ধর্ম

কালীপূজা

দুর্গাপূজার পর পশ্চিমবাংলার হিন্দু বাঙালির অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব হল  কালীপূজা বা শ্যামাপূজা ।কার্ত্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে অনুষ্ঠিত এই কালীপূজাকে বলা হয়  দীপান্বিতা কালীপূজা । এই পূজা আলো ও আতসবাজির উৎসব । বাংলায় যেদিন দীপান্বিতা কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয় সেই দিনটিতে ভারতের অন্যান্য জায়গায় দীপাবলি হিসেবে পালিত হয়। সারাভারতে এই দিন লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হলেও সাধারণত বাঙালি, অসমীয়া ও ওড়িয়াদের মধ্যে এইদিন কালীপূজা করার চল আছে। দীপান্বিতা কালীপূজা ছাড়াও বাংলায় আরও দুই ধরনের কালীপূজার প্রচলন আছে- মাঘ মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশী তিথিতে রটন্তী এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশী তিথিতে ফলহারিণী কালীপূজা।

কালীপূজার ইতিহাস ঘাঁটলে আমরা দেখতে পাব ১৭৬৮ সালে কাশীনাথ রচিত ‘ কালী সপর্যাসবিধি’ গ্রন্থে দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপুজার বিধান পাওয়া গেলেও বাংলায় কালীপুজার প্রচলনের প্রমাণ কিন্তু তখনো তেমন পাওয়া যায়নি।নবদ্বীপের বিখ্যাত তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগম্বাগীশকে বাংলায় কালীমূর্তি ও কালীপূজার প্রবর্তক বলে মনে করা হয়।তবে অষ্টাদশ শতাব্দীতে কালীপূজাকে যিনি বাংলায় বিখ্যাত করে দিলেন তিনি নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়।মুণ্ডমালা তন্ত্র অনুসারে দেবীর ‘ দশ মহা বিদ্যা(কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী ও কমলা) অর্থাৎ দশটি বিশেষ রূপের একেবারে প্রথম রূপটি হল কালী। কালী হল ‘কালীকুল সম্প্রদায় বা শাক্তধর্মের প্রধান আরাধ্যা দেবী।

দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও গৃহস্থ বাড়িতে বা মণ্ডপে মাটির মূর্তি তৈরী করে পূজা করা হয়।তান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেবী আরাধনার অন্যতম অঙ্গ মধ্যরাত্রে  মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা  ও দেবীকে  বলি দেওয়া পশুর কাটা মুণ্ডু, রক্ত, মিষ্টি, অন্ন বা লুচি, মাছ ও মাংস উৎসর্গ করা।তবে গৃহস্থবাড়িতে  সাধারণত অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যমতে আদ্যাশক্তি কালীর রূপে দেবী আরাধিত হন।প্রচলিত  লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কালী শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী এবং এই কারণবশতঃ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে শ্মশানে  শ্মশানকালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!