সববাংলায়

ঘুরে দেখুন বীরভূমের শক্তিপীঠ

একান্ন পিঠের সর্বাধিক পীঠ এই পশ্চিমবঙ্গেই অবস্থিত। আবার পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সর্বাধিক পীঠ অবস্থিত বীরভূম জেলায়। বীরভূমের শক্তিপীঠ সংখ্যা মোট ৬। তবে অনেকে তারাপীঠকে শক্তিপীঠ না ধরায় বীরভূমের শক্তিপীঠ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে মাতা সতী নিজের বাপের বাড়িতে বাবার কাছে স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে সেখানেই দেহত্যাগ করেছিলেন। মাতা সতীর দেহত্যাগের খবর মহাদেবের কাছে পৌঁছতেই মহাদেব সেখানে উপস্থিত হন। সতীর মৃতদেহ দেখে ক্রোধে উন্মত্ত মহাদেব সেই দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য চালু করেন। মহাদেবের তাণ্ডব নৃত্যে পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কায় শ্রীবিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দ্বারা মাতা সতীর দেহ একান্নটি খণ্ডে খণ্ডিত করেন।  সেই দেহখন্ডগুলোই যে যে স্থানে পড়েছিল সেখানে একটি করে সতীপীঠ বা শক্তিপীঠ প্রতিষ্ঠা হয়। তিন থেকে চার দিনে ঘুরে দেখুন বীরভূমের শক্তিপীঠ। এখানে রইল বিস্তারিত তালিকা।

১) বীরভূমের শক্তিপীঠ – তারাপীঠ

বীরভূম জেলায় রামপুরহাট শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে দ্বারকা নদীর তীরে অবস্থিত তারাপীঠ। অনেকে এটিকে সতীপীঠের অন্যতম একটি পীঠ হিসাবে ধরেন। তবে অনেকের মতে সেটা ঠিক নয় কারণ একে উপপীঠ হিসাবে ধরা হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে দেবী সতীর চোখের মণি বা তারা পড়েছিল। তারাপীঠে উৎসব গুলির মধ্যে “কৌশিকী অমাবস্যা”বেশ উল্লেখযোগ্য। এই সময়ে প্রচুর জনসমাগম হয়ে থাকে। শক্তিপীঠ তারাপীঠ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

এই পীঠকে সিদ্ধপীঠও বলা হয় কারণ প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে এখানে সাধনা করলে সর্বসিদ্ধি লাভ হয়ে থাকে। এখানে অসংখ্য সাধক সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছেন। তারাপীঠ, মা তারার মন্দিরের সঙ্গে তার পাশের মহাশ্মশানটির জন্যও বিখ্যাত। ট্রেনে যেতে হলে রামপুরহাট স্টেশনে নেমে সেখান থেকে গাড়ি করে যেতে পারেন। অনেকে বোলপুরে ঘুরতে গিয়েও সাইট সিইং হিসাবে তারাপীঠে ঘুরতে যান। থাকার জন্য অনেক জায়গা রয়েছে এখানে।

২) বীরভূমের শক্তিপীঠ – কঙ্কালিতলা

বোলপুর স্টেশনের উত্তর-পূর্বে ৮ কিমি দূরে কোপাই নদীর ধারে অবস্থিত কোপাই নদীর তীরে অবস্থিত কঙ্কালিতলা পীঠকে একান্ন সতীপীঠের শেষ পীঠ বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে দেবী সতীর কঙ্কাল পড়েছিল। মন্দিরের ডান দিকে রয়েছে একটি কুন্ড। বলা হয় এই কুণ্ডের জলেই নিমজ্জিত আছে মা সতীর কঙ্কাল। শক্তিপীঠ তারাপীঠ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

পূর্বে খোলা বেদীতে দেবীর পূজা করা হত। বর্তমানে এখানে মন্দির তৈরি করা হয়েছে। এখানে দেবীর কোনো মূর্তি নেই। এখানে রয়েছে শ্মশানকালীর বড় বাঁধানো একটি ছবি। ছবিতেই দেবীর পূজা করা হয়। ট্রেনে যেতে হলে বোলপুর স্টেশনে নেমে টোটো বা গাড়িতে করে চলে যান কঙ্কালিতলা। থাকার জায়গা বলতে শান্তিনিকেতনের কোন হোটেলে থেকে এখানে ঘুরতে যাওয়াটাই সবথেকে সুবিধার হবে।

৩) বীরভূমের শক্তিপীঠ – সাঁইথিয়ার নন্দিকেশ্বরী

বীরভূম জেলার সিউড়ি সাভ ডিভিশনের সাঁইথিয়া শহরে অবস্থিত নন্দিকেশ্বরী শক্তিপীঠ। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে দেবী সতীর কণ্ঠহার বা গলার নেকলেস পড়েছিল। সাঁইথিয়া জায়গাটি আগে নন্দিপুর নামে পরিচিত ছিল। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে দেবী নন্দিকেশ্বরীর নামেই এই শহরের নাম হয়েছিল নন্দিপুর। শক্তিপীঠ নন্দিকেশ্বরী নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

ট্রেনে গেলে সাঁইথিয়া জংশনে নেমে সেখান থেকে হাঁটাপথে নন্দিকেশ্বরী মন্দির। থাকার জন্য আশেপাশে কিছু লজ রয়েছে।

৪) বীরভূমের শক্তিপীঠ – নলহাটেশ্বরী

নলহাটি স্টেশনের নিকটবর্তী মা নলহাটেশ্বরী মন্দিরটি অবস্থিত। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে দেবী সতীর কণ্ঠনালী পড়েছিল। এই মন্দির একান্ন সতীপীঠের একটি ,আবার মতান্তরে একে উপপীঠও বলা হয়ে থাকে। শক্তিপীঠ নলহাটেশ্বরী নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

ট্রেনে যেতে হলে নলহাটি জংশনে নেমে অটোতে করে পনেরো মিনিটে মন্দিরে যাওয়া যায়। এখানে যেমন স্থানীয় বেশ কিছু থাকার জায়গা রয়েছে, তেমনই তারাপীঠে থেকেও অনেকেই তারাপীঠ থেকে গাড়ি ভাড়া করেও এই মন্দিরে ঘুরতে যান।।

৫) বীরভূমের শক্তিপীঠ – ফুল্লরা

লাভপুরে অবস্থিত ফুল্লরা মন্দির একান্ন সতীপীঠের একটি পীঠ। মতান্তরে এই পীঠকে উপপীঠ বলেও উল্লেখ করা হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে দেবী সতীর নিচের ঠোঁট পড়েছিল। এই মন্দিরের পাশে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে রাম যখন দেবী দুর্গার অকালবোধন করেন তখন হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি নীলপদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমায় এখানে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়। শক্তিপীঠ ফুল্লরা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

ট্রেনে যেতে হলে লাভপুর স্টেশনে নেমে টোটোতে এখানে যাওয়া যায়। তবে লাভপুরে প্রচুর ট্রেন না থাকায় সাঁইথিয়া জংশনে নেমে সেখান থেকে বাসে করে লাভপুর গিয়ে টোটোতে মন্দির যাওয়া যায়। থাকার জন্য আশেপাশে কিছু লজ রয়েছে।

৬) বীরভূমের শক্তিপীঠ – বক্রেশ্বর

সিউড়ি সদর মহকুমার দুবরাজপুর সম্প্রদায় উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত বক্রেশ্বর পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র উষ্ণ প্রস্রবণের কারণে বিখ্যাত। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে দেবী সতীর দুই ভ্রুর মধ্যবর্তী স্থান এখানে পড়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র উষ্ণ প্রস্রবণের কারণে বক্রেশ্বরের খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।

মূল মন্দিরটি আটটি উঞ্চ প্রস্রবনে ঘেরা যেগুলি বিভিন্ন রোগ নিরাময় করে এমন খনিজে পূর্ণ। শক্তিপীঠ বক্রেশ্বর নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে

ট্রেনে গেলে সিউরি স্টেশনে নেমে গাড়ি ধরতে হবে। বক্রেশ্বরের আশেপাশে প্রচুর থাকার হোটেল রয়েছে, কিছু পান্থশালা রয়েছে, এমনকি দু-তিনটে ধর্মশালাও রয়েছে।


সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব সংকলন

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading