বিজ্ঞান

সাবান দিয়ে হাত ধুলে করোনা ভাইরাস দূর হয় কিভাবে

বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী সার্স কোভ-২ (SARS-CoV-2 বা Severe Acute Respiratory Syndrome CoronaVirus 2) বা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা চলেছে। জীবাণুমুক্ত করার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সাবান বা এই জাতীয় হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহার করলে করোনা ভাইরাস দূর হয় কিভাবে? সাবান ভালো নাকি হ্যান্ড স্যানিটাইজার? – এইসব প্রশ্ন অনেকের মনেই জেগেছে কিন্তু বিশ্বস্ত উত্তর পাওয়া যায়নি। এখানে জেনে নেওয়া যাক সঠিক উত্তর।

সংক্রামিত ব্যক্তি বা বস্তু থেকে কোনোভাবে এই ভাইরাস হাতে বা শরীরের কোনো অংশে এলে তা শরীরের বহির্ভাগে ঘন্টার পর ঘন্টা এমনকি কয়েকদিনও বেঁচে থাকতে পারে। সেজন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা খুব দরকার। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সব থেকে বেশি কার্যকরী। যেকোনো ভাইরাসের গঠন দেখলে বোঝা যায় এরা কিছু ন্যানো পার্টিকেল বা খুব ক্ষুদ্র কণিকা নিয়ে গঠিত। এতে থাকে রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও লিপিড অর্থাৎ ফ্যাট বা চর্বির আস্তরণ বা পর্দা। সাবানে থাকা ক্ষার এই ফ্যাটের আস্তরণ গলিয়ে নষ্ট করে দেয়। ফলে ভেতরে থাকা বাকি অংশগুলো আর কাজ করে না। ভাইরাসটি মারা যায় বা বলা ভাল নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এর থেকেই বোঝা যায়, যে সাবানে ক্ষারীয় যত ধর্ম বেশি সেই সাবান ভাইরাস তাড়াতাড়ি নষ্ট করবে। এই জন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবানের ফেনা হাতে নিয়ে ঘষতে হবে।

এছাড়া সাবান জলে থাকা ফ্যাটের মতো এমফিফাইলস (amphiphiles) অনেকটা ভাইরাসের দেহের লিপিডের মতন।তাই সাবান জলে হাত ধুলে হাতের ত্বক ও ভাইরাসের মধ্যে কাজ করা ‘গ্লু’ বা জোড় আলাদা হয়ে যায়। ঠিক যেভাবে সাবান দিয়ে ধুলো ময়লা পরিষ্কার হয়। সাবান শুধু ভাইরাস দূর করে তাই নয়, ভাইরাসের দেহের প্রোটিন,লিপিড ও আর. এন.এ-এই তিনের জোড়টাও ভেঙে দেয়।ফলে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

কোন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হলে, ভাইরাসগুলো দ্রুত বিস্তার লাভ করে ও সজীব কোষগুলিকে নষ্ট করে। এই সময়ে হাঁচি,কাশির মাধ্যমে ফুসফুস থেকে কিছু ভাইরাস শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে।আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি, কাশি বা থুতু ফেললে যে জলবিন্দুগুলো (droplets) বেরিয়ে আসে তাতে থেকে যায় প্রচুর ভাইরাস। ঠিক এই জন্যই মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় একাধিক তথ্যে উঠে আসছে – মোটামুটি এই হাঁচি-কাশিতে নির্গত ভাইরাস যুক্ত জলবিন্দু মাস্ক না থাকলে ১০ মিটার অবধি যেতে পারে। (প্রসঙ্গত হাঁচি আমাদের ক্ষতি করে কিভাবে পড়ে নিতে পারেন এখানে।) তাই অন্তত ২ মিটার দূরে থাকতেই হবে। এই ক্ষুদ্র জলবিন্দুগুলো শুকিয়ে গেলেও ভাইরাস কিন্তু সক্রিয় থাকে। মানুষের ত্বক এই ভাইরাসের আদর্শ বাসস্থান। উদাহরণ স্বরূপ স্টিলের কোনো জিনিস স্পর্শ করলে তাতে আগে থেকেই লেগে থাকা ভাইরাস সঙ্গে সঙ্গে হাতে লেগে যায়। আর আমরা অভ্যাস বশত প্রতি ২-৫ মিনিট অন্তর মুখ, চোখ বা নাকে হাত দিই। তখনই আমাদের শরীরেও সংক্রমণ ঘটে। সেজন্য ঘন ঘন হাত ধোয়া খুব দরকার।

অন্যদিকে অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজারে সাধারণত ৬০-৮০% অ্যালকোহল (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইথানল) থাকে যারাও একই ভাবে ভাইরাসকে ধ্বংস করে। কিন্ত ভাইরাসকে অ্যালকোহলে ডুবতে হবে অর্থাৎ সব জায়গায় ভালো করে স্যানিটাইজার লাগাতে হবে। সেক্ষেত্রে সাবান জল অল্প নিয়ে ভালো করে ঘষে নিলেই কাজ হয়ে যাবে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে সুযোগ থাকলে সাবান জলেই হাত পরিষ্কার করুন।সাবান জলের সুযোগ একান্তই না থাকলে উপযুক্ত পরিমাণে অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। করোনা ভাইরাস দূর হয় কিভাবে ভাল করে বুঝে নেওয়ার পর আর হাত ধোয়ায় অবজ্ঞা করবেন না।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।