প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বের পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলি মধ্যে একটি হলো বিশ্ব রক্তদাতা দিবস (World Blood Donor Day)।
প্রতিবছর ১৪ জুন রক্তদাতাদের ধন্যবাদ জানাতে এবং উৎসাহ দিতে এই দিনটি পালন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organization) ৮টি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য প্রচারের (global public health campaigns) একটি হল বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। অন্যগুলো হল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস, বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ, বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস, বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস, বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস এবং বিশ্ব এইডস দিবস।
রক্তদান একটি জীবনদায়ী উপহার। তাই যারা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন তাদের উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানানোর জন্যই এই দিনটি পালিত হয়ে থাকে। ২০০৪ সালে প্রথম এই দিবসটি পালন করা হয়। তারপর থেকে প্রতিবছর ১৪ জুন এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। ১৮৬৮ সালে ১৪ জুন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের (Karl Landsteiner) জন্ম হয়। তিনি প্রথম এ, বি, এবং ও ব্লাড গ্রুপ (A,B,O blood group) আবিষ্কার করেন। তাই তার জন্ম দিনটিকে ‘বিশ্ব রক্তদাতা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালন করার উদ্দেশ্য হল, রক্তদান সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে রক্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুমূর্ষু রোগীর জীবন দানের জন্য, কিছু জটিল রোগের নিরাময়ের জন্য, শল্যচিকিৎসার সময় এবং বিভিন্ন গবেষণার জন্য রক্ত অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে। ফলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক সময় রক্তের প্রয়োজন হয় এবং এই রক্ত আসে রক্তদাতাদের মাধ্যমে। সাধারণত সুস্থ এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষই রক্তদান করতে পারে। রক্তদাতা নির্বাচন করা হয় কিভাবে জানতে পড়ুন এখানে। প্রতিটি দেশেই বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক থাকে, যেখানে রক্ত সংগ্রহ করে রাখা হয়। রক্ত সংরক্ষণ করা হয় কিভাবে জানতে পড়ুন এখানে। যারা স্বেচ্ছায় রক্তদান করে তাদের রক্ত এই সমস্ত ব্লাড ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকে। তবে রক্ত সংগ্রহ করার পর পরীক্ষা করে নেওয়া হয় সেটি ব্যবহারের জন্য নিরাপদ কিনা। চিকিৎসার প্রয়োজনে যখন রক্ত প্রয়োজন হয়, তখন এই সমস্ত ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত কিনতে পাওয়া যায়। তাই নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদান একটি মহৎ দান। পর্যাপ্ত রক্ত অনেক সময় চিকিৎসাধীন অসুস্থ মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্বেচ্ছা রক্তদানে উৎসাহ দান করা এবং রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এই দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য। তাছাড়া যে সমস্ত স্বেচ্ছাসেবকরা নিঃস্বার্থভাবে রক্তদান করে মানুষের উপকার করছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও এই দিনটি পালনের আরেকটি কারণ। এই দিবসটিতে বিভিন্ন জায়গায় স্বেচ্ছা রক্তদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন আলোচনা সভা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রতিবছর এই দিনটিতে একটি বিশেষ ‘থিম’ বা প্রতিপাদ্য থাকে। ২০১৫ সালের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘আমার জীবন দানের জন্য ধন্যবাদ’ (Thank you for saving my life)। ২০১৬ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – ‘রক্ত আমাদের যুক্ত করে’ (Blood connect us all)। ২০১৭ সালে প্রতিপাদ্য ছিল – ‘রক্ত দাও এখন, রক্ত দাও প্রায়ই’ (Give Blood, Give Now, Give Often)। ২০১৮ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – ‘অন্যজনের পাশে থাকো, রক্ত দাও, জীবনকে ভাগ করে নাও’ (Be there for someone else. Give blood, share life)। ২০১৯ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – ‘সবার জন্য নিরাপদ রক্ত’ (Safe Blood for All)। ২০২০ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – নিরাপদ রক্ত জীবন বাঁচায়’ (Safe Blood Saves Lives”)। ২০২১ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – রক্ত দাও এবং বিশ্বকে বাঁচিয়ে রাখো(Give blood and keep the world-beating..)। ২০২২ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – রক্তদান মানে পাশে দাঁড়ানো। এই প্রচেষ্টায় যোগ দিন এবং জীবন বাঁচান (Donating blood is an act of solidarity. Join the effort and save lives)। ২০২৩ সালের প্রতিপাদ্য – রক্ত দিন, প্লাজমা দিন, জীবনকে ভাগ করুন, প্রায়ই ভাগ করুন (Give blood, give plasma, share life, share often)। ২০২৪ সালের প্রতিপাদ্য – রক্তদানের ২০ বছর উদযাপনে সমস্ত রক্তদাতাদের ধন্যবাদ (20 years of celebrating giving: thank you blood donors)।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান