ইতিহাস

উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ

উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ

ইংরেজি সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ (William Wordsworth) । কবি শেলি ওয়ার্ডসওয়ার্থকে “প্রকৃতির কবি” বলে আখ্যায়িত করেছেন। স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ এবং ওয়ার্ডসওয়ার্থের হাত ধরেই মূলত ইংরেজি সাহিত্যে রোমান্টিক যুগের সূচনা হয়। তাঁর এবং কোলরিজের যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘লিরিক্যাল ব্যালাডস’ বইটিকে রোমান্টিক যুগের বাইবেল বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলির মধ্যে ‘দ্য সলিটারি রিপার’, ‘লুসি গ্রে’ , ‘দ্য এক্সকার্শন’, ‘দ্য প্রিলিউড’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ওয়ার্ডসওয়ার্থই ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম কবি যিনি প্রেম ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনাচরণ, মানবিক বৈশিষ্ট্য ও আবেগ অনুভূতির কথাও তুলে ধরেছেন কাব্যে।

১৭৭০ সালের ৭ এপ্রিল ইংল্যান্ডের কাম্বারল্যান্ড প্রদেশের ককারমাউথের অন্তর্গত লেক ডিস্ট্রিক্ট নামক একটি পর্বত বেষ্টিত অঞ্চলে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম জন ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং মায়ের নাম আ্যন কুকসন। উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ছিলেন তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান। ককারমাউথের কাছেই হকশেড ও পেনরিথে তাঁর বাল্যকালের অনেকটা সময় কেটেছে। স্কুলে পড়ার সময় স্কেটিং, নৌকা বাইচ, পর্বতারোহণ ইত্যাদিতে খুবই আগ্রহ ছিল তাঁর। শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে এক গভীর সংবেদনশীল মন তৈরি হয়েছিল। কোকিলের ডাক শোনা কিংবা নক্ষত্রখচিত আকাশের নীচ দিয়ে নৌকা বেয়ে যাওয়ার সময় তাঁর মনে অদ্ভুত এক অপার্থিব অনুভূতি জেগে উঠত। ১৭৯১ সালে ফ্রান্সে থাকাকালীন তিনি আ্যনেট ভ্যালোঁ নামে এক ফরাসি নারীর প্রেমে পড়েন এবং এক কন্যা সন্তানের বাবা হন। আ্যনেট ভ্যালোঁর সাথে তিনি কোনও প্রকার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হলেও ইংল্যান্ডে ফিরে তিনি কিন্তু তাঁর প্রেমিকা ভ্যালোঁ ও কন্যাসন্তানকে যথাসাধ্য সাহায্য করেছেন। পরবর্তীকালে তিনি তাঁর বাল্যকালের বান্ধবী মেরি হাচিনসনকে বিয়ে করেন এবং পরের বছর তাঁদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়।


বাংলায় শিখুন ওয়েব কন্টেন্ট রাইটিং ও আরও অনেক কিছু

ইন্টার্নশিপ

আগ্রহী হলে ছবিতে ক্লিক করে ফর্ম জমা করুন 


 

বাবার কাছে ওয়ার্ডসওয়ার্থ মিল্টন, শেক্সপীয়ারের কবিতা পড়তেন। ১৭৭৮ সালে মায়ের মৃত্যুর পর ওয়ার্ডওয়ার্থ হকসহেড গ্রামার স্কুলে ভর্তি হন। স্কুল জীবন শেষ হলে ১৭৮৭ সালে কেমব্রিজের সেন্ট জনস কলেজে ভর্তি হন তিনি এবং ১৭৯১ সালে এখান থেকেই স্নাতক উত্তীর্ণ হন। কেমব্রিজে থাকার সময় অবকাশযাপনের উদ্দেশ্যে তিনি ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ করেন। এই সময় কালেই ফরাসি বিপ্লবের সাম্যের আদর্শে উদ্দীপিত হয়ে ওঠেন তিনি। ১৭৯৩ সাল নাগাদ লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ওয়ার্ডসওয়ার্থ ‘দি ইউরোপীয়ান’ ম্যাগাজিনে’ ‘অ্যান ইভনিং ওয়াক’ নামক সনেট প্রকাশের মাধ্যমে। ওয়ার্ডসওয়ার্থের সঙ্গে ইংরেজি সাহিত্যের আরেক তরুণ কবি স্যামুয়েল টেলর কোলরিজের পরিচয় হওয়া ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। মূলত তাঁদের হাত ধরেই ইংরেজি কাব্য সাহিত্যে রোমান্টিক যুগের সূচনা হয়।​

ফরাসি বিপ্লবের ব্যর্থতার হতাশা নিয়ে উইলিয়াম ওয়ার্ডওয়ার্থ লেখেন ‘দি বর্ডারারস’ নামে একটি ট্র্যাজেডি এবং ‘গিল্ট অ্যান্ড সরো’ নামে একটি দীর্ঘ কবিতা। ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতাব্দীর সাহিত্যকে প্রধানত ক্লাসিক্যাল যুগ, রোমান্টিক যুগ, ভিক্টোরীয় যুগ ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা যায়। রোমান্টিক যুগ প্রধানত কাব্যের জন্য বিখ্যাত। এই যুগকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়- প্রথম ভাগের কবিদের মধ্যে রয়েছেন ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ, সাদে, স্কট এবং দ্বিতীয় ভাগের কবিগণের মধ্যে রয়েছেন বায়রন, শেলি, কিটস প্রমুখ। ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ, সাদে -এই তিনজনকে ‘লেক পোয়েটস্’ বলা হয়। এই তিন বন্ধু বহুদিন ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড-এর সীমা বরাবর হ্রদঅঞ্চলে বসবাসকালীন কাব্যচর্চা করেছিলেন। ক্রমে ​ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং কোলরিজের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। ১৭৯৮ সালে প্রকাশিত হয় দুজনের যৌথ কাব্য ‘লিরিক্যাল ব্যালাডস'(Lyrical Ballads)। এই রচনাটি বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কবিতার জগতে এক নতুন দ্বার উন্মোচন করে । শুরু হয় ইংরেজি সাহিত্যের রোমান্টিক যুগ। ওয়ার্ডওয়ার্থের বিখ্যাত ‘টিন্টার্ন আ্যবে’ কবিতার পাশাপাশি সর্বমোট ১৯টি কবিতা ‘লিরিক্যাল ব্যালাডস’ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। কবি শেলি ওয়ার্ডসওয়ার্থকে “প্রকৃতির কবি” বলে সম্বোধন করেছেন। প্রকৃতির রহস্যময়তা, সৌন্দর্য্য, সূক্ষ্ম জীবনবোধ ওয়ার্ডসওয়ার্থকে অন্য কবিদের থেকে স্বতন্ত্র করে তুলেছে। তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলির মধ্যে ‘দ্য সলিটারি রিপার’, ‘লুসি গ্রে’, ‘দ্য এক্সকার্শন’, ‘দ্য প্রিলিউড’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তিনিই ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম কবি যিনি প্রেম ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনাচরণ ,মানবিক বৈশিষ্ট্য ও আবেগ অনুভূতির কথাও তুলে ধরেছেন কাব্যে। তাঁর কবিতায় মানবতার জয়গান প্রেম ও প্রকৃতির রহস্যময় উপাদান মিলেমিশে এক হয়ে গেছে। ‘লিরিক্যাল ব্যালাডস’-এর দ্বিতীয় সংস্করণে তিনি অষ্টাদশ শতকের কবিতার তুলনায় আঙ্গিক ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে কীভাবে আধুনিক কবিতা নতুন হয়ে উঠছে সেই বিষয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ মনে করতেন, প্রকৃতি কখনও প্রতারণা করে না, প্রকৃতি মানুষের পরম বন্ধু। কাব্য রচনা ছাড়াও তিনি দর্শন ও সাহিত্য সমালোচনায় যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস পর তাঁর স্ত্রী মেরি তাঁর দীর্ঘ আত্মজীবনীমূলক কবিতা ‘দ্য প্রিলিউড’ (The Prelude) প্রকাশ করেন। কবিতাটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এবং ১৪ খন্ডে সমাপ্ত। এই কবিতাটি তাঁর অন্যতম প্রধান কীর্তি বলে ধরা হয়।​ রবীন্দ্রনাথ ওয়ার্ডসওয়ার্থকে ফরাসি কবি থিওফাইল গোতিয়ের-এর (Théophile Gautier) সঙ্গে যে তুলনা করেছেন শুধু তাই নয়, ওয়ার্ডসওয়ার্থের প্রকৃতি প্রেমের মধ্যে তিনি আধ্যাত্মিকতার বিকাশ দেখেছেন।​ ১৭৯৮ সালে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ, ডরোথি এবং কোলরিজ একত্রে জার্মানি যান এবং সেই সময়েই তাঁর অনবদ্য ‘লুসি’ বিষয়ক কবিতাগুলি লেখেন। জার্মানিতে থাকার সময়েই তিনি ‘দ্য প্রিলিউড’ লিখতে শুরু করেছিলেন বলে জানা যায়। পরের বছরই তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন এবং লেক ডিস্ট্রিক্টের গ্রাসমিয়ারে থাকার সময় ‘মাইকেল’, ‘স্ট্রেঞ্জ ফিটস ফর প্যাশন হ্যাভ আই নোন’, ‘শি ডুয়েল্ট অ্যামং দ্য আনট্রোডেন ওয়েজ’ ইত্যাদি কবিতাগুলি লেখেন। ১৮০০ সালে প্রকাশ পায় ‘লিরিক্যাল ব্যালাডস’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ। ১৮০৭ সালে প্রকাশ পায় তাঁর কয়েকটি সেরা কবিতার সংকলন ‘পোয়েমস ইন টু ভলিউমস’। এই বইতেই ছিল ওয়ার্ডসওয়ার্থের লেখা ‘রেজোলিউশন অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্স’, ‘আই ওয়ান্ডারড লোনলি অ্যাজ এ ক্লাউড’, ‘ওড টু ডিউটি’, ‘ওড অন দ্য ইন্টিমেশনস অফ ইমর্টালিটি’, ‘সনেটস ডেডিকেটেড টু লিবার্টি’ ইত্যাদি বিখ্যাত কবিতাগুলি।

১৮০৫ সালে তাঁর ভাই জনের মৃত্যু হয় এবং ১৮১২ সালে তাঁর দুই সন্তানও মারা যায়। এই শোকে অত্যন্ত ভেঙে পড়েন তিনি। কাজের সূত্রে ১৮১৩ সালে অ্যালান ব্যাঙ্ক থেকে তিনি চলে আসেন রাইডাল মাউন্টে। তাঁর লেখা একটি বিপুলায়তন দর্শনগ্রন্থ ‘দ্য রেক্লুজ’-এর খণ্ডাংশ হিসেবে ১৮১৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘দ্য এক্সকারশান’বইটি। ১৮১৫ থেকে ১৮৩৫ সালের মধ্যে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ লেখেন ‘দ্য হোয়াইট ডো অফ ফাইলস্টোন’ (১৮১৫), ‘দ্য ওয়াগোনার’ (১৮১৯), ‘পিটার বেল’ (১৮১৯) ইত্যাদি। ১৮৩৮ সালে ওয়ার্ডসওয়ার্থ ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন সিভিল ল’য়ের উপর ‘ইউনিভার্সিটি অফ ডুরহাম’ থেকে এবং পরবর্তীকালে এই একই উপাধি লাভ করেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড’ থেকে। ১৮৪২ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘সিভিল লিস্ট পেনশন’ খাতে পুরস্কৃত করেন ।​ ১৮৪৩ সালে ‘পোয়েট লরিয়েট’ উপাধিতে ভূষিত হন উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ। ১৮৪৭ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে তাঁর কন্যা ডোরার অকাল মৃত্যুর পর তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন এবং কবিতা লেখা ছেড়ে দেন চিরকালের মত।

১৮৫০ সালের ২৩ এপ্রিল ৮০ বছর বয়সে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের মৃত্যু হয়।


প্রাকৃতিক খাঁটি মধু ঘরে বসেই পেতে চান?

ফুড হাউস মধু

তাহলে যোগাযোগ করুন – +91-99030 06475


 


তাঁকে নিয়ে তথ্যমূলক ভিডিও দেখুন এখানে

তথ্যসূত্র


  1. কুন্তল চট্টোপাধ্যায়, 'ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস', রত্নাবলী, আগস্ট ২০১২, পৃষ্ঠা ১৪৪-১৪৫
  2. https://en.wikipedia.org/
  3. https://www.poetryfoundation.org/
  4. https://www.britannica.com/
  5. https://poets.org/

2 Comments

2 Comments

  1. Pingback: বিহারীলাল চক্রবর্তী | সববাংলায়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

অ্যান্ড্রয়েড ম্যাসকট নিয়ে বিস্তারিত জানতে


অ্যান্ড্রয়েড ম্যাসকট

ছবিতে ক্লিক করুন