ইতিহাস

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক তথা বাংলা সাহিত্যের সম্রাট হলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Bankimchandra Chattopadhyay)। কেবল অসামান্য এক লেখক নয় সাহিত্য সমালোচক হিসাবেও তিনি বিশেষভাবে খ্যাত ছিলেন। তিনি জীবিকা সূত্রে ব্রিটিশ রাজের কর্মকর্তা ছিলেন। পাশাপাশি  তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র ‘বঙ্গদর্শনে’র প্রতিষ্ঠাতা এবং  সম্পাদক ছিলেন। ‘কমলাকান্ত’ ছিল তাঁর ছদ্মনাম।

১৮৩৮ সালের ২৭ জুন বর্তমান উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের কাছে কাঁঠালপাড়া গ্রামে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হয় ৷

বঙ্কিমচন্দ্র প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল থেকে৷ তাঁর ছিল প্রখর স্মৃতিশক্তি। এরপর তিনি প্রথমে হুগলী মহসীন কলেজ এবং পরে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন।  ১৮৫৮ সালে তিনি কলা বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর, প্রথম বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম গ্র্যাজুয়েট হওয়া দুই ছাত্রের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি অন্যজন যদুনাথ বসু। কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় এই ঘটনার কথা লিখেছিলেন। ১৮৬৯ সালে তিনি আইনে ডিগ্রি অর্জন করেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কর্মজীবন শুরু হয় ১৮৫৮ সালে যশোরে ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে৷ পরবর্তীকালে তিনি ডেপুটি ম্যজিস্ট্রেট হিসেবে পদন্নোতি করেন৷ ১৮৯১ সালে তিনি ডেপুটি ম্যজিস্ট্রেটের থেকে পদত্যাগ করেন৷ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক । তাঁর রচিত ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫ সাল)ছিল প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মোট ১৫টি উপন্যাস লিখেছিলেন, তাঁর মধ্যে একটি ছিল ইংরেজি ভাষায় রচিত৷ তাঁর রচনা ‘বঙ্কিমী শৈলী’ বা ‘বঙ্কিমী রীতি’ নামে পরিচিত। ঈশ্বরগুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘সংবাদ প্রভাকর’- সংবাদপত্রে বঙ্কিমচন্দ্র নিয়মিত লিখতেন৷ তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস Rajmohan’s Wife ইংরেজি ভাষায় লিখিত ৷  কেবল ঔপন্যাসিক হিসেবে নয় ‘ বঙ্গদর্শন’-এর মাসিক চাহিদা মেটানোর জন্য তাঁকে প্রাবন্ধিকের ভূমিকাতেও আত্মপ্রকাশ করতে হয়েছে৷ সেই সময় লেখকদের লেখনীর মধ্যে যে মানসিক জড়তা ছিল তা তিনি অনেকাংশে কাটিয়ে উঠতে পেরে ছিলেন। বাংলা সাহিত্য তাঁর হাত ধরে নতুন আলোর দিশা দেখেছিল।  বিজ্ঞানী, বিজ্ঞান, সাহিত্য,সমাজতত্ত্ব, দর্শন, ধর্মতত্ত্ব, ইতিহাস – এই সমস্ত বিষয় তাঁর প্রবন্ধের বিষয়বস্তু ছিল৷ তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন প্রজ্ঞাবান শীর্ষস্থানীয় প্রাবন্ধিক ৷ তাঁর লেখা প্রবন্ধ গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘ লোকরহস্য ‘ ( ১৮৭০),  বিজ্ঞানরহস্য( ১৮৭৫) , কমলাকান্তের দপ্তর ( ১৮৭৫),  বিবিধ সামালোচনা ( ১৮৭৬),  সাম্য ( ১৮৭৯) ,  কৃষ্ণ চরিত্র ( ১৮৮৬) ইত্যাদি। সাহিত্য সমালোচনার জগতে তিনি ছিলেন অন্যতম ব্যক্তিত্ব । বাংলা ভাষায় তুলনামূলক সমালোচনার প্রথম সাহিত্যিক প্রয়াস হিসেবে ‘ শকুন্তলা মিরান্দা দেসদিমোনা ‘ প্রবন্ধ টি উল্লেখযোগ্য। বঙ্কিমের ‘ লোকরহস্য  ‘ গ্রন্থের রচনাগুলি প্রবন্ধের প্রথাগত ধারা মেনে ভাবগম্ভীর রসহীন ভাবে লেখা হয় নি বরং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও লঘু কৌতুকের একটি আস্তরণ প্রবন্ধগুলির মধ্যে দেখা যায় ৷ কৌতুক অর্থাৎ হিউমারের প্রবনতাই এখানে বেশী লক্ষ করা যায়,  নির্মল হাস্যরসই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

‘কমলাকান্তের দপ্তর ‘ গ্রন্থের সব রচনাই কৌতুকরসের আবরনে মোড়া৷  সমসাময়িক দেশীয় রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্ম ও সাহিত্যের পর্যালোচনা করেছেন এই প্রবন্ধগুলিতে ৷  কমলাকান্তের দপ্তর ‘ – এর অধিকাংশ রচনাই বঙ্কিমের মনন- সমৃদ্ধ। দেশপ্রীতি,  মানবপ্রীতি,  রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি,  মানবদর্শন এই রচনাগুলিতে আত্মপ্রকাশ করেছে৷ বঙ্কিমচন্দ্রের জীবনদর্শনের মূল কথা হল মানব কল্যাণ ও মানবপ্রীতি৷ এই মানবপ্রীতির সঙ্গে সমাজপ্রীতির কোন বিরোধ নেই। তাঁর জীবনদর্শন কখনই নেতিবাচক ছিল না। তিনি সর্বদা ইতিবাচক জীবনদর্শনের কথা বলেছেন৷  ‘লোকরহস্য’ ও ‘ কমলাকান্তের দপ্তরে’র গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে একেবারে নতুন ৷আবার  ‘বিবিধ প্রবন্ধের’ গদ্যরীতি সহজ, সাবলীল ও গতিময় ।

ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্রের সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ” বঙ্কিম বঙ্গসাহিত্যে প্রভাতের সূর্যোদয় বিকাশ করিলেন।” উপন্যাসের জগতে বঙ্কিমচন্দ্র যে দুটি ক্ষেত্রকে বেছে নিয়েছিলেন তার একটি হল ইতিহাস অপরটি সমকালীন সমাজ । বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস রচনার প্রেক্ষাপট ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ৷ তাঁর উপন্যাসে ধরা পড়ে বাঙালী জীবনের চিত্র। তাঁর লেখা চোদ্দোটি উপন্যাস কে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় ইতিহাস ও রোমান্স,  পারিবারিক ও সামাজিক,  তত্ত্ব ও দেশাত্মবোধক।  তাঁর রচিত ‘ রাজসিংহ ‘ বিশুদ্ধ ঐতিহাসিক উপন্যাস ।

১৮৬৫ সালে রচিত ‘দুর্গেশনন্দিনী’ সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। ১৮৬৫ সালের মার্চ মাসে এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় এক নতুন যুগ প্রবর্তিত হয়। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগে উড়িষ্যা অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়েছে । এই উপন্যাস ইতিহাস ও রোমান্সের পর্যায়ভুক্ত। এই উপন্যাসে  জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশার কাহিনী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে৷ ওয়াল্টার স্কটের আইভানহো ‘Ivanhoe ‘ বা ভূদেবের ‘অঙ্গুরী বিনিময়’ উপন্যাসের সঙ্গে এই উপন্যাসের  কিছু মিল থাকলেও রসসৃষ্টি ও নির্মাণ কৌশল বঙ্কিমের নিজস্ব।  ঔপন্যাসিক রূপে বঙ্কিমচন্দ্র সামাজিক জীবনে নারীর বিভিন্নরূপকে তুলে ধরতে চেয়েছেন এই উপন্যাসে৷ ‘দুর্গেশনন্দিনী’র আয়েশা চরিত্র তাঁর প্রথম পরীক্ষা। ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসে কপালকুণ্ডলার চরিত্র তাঁর দ্বিতীয় পরীক্ষা। আকৃতি ও প্রকৃতিতে কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) উপন্যাসটি যেন পাশ্চাত্য রোমান্সের বাংলা সংস্করণ।  এই উপন্যাসে তিনি শেক্সপীয়ার, বায়রণ,  মেকলে,  ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কীটস ও লীটনের রচনা থেকে উদ্ধৃতি নিয়েছেন৷ কপালকুণ্ডলার চরিত্র চিত্রন ‘টেম্পেস্ট’ নাটকের  মিরান্ডা চরিত্রকে মনে করিয়ে দেয়৷ তবে বঙ্কিমচন্দ্রের অনুকরণ নিজ প্রতিভায় ভাস্বর বরং সেক্ষেত্রে একে অনুসরণ বলা যেতে পারে ৷

মীরকাশিম ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বন্দ্বের পটভূমিকায় লিখিত উপন্যাস ‘ চন্দ্রশেখর’ (১৮৭৫)  এর মূল কাহিনী কাল্পনিক। প্রতাপ এবং শৈবলিনীর একে অপরের প্রতি আকর্ষণ এবং চন্দ্রশেখরের আদর্শ চরিত্র এই উপন্যাসের প্রধান বিষয়৷ বঙ্কিমচন্দ্রের ‘ রাজসিংহ ‘-এর ( ১৮৮২) কাহিনী ও প্রধান চরিত্রগুলি ঐতিহাসিক। রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীর সঙ্গে ঔরঙ্গজেবের বিবাহের ইচ্ছা এবং তা থেকে রাণা রাজসিংহের জয়লাভ ও চঞ্চলকুমারীর সঙ্গে বিবাহ এই মূল ঘটনা ইতিহাস অনুমোদিত৷ এর সঙ্গে তিনি একটি উপকাহিনী জুড়েছেন। ‘ সীতারাম ‘ ( ১৮৮৭)  তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস। ‘আনন্দমঠ ‘ ( ১৮৮৪)  ও দেবীচৌধুরানী ( ১৮৮৪)  তাঁর রচিত তত্ত্ব ও দেশাত্মবোধক উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্রের  ‘রাধারাণী’ উপন্যাসটি শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রার পটভূমিতে লেখা। ১৮৭৫ সালে রথের মেলায় একটি মেয়ে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায়। বঙ্কিমচন্দ্র নিজেও মেলার মধ্যে মেয়েটির অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছিলেন। এর ঠিক দুমাস পরেই উনি লেখেন ‘রাধারাণী’।

বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ দেশাত্মবোধের এক অসামান্য মহাকাব্য। এখানেই তিনি লিখেছিলেন – ‘বন্দে মাতরম’ গানটি।  ‘দেবীচৌধুরানী’ উপন্যাসটি পুরনো বাংলা সমাজ ও পরিবারের পটভূমিতে রচিত হলেও এর অন্তরালে ধর্মীয় তাত্ত্বিক, অনুভূতির কথা লিখেছেন৷ পারিবারিক ও সামাজিক উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে বিষবৃক্ষ,  কৃষ্ণকান্তের উইল ও রজনী৷ বিষবৃক্ষ উপন্যাসে মূলত সেই সময়ের প্রধান সামাজিক সমস্যা বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহের কথা বলা হয়েছে৷

বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা ‘রজনী’ ( ১৮৭৭) উপন্যাসটিতে লিটন রচিত ‘The Last Days of Pimpeii’ – উপন্যাসের ছায়া দেখা যায়৷’The Last Days of Pimpeii ‘ উপন্যাসে  ফুলওয়ালী নিদিয়া চোখে ভালো দেখতে পায় না। নিদিয়া চরিত্রের আংশিক প্রভাবেই জন্মান্ধ রজনীকে এঁকেছেন তিনি ৷  ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সজনীকান্ত দাসের মতে, “রজনী বাংলা ভাষায় প্রথম মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।” মানবজীবনের কঠিন সমস্যার কথা তাঁর উপন্যাসে বলা হয়েছে।  সমস্যার গভীরে তাঁর উপন্যাসগুলির রস নিহিত। প্রমথনাথ বিশীর মতো সমালোচকরাও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা সাহিত্যের সেরা ঔপন্যাসিক হিসাবে বিবেচনা করেন।  বিশ্বসাহিত্যে খুব কম লেখকই বঙ্কিমের মতো দর্শন ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষতা অর্জন করেছেন।

ভারতীয় ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্র জাতীয়তার অন্যতম স্রষ্টা। তাঁর এই জাতীয়তাবোধ গড়ে উঠেছিল বাঙালি ও বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে। মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালিকে নিয়েই তিনি জাতীয়তার ধারণাটি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। বাঙালির ইতিহাস চেতনার অভাব নিয়ে তাঁর আক্ষেপ ছিল।  রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ‘প্রথমশিক্ষা বাঙ্গালার ইতিহাস’ বইটির সমালোচনায় তিনি লিখেছিলেন, ‘‘সাহেবেরা যদি পাখী মারিতে যান, তাহারও ইতিহাস লিখিত হয়, কিন্তু বাঙ্গালার ইতিহাস নাই। গ্রীন্‌লণ্ডের ইতিহাস লিখিত হইয়াছে, মাওরি জাতির ইতিহাসও আছে, কিন্তু যে দেশে গৌড়, তাম্রলিপ্তি, সপ্তগ্রামাদি নগর ছিল, যেখানে নৈষধচরিত, গীতগোবিন্দ লিখিত হইয়াছে, যে দেশ উদয়নাচার্য্য, রঘুনাথ শিরোমণি ও চৈতন্যদেবের জন্মভূমি, সে দেশের ইতিহাস নাই। মার্শমান্, স্টুয়ার্ট্ প্রভৃতি প্রণীত পুস্তকগুলিকে আমরা সাধ করিয়া ইতিহাস বলি; সে কেবল সাধ-পুরাণ মাত্র।’’

কেবল সাহিত্যিক হিসেবে নয়, প্রশাসক হিসেবেও বঙ্কিমচন্দ্রের গুরুত্ব খুব কম নয়। পূর্ব মেদিনীপুরের প্রাচীন স্কুল, কাঁথি হাইস্কুল যে জমিতে গড়ে উঠেছে সেটি বঙ্কিমচন্দ্রেরই দান।

১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়৷

তথ্যসূত্র


  1. https://en.m.wikipedia.org/
  2. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - ড. দেবেশ কুমার আচার্য্য ( ৪০২ পৃঃ)
  3. https://www.anandabazar.com/
  4. https://www.anandabazar.com/
  5. https://www.anandabazar.com/

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।