ধর্ম

ভূত চতুর্দশী

দীপাবলি  হল পাঁচদিন ধরে চলা হিন্দু উৎসব যা কিনা উত্তর ভারতে শরৎ আর দক্ষিণ ভারতে বসন্তকালে অনুষ্ঠিত হয়।আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশী  অর্থাৎ উৎসবের দ্বিতীয় দিনটিকে নরক চতুর্দশী  বা ভূত চতুর্দশী বলা হয়।দক্ষিণ ভারতে বিশেষ করে গোয়া, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকে যখন নরক চতুর্দশী সাড়ম্বরে পালিত হয় বাংলায় তখন ভূত চতুর্দশী পালন হয়।

পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা এইদিনটিকে ভূত চতুর্দশী হিসেবে পালন করে।এইদিন বাঙালিরা চোদ্দরকম শাকের (ওল, কেও, বেতো কালকাসুন্দা, নিম, সরিষা  শালিঞ্চা বা শাঞ্চে, জয়ন্তী, গুলঞ্চ, পটুক পত্র বা পলতা, ভন্টাকি(ঘেঁটু) বা ভাঁট , হিলমোচিকা বা হিঞ্চে ,সুনিষন্নক বা শুষুনী বা শুষনি, শেলু বা শুলকা) মিলিত একটি পদ খেয়ে থাকে, যা চোদ্দ শাক নামে পরিচিত। তবে আয়ুর্বেদ মতে প্রাচীন বাংলায় চোদ্দো শাকগুলি ছিল (পালং শাক, লাল শাক, সুষণি শাক, পাট শাক, ধনে শাক, পুঁই শাক, কুমড়ো শাক, গিমে শাক, মূলো শাক, কলমি শাক, সরষে শাক, নোটে শাক, মেথি শাক, লাউ শাক অথবা হিঞ্চে শাক) । পুরাণ মত অনুসারে ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি প্রচলন করেন ঋক্ বেদের বাস্কল বা শাক দ্বীপি ব্রাহ্মণ’রা। ভেষজবিজ্ঞানী ছন্দা মণ্ডলের মতে, দীপাবলির এই মাসটায় ঋতু পরিবর্তনের ফলে নানান রোগের প্রকোপ বাড়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়।সেই জন্য আশ্বিন ও কার্ত্তিক মাস দুটিকে যমদংস্টা কাল বলা হত। চোদ্দরকম শাকের  রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা ছিল দারুণ। হয়ত বাঙালিকে এই শাকের গুনাগুন অন্যকোন ভাবে বোঝাতে না পেরে ধর্মের পালনীয় কর্তব্যের মোড়কের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা থেকেই এই রীতির শুরু। তখনকার দিনে বাংলার নব্য-স্মৃতিশাস্ত্রকার রঘুনন্দন (১৬ শতাব্দী) তাঁর অষ্টবিংশতি তত্ত্বের অন্যতম গ্রন্থ “কৃত্যতত্ত্বে” এই সময়কাল উল্লেখ করেছেন “নিৰ্ণয়া-মৃতের” (একটি প্রাচীন স্মৃতির গ্রন্থ) অভিমত অনুসরণ করে-

"ওলং কেমুকবাস্তূকং, সার্ষপং নিম্বং জয়াং।
শালিঞ্চীং হিলমোচিকাঞ্চ পটুকং শেলুকং গুড়ূচীন্তথা।
ভণ্টাকীং সুনিষন্নকং শিবদিনে খাদন্তি যে মানবাঃ,
প্রেতত্বং ন চ যান্তি কার্ত্তিকদিনে কৃষ্ণে চ ভূতে তিথৌ।"

এছাড়াও বাড়ির চোদ্দ কোণায় চোদ্দ প্রদীপ জ্বালিয়ে পরিবার থেকে ভূত প্রেতকে দূরে সরিয়ে রাখার রীতিও দেখা যায়।চোদ্দ প্রদীপ জ্বালানোর পেছনে কারণ স্বরূপ মনে করা হয় যে এই দিন প্রদীপ জ্বালিয়ে পিতৃ পুরুষ দের বাড়িতে আসবার আমন্ত্রণ জানানো হয় যাতে তারা মা কালীর আগমনের দিন উপস্থিত হয়ে বাড়ির সকল সদস্যকে আশীর্বাদ করতে পারেন এবং নিজেরাও মোক্ষ লাভ করতে পারেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!