সববাংলায়

নেলি ব্লি

বিভাগঃ , ,

সাংবাদিকতার ইতিহাস রচনা করলে যেসব দুঃসাহসিক সংবাদকর্মীদের নাম উঠে আসবে তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন আমেরিকান সাংবাদিক নেলি ব্লি (Nellie Bly)। অবশ্য তাঁর প্রকৃত নাম ছিল এলিজাবেথ জেন কোচরান (Elizabeth Jane Cochran)। তিনি জুলভার্নের কাল্পনিক চরিত্র ফিলিয়াস ফগ-এর অনুকরণে ৭২ দিনে সারা বিশ্ব ভ্রমণের একটি রেকর্ড করেছিলেন। তিনি আমেরিকার প্রথম মহিলা সংবাদদাতা ছিলেন যিনি যুদ্ধের খবরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নেলি সাংবাদিকতার জগতে এনেছিলেন এক যুগান্তকারী বিপ্লব। গোপনে এক মানসিক স্বাস্থ্যের হাসপাতালে গিয়ে সেখানকার নারকীয় অবস্থার রিপোর্ট তুলে এনে প্রকাশ করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। তাঁর সংবাদের জেরেই মানসিক স্বাস্থ্য শিবিরগুলির উন্নতিতে মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই ছদ্মবেশে বা গোপনে গোয়েন্দা-তদন্তের মতো করে সংবাদ সংগ্রহের যে ঘরানার সূচনা নেলি ব্লি করেছিলেন তা সাংবাদিকতার এক অন্য দিগন্ত উন্মোচিত করে দিয়েছিল।

১৮৬৪ সালের ৫ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্গত পিটসবার্গের ৪০ মাইল উত্তর-পূর্বে পেনসিলভানিয়ার কোচরান্স মিলসে এলিজাবেথ জেন কোচরান ওরফে নেলি ব্লি-র জন্ম হয়। তাঁর পিতা মাইকেল কোচরান একজন শ্রমিক ও মিলের কর্মী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে একটি মিলের মালিক হন তিনি। এছাড়াও মাইকেল আর্মস্ট্রং কাউন্টির একজন সহযোগী বিচারকও ছিলেন। নেলির যখন ছয় বছর বয়স তখন তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। মাইকেলের সম্মানেই শহরটির নাম পিটস মিলস থেকে কোচরান্স মিলস রাখা হয়। মাইকেল দুটি বিবাহ করেছিলেন। প্রথম পক্ষের স্ত্রী ক্যাথরিন মারফির (Catherine Murphy) ছিল দশটি সন্তান এবং দ্বিতীয় পক্ষ মেরি জেন কেনেডির (Mary Jane Kennedy) ছিল পাঁচটি সন্তান। এই মেরি জেন কেনেডির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন নেলি ব্লি। স্বামীর মৃত্যুর পর আবারও বিবাহ করেছিলেন মেরি জেন কেনেডি, কিন্তু ১৮৭৮ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল।

ছোটবেলায় খুব গোলাপী রঙের জামাকাপড় পরতে পছন্দ করতেন বলে নেলি ব্লিকে সকলে ‘পিঙ্কি’ নামে ডাকত। যদিও কিশোরী হয়ে ওঠার পর নিজের একটি পরিশীলিত ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি এবং এই ডাকনামটি ছেঁটে ফেলবার চেষ্টা করেন।

১৮৭৯ সালে নেলি ইন্ডিয়ানা নর্মাল স্কুলে (বর্তমানে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া) ভর্তি হয়েছিলেন পড়াশোনার জন্য। এই স্কুলে পড়াকালীন আর্থিক সংকটের মধ্যে ছিল তাঁদের পরিবার, ফলে, মাত্র একটি টার্মের পর স্কুল ছেড়ে দিতে হয় নেলিকে। এরপর মায়ের সঙ্গে ১৮৮০ সালে অ্যালেগেনি সিটিতে চলে যান যেটি পরে পিটসবার্গ শহর দ্বারা সংযুক্ত হয়। সেখানে তাঁর বড় দুই ভাই বসতি স্থাপন করেছিলেন।

পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করবার জন্য কাজের সন্ধান করতে থাকেন নেলি। কিন্তু সম্ভবত অল্পশিক্ষার কারণেই খুব একটা কাজের সুযোগ তখন তিনি পাননি। সেইসময়, ১৮৮৫ সালে ‘পিটসবার্গ ডিসপ্যাচ’ নামক সংবাদপত্রে ‘হোয়াট গার্লস আর গুড ফর’ শিরোনামের একটি কলামে লেখা হয় যে, মেয়েদের কাজ মূলত ঘর সামলানো এবং সন্তান জন্ম দেওয়া। এই লেখার সঙ্গে নেলির তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়। তিনি তখন ‘লোনলি অরফান গার্ল’ ছদ্মনামে উক্ত কলামটির একটি প্রতিক্রিয়া লেখেন এবং পত্রিকা দপ্তরে পাঠিয়ে দেন। নেলি ব্লি-র যুক্তি ও আবেগপূর্ণ সেই লেখাটি সংবাদপত্রের সম্পাদক জর্জ ম্যাডেনকে মুগ্ধ করে এবং তিনি লেখককে তাঁর সত্যিকার পরিচয় প্রকাশ করতে বলে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। নেলি তখন নিজে সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করেন। জর্জ তখন নেলিকে তাঁর পূর্বোক্ত ছদ্মনামেই আরেকটি লেখা লেখবার সুযোগ দেন। সেই ‘পিটসবার্গ ডিসপ্যাচ’-এর জন্য নেলির প্রথম প্রবন্ধ ‘দ্য গার্ল পাজেল’-এ নেলি লেখেন যে, সমস্ত মহিলারাই বিয়ে করতে চায় না এবং যেটা দরকার তা হল মেয়েদের জন্য ভাল চাকরি। তাঁর দ্বিতীয় প্রবন্ধ ‘ম্যাড ম্যারেজ’-এ নেলি বিবাহবিচ্ছেদ মেয়েদের কীভাবে প্রভাবিত করে সেই সম্পর্কে লেখেন। এই লেখায় তিনি বিবাহবিচ্ছেদ আইনের সংস্কারের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। এই ‘ম্যাড ম্যারেজ’ প্রবন্ধটি কিন্তু ‘লোনলি অরফান গার্ল’ ছদ্মনামে নয়, নেলি ব্লি নামে প্রকাশিত হয়েছিল। সেইসময় যেসব নারীরা সংবাদপত্রে লিখতেন তাঁদের একটি করে পোশাকি নাম (Pen Name) বেছে নিতে হত। এলিজাবেথের জন্য সম্পাদক জর্জ ম্যাডেন স্টিফেন ফস্টারের জনপ্রিয় গান ‘নেলি ব্লি’-এর থেকেই এই নামটি নিয়েছিলেন। নেলির ভিতরকার সাংবাদিক সত্ত্বা এবং লেখার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ম্যাডেন তাঁকে ফুলটাইম চাকরির প্রস্তাব দেন।

প্রথমদিকে, পিটসবার্গ ডিসপ্যাচের জন্য নেলি শ্রমজীবী মহিলাদের জীবনের ওপর লেখালেখি করেছিলেন। এছাড়াও মহিলা কারখানার শ্রমিকদের ওপর অনুসন্ধানমূলক নিবন্ধ লিখেছিলেন তিনি৷ তাঁর লেখায় যে নগ্ন সত্য উন্মোচিত হয়েছিল তা ওই কারখানাটি ভালভাবে নেয়নি এবং পত্রিকার অফিসে নেলির লেখার বিরুদ্ধে কারখানার তরফে অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগের জেরেই নেলিকে কিছুদিনের মধ্যেই নারীদের ফ্যাশান, সমাজ, বাগান ইত্যাদি বিভাগগুলিতে কাজের জন্য স্থানান্তরিত করে দেওয়া হয়। ফলত, তিনি অসন্তুষ্ট হন। সেই ২১ বছর বয়সেই তিনি এমন কিছু করতে চাইতেন যা ইতিপূর্বে আর কোন মেয়ে করেনি। এরপরে বিদেশি সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করবার জন্য নেলি মেক্সিকো ভ্রমণ করেন এবং মেক্সিকান জনগণের জীবনযাপন ও রীতিনীতি সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি করতে প্রায় অর্ধেক বছর অতিবাহিত করেন। তাঁর সেইসব অমূল্য প্রতিবেদনগুলি নিয়ে পরবর্তীকালে যে বইটি প্রকাশিত হয়েছিল, তার নাম ‘সিক্স মান্থস ইন মেক্সিকো’। একটি প্রতিবেদনে মেক্সিকোর এক সাংবাদিককে স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিবাদের জন্য কারারুদ্ধ করবার ঘটনাকে সমালোচনা করেছেন নেলি। মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে পারলে তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেয় এবং দেশত্যাগ করতে প্ররোচিত করে।

আরও বিস্তৃত কর্মজীবনের সন্ধানে নেলি ১৮৮৭ সালে পিটসবার্গ ডিসপ্যাচ ছেড়ে চলে যান নিউইয়র্কে। অনেক পত্রিকা থেকে প্রত্যাখ্যান পান তিনি, কারণ সম্পাদকেরা একজন মহিলাকে নিয়োগ করবার বিষয়ে সন্দিগ্ধ ছিলেন। চারমাস পর তিনি জোসেফ পুলিৎজারের নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ডের অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে একটি গোপন অ্যাসাইনমেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর অ্যাসাইনমেন্টটি ছিল তৎকালীন ব্ল্যাকওয়েলস দ্বীপে অবস্থিত মহিলাদের একটি পাগলাগারদের অভ্যন্তরীন বর্বরতা, অমানবিকতা, অবহেলার তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করা। এরজন্য তিনি নিজেও ছদ্ম উন্মাদের মতো আচরণ করে সেই মেন্টাল অ্যাসাইলামে ভর্তি হয়েছিলেন। যদিও সেখানে প্রবেশ করা তাঁর পক্ষে সহজ কাজ ছিল না। প্রথমত তিনি ‘টেম্পোরারি হোমস ফর ফিমেলস’ নামে একটি বোর্ডিং হাউসে নিজেকে পরীক্ষা  করবার জন্য এবং অপ্রকৃতিস্থ প্রমাণের জন্য প্রবেশ করেন। সারা রাত না ঘুমিয়ে জেগে থাকেন নেলি, যাতে তাঁর চোখগুলিকে উন্মাদের মতো দেখায়, চেহারায় একটা বিরক্তিকর ভাব ফুটে ওঠে। সফল হলেন তিনি, বোর্ডাররা তাঁকে উন্মাদ বলে অভিযোগ করতে শুরু করেন। নিজের বিছানায় যেতে অস্বীকার করেন তিনি, অন্যান্য বোর্ডাররাও তাঁর উপস্থিতিতে অস্বস্তি বোধ করতে থাকে। শেষে পুলিশ ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। একজন পুলিশ, একজন বিচারক এবং একজন ডাক্তার নেলিকে পরীক্ষা করেন এবং অবশেষে তাঁকে ব্ল্যাকওয়েলস দ্বীপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অ্যাসাইলামে নেলি নানা শোচনীয় অবস্থার সাক্ষী থাকেন। অবশেষে নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ডের নির্দেশে দশদিন পর নেলিকে মুক্তি দেওয়া হয়। ১৮৮৭ সালের ৯ অক্টোবর নেলি ব্লি-এর সেই বিখ্যাত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ‘টেন ডেইজ ইন আ ম্যাড-হাউস’ নামে তাঁর এই অভিজ্ঞতা বই আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। নেলি ব্লি-এর এই প্রতিবেদন এবং গ্রন্থ অ্যাসাইলামের সংস্কার সাধনের কাজকে বাস্তবায়িত করার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। আমেরিকান সংস্কৃতির উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। প্রান্তিক নারীদের অভিজ্ঞতা, জীবনযাপনের ওপর আলোকপাত করেছিলেন নেলি। তিনি সূচনা করেছিলেন তদন্তমূলক সাংবাদিকতার ঘরানা এবং স্টান্ট গার্ল সাংবাদিকতা। বিংশ শতাব্দীতে সাংবাদিকতার মূল ধারায় প্রবেশকারী প্রথম মহিলা হিসেবে বিবেচনা করা হয় নেলি ব্লি-কে।

১৮৮৮ সালে নেলি ‘নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ডে’র সম্পাদককে বলেন যে, তিনি সাহিত্যিক জুল ভার্নের ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ (১৮৭৩) কে বাস্তবে পরিণত করার জন্য বিশ্বভ্রমণ করবেন। ১৮৮৯ সালের ১৪ নভেম্বর মাত্র দুদিনের নোটিশে, দুটি পোশাক ও একটি ব্যাগ নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি থেকে হামবুর্গ আমেরিকা লাইনের একটি স্টিমার অগাস্টা ভিক্টোরিয়াতে আরোহণ করে বিশ্বভ্রমণের জন্য যাত্রা করেন। প্রায় ৪০,০৭০ কিলোমিটার যাত্রা করেছিলেন তিনি। সেসময় নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড একটি খেলার আয়োজন করেছিল, যেখানে পাঠকদের নেলির ফিরে আসবার সময় অনুমান করতে বলা হয়েছিল এবং পুরস্কার হিসেবে ছিল ইউরোপ ভ্রমণ। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের সময় নেলি ব্লি ইংল্যান্ড, ফ্রান্স (যেখানে তিনি অ্যামিয়েন্সে জুলেভার্নের সাথে দেখা করেছিলেন এবং তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন), ব্রিন্ডিসি, সুয়েজ খাল, কলম্বো (সিলনে), পেনাং ও সিঙ্গাপুরের প্রণালী, হংকং এবং জাপানের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেছিলেন। নেলি বাহাত্তর দিন, ছয় ঘন্টা, এগারো মিনিট এবং চৌদ্দ সেকেন্ড পরে নিউইয়র্কে ফিরে এসেছিলেন। ‘নেলি ব্লি’স বুক: অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন সেভেন্টি-টু ডেইজ’ নামক গ্রন্থে এই বিশ্বভ্রমণের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ রয়েছে।

১৮৯৩ সালে নেলি উন্মাদ সিরিয়াল কিলার লিজি হ্যালিডের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়াও ওম্যান সাফরেজ পার্টির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বেলভা লকউড ছাড়াও ইউজিন ডেবস এবং এমা গোল্ডম্যানের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন তিনি। নেলি নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ডের কাজ ছেড়ে দিয়ে নিউইয়র্কের নর্মান মুনরোর সাপ্তাহিক ‘নিউইয়র্ক ফ্যামিলি স্টোরি পেপার’-এর জন্য তিনবছর সিরিয়াল ফিকশন লিখেছিলেন। ১৮৮৯ থেকে ১৮৯৫ সালের মধ্যে নেলি এগারোটি উপন্যাস লিখেছিলেন।

১৮৯৫ সালে তিনি টাইমস-হেরাল্ডের সাথে শিকাগোতে একটি কাজের জন্য নিউইয়র্ক ছেড়ে যান। সেখানে ছয়মাস ছিলেন তিনি। সেখানেই কোটিপতি ও শিল্পপতি ৭০ বছর বয়সী রবার্ট সিম্যানের (Robert Seaman) সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল তাঁর। দুই সপ্তাহের মধ্যে রবার্টকে বিবাহ করেন নেলি, তাঁর তখন ৩১ বছর বয়স।

১৮৯৬ সালে নেলি একটি নিবন্ধ লেখেন যার বিষয় ছিল, কেন স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধে নারীদের লড়াই করা উচিত।

অচিরেই স্বামীর ব্যাবসার প্রতিও আগ্রহী হয়ে ওঠেন নেলি। ১৯০৪ সালে রবার্টের মৃত্যু হলে স্বামীর আয়রন ক্ল্যাড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নেলি। এই কোম্পানি মূলত দুধের ক্যান এবং বয়লারের মতো স্টিলের পাত্র তৈরি করত। ১৯০৪ সালেই কোম্পানি স্টিলের ব্যারেল তৈরি করতে শুরু করে যা ৫৫-গ্যালন তেলের ড্রামের মডেল ছিল যা এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। নেলি এমনও দাবি করেছিলেন যে, ব্যারেল তাঁরই আবিষ্কার, যদিও তা গ্রাহ্য হয়নি। কিছু সময়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় নারী শিল্পপতিদের একজন ছিলেন তিনি। তবে নেলির অবহেলা এবং কোম্পানির একজন ম্যানেজার কর্তৃক প্রতারণার কারণে কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যায়।

এই সময় নেলি ‘নিউইয়র্ক ইভনিং জার্নালে’ লিখতে শুরু করেন। ন্যায়বিচারে বাধা দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতে ১৯১৪ সালে নেলি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় পালিয়ে যান, যেখানে তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। স্বচক্ষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা দেখে ইভনিং জার্নালে কয়েকটি নিবন্ধ লেখেন তিনি। সার্বিয়া-অস্ট্রিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রও পরিদর্শন করেছিলেন তিনি, এমনকি, অস্ট্রিয়াকে “বলশেভিকদের” হাত থেকে বাঁচাতে মার্কিন সহায়তার প্রচার করেছেন। ব্রিটিশ গুপ্তচর ভেবে ভুলবশত তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। সেসময় যুদ্ধ-সাংবাদিকতা করা প্রথম মহিলা ছিলেন তিনিই।

১৯১৯ সালে যুদ্ধ শেষে নিউইয়র্কে ফিরে আসেন নেলি। ইভনিং জার্নালে লেখবার পাশাপাশি অনাথ শিশুদের অরফানে রাখবার ব্যবস্থার কাজে সাহায্য করতেন এবং ৫৭ বছর বয়সে একটি অনাথ শিশুকে দত্তকও নিয়েছিলেন।

১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি নিউমোনিয়ায় নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট মার্কস হাসপাতালে ৫৭ বছর বয়সে এই মহান সাংবাদিক নেলি ব্লি-এর মৃত্যু হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading