ইতিহাস

উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ

ইংরেজি সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি হলেন উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ । তাঁর কবিতা ইংরেজি সাহিত্যকে বিপুলভাবে সম্পদশালী করেছে। কবি শেলী ওয়ার্ডসওয়ার্থকে “প্রকৃতির কবি” বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের জন্ম ১৭৭০ সালের ৭ এপ্রিল ইংল্যান্ডের ককার মাউথ নামক নিচু হ্রদ অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম জন ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং মায়ের নাম আ্যন বুকসন। উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ছিলেন তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান। বাবার কাছে তিনি মিল্টন, শেক্সপিয়ারের কবিতা শিখতেন। তিনি মাঝেমধ্যে মামার বাড়ি ক্যাম্বারল্যান্ডের পেনরিলেও থাকতেন। ১৭৭৮ সালে মায়ের
মৃত্যুর পর ওয়ার্ডওয়ার্থকে হকসহেড গ্রামার স্কুলে পাঠানো হয়। ১৭৮৭ সালে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ওয়ার্ডসওয়ার্থ ‘দি ইউরোপীয়ান’ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম সনেট প্রকাশের মাধ্যমে।

১৭৯১ সাল নাগাদ​ কেমব্রিজের সেন্ট জোন্স কলেজ থেকে তিনি স্নাতক হন। ফরাসি বিপ্লবের প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয়ে তিনি এরপর ফ্রান্স গমন করেন যদিও তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন কিছু কালের মধ্যেই এবং এই সময়ে তাঁর চিন্তাভাবনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এরপর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাইজলের এবং বোন ডরোথির উৎসাহে তিনি কাব্যসাধনা শুরু করেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে ইংরেজি সাহিত্যের আরেক তরুণ কবি স্যামুয়েল টেলর কোলরিজের পরিচয় হওয়া ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা । এই দুই কবি মিলে ইংরেজি কাব্য সাহিত্যে রোমান্টিক যুগের সূচনা করেন।​

ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতাব্দীর সাহিত্যকে প্রধানত ক্লাসিক্যাল যুগ, রোমান্টিক যুগ, ভিক্টোরীয় যুগ ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা যায়। রোমান্টিক যুগ প্রধানত কাব্যের জন্য বিখ্যাত। এই যুগকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগের কবিদের মধ্যে রয়েছেন ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ, সাদে, স্কট এবং দ্বিতীয় ভাগের কবিগণের মধ্যে রয়েছেন বায়রন, শেলী, কীটস প্রমুখ। ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ, সাদে -এই তিনজনকে ‘লেক পোয়েটস্’ বলা হয়। এই তিন বন্ধু কবি বহুদিন ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড এর সীমা বরাবর হ্রদঅঞ্চলে বসবাসকালীন কাব্যচর্চা করেছিলেন।

১৭৯১ সালে ফ্রান্সে থাকাকালীন তিনি আ্যনেট ভেলন নামে এক ফরাসি নারীর প্রেমে পড়েন এবং এক কন্যা সন্তানের বাবা হন। তিনি আ্যনেট ভেলনের সাথে কোন প্রকার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হলেও ইংল্যান্ডে ফিরে তিনি কিন্তু তাঁর প্রেমিকা ভেলন ও কন্যাসন্তানকে যথাসাধ্য সাহায্য করেছেন। পরবর্তীকালে তিনি তাঁর বাল্যকালের বান্ধবী মেরি হাচিসটনকে বিয়ে করেন এবং পরের বছর তাঁদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। এরই মাঝে ​ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং কোলরিজের বন্ধুত্ব আরো গভীর হয় । দুই বন্ধু মিলে কাব্যচর্চায় মেতে ওঠেন। কবিতা নিয়ে চলে নিরন্তর গবেষণা আর এর ফলেই ১৭৯৮ সালে প্রকাশিত হয় দুজনের যৌথ কাব্য ‘লিরিক্যাল ব্যালাডস'(Lyrical Ballads)। রচনাটি বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কবিতার জগতে এক নতুন দ্বার উন্মোচন করে । শুরু হয় রোমান্টিক যুগের। ওয়ার্ডওয়ার্থের বিখ্যাত ‘টিন্টার্ন আ্যবে’ (Tintern Abbey) কবিতার পাশাপাশি সর্বমোট ১৯ টি কবিতা ‘লিরিক্যাল ব্যালাডস’ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। কবি শেলী ওয়ার্ডসওয়ার্থকে “প্রকৃতির কবি” বলে সম্বোধন করেছেন।প্রকৃতির রহস্যময়তা , সৌন্দর্য্য ,সূক্ষ্ম জীবনবোধ ওয়ার্ডসওয়ার্থকে অন্য কবিদের থেকে স্বতন্ত্র করে তুলেছে। তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলির মধ্যে ‘দ্য সলিটারি রিপার'( The Solitary Reaper ), ‘লুসি গ্রে'( Lucy Gray ),’পোয়েমস ইন‌ টূ ভলিউমস'(Poems, in Two Volumes), ‘দ্য এক্সকার্শন’, ‘দ্য প্রিলিউড’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তিনিই ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম কবি যিনি প্রেম ও নিসর্গ সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনাচরণ ,মানবিক বৈশিষ্ট্য ও আবেগ অনুভূতির কথাও তুলে ধরেছেন কাব্যে ।তাঁর কবিতায় মানবতার জয়গান প্রেম ও প্রকৃতির রহস্যময় উপাদান মিলেমিশে এক হয়ে গেছে।

‘লিরিক্যাল ব্যালাডস’ এর দ্বিতীয় সংস্করণে তিনি অষ্টাদশ শতকের কবিতা থেকে আধুনিক কবিতা
আঙ্গিক ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে কিভাবে নতুন সেই বিষয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থ মনে করতেন- প্রকৃতি কখনো প্রতারণা করে না, প্রকৃতি মানুষের পরম বন্ধু। কাব্য রচনা ছাড়াও তিনি দর্শন ও সাহিত্য সমালোচনায় যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস পর তাঁর স্ত্রী মেরি তাঁর দীর্ঘ আত্মজীবনী মূলক কবিতা ‘দ্য প্রিলিউড'(The Prelude, )প্রকাশ করেন।কবিতাটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এবং ১৪ খন্ডে সমাপ্ত হয়েছে ।এই কবিতাটি তাঁর অন্যতম প্রধান কীর্তি বলে ধরা হয়।​ রবীন্দ্রনাথ তাকে থিওফাইল গোতিয়ের (Théophile Gautier) সঙ্গে তুলনা করেছেন।শুধু তাই নয় ওয়ার্ডসওয়ার্থের প্রকৃতি প্রেমের মধ্যে তিনি আধ্যাত্মিকতার বিকাশ দেখেছেন।​

১৮৩৮ সালে ওয়ার্ডসওয়ার্থ ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন সিভিল ল’য়ের ওপর “ইউনিভার্সিটি অফ ডুরহাম’ থেকে এবং পরবর্তী সালে এই একই উপাধি লাভ করেন “ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড’ থেকে। ১৮৪২ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘সিভিল লিস্ট পেনশন’ খাতে পুরস্কৃত করেন ।​

১৮৪৭ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে তাঁর কন্যা ডোরার অকাল মৃত্যুর পর তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন এবং কবিতা লেখা ছেড়ে দেন চিরকালের মত।

১৮৫০ সালের ২৩ শে এপ্রিল ৮০ বছর বয়সে এই বিশ্বখ্যাত কবির মৃত্যু হয়।

  • সববাংলায় সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আজই যোগাযোগ করুন
    contact@sobbanglay.com

  • এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

    আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com

তথ্যসূত্র


  1. ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসশ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় পাবলিশার্সঅরিয়েন্ট বুক কম্পানি পৃষ্ঠা-১৫৬-১৫৭
  2. https://bn.wikipedia.org/
  3. https://www.jugantor.com/
  4. http://web.dailyjanakantha.com/

1 Comment

1 Comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

শুধুমাত্র খাঁটি মধুই উপকারী, তাই বাংলার খাঁটি মধু খান


ফুড হাউস মধু

হোয়াটস্যাপের অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন