পশ্চিমবঙ্গের নানাদিকে বহু প্রাচীন মন্দির ছড়ানো রয়েছে, ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকে যেগুলি অমূল্য। তবে একটি নির্দিষ্ট শহরের চতুর্দিকে একত্রে অসংখ্য ঐতিহাসিক মন্দিরের হদিশ পেতে হলে চলে যেতে হবে বিষ্ণুপুর। এই শহরটির প্রাচীনতার প্রমাণ রয়েছে ইতিহাসে। মল্ল রাজাদের শাসনামলে বিষ্ণুপুরে গড়ে ওঠা মন্দিরগুলি আজ ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পোড়ামাটির অর্থাৎ টেরাকোটার মন্দিরের প্রসঙ্গ উঠলেই বিষ্ণুপুরের কথা চলে আসে। পাথর বা সিমেন্টের পরিবর্তে টেরাকোটা ব্যবহার করে নির্মিত বিষ্ণুপুরের মন্দিরগুলি সত্যিই বিস্ময়ের উদ্রেক করে। এই শহরটি মন্দির শহর নামেও খ্যাত। তবে কেবল টেরাকোটার মন্দির নয়, হস্তশিল্পের জন্যও বিষ্ণুপুর বিখ্যাত। এখানকার বালুচরী শাড়ি খুবই বিখ্যাত। সব মিলিয়ে অবসর যাপনের জন্য ইতিহাসে ঘেরা এমন একটি প্রাচীন শহর বিষ্ণুপুর উপযুক্ত ভ্রমণস্থল হতে পারে।
বিষ্ণুপুর কোথায়
বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত একটি শহর বিষ্ণুপুর। এই শহরটি দামোদরের একটি উপনদী ধলেশ্বরী নদীর দক্ষিণে এবং বাঁকুড়ার প্রায় ১৮ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। কলকাতা থেকে বিষ্ণুপুরের দূরত্ব প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার, বর্ধমান থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার এবং শিলিগুড়ি থেকে বিষ্ণুপুরের দূরত্ব প্রায় ৫৬৩ কিলোমিটার।
বিষ্ণুপুরের ইতিহাস
কলকাতা শহর পত্তনেরও আগে মল্ল রাজাদের হাতে ৭৪৯ সালে বিষ্ণুপুর শহরের একরকম উৎপত্তি বলা চলে। প্রথম রাজা ছিলেন আদি মল্ল। মল্ল রাজারা বিষ্ণুর উপাসক ছিলেন বলেই এই জায়গার নাম হয়েছিল বিষ্ণুপুর। আদি মল্লের সময় রাজধানী ছিল কোতুলপুরে, কিন্তু পরবর্তীতে জয়মল্লের সময় তা এই বিষ্ণুপুরে স্থানান্তরিত হয়। ১৫৯১ থেকে ১৬১৬ সাল—এই সময়কালের মধ্যে বীর হাম্বিরের রাজত্ব ছিল, যিনি চৈতন্যদেবের শিষ্য শ্রীনিবাস আচার্যের কাছে বৈষ্ণবধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর গোটা বিষ্ণুপুর জুড়ে মন্দির নির্মাণ শুরু করেছিলেন। মূলত সপ্তদশ এবং অষ্টাদশ শতাব্দীতেই বিষ্ণুপুরের মন্দিরগুলি নির্মিত হয়েছিল।
ইতিহাস অনুযায়ী ১৭৪২ সালে বর্গি নামে পরিচিত মারাঠা দস্যুর দল বিষ্ণুপুর আক্রমণ করেছিল। সেই ভয়ংকর দস্যুদলের আক্রমণ প্রতিহত করেছিল মল্ল সেনারা। কিংবদন্তি অনুসারে, মারাঠা দস্যুদলের দুর্ধর্ষ ভাস্কর পন্ডিতকে রাজবাড়ির গৃহদেবতা মদনমোহন বিখ্যাত দলমাদল কামান দেগে বিতাড়িত করেছিলেন। বীর হাম্বিরের সঙ্গে যখন মোগল সম্রাটের ঘনিষ্ঠতা হয় তখন মুঘলদেরই সাহায্যে কামান তৈরির জন্য একটি আলাদা পল্লি তৈরি হয়েছিল বিষ্ণুপুরে, যা কামানটোলা নামে পরিচিতি লাভ করে। এখানে এককালে বিখ্যাত নর্তকী লালবাঈ, তানসেনের দৌহিত্র বাহাদুর খাঁ প্রমুখ নামজাদা মানুষ এসেছিলেন, তাই বিষ্ণুপুর দ্বিতীয় দিল্লীর আখ্যা পেয়েছিল। রাজা জগৎ মল্ল ৯৯৪ সালে বিষ্ণুপুরে প্রথম দুর্গাপূজার সূচনা করেছিলেন। রাধাকৃষ্ণের মন্দির, রাসমঞ্চ ইত্যাদিতে পূর্ণ এই বিষ্ণুপুর ‘গুপ্ত বৃন্দাবন’ নামেও পরিচিত।
বিষ্ণুপুর কীভাবে যাবেন
ট্রেনে করে বিষ্ণুপুর যেতে হলে পুরুলিয়া বা চক্রধরপুরগামী ট্রেনে উঠে বিষ্ণুপুর স্টেশনে নামতে হবে৷ সেখান থেকে গাড়ি বুক করে এই শহর ঘোরা যাবে।
বাসে করে সড়কপথে যেতে হলে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিষ্ণুপুরগামী বাস পাওয়া যায় যা কিনা আরামবাগ, জয়রামবাটি হয়ে বিষ্ণুপুরে পৌঁছায়৷ এছাড়াও হাবড়া বা বর্ধমান থেকেও বাঁকুড়াগামী বাস পাওয়া যায়, যেটিতে চেপে বিষ্ণুপুর পৌঁছে যাওয়া যাবে।
প্রাইভেট গাড়িতে যেতে হলে আরামবাগ থেকে বেঙ্গাই, কোতুলপুর হয়ে বিষ্ণুপুর চলে যাওয়া যাবে। পথে জয়পুরের অপূর্ব জঙ্গল পড়বে। এছাড়াও সড়কপথে যাওয়ার আরেকটি বিকল্প হল, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পাসকুঁড়া হয়ে ঘাটাল রুট দিয়ে যাওয়া।
বিষ্ণুপুরে কোথায় থাকবেন
যেহেতু বিষ্ণুপুর ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এখানকার টেরাকোটা শিল্পের মন্দিরগুলির জন্য খুবই জনপ্রিয়, সেই কারণে সারাবছর এখানে পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে। তাই বিষ্ণুপুর শহরের চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানারকম হেটেল ও হোমস্টে। চাইলে সস্তা কিংবা আরামদায়ক ও দামি যেকোনো রকমের হোটেলই খুব সহজেই পেয়ে যাওয়া যাবে বিষ্ণুপুরে।
বিষ্ণুপুরে কী দেখবেন
গুপ্ত বৃন্দাবন নামে পরিচিত এই মন্দির শহর বিষ্ণুপুরের ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম। প্রাচীন বাংলার স্থপতিদের অত্যন্ত উন্নতমানের শিল্পদক্ষতার নিদর্শন যদি দেখতে হয় তবে অবশ্যই ঘুরে দেখতে হবে বিষ্ণুপুরের টেরাকোটার মন্দিরগুলি। একেকটি মন্দিরের সম্মুখে দাঁড়িয়ে এক নিমেষে ফিরে যাওয়া যায় সুদূর অতীতের সেই বঙ্গদেশে, যখন ইংরেজ রাজত্ব দৃঢ়ভাবে চেপে বসেনি এই বাংলার বুকে। মন্দিরগাত্রের সূক্ষ্ম কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণের নানা কাহিনিগুলিকে নিবিড় মনোযোগ সহকারে লক্ষ করলেই বাংলার সেইসব স্থপতিদের মনে মনে কুর্নিশ জানাতে ইচ্ছে হয়। রোমাঞ্চ লাগে এমন সমৃদ্ধ অতীত ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
বিষ্ণুপুরের দ্রষ্টব্য জায়গাগুলি সম্পর্কে নিম্নে বিশদে আলোচনা করা হল। এখানে উল্লেখ্য যে, বিষ্ণুপুরে বেশিরভাগ মন্দির আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া দ্বারা সংরক্ষিত, তাই একটি টিকিটেই অনেক গুলো পর্যটনস্থানে প্রবেশ করা যায়। যদি টিকিট কাউন্টারে ভিড় করতে না চান, তাহলে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট থেকে আগেভাগে টিকিট কেটে রাখতে পারেন।
রাসমঞ্চ – বিষ্ণুপুরের অন্যতম আকর্ষণ রাসমঞ্চটি ১৬০০ সালে রাজা বীর হাম্বির (যিনি শ্রীনিবাস আচার্যের কাছে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন) নির্মাণ করেছিলেন। অতুলনীয় এই কাঠামোটি ল্যাটারাইট স্তম্ভের ওপর দন্ডায়মান। দূর থেকে এই স্থাপত্যের দিকে তাকালে একটি পিরামিডের আকৃতি নজরে পড়বে এবং বাংলার কুড়েঘরের আদলও দেখা যাবে। পোড়ামাটির অসংখ্য খিলান, তাতে পদ্মফুলের মোটিফ এবং ইতস্তত প্রসারিত লম্বা লম্বা করিডোর এই রাসমঞ্চে দেখা যায়।
মৃন্ময়ী মন্দির – বিষ্ণুপুরের একটি উল্লেখযোগ্য মন্দির হল ৯৯৭ সালে রাজা জগৎ মল্লের নির্মাণ করা মৃন্ময়ী মন্দির। শোনা যায়, জগৎ মল্লকে দেবী মৃন্ময়ী স্বপ্নে এই মন্দির নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন। দেবী দুর্গা এখানে মৃন্ময়ী রূপে পূজিতা হন। পরে মন্দিরটি পুনর্গঠিত হলেও সেই গঙ্গা-মাটির মূর্তিটি রয়ে গিয়েছে।
জোড়বাংলা মন্দির – জোড়বাংলা মন্দির বিষ্ণুপুরের আরেকটি জনপ্রিয় স্থাপত্য। ১৬৫৫ সালে মল্লরাজা রঘুনাথ সিংহ এই জোড়বাংলা মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। টেরাকোটার কাজ যে কী অপূর্ব হতে পারে এই জোড়বাংলা মন্দিরটি তার অন্যতম উদাহরণ। মন্দিরের আকৃতি দোচালা ধরনের বলেই এটির নাম হয়েছে জোড়বাংলা। এই মন্দিরের গায়ে রামায়ণ-মহাভারতের বিভিন্ন ঘটনা যথা ভীষ্মের শরশয্যা, রাম-সীতার বিবাহ, লক্ষ্মণ ও সূর্পনখার গল্প ইত্যাদি, শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকালের নানারকম ঘটনা, নানা পৌরাণিক আখ্যানের অংশ নিখুঁত ভাস্কর্যে ফুটে রয়েছে। টেরাকোটার এই সূক্ষ্ম খোদাইকর্ম বাংলার সম্পদ।
শ্যামরাই মন্দির – এই শ্যাম রায় মন্দিরটিরও নির্মাতা ছিলেন রঘুনাথ সিংহ। ১৬৪৩ সালে এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন তিনি। মন্দিরের পাঁচটি চূড়া রয়েছে বলে এটি ‘পাঁচচূড়া মন্দির’ বা ‘পঞ্চরত্ন মন্দির’ নামেও পরিচিত। এই শ্যাম রায় মন্দিরের একটি আকর্ষণ হল রাশচক্র। এই রাশচক্রে গোপিনীবেষ্টিত রাধাকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলা ফুটিয়ে তুলেছিলেন শিল্পীরা। এছাড়াও এই মন্দিরের ভিতরে এবং বাইরেও নানারকম দৃশ্য যথা, ঐরাবতের উপরে বসে যুদ্ধরত ইন্দ্র, রাম-রাবণের কাহিনি, রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ইত্যাদি নিখুঁতভাবে খোদাই করা রয়েছে।
গড় দরওয়াজা – বিষ্ণুপুর যেহেতু মল্লরাজাদের ঘাঁটি ছিল তাই রাজধানীকে শত্রুদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখবার জন্যই এই গড় দরওয়াজা নির্মিত হয়েছিল। মোট দুটি প্রবেশদ্বার ছিল বিষ্ণুপুরে প্রবেশের জন্য সেগুলিই গড় দরওয়াজা নামে পরিচিত। মুরচা পাহাড়ের পাশে পাথরের তৈরি একটি ছোট ঢিবি দেখা যায়। সেটি অতিক্রম করে একটি বিশাল গেট পড়ে, যেটি ছিল বিষ্ণুপুরে প্রবেশের দ্বার৷ বিশাল ছাদ এবং গোপন কক্ষ রয়েছে এরমধ্যে। এই গড় দরওয়াজা ছিল মূলত সৈনিকদের ঘাঁটি। সৈনিকরা এখান থেকে আগন্তুকদের ওপর লক্ষ রাখত।
মদনমোহন মন্দির – বিষ্ণুপুরের এই বিষ্ণু মন্দির যা মদনমোহন মন্দির নামে পরিচিত, এটি আরও একটি বিখ্যাত ও অবশ্য দ্রষ্টব্য স্থান৷ ১৬৯৪ সালে মল্লরাজা দুর্জন সিংহ দেব এই মদনমোহন মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। এই মন্দিরের গায়েও অপূর্ব সব টেরাকোটার ভাস্কর্য লক্ষ করা যায়।
রাধাশ্যাম মন্দির – বিষ্ণুপুরের এই রাধাশ্যাম মন্দিরটি ১৭৫৮ সালে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ নির্মাণ করেছিলেন। মন্দিরটির একটি চূড়া থাকায় একে একরত্ন মন্দিরও বলা হয়ে থাকে। বর্গাকার এই মন্দিরের চূড়াতে মুসলিম স্থাপত্যেরও প্রভাব রয়েছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ। এই মন্দিরের চত্বরে রয়েছে তুলসী মঞ্চ, ভোগ কক্ষের অবশিষ্টাংশ, ভগ্ন নাটমন্দির ইত্যাদি এবং এই মন্দিরের দেয়ালেও নানা পৌরাণিক কাহিনি খোদিত রয়েছে।
কালাচাঁদ মন্দির – ১৬৫৬ সালে মল্লরাজ রঘুনাথ সিংহ এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। একরত্ন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মন্দির ল্যাটেরাইট পাথরে তৈরি। ভগবান কৃষ্ণের উদ্দেশে নির্মিত এই মন্দিরে বর্তমানে কোনো বিগ্রহ নেই।
দলমাদল কামান – বিষ্ণুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ১.৫ কিলোমিটার দূরে এই দলমাদল কামান অবস্থিত। এই কামানের অবস্থান জোড় মন্দিরের নিকটেই। ‘দল মাদল’ শব্দের অর্থ শত্রুর বিনাশ। মনে করা হয় গোপাল সিংহের রাজত্বকালে মারাঠা দস্যুরা বিষ্ণুপুর আক্রমণ করলে স্বয়ং মদনমোহন নাকি এই কামান দেগে শত্রুদের বিতাড়িত করেছিল। এই কামানে আজও মরচে ধরেনি।
জোড় মন্দির – বিষ্ণুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরত্বে এই জোড় মন্দির অবস্থিত। ১৭২৬ সালে মল্লরাজ কৃষ্ণ সিংহ এই মন্দির নির্মান করেছিলেন। এটি আসলে মোট তিনটি মন্দিরের সমাহার যেগুলি বর্গাকৃতি এবং ল্যাটেরাইট পাথর দ্বারা নির্মিত। কুঁড়েঘরের আদল এই স্থাপত্যে লক্ষণীয় এবং উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর মন্দিরগুলি দন্ডায়মান।
নন্দলাল মন্দির – বিষ্ণুপুরে সাতটি একরত্ন মন্দিরের মধ্যে একটি হল এই নন্দলাল মন্দির৷ দলমাদল পাড়ায় এর অবস্থান। মন্দিরটি সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত বলে অনুমান করা হয়। দক্ষিণমুখী মন্দিরটি বর্গাকৃতি এবং মন্দির চত্বর সুদৃশ্য সবুজ বাগানে ঘেরা।
মুরলী মোহন মন্দির – বিষ্ণুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মুরলী মোহন মন্দির ১৬৬৫ সালে বীরসিংহের রাণী শিরোমণি দেবী নির্মাণ করেছিলেন। এটিও একটি একরত্ন মন্দির। এই মন্দিরও ল্যাটেরাইট পাথর দ্বারা নির্মিত। মন্দিরে অনেকগুলি সুদৃশ্য স্তম্ভ লক্ষ করা যায়।
লালবাঁধ – ১৬৫৮ সালে বীরসিংহ সাতটি হ্রদ তৈরি করেছিলেন, তারমধ্যে একটি হল এই লালবাঁধ। মূলত পানীয় জলের প্রয়োজনে ও শহরকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতেই এই হ্রদগুলি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। এক বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী লালবাঈ-এর নামে এই লালবাঁধের নামকরণ হয়েছিল।
ষাঁড়েশ্বর মন্দির – বিষ্ণুপুর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে এই ষাঁড়েশ্বর মন্দির রয়েছে। এই মন্দিরের প্রবেশদ্বারে এক নন্দীর মূর্তি দেখা যায়। ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে এই মন্দির তৈরি করা হয়েছিল। উড়িষ্যার দেউল শৈলীর ছাপ রয়েছে এই মন্দিরের স্থাপত্যে।
প্রত্নতাত্ত্বিক মিউজিয়ম – বিষ্ণুপুরে ‘আচার্য যোগেশচন্দ্র পুরাকীর্তি ভবন’ নামে একটি মিউজিয়ম রয়েছে, যেখানে গিয়ে দশম- দ্বাদশ শতাব্দীর ভাস্কর্যের নিদর্শন, প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো পান্ডুলিপি, বিভিন্ন ধরনের লোকশিল্পের নিদর্শন, ফটোগ্রাফ ইত্যাদি দেখা যাবে।
বিষ্ণুপুর থেকে জয়রামবাটি, কামারপুকুর ঘুরতে যাওয়া যায়।
বিষ্ণুপুরে কী কিনবেন
বিষ্ণুপুর কেবল মন্দির নয় বালুচরী শাড়ির জন্যও বিখ্যাত। সেখান থেকে তুলনামূলক কম দামে একেবারে আসল বালুচরী শাড়ি কেনা যেতে পারে। তবে শাড়ি কেনা ও চেনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক হলে ভাল হবে। এছাড়াও ঘর সাজানোর জন্য পোড়ামাটির তৈরি নানারকম গৃহসজ্জার জিনিস বিশেষ করে বাঁকুড়া ঘোড়া কিনতে পারেন।
বিষ্ণুপুরে কখন যাবেন
সারাবছরই মূলত এখানে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে, তবে গ্রীষ্মকালে এখানে প্রচন্ড দাবদাহের ঘোরাটা আরামদায়ক নয়। বিষ্ণুপুর ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় শীতকাল অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত।
সতর্কতা ও পরামর্শ
- এখানে উল্লেখ্য যে, বিষ্ণুপুরে বেশিরভাগ মন্দির আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া দ্বারা সংরক্ষিত, তাই একটি টিকিটেই অনেক গুলো পর্যটনস্থানে প্রবেশ করা যায়।
- যদি টিকিট কাউন্টারে ভিড় করতে না চান, তাহলে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট থেকে আগেভাগে টিকিট কেটে রাখতে পারেন।
- প্রত্যেকটি স্থাপত্যের দেখভালের জন্য রয়েছে প্রহরা। সংশ্লিষ্ট স্থাপত্যগুলি ঘুরে দেখুন তবে প্রহরীরা কোনো নির্দেশ দিলে তা লঙ্ঘন করবেন না, নচেৎ জরিমানা বা শাস্তি হতে পারে।
- ঐতিহাসিক এই মন্দিরগুলি সম্পর্কে যথাযথভাবে জানতে এবং সহজেই সেগুলি ঘুরে দেখতে স্থানীয় গাইডও ভাড়া পাওয়া যায়।
- ঐতিহাসিক এই স্থাপত্যের সুন্দর পরিচ্ছন্ন জায়গাগুলিকে আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৪
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান