সববাংলায়

বাউল গান ও নাচ

লোকসংস্কৃতির একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধশালী ধারা হল বাউল গান ও  নাচ। পশ্চিমবঙ্গ এবং তার প্রতিবেশী দেশ মূলত বাংলাদেশ ও কয়েকটি রাজ্যে যথা, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ইত্যাদি জায়গায় এই বাউল গানের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। বাউন্ডুলে, ভবঘুরে, সংসারত্যাগী, নির্দিষ্ট একপ্রকার আচার-আচরণ মেনে চলা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় এই বাউল। মূলত বৈষ্ণব ধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, ইসলামের সুফিবাদ দ্বারা প্রভাবিত এই সম্প্রদায়। তন্ত্রের প্রভাবও বাউল ঐতিহ্যের মধ্যে লক্ষ্যণীয়। তবে কোনরকম প্রথাগত সংগঠিত ধর্মাচরণ ও সংস্কারে আবদ্ধ নন তাঁরা। কিন্তু বাউলদের গানেও সেই এক ঈশ্বরের প্রতি নিজেকে সঁপে দেওয়ার আর্তি প্রস্ফুটিত হয়ে আছে। বাউলদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেহতত্ত্ব। মানবশরীরকে অবলম্বন করে এক আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের দিকে এগিয়ে যাওয়াই বাউলদের অন্যতম লক্ষ্য। দেহকেই মন্দির বলে মনে করেন তাঁরা, বিশেষ কোন দেবতার মন্দিরে মাথা ঠেকান না বাউলের দল। ধর্মবর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁরা গান মানবধর্মের গান, করেন নিরাকার এক ঈশ্বরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সাধনা। বাউলদের সেই সাধনা, দর্শন, লক্ষ্য সবই তাঁদের গানের ভিতরে ধরা রয়েছে।

বাউল শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন সংস্কৃত বায়ু, বাংলায় যা ‘বাই’ বা ‘বাউ’ তার সঙ্গে ‘ল’ প্রত্যয় যোগে বাউল শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। তাঁদের মতে, বাংলায় যে সম্প্রদায়ের মানুষ বায়ু অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়ার সাহায্যে সাধনা করে থাকেন তাঁরাই হলেন বাউল। এছাড়াও অনেকে মনে করেন বাউল শব্দটির উৎপত্তির নেপথ্যে রয়েছে ‘বাতুল’ শব্দটি, যার অর্থ উন্মাদ বা পাগল। আসলে কোন সামাজিক বিধিনিষেধের মধ্যে, কোন একটি নির্দিষ্ট সংগঠিত ধর্মাচরণের মধ্যে যেহেতু তাঁরা আবদ্ধ নন, সেহেতু তাঁদের এই উন্মাদ বা পাগল আখ্যা পেতে হয়েছে। বহু সাধারণ মানুষও তাঁদের ‘ক্ষ্যাপা’ বলে থাকেন, যেমন গৌর ক্ষ্যাপা। কেউ আবার বাতুল না বলে, বলেন ‘ব্যাকুল’ থেকে বাউল শব্দটির উদ্ভব। ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনের যে ব্যাকুলতা তাঁদের গানে রয়েছে, সেদিকে হয়ত ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, রয়েছে আরও কিছু মতামত। কেউ কেউ বলে থাকেন উত্তর ভারতীয় প্রাকৃত শব্দ ‘বাউর’ ক্রমে অপভ্রংশ হয়ে বাউলে রূপান্তরিত হয়েছে। এই বাউর শব্দের অর্থ হল এলোমেলো বা বিশৃঙ্খল। সেইসব গবেষকের মতে, উত্তর ভারতে বাংলার বাউলদের মতোই একদল বিশৃঙ্খল চিন্তাশীল মানুষ চোখে পড়ে। অনেকে আবার ‘আউল’ শব্দটি ক্রমে অপভ্রংশ হয়ে বাউল হয়েছে বলে মনে করে থাকেন। তবে সেই মতানুসারীদের মতে এই আউল কথাটি সংস্কৃত ‘আকুল’ শব্দ থেকে আসেনি, বরং এসেছে আরবি ‘আউলিয়া’ শব্দ থেকে, যা থেকে ‘ইয়া’ প্রত্যয় খসে পড়ে হয়েছে আউল। এই আউলিয়া বলতে মুসলমান সাধক বোঝায়। বাংলায় যারা সেই মুসলমান দরবেশদের মতো আলখাল্লা পরে ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়ায় এবং ঈশ্বরভজনা করে তাদের নামের সেই আউল থেকে ক্রমে বাউলে রূপান্তরিত হয়েছে।

এই বাউল গানের উদ্ভবের ইতিহাস নিয়েও অনেক অস্পষ্টতা, ধোঁয়াশা এবং মতভেদ রয়েছে। বাউল সাধনার সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় যোগ ও তন্ত্রসাধনার বিস্তর মিল রয়েছে। পরবর্তীকালের বৌদ্ধ সহজিয়াদের দেহ-সাধনার সঙ্গেও বাউল দেহতত্ত্বের সাযুজ্য বর্তমান। সহজিয়া সাধকদের সৃষ্ট প্রাচীনতম বাংলা ভাষার নিদর্শন যে চর্যাপদ, সেই সাধনগীতিগুলির সঙ্গে বাউল গানের ধারণাটির বিস্তর মিল লক্ষ করা যায়। তবে কোন কোন গবেষক মনে করেন বাউল-সাধনার পরিপূর্ণ উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে ১৪৮৬ থেকে ১৫৩৪ সালের মধ্যে, যে সময়কালটিকে মূলত চৈতন্যপর্ব বলে মনে করা হয়। গবেষক উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য আবার বলেছেন যে, ‘আনুমানিক ১৬২৫ খ্রীষ্টাব্দ হইতে আরম্ভ করিয়া ১৬৭৫ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে বাংলায় বাউল ধর্ম এক পূর্ণ রূপ লইয়া আবির্ভূত হয়’। অন্যদিকে পন্ডিত ব্রজেন্দ্রনাথ শীল বলেছেন যে, চতুদর্শ শতাব্দীর শেষ কিংবা পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাউলের জন্ম হয়েছে। তিনি স্পষ্টত জানিয়েছিলেন যে, ‘বাউল জন্মগ্রহণ করেছে সিদ্ধা ও মুসলমান ফকির হতে’। বাউলদের উদ্ভব প্রসঙ্গে উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য মনে করেন, যে, ‘মুসলমান ফকিররাই বাউল সাধনার আদি প্রবর্তক।’ তাঁর গ্রন্থ থেকেই জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের বাউলমহলে একটি জনশ্রুতি প্রচলিত আছে যে, চৈতন্যদেবের ঘনিষ্ঠ নিত্যানন্দের পুত্র বীরভদ্র ছিলেন বাউলদের আদি প্রবর্তক এবং তিনি মাধব বিবি নামক এক মুসলমান মহিলার নিকট ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। প্রচলিত আছে, আউলচাঁদের শিষ্য ওই মাধববিবিই আসলে বাউলের প্রবর্তক, পরে তাঁর শিষ্য বীরভদ্রের দ্বারা এই মতের বিস্তার ঘটে। বাউল মতের উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে পন্ডিত আহমদ শরীফ বলেছিলেন, “যে সব প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ ইসলাম কবুল করেছিল আর যে সব প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ হিন্দুসমাজ ভুক্ত হয়ে নিজেদের পূর্বপুরুষের ধর্মাচরণে রত ছিল, তারাই কালে বাউল সম্প্রদায়ভুক্ত হয়েছে।” এই বাউল সম্প্রদায়ের ছায়াতলে হিন্দু-মুসলমান ধর্মের এক মিলনসাধন সম্ভব হয়েছিল।

বাউলদের মধ্যে সাধারণত দুটি ভাগ দেখা যায়, কিছু বাউল সংসার বা গৃহত্যাগী বাউল এবং কিছু বাউল হন গৃহী বাউল। সংসারত্যাগী বাউলের দল সংসারের মায়ায় আবদ্ধ না থেকে গৃহত্যাগ করে ভবঘুরের মতো বিভিন্ন স্থানে, আখড়ায় আখড়ায় ঘুরে গান গেয়ে সাধন ভজন করে থাকেন। সাধারণত গান গেয়ে ভিক্ষা করে কালাতিপাত করেন। গৃহত্যাগী মহিলা বাউলরা সন্তান ধারণ করতে পারেন না। এই ধরনের জীবনযাপনকে ‘জ্যান্তে মরা’ বলা হয়ে থাকে। পুরুষ বাউলদের সঙ্গে থাকা মহিলারা সাধারণত সেবাদাসী নামে পরিচিত হন। কন্ঠি বদল করে একজন সেবাদাসী অন্য পুরুষ বাউলের নিকটও চলে যেতে পারে। অন্যদিকে গৃহী বাউলেরা স্ত্রী-পুত্র-পরিজন নিয়ে সমাজের একেবারে উপান্তে নির্জনে থাকেন। সমাজের সঙ্গে ওঠা বসা বা সমাজের অন্য কোন সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁদের বিবাহ নিষিদ্ধ। তবে গৃহত্যাগী বাউলদের মতো তাঁদের কঠোর সাধনভজন করতে হয় না। এছাড়াও আরও চার সম্প্রদায়, যথা, দরবেশী, নেড়া, আউল এবং সাঁই (শেষোক্ত দুটি কর্তাভজার দুই সম্প্রদায়) নিজেদেরকে বাউল হিসেবেই চিহ্নিত করে থাকেন।

বাউলরা তাঁদের সাধনভজন, তত্ত্ব, দর্শনের কথা সব তাঁদের গানেই উল্লেখ করে থাকেন। তাঁরা মূলত যেসব তত্ত্বের গান গেয়ে থাকেন, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: আত্মতত্ত্ব, আদমতত্ত্ব, নবীতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব, সাধনতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব ইত্যাদি। এছাড়াও কোন নির্দিষ্ট ধর্ম-বর্ণ-জাতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার গানও তাঁরা গেয়ে থাকেন। ফকির লালন শাহজীর গানে এই মানবিকতার সুর অসাধারণভাবে ব্যক্ত হয়েছে৷

বাউল গানে অস্থায়ী এবং অন্তরাই প্রধান। সামান্য কয়েকটি গানে সঞ্চারী লক্ষ করা যায়। বাউল গানে সাধারণত প্রতি অন্তরার পরে অস্থায়ী বা ধুয়া গাইতে হয়। বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবে কোন কোন বাউল গানে কীর্তনের ঢঙ এসে মিশেছে। অঞ্চলভেদে বাউল গানের গায়নশৈলীতেও বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। কুষ্টিয়া অঞ্চলের বাউল গান সিলেট, ঢাকা বা ফরিদপুরে গাওয়া হলে গায়কিতে স্পষ্টতই পরিবর্তন লক্ষ করা যাবে। বাউল গানের সঙ্গে নাচও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উল্লেখ্য যে, বাউল নাচ কখনও একক কখনও আবার যুগল বা দলগত নৃত্যও দেখা যায়। তবে একক নাচই দেখা যায় বেশি। গান গাইতে গাইতে বিশেষ মুহূর্তে ঐশ্বরিক এক আনন্দে গায়ক এক বিশেষ ধরনের নৃত্য করেন, পায়ে তাঁদের বাঁধা থাকে ঘুঙুর। তাঁরা মাথার চুল নাড়িয়ে ঘুরে ঘুরে নৃত্য করেন। এছাড়াও বাউল গানের সঙ্গে বাজানোর জন্য হাতে কখনও থাকে একতারা, কখনও দোতারা। এই একতারা নাচের সময় কখনও কানের কাছে ধরা হয় কখনও তাকে মাথার ওপরে তোলা হয়। এছাড়াও ডুবকি, খমক ইত্যাদি হল বাউল গানে ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র। এই সঙ্গীত ও নৃত্য হল আসলে অতীন্দ্রিয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম।

কোন বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের রীতি বা নিয়ম হিসেবে বাউল গান  গাওয়া হয় না। এটি একটি মুক্ত গানের ধারা। তবে এই বাউল সম্প্রদায় ও তাঁদের গান পশ্চিমবাংলার জল-মাটি-হাওয়া ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলেমিশে আছে। তাই বীরভূম জেলার বিখ্যাত কবি জয়দেবের জন্মস্থান কেন্দুলিতে প্রতি বছর একটি বাউলদের মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই মেলায় বাউল গানের সমারোহে বিস্মিত হতে হয়। কেন্দুলির এই জয়দেব মেলা ইউনেস্কোর ‘মাস্টারপিস অফ দ্য ওরাল অ্যান্ড ইনট্যাঞ্জিবল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি’ এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মকরসংক্রান্তি উপলক্ষে কেন্দুলিতে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়াও শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা কিংবা বাংলাদেশের লালন স্মরণ উৎসবে বাউল গানের সমারোহ লক্ষ করা যায়।

মনে রাখতে হবে বাউল গান দীর্ঘদিন ধরে মৌখিক পরম্পরায় প্রবাহিত হয়ে আসছিল, বহুদিন পর এসে বাউলদের গানগুলি লিপিবদ্ধ করবার কাজ শুরু হয়। ডক্টর জিন ওপেনশোর মতে, উনিশ শতকের প্রায় শেষ পর্যন্ত বাউলদের সঙ্গীত মুখে মুখেই চলে এসেছিল এবং সেই সময়ে বাউল সম্প্রদায়ের বাইরের পর্যবেক্ষকদের দ্বারা প্রথম এই গান লিপিবদ্ধ হয়েছিল। তার আগে মুখে মুখেই একই গানের নানা শব্দ, বাক্য বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। লালন ফকিরের অসংখ্য গানের একাধিক পাঠান্তর পাওয়া যায়। চৈতন্যের সময়কাল থেকে ক্রমে অষ্টাদশ, উনিশ শতক পেরিয়ে যত আধুনিক সময়ে এসে অবতীর্ণ হয়েছে বাউল গান, তার মধ্যে ঘটে গেছে নানাবিধ বিবর্তন। বর্তমানে বাউল ফিউশন সঙ্গীতের জন্ম দিয়েছেন বাউল গান চর্চাকারী বিখ্যাত কিছু গায়ক। তাঁরা মাটির বাউল গানের সঙ্গে আধুনিক সময়ের দ্রুত তালের রক গানের এক মিশেল দিয়ে উপস্থাপন করে থাকেন৷ এই ঘরানাটি শহর অঞ্চলের মানুষের কাছে বাউল গানকে দারুণ জনপ্রিয় করে তুলেছে।

বাউল গানের শিল্পীদের কথা বললেই যে নামটি প্রথম উঠে আসে তিনি হলেন লালন ফকির। কেউ কেউ তাঁকে লালন সাঁইও বলতেন। তাঁর রচিত গান বাউলগানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হয়ে রয়েছে। লালনের গান দ্বারা রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, অ্যালেন গিন্সবার্গদের মত মানুষ ভীষণ প্রভাবিত হয়েছিলেন। জাতি-ধর্মের ভেদাভেদকে প্রত্যাখান করে মানুষের জয়গান গেয়েছিলেন লালন। লালন সাঁই ছাড়াও বাউল গানের রচয়িতা এবং শিল্পীদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেন, শাহ আবদুল করিম, ভবা পাগলা, গোষ্ঠগোপাল দাস,  দ্বিজ দাস, হাছন রাজা, পূর্ণদাস বাউল প্রমুখ। পূর্ণদাস বাউল ‘বাউল সম্রাট’ আখ্যা পেয়েছিলেন। বব ডিলানের সঙ্গে একই কনসার্টে তিনি গানও গেয়েছিলেন।

বাংলার বুকে বাউল গানের অস্তিত্ব আজও থাকলেও তা অনেকখানিই ম্লান হয়ে গিয়েছে। তবে বাউল ফিউশনের উদ্ভবের কারণে একটু অন্যভাবে বাউল গান নতুন প্রজন্মের কাছে কিঞ্চিৎ জনপ্রিয়তা লাভে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ক্ষয়িষ্ণু ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয়েছে ‘পল্লী বাউল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের সংগঠন। বাংলাদেশের শিল্পকলা একাডেমি প্রায়ই বাউল ঐতিহ্যের ওপর সেমিনার এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসবের আয়োজন করে। ২০০৬ সাল থেকে কলকাতায় ‘বাউল ফকির উৎসব’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে আসছে। বাউলকে আধুনিক রক গানের সঙ্গে মিশিয়ে বোলপুর ব্লুজ নামের গানের দল বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সুদূর ব্যাঙ্গালোরে বসেও বাঙালি শিবশঙ্কর ভট্টাচার্য বাউল সম্মেলন শুরু করেছিলেন ২০১৭ সালে। সবমিলিয়ে নানাভাবেই এই লোকঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading