় কথা, দরদাম করে সস্তায় ভালো জিনিস কেনবার জন্য এইসব মার্কেটের কোনো তুলনা হয় না। এছাড়াও অবশ্য সমস্ত নামিদামি ব্র্যান্ডের আউটলেট এবং নামকরা সব শপিংমলেরও প্রচুর শাখা রয়েছে কলকাতা শহরে।

কলকাতার আরেকটি জনপ্রিয় বিষয় হল এখানকার খাওয়াদাওয়া। কলকাতা বলতেই প্রথমে মনে পড়ে রসগোল্লার কথা। তাছাড়া বিভিন্ন মাছের পদ পাওয়া যায় এখানে। বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ রয়েছে যারা বিভিন্ন রকমের মাছের পদ প্রস্তুত করে থাকে। রসগোল্লা বা মাছ ছাড়াও কলকাতা শহর ফুচকা, ঝালমুড়ি, কচুরি, সিঙ্গাড়া, এগরোল, চাউমিনের মতো স্ট্রীট ফুডের জন্য খুবই বিখ্যাত। কলকাতার আরও একটি জনপ্রিয় খাবার হল এখানকার বিরিয়ানি। বিভিন্ন নামকরা সব বিরিয়ানি প্রস্তুতকারক রেস্তোরাঁ রয়েছে কলকাতায়। আবার অন্যদিকে কলকাতার চায়না টাউনে বিখ্যাত এবং আসল চাইনিজ খাবারের স্বাদ পাওয়া যাবে। হরেক রকম খাবার কলকাতার অলিতে-গলিতে নিয়মিত বিক্রি হয়।


ট্রিপ টিপস

  • কীভাবে যাবেন – ট্রেনে করে যেতে হলে হাওড়া কিংবা শিয়ালদহ স্টেশনে নামতে হবে। বাসে করে কলকাতা গেলে নামতে হবে ধর্মতলার শহীদ মিনার বাস টার্মিনাসে। কলকাতার মধ্যে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতের জন্য প্রায় প্রত্যেক জায়গারই বহু সরকারি ও বেসরকারি বাস পাওয়া যাবে। বিমানে গেলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে হবে।
  • কোথায় থাকবেন – কলকাতার চারদিকে অসংখ্য থাকবার হোটেল। তবে শিয়ালদহ, পার্কস্ট্রিট, ধর্মতলা চত্বরে সস্তা এবং দামি সবরকম থাকবার হোটেলই পাওয়া যাবে।
  • কী দেখবেন – কলকাতায় দেখার জিনিস প্রচুর। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ভারতীয় জাদুঘর, জাতীয় গ্রন্থাগার, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, নেতাজি ভবন, ফোর্ট উইলিয়াম, কালীঘাট, সায়েন্স সিটি, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল, শহিদ মিনার, কলেজস্ট্রীট ইত্যাদি।
  • কখন যাবেন – সারাবছরই কলকাতা শহর ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত তবে শীতকালটি সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। শীতের সময় বিভিন্ন জায়গায় খুব আরামে ভ্রমণ করা যেতে পারে। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি তাই কলকাতা ভ্রমণের জন্য চমৎকার সময় হলেও একটা কথা মনে রাখতে হবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে দুর্গাপুজোর সময় ও ডিসেম্বরে বড়দিনের ছুটিতে অনেক দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকে৷ কলকাতার রাস্তায় জল জমবার প্রবণতার কারণেই ভ্রমণের জন্য বর্ষাকালটা এড়িয়ে চলাই ভালো।
  • সতর্কতা – 
    • ঐতিহাসিক স্থান, সুসজ্জিত গঙ্গা তীরবর্তী অঞ্চল, রাস্তাঘাট এবং পার্কগুলিতে যত্রতত্র বর্জ্য পদার্থ ফেলে কোনোভাবেই অপরিচ্ছন্ন করবেন না।
    • মিউজিয়ামগুলিতে প্রবেশ করার পর সেখানকার নিয়মকানুনগুলিকে যথাযথভাবে পালন করে চলবেন, অন্যথায় জরিমানা হতে পারে।
  • বিশেষ পরামর্শ –
    • কলকাতার দুর্গাপুজো সারাবিশ্বে বিখ্যাত। যদি এই উৎসবের দিনগুলি কলকাতা শহরে কাটানো যায়, তবে সেই অভিজ্ঞতা চিরস্মরণীয় হয়ে থেকে যাবে।

সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৩


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. https://en.m.wikipedia.org/
  3. https://kolkatatourism.travel/
  4. https://www.tripadvisor.in/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading