মহানগরী কলকাতার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি (Jorasanko Thakurbari)। বাংলার ইতিহাসে বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের বাসস্থান তথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান হিসেবেও এই বাড়িটির ঐতিহ্য এবং গুরুত্ব কম নয়। ঠাকুর পরিবারের যশোকীর্তি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে আজও এক গভীর আলোচনার বিষয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁর শৈশব ও যৌবনের অনেকগুলি দিন এই বাড়িতেই কাটিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুও হয় এই বাড়িতেই। বর্তমানে এখানেই গড়ে উঠেছে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোড়াসাঁকো প্রাঙ্গণ।
সাম্প্রতিক পোস্ট
উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকোয় অবস্থিত সুপ্রাচীন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িটি প্রায় ৩৫০০ বর্গ মিটার জমির উপর গড়ে উঠেছে। বিশালাকার এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ইতিহাস। কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত হেরিটেজ বাড়িগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির খুব কাছেই গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশন। এর প্রধান ফটকটি রয়েছে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর উপর আর পিছনে আরেকটি প্রবেশপথ রয়েছে রবীন্দ্র সরণির উপর। জোড়াসাঁকোর অনতিদূরেই শোভাবাজার, বিডন স্ট্রিট কিংবা মহম্মদ আলি পার্ক। কলকাতার আরেকটি বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান মার্বেল প্যালেস জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে মাত্র কিছুটা দূরেই অবস্থিত।
১৭৮৪ সালের কলকাতার বড় বাজারের বিখ্যাত শেঠ পরিবারের বৈষ্ণবচরণ শেঠ জোড়াসাঁকোর জমিটি নীলমণি ঠাকুরকে লক্ষ্মীজনার্দন জীউ-এর নামে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে দান করেছিলেন। তারপর ১৭৮৫ সালে সেই জমিতে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি নির্মিত হয়। নীলমণি ঠাকুর এই বাড়ির ইমারত গড়ে তুললেও দ্বারকানাথ ঠাকুরের সময় থেকেই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। দ্বারকানাথ ঠাকুর তৎকালীন সময়ে খ্যাতনামা শিল্পপতিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। এই বাড়ির সঙ্গেই জুড়ে রয়েছে বিখ্যাত সব মানুষের নাম। বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পীঠস্থান ছিল এই বাড়িটি। ঠাকুর পরিবারের অন্যতম সদস্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই ছিলেন প্রথম ভারতীয় নোবেলজয়ী। তাঁর লেখা কবিতা, গান ও গল্প উপন্যাস সারা বিশ্বের মানুষকে আজও মুগ্ধ করে। এই বাড়িতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঠাকুরবাড়ির সামনের অংশে ১৯৬২ সালের ৮ মে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর উদ্যোগে ‘রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপিত হয়। মূলত রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে বি টি রোডে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস গড়ে ওঠে যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের মরকত কুঞ্জে। ১৯৬২ সালেই এখানে রবীন্দ্রভারতী সংগ্রহশালাটির উদ্বোধন করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আজ যেখানে মহর্ষি ভবন, দ্বারকানাথ সেখানেই স্থাপন করেছিলেন ভদ্রাসন বাড়ি। ১৮৬১ সালে এই মহর্ষি ভবনেই জন্ম হয় রবীন্দ্রনাথের। এখানেই ১৮২৩ সালে বৈঠকখানা বাড়ি নামে আরেকটি ভবন নির্মাণ করিয়েছিলেন দ্বারকানাথ যদিও তা পরে ভেঙে ফেলা হয়। সেই বৈঠকখানা ভবনে আগে গিরীন্দ্রনাথ ঠাকুর সপরিবারে থাকতেন আর অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেখানে শিল্পচর্চা করতেন। বর্তমানে মহর্ষি ভবনের পাশে যে বিচিত্রা ভবন রয়েছে তা ১৮৯৭ সালে রবীন্দ্রনাথ নিজে নির্মাণ করিয়েছিলেন।
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির বর্ণনা দিতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় বিশালাকার লাল বাড়িটার কথা যার চারদিক ঘিরে রয়েছে সুসজ্জিত গাছপালা। এই বাড়ির প্রতিটি কোণে পাওয়া যায় জমিদারি ঐতিহ্যের ছোঁয়া। রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ,গগনেন্দ্রনাথ, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ প্রমুখদের পাশাপাশি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ, প্রিন্স দ্বারকানাথ প্রমুখ বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের স্মৃতি আর ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি। বিশ্বভারতীর তত্ত্বাবধানে খুব সুন্দরভাবে যত্নের মধ্যে এই বাড়ি আর বাড়ির ভিতরের ঘর, তার আসবাবপত্র ও অন্যান্য সংগ্রহশালার উপাদানগুলিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাড়ির ভিতর এবং বাইরের পরিবেশ দুইই অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ঠাকুরবাড়ির দোতলা আর তিনতলাতেই মূলত অনেক কিছু দর্শনীয় রয়েছে। মূল বাড়িটির ঘরগুলিতে এখন নানাবিধ উপাদানে সাজিয়ে তোলা হয়েছে, পুরোটাই যেন একটা চলমান সংগ্রহশালা।
ট্রেনে করে আসতে হলে হাওড়া বা শিয়ালদা স্টেশনে নেমে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ বা বাগবাজারগামী যে কোনও বাস ধরে জোড়াসাঁকো স্টপেজে নেমে পড়তে হবে। সেখান থেকে সামান্য হাঁটলেই মূল প্রবেশদ্বার চোখে পড়বে। হাওড়া স্টেশন থেকে বাসে সরাসরি জোড়াসাঁকো স্টপেজে নামা যায়। অন্যদিকে শিয়ালদা স্টেশন থেকে হাওড়াগামী যে কোনও বাসে উঠে মহাত্মা গান্ধী রোডে নেমে সেখান থেকে মিনিট পনেরো হাঁটলেই জোড়াসাঁকো চলে আসা যাবে। তবে কেউ চাইলে মেট্রো করেও আসতে পারেন, সেক্ষেত্রে নিকটবর্তী গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনে নামতে হবে। নিজের গাড়ি থাকলে শিয়ালদা বা হাওড়া থেকে বাসের রুট ধরেই জোড়াসাঁকোয় আসা যায়। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে ঢোকার মুখেই রাস্তার উপরে এক বিশাল তোরণদ্বার দেখতে পাবেন যার মাথায় রবীন্দ্রনাথের একটি আবক্ষ প্রস্তর মূর্তি রয়েছে, এটিই জোড়াসাঁকো চেনার প্রধান দিক-নির্দেশিকা।
কলকাতায় থাকার উপযুক্ত হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্ট অথবা গেস্ট হাউসের কোনও অভাব নেই। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির আশেপাশেও এমন থাকার জন্য হোটেল কিংবা গেস্ট হাউস পাওয়া যায়। কম-বেশি উভয় দামেরই হোটেল রয়েছে এখানে। মহাত্মা গান্ধী রোডের উপর কলেজস্ট্রিট যাওয়ার পথে বেশ অনেকগুলি কম ভাড়ার হোটেল রয়েছে। হোটেলের ভাড়া মাথাপিছু প্রতি রাতে ন্যূনতম ৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা। এখানে আগে থেকে হোটেল বুক করে এলে তো ভালই, না হলেও সেভাবে অসুবিধেয় পড়তে হয় না। হোটেলের সংখ্যা প্রচুর, তাই ঘর পেতে সমস্যা হবে না।
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির বিশেষ দ্রষ্টব্যের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মগ্রহণের ঘর এবং যে ঘরে তাঁর মহাপ্রয়াণ ঘটেছিল সেটি। এই মহাপ্রয়াণের ঘরে বসেই জীবনের উপান্তে এসে তিনি লিখেছিলেন ‘তোমার সৃষ্টির পথ’ কবিতাটি যা কিনা রবীন্দ্রনাথের লেখা শেষ কবিতা হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও রয়েছে রবীন্দ্রনাথের খাবার ঘর, মৃণালিনী দেবীর রান্নাঘর, সংগীতের ঘর ও পুজোর ঘর। এই ঘরগুলির মধ্যে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত খাট, জামাকাপড় ও আরও অনেক জিনিস সংরক্ষিত রয়েছে। এই বাড়িটিতে তিনটি গ্যালারি আছে যার মধ্যে রয়েছে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, যামিনী রায় এবং আরও অনেক বিখ্যাত শিল্পীর আঁকা ছবি। রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহ কুটিরের কিছু ছবি দেখা যায়। গীতাঞ্জলি ও নোবেল পুরস্কারের গল্প টুকরো টুকরো অংশে এই বাড়িটিতেই নানা জায়গায় সাজানো আছে আর এখানে নাইটহুড ত্যাগের সরকারি চিঠির কপিটি খুব যত্নসহকারে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি গ্যালারি জাপান ও চিন সরকারের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পদ্মা নদীতে যে বোটে করে ঘুরে বেড়াতেন তার প্রতিকৃতি রয়েছে এখানে। এই প্রতিকৃতিটি বাংলাদেশ সরকার উপহার দিয়েছিল বিশ্বভারতীকে। বাড়ির ভিতরে একটি স্থায়ী মঞ্চ আছে যেখানে ব্রাহ্মসমাজের সভা হত আর বাড়ির বাইরে দেখা যায় রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত একটি গাড়ি যা অতীত দিনের স্মারক। রবীন্দ্রনাথ যে ঘরটিতে বসে লেখালিখি করতেন, সেই ঘরটি দেখা যাবে বিচিত্রা ভবনের পাশেই। ঘরে তাঁর ব্যবহৃত আরাম-কেদারাটি এখনও অক্ষত। তাছাড়া বাড়ির চারকোণা দীর্ঘ বারান্দাটিরও একটি বিশেষ অংশ খুব গুরুত্বপূর্ণ যেখানে শেষ বয়সে রবীন্দ্রনাথের শল্য চিকিৎসা হয়েছিল। হাসপাতালের বদলে বাড়ির বারান্দাকেই অপারেশন থিয়েটার বানিয়ে সেকালের বিখ্যাত চিকিৎসক ডা. বিধান চন্দ্র রায়, নীলরতন সরকার প্রমুখদের তত্ত্বাবধানে রবীন্দ্রনাথের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। আজও সেই স্মৃতি হিসেবে মহর্ষি ভবনের দোতলার বারান্দায় একটি কাচের বাক্সের মধ্যে অস্ত্রোপচারের প্রতিরূপ সাজানো আছে। সবশেষে দক্ষিণের বারান্দাটির কথা না বললেই নয়, এই বারান্দাতেই রবি ঠাকুরের কিশোরবেলার দিনগুলি কেটেছিল হাসি-খেলায়। রবীন্দ্রনাথের মহীরূহসম ব্যক্তিত্ব আর বিপুল বিস্তৃত জীবনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এক সামগ্রিক ধারণা তৈরি হবে জোড়াসাঁকোয় এলে। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ছাড়াও এখানে ঘুরতে এসে সাইটসিইং-এর মধ্যে একেবারে পাশেই মার্বেল প্যালেস অবশ্যই ঘুরে নেবেন। তবে ঠাকুরবাড়ি ভালমতো ঘুরতে প্রায় ঘন্টা দুয়েক সময় লাগে আর মার্বেল প্যালেস কিংবা ঠাকুরবাড়ি দুটির সময়সূচি একই। ফলে সময় ব্যবস্থাপনায় একটু সমস্যা হতে পারে। তাই উভয় জায়গায় ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে অযথা সময় নষ্ট না করাই ভাল। যদি কলকাতায় কেউ দু-তিন দিন থাকেন, তার ক্ষেত্রে কোনওরকম সমস্যা হবে না। ঠাকুরবাড়িতে ঘোরার সময় কখনই বিনা অনুমতিতে ছবি তোলা যাবে না, অযথা চিৎকার-চেঁচামেচি করা উচিত নয়। ভিতরে যে স্থায়ী মঞ্চ আছে, সেখানে আড্ডা দেওয়া, খাওয়া-দাওয়া করা নিষিদ্ধ। এখানেই একমাত্র ছবি তোলা যায়। সর্বোপরি ঠাকুরবাড়ির পরিবেশ কোনওভাবেই নোংরা করবেন না। বাড়িতে ঢোকার সময় টিকিট কাউন্টারের কাছে জুতো খুলে রাখতে হয়, জুতো সেখানে সংরক্ষিতই থাকে। একত্রে অনেকজনকে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয় না একবারে, সেক্ষেত্রে আগে যারা ঢুকেছেন তারা বেরনোর পরেই পরের ভ্রমণার্থীদের ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়।
বছরের যে কোনও সময়ই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে আসা যায়, তবে এখানে বিশেষ অনুষ্ঠানগুলির সময় আসলে বেশ ভালই লাগবে। এখানে প্রবেশ মূল্য রয়েছে, ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা, ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য ১০ টাকা, বিদেশিদের জন্য ১৫০ টাকা, বিদেশি পড়ুয়াদের জন্য ১০০ টাকা, লাইট ও সাউন্ড শো-এর জন্য ৫০ টাকা। ক্যামেরা কিংবা মোবাইলে ছবি তোলার জন্য উভয় ক্ষেত্রেই ৫০ টাকা করে টিকিট লাগে। প্রতিবন্ধী, পথশিশু আর পঞ্চম শ্রেণি অবধি পাঠরত পড়ুয়াদের জন্য কোনও টিকিট লাগে না। দু’ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ ঘোরা সমাপ্ত করতে হবে। ভিতরে অনেক স্থানে ছবি তোলা নিষেধ রয়েছে, সে সম্পর্কে একটু জেনে নিতে হবে। সোমবার বাদে সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা অবধি জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি খোলা থাকে। লাইট ও সাউন্ড শো বাংলা ভাষায় হয় প্রতিদিন সন্ধ্যে ৬টা থেকে ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত (নভেম্বর থেকে জানুয়ারি) এবং প্রতিদিন সন্ধ্যে ৭টা থেকে ৭টা ৪০ মিনিট (ফেব্রুয়ারি থেকে জুন)। অন্যদিকে এই নিয়মেই ইংরেজি ভাষায় এই শো দেখানো হয় প্রত্যহ সন্ধ্যে ৭টা থেকে ৭টা ৪০ মিনিট (নভেম্বর থেকে জানুয়ারি) এবং প্রতিদিন সন্ধ্যে ৮টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিট (ফেব্রুয়ারি থেকে জুন) পর্যন্ত।
ট্রিপ টিপস
- কীভাবে যাবেন – ট্রেনে করে আসতে হলে হাওড়া বা শিয়ালদা স্টেশনে নেমে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ বা বাগবাজারগামী যে কোনও বাস ধরে জোড়াসাঁকো স্টপেজে নেমে পড়তে হবে। সেখান থেকে সামান্য হাঁটলেই মূল প্রবেশদ্বার চোখে পড়বে।
- কোথায় থাকবেন – জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির আশেপাশেও এমন থাকার জন্য হোটেল কিংবা গেস্ট হাউস পাওয়া যায়। কম-বেশি উভয় দামেরই হোটেল রয়েছে এখানে।
- কী দেখবেন – জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরস্থ মহর্ষি ভবন, বিচিত্রা ভবন, রবীন্দ্রনাথের আঁতুড়ঘর, রবীন্দ্রনাথ যে ঘরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন সেই ঘরটি, দক্ষিণের বারান্দা, পূর্বদিকের বারান্দা, স্থায়ী মঞ্চ ইত্যাদি। চাইলে এখানে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দেখে নেওয়া যায়।
- কখন যাবেন – বছরের যে কোনও সম য় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ভ্রমণে আসা যায়। সোমবার বাদে সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঠাকুরবাড়ি খোলা থাকে।
- সতর্কতা –
- ঠাকুরবাড়ি ভ্রমণের জন্য কাউন্টার থেকে নির্দিষ্ট মূল্যের টিকিট কেটে নেওয়া আবশ্যক।
- ভিতরে বিশেষ বিশেষ জায়গা ছাড়া ছবি তোলা নিষিদ্ধ, তবে একান্ত ছবি তুলতে চাইলে অনুমতি নিতে হবে এবং সে জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জমা দিতে হয়।
- ভিতরে ঘোরার সময় অযথা চিতকার-চেঁচামেচি করা যাবে না।
- ঠাকুরবাড়ির পরিবেশ নোংরা করা যাবে না।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান