সববাংলায়

নীলরতন ধর

বিভাগঃ , ,

নীলরতন ধর (Nil Ratan Dhar) একজন বিস্মৃতপ্রায় বাঙালি রসায়নবিজ্ঞানী যিনি মূলত ‘ফটোকেমিক্যাল নাইট্রোজেন ফিক্সেশন’ আবিষ্কার করার জন্য বিখ্যাত। এছাড়া তিনিই ভারতে প্রথম ভৌত-রসায়নচর্চা নিয়ে বিশ্বমানের গবেষণা শুরু করেন। দেশ-বিদেশের একাধিক সায়েন্স অ্যাকাডেমির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন নীল রতন ধর। তাছাড়া নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এলাহাবাদে প্রতিষ্ঠা করেন একটি মৃত্তিকা গবেষণাকেন্দ্র যার বর্তমান নাম ‘শীলা ধর ইনস্টিটিউট অফ সয়েল’।

১৮৯২ সালের ২ জানুয়ারি বর্তমান বাংলাদেশের যশোরে নীলরতন ধরের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম প্রসন্নকুমার ধর ও মায়ের নাম নীরোদমোহিনী দেবী। তাঁর বাবা ছিলেন যশোরের বিখ্যাত উকিল। এছাড়া তিনি স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাবা-মায়ের ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে ছিল। তাঁর বড় দাদা অমূল্যরতন ছিলেন বিখ্যাত উকিল; মেজ দাদা জীবন রতন ছিলেন জনপ্রিয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাজজনীতিবিদ যিনি বিধান রায়ের মন্ত্রীসভায় মন্ত্রীও হয়েছিলেন। তাঁর দুই ভাই প্রসন্নরতন ও নির্মলরতন যথাক্রমে ঔষধ প্রস্তুতকারক ও সরকারি চাকুরে ছিলেন। ১৯৩০ সালে নীলরতন শীলা রায়কে বিয়ে করেন আর শীলা দেবীর ক্যান্সারে মৃত্যু হলে ১৯৫০ সালে তিনি মীরা চট্টোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন।

এক নজরে নীলরতন ধরের জীবনী:

  • জন্ম: ২ জানুয়ারি, ১৮৯২
  • মৃত্যু: ৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৬
  • কেন বিখ্যাত: ভারতে ভৌত রসায়নবিদ্যার জনক বলে পরিচিত নীলরতন ধর। তিনি ‘ফটোকেমিক্যাল নাইট্রোজেন ফিক্সেশন’ আবিষ্কার করার জন্য বিখ্যাত। তাঁর তৈরি ‘শীলা ধর ইনস্টিটিউট অফ সয়েল’ ভারতে মৃত্তিকা গবেষণা ও কৃষিবিদ্যার জন্য বিখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বই – ‘আমাদের খাদ্য’, ‘জমির উর্বরতা বৃদ্ধির উপায়’।
  • পুরস্কার ও স্বীকৃতি: দেশ বিদেশের নানা প্রতিষ্ঠান থেকে সাম্মানিক ডিএসসি খেতাব পেয়েছেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – লন্ডন, কলকাতা, বেনারস, গোরক্ষপুর, বিশ্বভারতী, এলাহাবাদ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বিদেশি হলেও ফ্রান্স থেকে ‘স্টেট ডক্টরেট’ পান। চার বার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন এবং ৩ বার নোবেল পুরস্কার নির্বাচন কমিটিতে ছিলেন।

নীলরতন ধর ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। নিজের শিক্ষাজীবনে সবসময়ই তিনি ক্লাসে প্রথম স্থান অর্জন করতেন। ১৮৯৭ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে নীলরতন ধর যশোর সরকারি জেলা স্কুলে ভর্তি হন। স্কুলে পড়াশোনা করার সময় থেকেই তিনি উচ্চশ্রেণির ছাত্রদের জন্য ইংরাজি, সংস্কৃত, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ে নানা প্রবন্ধ লিখে দিতেন। এরপর পনেরো বছর বয়সে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বৃত্তি নিয়ে উত্তীর্ণ হন। এইসময় নীলরতন ধর যশোর ছেড়ে কলকাতায় চলে আসেন। কলকাতায় তিনি ড.রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে একসাথে হিন্দু হোস্টেলে থাকতেন। কলকাতার রিপন কলেজে নীলরতন ধরের নেতৃত্বে সব ছাত্ররা মিলে একটা ছোট ল্যাবরেটরির ব্যবস্থা করেছিল। সেখানে নীলরতন সিলভার নাইট্রেট ও গোল্ড ক্লোরাইডের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করান। এই ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানের নানা রকমের গবেষণাগুলি হাতেকলমে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা ছিল। এইসময় তিনি ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দা কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’-এ (Indian Association for the Cultivation of Science) নিয়মিত বিজ্ঞান বিষয়ক বক্তৃতা শুনতে যেতেন।

১৯০৯ সালে তিনি আইএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্নাতক স্তরে প্রেসিডেন্সি কলেজের রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯১১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে স্নাতক হন ও স্বর্ণপদক লাভ করেন। এইসময় নীলরতন ধর বিজ্ঞান জগতের দিকপাল আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু প্রফুল্লচন্দ্র রায়কে শিক্ষক হিসাবে পেয়েছিলেন। ১৯১৩ সালে তিনি ওই কলেজ থেকেই এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এই পরীক্ষাতেও তিনি প্রথম হন এবং এমএ, এমএসসি সকল ছাত্রছাত্রীর মধ্যে সব থেকে বেশি নম্বর পান। এইসময়ই তিনি ভৌত রসায়ন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তিনি এমএসসি পড়ার সময়ই প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে নাইট্রাইট বিষয়ের উপর গবেষণা শুরু করেন এবং প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে যৌথভাবে চারটি ও স্বতন্ত্র ভাবে চোদ্দটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অন্যতম প্রিয় ছাত্র। মেধাবী ছাত্র নীলরতন ধর নিজের শিক্ষাজীবনে অনেক বৃত্তি ও স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে নীলরতন ধর স্বাধীনভাবে গবেষণা শুরু করেছিলেন। ১৯১৫ সালে স্টেট স্কলারশিপ নিয়ে তিনি লন্ডনে যান এবং সেখানে ‘ইম্পিরিয়াল কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (Imperial College Of Science And Technology) কলেজের অধ্যাপক জে.সি.ফিলিপের (J.C.Phillips) সঙ্গে গবেষণা শুরু করেন। ১৯১৭ সালে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিএসসি ডিগ্রি পান। এরপর তিনি ফ্রান্সের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের (Sorbonne University) প্রফেসর জর্জেস আরবাইনের (Georges Urbain) সঙ্গে কাজ করেন। সেখানে তাঁর অসাধারণ কাজের জন্য বিদেশি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ ডিগ্রি ‘স্টেট ডক্টরেট’ দেওয়া হয়।

দেশে ফিরে তিনি ‘ইন্ডিয়ান এডুকেশনাল সার্ভিস’-এর মাধ্যমে এলাহাবাদ মুরি সেন্ট্রাল কলেজের (বর্তমানে এটি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত) অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন। এই কলেজে তিনি স্নাতক স্তরের ছাত্রদের রসায়নবিদ্যা পড়াতেন। ১৯১৯ সালের পর তিনি ওই কলেজের রসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্রদের এমএসসি পড়ার ব্যবস্থা করেন, এর আগে ওই কলেজের ছাত্রদের এমএসসি সম্পূর্ণ করার কোনও সুযোগ ছিল না। তিনি “ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সয়েল সায়েন্স” নামে গবেষণার সুবিধাযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন যা ১৯৩৫ সালে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেন। ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর স্ত্রী শীলা ধরের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘শীলা ধর ইনস্টিটিউট অব সয়েল সায়েন্স’ (Sheila Dhar Institute of Soil Science) করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শীলা ধর-ও বিখ্যাত ভৌত-রসায়নবিদ ছিলেন।

১৯৩৫ সালে ও পরবর্তীকালে ১৯৩৭ সালে ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’ কলেজে তিনি তাঁর আবিষ্কৃত ‘ফটোকেমিক্যাল নাইট্রোজেন ফিক্সেশন’ (photochemical nitrogen fixation) সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন। এর আগে মাটিতে পশুর মল ও অন্যান্য জৈব পদার্থ দিলেও সেগুলি কীভাবে কাজ করে তা জানা ছিল না। তিনিই প্রথম এই নাইট্রোজেন চক্রের ব্যাখা দেন। তিনি দেখান যে ক্যালশিয়াম ফসফেটের উপস্থিতিতে জৈব সার কীভাবে সূর্যের আলোর সাহায্যে বাতাসের নাইট্রোজেনকে মাটির সাথে যুক্ত করে গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। এছাড়া তিনি নিজের এই গবেষণাপত্র নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়েও বক্তৃতা দেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞানের উপর নীলরতন ধরের এই গবেষণাপত্র দেখে ‘ইন্টারন্যাশনাল সয়েল সাইন্স কংগ্রেস’-এর সভাপতি প্রফেসর ভিক্টর আব্রামোভিচ কোভডা (Viktor Abramovich Kovda) নোবেল পুরস্কারের জন্য নীলরতন ধরের নাম সুপারিশ করেছিলেন।

ভারতে ভৌত রসায়ন বিজ্ঞানচর্চা ও মৃত্তিকা গবেষণাকে জনপ্রিয় করেন তিনিই। তাই অনেকে তাঁকে ‘ভারতীয় ভৌত রসায়নের জনক’ বলেও অভিহিত করেন। নীলরতন বাবু নিজের গবেষণার ফলাফলকে কেবলমাত্র ল্যাবরেটরির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি বরং তা যাতে সাধারণ মানুষের কাজে লাগে তাও তিনি লক্ষ রাখতেন। তিনি দেখেছিলেন এলাহাবাদের কিছু পতিত জমিতে একেবারে চাষ হয় না। তিনি ওই অঞ্চলের মাটি পরীক্ষা করে দেখেন যে সেই অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত ক্ষারীয়। তাই তিনি চিনিকল থেকে উৎপাদিত বর্জ্য প্রেস মাডের সঙ্গে অন্যান্য জৈব পদার্থ মিশিয়ে তা জমিতে ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ওই মিশ্রণ ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই জমি চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে। তিনি নিজের কর্মজীবনে প্রায় ৬০০টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ইউরোপ ও ইংল্যান্ডের নানা প্রতিষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন। লন্ডন, কেমব্রিজ, এডিনবার্গ, এবারডীন, সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়েও বক্তৃতা দিতে যাওয়ার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হত। এছাড়া ১৯৬৮ সালে ইউনেস্কোর অনুরোধে তিনি রোমেও বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন। তিনি ভারতের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই বক্তৃতা দিয়েছেন। এছাড়া তিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বাংলা ও ইংরাজিতে নানান বই লিখেছেন। বাংলায় তাঁর লেখা বিখ্যাত বইগুলি হল- ‘আমাদের খাদ্য’, ‘জমির উর্বরতা বৃদ্ধির উপায়’ ইত্যাদি।

নীলরতন ধর ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি নিজের ছাত্রদের সিলেবাসের পাশাপাশি বাস্তবে বিজ্ঞানকে কীভাবে প্রয়োগ করতে হয় সেই বিষয়েও পরামর্শ দিতেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রায় দেড়শো জন গবেষক ডিএসসি ও ডিফিল ডিগ্রি লাভ করে। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে ড. নিত্যগোপাল চ্যাটার্জী, ড. ক্ষিতীশচন্দ্র সেন প্রমুখ বিজ্ঞানী ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।

নীলরতন ধর ভারতে ও বিদেশের নানা বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও সভাপতি ছিলেন। ১৯১৯ সালে তিনি ‘রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ কেমিস্ট্রি’-র ফেলো নিযুক্ত হন। তিনি ‘ইন্ডিয়ান সাইন্স কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি ছিলেন। তারপর তিনি ‘ইন্ডিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সভাপতি, ‘দ্যা ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সস’-এর সদস্য, ‘জাতীয় বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সভাপতি পদে নিযুক্ত হন। এছাড়া তিনি ‘ফ্রেঞ্চ অ্যাকাডেমি অফ এগ্রিকালচার’ -এর একমাত্র বিদেশি সদস্য ছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি ভারতের ‘সোসাইটি অফ বাইওলজিক্যাল কেমিষ্টিস’-এর সদস্য নিযুক্ত হন। তিনি নিজে নোবেল পুরস্কার না পেলেও তিন বার (১৯৩৮ সাল, ১৯৪৭ সাল ও ১৯৫২ সাল) নোবেল পুরস্কার কমিটির রসায়ন বিভাগের নির্বাচক ছিলেন।

লন্ডন বিশ্ব বিদ্যালয়ের ডিএসসি ও ফ্রান্সের ‘স্টেট ডক্টরাল’ ছাড়াও কলকাতা, বেনারস, গোরক্ষপুর, বিশ্বভারতী, এলাহাবাদ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডিএসসি ডিগ্রি প্রদান করে। তিনি চার বার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও নোবেল পুরস্কার পাননি। তিনি নিজের উপার্জিত অর্থের এক বিরাট অংশ চিত্তরঞ্জন সেবা সদন, এলাহাবাদ ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেছিলেন। এছাড়া তিনি মুসৌরির বারলোগঞ্জের বাড়িটি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমকে দান করেছেন।

১৯৮৬ সালের ৫ ডিসেম্বর কলকাতায় নীলরতন ধরের মৃত্যু হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. ·      https://insaindia.res.in/
  2. ·      https://www.anandabazar.com/
  3. ·      https://www.bigganchinta.com/
  4. ·      https://en.wikipedia.org/
  5. ·      https://blog.subharti.org/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading