সববাংলায়

অসহযোগ আন্দোলন

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশী আন্দোলনের পরেই মনে পড়ে অসহযোগ আন্দোলনের (Non-cooperation Movement) কথা। এর আরেকটু বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে এই কারণে যে, অসহযোগ আন্দোলন মহাত্মা গান্ধী সংগঠিত প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এক আন্দোলন ছিল। কোনরকম সশস্ত্র পথে নয় বরং অহিংসা এবং ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসহযোগিতা — এই ছিল অসহযোগ আন্দোলনের দর্শন। কংগ্রেসের ‘আবেদন-নিবেদন’ নীতির ভিক্ষাবৃত্তির পথ থেকে সরে এসে অসহযোগ আন্দোলন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের আহ্বান জানিয়েছিল। গান্ধীজী তাঁর সত্যাগ্রহ নীতির দ্বারা এই আন্দোলনকে চালিত করে স্বরাজ অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থী দুই শিবিরের মধ্যেও একটা সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছিলেন। চরকা এবং খাদি এই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই অসহযোগ আন্দোলন থেকেই জাতীয় কংগ্রেসের যেমন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, তেমনই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনও এক দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল।

১৯২০ সাল থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত ছিল অসহযোগ আন্দোলনের মেয়াদ। তবে এই অল্প সময়ের মধ্যেই গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী এক গণজাগরণের সূচনা হয়েছিল। অসহযোগ আন্দোলনের নেপথ্যে বেশ কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনেতিক কারণ ছিল, যা এই আন্দোলনকে অবশ্যসম্ভাবী করে তুলেছিল।

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হলে গান্ধীজীর আহ্বানেই প্রচুর ভারতীয় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে সেই যুদ্ধে যোগদান করেছিল। ঐতিহাসিক হিসেব অনুযায়ী প্রায় ১২.৫ লক্ষ ভারতীয় যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল এবং প্রায় ১০ হাজারের মৃত্যু হয়েছিল। এমনকি যুদ্ধ-তহবিলে ভারতীয়রা সর্বমোট ৬ কোটি ২১ লক্ষ পাউন্ড চাঁদাও দিয়েছিল। এতকিছুর বদলে ভারতীয়রা আশা করেছিল যে ব্রিটিশ সরকার তাদের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করবে, কিন্তু যুদ্ধ অবসানের পর সরকার তাদের কথা রাখেনি বরং মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কারের মতো এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল যা ভারতীয়দের পক্ষে নৈরাশ্যজনক ছিল।

এছাড়াও বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে দেশে জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। সেইসঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বও বৃদ্ধি পেতে থাকে। কৃষক তার উৎপাদিত ফসল স্বল্পমূল্যে মহাজনের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। শিল্পদ্রব্যের দাম বাড়লেও শ্রমিকের রোজগার কিন্তু বাড়েনি। যুদ্ধের সময় ভারতে ব্রিটিশ পণ্য আমদানি বন্ধ হলে দেশীয় শিল্পবিস্তারে সরকার ভারতীয়দের উৎসাহ দিলেও যুদ্ধ শেষের পর সেগুলির ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করতে থাকে এবং নতুন শিল্প নির্মাণে বাধা দেয়। ফলত সঙ্গত কারণেই ভারতবাসীর মনে ক্ষোভ জমতে থাকে।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে একদিকে রুশ বিপ্লবের সাফল্য, আয়ারল্যান্ডের ‘সিনফিন’ আন্দোলন, অন্যদিকে মিশরে জগলুল পাশার নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থান ভারতীয়দের মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল। তবে অসহযোগ আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছিল দুটি ন্যক্কারজনক ঘটনা, একটি হল কুখ্যাত রাওলাট আইন প্রবর্তন এবং অন্যটি পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকান্ড। এই দুই ঘটনার প্রভাব ভারতবাসীর মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। এমন একটা সময়ে দাঁড়িয়ে ভারতবর্ষের প্রধান রাজনৈতিক দল জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষে চুপ করে থাকা সম্ভব ছিল না। অন্যদিকে খিলাফত আন্দোলন হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে যে ঐক্য গঠন করে দিয়েছিল, তাও গান্ধীজীকে এই উত্তাল সময়ের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এক গণ-আন্দোলনের ডাক দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।

১৯২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লালা লাজপত রাইয়ের সভাপতিত্বে কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের ‘বিশেষ অধিবেশন’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানেই গান্ধীজী অসহযোগ আন্দোলনের পরিকল্পনা পেশ করেন এবং ‘স্বরাজ’কে রাজনৈতিক আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন। যদিও স্বরাজ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহার করেছেন তা বিশ্লেষণ করে বলেননি তিনি, তবে হয়তো পূর্ণ স্বাধীনতার কথাই বলতে চেয়েছিলেন। চিত্তরঞ্জন দাশ, বিপিনচন্দ্র পালেরা গান্ধীজীর এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও অবশেষে তা পাশ হয়েছিল।

সেই বছরই ডিসেম্বর মাসে নাগপুরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের অধিবেশনে জিন্নাহ, অ্যানি বেসান্ত ও মদনমোহন মালব্যের বিরোধিতা সত্ত্বেও অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব পুনরায় অনুমোদিত হয়েছিল। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হিসেবে স্থির হয়, পাঞ্জাবে সংঘটিত অন্যায়ের প্রতিকার, খিলাফত সমস্যার সমাধান এবং স্বরাজ অর্জন। অহিংসার পথে স্বরাজ অর্জনের এই পন্থার মাধ্যমে গান্ধীজী কিন্তু কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যেও একটা মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে সশস্ত্র বিপ্লবীদের সঙ্গে কথাবার্তার ফলে ঠিক হয়েছিল যে, তাঁরা সবরকম হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে এক বছর বিরত থাকবেন এবং গান্ধীজী সেই এক বছরের মধ্যেই দেশকে স্বরাজ-এর লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন।

অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচীগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা চলে, যথা গঠনমূলক এবং ধ্বংসাত্মক। এই ধ্বংসাত্মক কর্মসূচীর মধ্যে ছিল মূলত ব্রিটিশ পণ্যের পাশাপাশি সরকারি চাকরি, অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, আইনসভা, আদালত সমস্তকিছুই বর্জন। সরকারি করদানও বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু কেবল পরিত্যাগই নয়, সেইসঙ্গে দেশীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, দেশীয় শিল্পের প্রসার ও প্রচার ঘটানো, চরকা ও খদ্দরের প্রচলন, হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে ঐক্য স্থাপন ইত্যাদি গঠনমূলক কর্মসূচীও ছিল অসহযোগ আন্দোলনের অংশ।

অন্ধ্রপ্রদেশে ৯২টি জাতীয় শিক্ষায়তন প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও গড়ে ওঠে ‘জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া’, ‘কাশী বিদ্যাপীঠ’, ‘বিহার বিদ্যাপীঠ’, ‘গুজরাট বিদ্যাপীঠ’, ‘বেঙ্গল ন্যাশানাল ইউনিভার্সিটি’র মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চরকা ও খাদিকে জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং জনসাধারণের মধ্যে চরকা বিলি করা হয়। গান্ধীজীর এমন এক আন্দোলনের আহ্বানে নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র, শ্রমিক-কৃষক সকলেই অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছিল। সরকারি স্কুল-কলেজ, আইন-আদালত ত্যাগ করে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। উত্তরপ্রদেশ, মাদ্রাজ, অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাবে কৃষক, শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। গুজরাটের বারদৌলি তালুকে কৃষকরা খাজনা বন্ধ আন্দোলন করেন। আসামে প্রায় ১২ হাজার চা-শ্রমিক ধর্মঘট করে।

জওহরলাল নেহেরু, পট্টভী সীতারামাইয়ার মতো মানুষরা যেমন নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে জলাঞ্জলি দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তেমনই এই আন্দোলনের মুসলমান নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সওকত আলি, মৌলানা মহম্মদ আলি প্রমুখরা। চিত্তরঞ্জন দাশ, মতিলাল নেহেরু, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী, রাজেন্দ্র প্রসাদরা তাঁদের আইন ব্যবসা পরিত্যাগ করে এই আন্দোলনে এসে যোগ দিয়েছিলেন। এমনকি নারীরা অন্দরমহলের অবগুণ্ঠন ভেঙে বেরিয়ে এসে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। বাসন্তী দেবী, সরোজিনী নাইডু, ঊর্মিলা দেবী প্রমুখরা এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯২১ সালে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠিত হয়েছিল, যারা গ্রাম-গঞ্জে গিয়ে অসহযোগ আন্দোলনের বার্তা ও আদর্শ ছড়িয়ে দিত।

ভারতব্যাপী এক মারাত্মক রূপ নেওয়া এই অসহযোগ আন্দোলনকে নানা দমন-পীড়নের মাধ্যমে রোধ করতে চাইছিল ব্রিটিশ সরকার। ফলে কারাগারগুলি বন্দীদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে ওঠে। সরকার খিলাফত ও কংগ্রেসে কমিটিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে। এমনকি সভা, সমিতি, মিছিল, সংবাদপত্র প্রভৃতির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অনেক জায়গায় পুলিশ লাঠির পাশাপাশি গুলিও চালিয়েছিল। ১৯২১ সালে প্রিন্স অব ওয়েলস ভারতে এলে মুম্বাই ও কলকাতায় সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের গুলিতে মুম্বাই শহরে ৫৩জন নিহত ও ৪০০জন আহত হয়েছিলেন। কলকাতায় তিন হাজার মানুষকে বন্দী করা হয়েছিল। চিত্তরঞ্জন দাশ সেই সময় মন্তব্য করেছিলেন, ‘সমস্ত ভারতই আজ এক বিশাল কারাগার।’ গান্ধীজী ছাড়া এই আন্দোলনের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ নেতাই গ্রেফতার হয়েছিলেন।

এতখানি বিস্তৃত হয়ে এক গণজাগরণের রূপ ধারণ করলেও গান্ধীজীকে বাধ্য হয়ে এই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছিল। এর কারণ ছিল বিশেষ একটি ঘটনা। ১৯২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা নামক স্থানে উত্তেজিত জনতা থানায় অগ্নিসংযোগ করে এবং তার ফলে ২২জন পুলিশ নিহত হয়। এই ঘটনা ইতিহাসে চৌরিচৌরা ঘটনা নামে পরিচিত। এমন এক হিংসাত্মক ঘটনার ফলে অসহযোগ আন্দোলনের যে আদর্শচ্যুতি ঘটল, তাতে গান্ধীজী অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছিলেন এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমন সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশে গান্ধীর জনপ্রিয়তা কিঞ্চিৎ হ্রাস পায় এবং সেই সময় ১০ মার্চ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। চিত্তরঞ্জন দাশ, মতিলাল নেহেরু, লালা লাজপৎ রায় প্রমুখরা এভাবে হঠাৎ আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা করেন। সুভাষচন্দ্র বসু এই ঘটনাটিকে ‘জাতীয় দুর্দৈব’ বলেছিলেন। প্রায় সর্বস্তর থেকেই গান্ধীজীর প্রতি নিন্দাবাক্য বর্ষিত হয়েছিল। তবে গান্ধীজী যে আদর্শ নিয়ে এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন তাকে বিপথে অর্থাৎ হিংসার পথে চলে যাওয়া থেকে আটকাতে এই প্রত্যাহার খুব একটা অযৌক্তিক বলেও মনে হয় না।

স্বরাজকে স্পর্শ করা না গেলেও এই আন্দোলন যে স্বরাজ অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল, তা বলা যায় নিঃসন্দেহে। এই আন্দোলনই সর্বপ্রথম এক সুসংবদ্ধ গণআন্দোলন হয়ে উঠতে পেরেছিল। শিক্ষিত সমাজ তো বটেই, অশিক্ষিত গ্রাম্য সমাজের প্রান্তিক মানুষেরাও এই আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচারী ব্রিটিশ রাজশক্তির স্বরূপ উপলব্ধি করতে পেরেছিল। চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং সাহসের সঙ্গে সমস্ত হতাশা কাটিয়ে জেগে উঠেছিল মানুষ, তখন তাদের কারাবরণেও কোনও ভয় ছিল না। এছাড়াও ভারতবর্ষে রাজনৈতিক দল হিসেবে কংগ্রেসের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছিল এই আন্দোলনের হাত ধরেই। আদতে ব্যর্থ হলেও অসহযোগ আন্দোলন যে জাগরণ ঘটিয়েছিল তা পরবর্তী সমস্ত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পথকে আরও সহজ করে দিয়েছিল।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. ‘স্বদেশ, সভ্যতা ও বিশ্ব’, জীবন মুখোপাধ্যায়, শ্রীধর পাবলিশার্স, কলকাতা, পুনর্মুদ্রণ, জানুয়ারি, ২০২১।
  2. https://en.m.wikipedia.org/
  3. https://vajiramandravi.com//
  4. https://www.india-a2z.com/
  5. https://www.mkgandhi.org/
  6. https://unacademy.com/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading