ডুয়ার্স তার বিস্তীর্ণ অরণ্যরাজি, অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণীর জন্য বিখ্যাত। ডুয়ার্সের মত এত সবুজের সমাহার আপনি পশ্চিমবঙ্গের আর কোথাও পাবেন না। বিরল এক শৃঙ্গ বিশিষ্ট গণ্ডার থেকে ভারতীয় বাইসন গৌর, বিরল ধনেশ পাখি থেকে ময়ূরের ঝাঁক, নিভৃতচারি হরিণ যুগল থেকে ন্যাশনাল হাইওয়ে জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা হাতির পাল – ডুয়ার্স আপনার ভ্রমণপিপাসু মনকে কানায় কানায় ভর্তি করবেই এ কথা হলফ করে বলা যায়। তবে যেহেতু ডুয়ার্স একটি বিশাল বিস্তীর্ণ এলাকা তাই পায়ে হেঁটে দেখার সুযোগ এখানে নেই বললেই চলে। ডুয়ার্স ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য আপনাকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে সমস্ত দর্শনীয় স্থানগুলি দেখতে হবে। ভ্রমণ কেন্দ্র হিসেবে ডুয়ার্সকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায় – ১) পূর্ব ডুয়ার্স ২) কেন্দ্রীয় ডুয়ার্স এবং ৩) পশ্চিম ডুয়ার্স ।
পূর্ব ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান
পূর্ব ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান বলতে মূলত আলিপুরদুয়ার জেলা ও কোচবিহার জেলার কিছু অংশের কিছু স্থানকে বোঝায়। দ্রষ্টব্য স্থানগুলিকে তিনভাগে ভাগ করা যায় – ১) বক্সা জয়ন্তি ভ্রমণ কেন্দ্র ২) চিলাপাতা ভ্রমণ কেন্দ্র ৩) জলদাপাড়া ভ্রমণ কেন্দ্র।
১) বক্সা জয়ন্তি ভ্রমণ কেন্দ্রের অন্তর্গত ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থানগুলি হল –

বক্সা জাতীয় উদ্যান – ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান বললেই যে নামগুলো উঠে আসে, তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় স্থান এটি। ১৯৮৩ সালে ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প হিসেবে গড়ে উঠলেও পরে এই প্রকল্পের মধ্যেই প্রায় ৩১৫ বর্গ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠে বক্সা জাতীয় উদ্যান। ৮৪ রকমের পাখি, ৭৩টি ভিন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর বাস। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, এশীয় হাতি, ভারতীয় বাইসন, সম্বর হরিণ, ক্লাউডেড লেপার্ড, ভারতীয় লেপার্ড, বুনো শূকর, বিশালাকায় কাঠবেড়ালি ইত্যাদি পশুদের দেখা মেলে এই অরণ্যে।
রাজাভাতখাওয়া – বক্সা জাতীয় উদ্যানের কাছেই অবস্থিত রাজাভাতখাওয়া । এখানে একটি প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে যেখানে নানান প্রজাতির অর্কিডের সংগ্রহ রয়েছে। এছাড়া এখানে একটি বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র রয়েছে যেখানে শুশ্রূষার জন্য নিয়ে আসা বাঘ,হরিণ, লেপার্ড প্রভৃতি বন্য প্রাণী দেখা যেতে পারে।
বক্সা দুর্গ – ভুটানিরাই প্রথম ডুয়ার্সে অভিযানের জন্য বক্সা দুর্গ তৈরী করে । ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশরা এই দুর্গ দখল করে। ১৯৩০-এর দশক অবধি দুর্গটি বন্দিশালা ও নির্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত। ব্রিটিশ ভারতে আন্দামানের সেলুলার জেলের পর এটিই ছিল সবচেয়ে কুখ্যাত ও দুর্গম কারাগার। সমগ্র বক্সা ভ্রমণের খুঁটিনাটি পড়ুন এখানে।
সিকিয়াঝোরা – এই অঞ্চলটি ডুয়ার্সের অ্যামাজন নামে খ্যাত। এখানে নৌকা ভ্রমণের সময় নানান গাছ-গাছালি, অর্কিড চোখে পড়ে। ভাগ্য ভাল থাকলে দূর অরণ্যের গভীরে বন্য জন্তুর ডাক শোনা কিংবা তাদের নদীতে জল খেতে দেখতে আসতেও দেখা যেতে পারে। সিকিয়াঝোরা ভ্রমণের খুঁটিনাটি পড়ুন এখানে।
জয়ন্তী – ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে অবশ্যই জয়ন্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। আলিপুরদুয়ার থেকে ৩০ কিমি দূরে জয়ন্তী অবস্থিত। ডুয়ার্সের রানি হিসেবে পরিচিত এই জয়ন্তী । এটি আসলে একটি নদী যা শীতকালে শুকিয়ে যায়। নদীর পাথুরে গিরিখাত ধরে কাছে পিঠে গাড়িতে ঘুরে আসা যায়। বর্ষাকালে অবশ্য নদীর অন্যরূপ।
ছোট মহাকাল মন্দির – জয়ন্তী থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরত্বে মহাকাল মন্দির অবস্থিত। মহাকাল মন্দির বলা হলেও আদপে এখানে কোনো মন্দির নেই।, একটি গুহায় শিব লিঙ্গের অবস্থান। এখান থেকে খাড়াই পাহাড় বেয়ে ওপরে বড় মহাকালে পৌঁছানো যায়।
পুকরি হ্রদ – জয়ন্তী রেঞ্জের পুকরি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত একটি হ্রদ এটি। হিন্দু ও বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এই জলাশয়টি।এই হ্রদে বিশাল আকৃতির মাগুর মাছ পাওয়া যায় । এছাড়া কচ্ছপও পাওয়া যায় এখানে।
চুনিয়া ওয়াচ টাওয়ার – জয়ন্তী থেকে ভুটান পাহাড়ের দিকে ১১ কি.মি দূরত্বে রয়েছে এই ওয়াচ টাওয়ার।।এখানে হাতি, বুনো কুকুর, হরিণ লেপার্ড দেখার সম্ভাবনা আছে।
২) চিলাপাতা ভ্রমণ কেন্দ্রের অন্তর্গত ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থানগুলি হল –
চিলাপাতার জঙ্গল – ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে চিলাপাতার জঙ্গল নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। এই বনাঞ্চলটি জলদাপাড়া ও বক্সা জাতীয় উদ্যানের মধ্যবর্তী হাতি করিডোর। এই জঙ্গলে বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু যেমন হাতি, গৌর, চিতল হরিণ, এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, প্রজাপতি, ও সরীসৃপ দেখা যায়।
নলরাজার গড় – চিলাপাতা জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত এই দুর্গ। ভুটান রাজার হাত থেকে কোচবিহারের সৈন্যবাহিনী এবং অস্ত্রশস্ত্র রক্ষা করার জন্য চিলাপাতার জঙ্গলে এই দুর্গ তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এখন শুধু মাত্র দুর্গের মুখ থেকেই পর্যটকদের ঘুরিয়ে আনা হয়।
৩) জলদাপাড়া ভ্রমণ কেন্দ্রের অন্তর্গত ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থানগুলি হল –

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান – ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান বললেই যে নামগুলো উঠে আসে, তার মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় স্থান এটি। জলদাপাড়া ভ্রমণ কেন্দ্রের অন্তর্গত বিখ্যাত এই অভয়ারণ্যটি মূলত লম্বা এলিফ্যান্ট ঘাসের সাভানা বনভূমি। একশৃঙ্গ গণ্ডার এখানকার মূল আকর্ষণ। এখানে হাতি সাফারির ব্যবস্থা আছে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণের খুঁটিনাটি পড়ুন এখানে।
দক্ষিণ খয়েরবাড়ি – জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের কাছেই অবস্থিত এই দক্ষিণ খয়েরবাড়ি আদতে একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্র। এখানে একটি লেপার্ড রয়েছে। রাজা নামের একটি বাঘও ছিল কিন্তু সম্প্রতি সে মারা গেছে। এখানে আসার রাস্তাটি কিন্তু বেশ খারাপ।
টোটোপাড়া বস্তি – জলদাপাড়া অভয়ারণ্য থেকে কিছু দূরে টোটোপাড়া বস্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৃতাত্ত্বিক পর্যটনস্থল। গোটা বিশ্বে টোটো উপজাতির একমাত্র আবাসস্থল এটি।
খুটিমারি অরণ্য- জলদাপাড়ার কাছেই অবস্থিত আরেকটি স্বল্প পরিচিত অরণ্য এটি। এই অরণ্য প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যেখানে হাতি, বাঘ, হরিণ, এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে।
গারুচিরা গ্রাম – ভারত ও ভুটান বর্ডার সংলগ্ন অসাধারণ এক গ্রাম৷ গ্রামের চারপাশ জুড়ে রয়েছে ভুটান পাহাড় আর তরাই উপত্যকা৷ নেপালের হাতিদের ডুয়ার্সে প্রবেশের প্রধান করিডর এই গারুচিরা৷ থাকার ব্যবস্থা সেইভাবে না থাকায় দিনের দিন ঘুরে ফিরে আসাই ভাল।
কেন্দ্রীয় ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান
কেন্দ্রীয় ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থানগুলো মূলত জলপাইগুড়ি জেলাকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছে। এই অঞ্চলে অবস্থিত দ্রষ্টব্য স্থানগুলিকে তিনভাগে ভাগ করা যায় – ১) জলপাইগুড়ি ভ্রমণ কেন্দ্র ২) গরুমারা ভ্রমণ কেন্দ্র ৩) মালবাজার ভ্রমণ কেন্দ্র। ঘন সবুজ অরণ্য ছাড়াও এই কেন্দ্রীয় ডুয়ার্স মনোরম চা বাগান, পাহাড়ি ঝর্না, খরস্রোতা নদী সহ এক অনবদ্য অভিজ্ঞতার ডালি সাজিয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবে।
১) জলপাইগুড়ি ভ্রমণ কেন্দ্রের অন্তর্গত ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থানগুলি হল –
ভ্রামরী দেবীর মন্দির – এই মন্দিরটি ৫১টি শক্তিপীঠের মধ্যে একটি সতীপীঠ। মন্দিরটি ত্রিস্রোতা নদীর তীরে অবস্থিত বলে এটি ত্রিস্রোতা দেবীর মন্দির নামেও পরিচিত। মন্দিরটি নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে।
এছাড়া অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় হল জল্পেশ্বর মন্দির, জটিলেশ্বর মন্দির, দেবী চৌধুরানী মন্দির, ভবানী পাঠক মন্দির, বৈকুণ্ঠপুর অভয়ারণ্য ইত্যাদি।
২) গরুমারা ভ্রমণ কেন্দ্রের অন্তর্গত ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থানগুলি হল –
গরুমারা জাতীয় উদ্যান – ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান বললেই যে নামগুলো উঠে আসে, তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় স্থান এটি। এখানে পাঁচটি ওয়াচ-টাওয়ার রয়েছে যার মধ্যে মেদলা ওয়াচ টাওয়ার থেকে বন্যপ্রাণী দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই ওয়াচ টাওয়ারে পৌঁছতে আপনাকে মোষের গাড়ি চেপে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। সম্প্রতি গরুমারায় হাতি সাফারি শুরু হওয়ার কথা। ৫০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৯৪ প্রজাতির পাখি, ২২ প্রজাতির সরীসৃপ এখানে রয়েছে।
কালীপুর গ্রাম – গরুমারা জাতীয় উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত মেদলা ওয়াচ টাওয়ার থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বে এই গ্রামটি অবস্থিত। এখানে বন দপ্তরের কটেজ আছে আর সেই সাথে হাতি সাফারির ব্যবস্থাও আছে।

মূর্তি নদী – ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান বললেই যে নামগুলো উঠে আসে, তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় স্থান হল মূর্তি নদী। ছোট এই পাহাড়ি নদীতে সারাবছর বেশি জল না থাকলেও ভরা বর্ষায় এই নদীই ফুলে ফেঁপে ওঠে। বর্ষায় জাতীয় অরণ্যগুলি বন্ধ থাকলেও এই নদীর পাড়ে ছড়িয়ে থাকা বড় নুড়ি, পাথরের ওপর বসে বসে ডুয়ার্সের সৌন্দর্য উপভোগ করা যেতেই পারে। মূর্তি নদী ভ্রমণের খুঁটিনাটি পড়ুন এখানে।
ধুপঝোরা গাছ বাড়ি – মূর্তি নদী থেকে হাঁটা পথে মিনিট পনেরো মত দূরত্বে অবস্থান করছে এই গাছ বাড়ি। দুটি শাল গাছকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন উন্নয়ন নিগমের উদ্যোগে একটি কটেজ তৈরি হয়েছে যা গাছ বাড়ি নামে খ্যাত। এখান থেকে নিয়মিত সকালে হাতি সাফারির ব্যবস্থা আছে।
সামসিং – ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে সামসিং একটি জনপ্রিয় নাম। মূর্তি নদী থেকে মাত্র ১৭ কিমি দূরত্বে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ -ভুটান সীমান্তে অবস্থিত ছোট্ট একটি পাহাড়ি গ্রাম সামসিং। দিনের দিনই ঘুরে ফিরে আসা যায়। এখানকার চা ও কমলালেবু বিখ্যাত। এখান থেকে সুন্তালেখোলার দূরত্ব ৪ কিমি। সামসিং ভ্রমণের খুঁটিনাটি পড়ুন এখানে।
রকি আইল্যান্ড – ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে রকি আইল্যান্ড একটি জনপ্রিয় নাম। সামসিং থেকে মাত্র ২ কিমি দূরে অবস্থিত একটি পাথুরে নদী খাত হল এই রকি আইল্যান্ড। মূর্তি নদী পাহাড় থেকে নেমে দুরন্ত গতিতে নদী খাতে থাকা পাথরের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে বয়ে চলেছে। এখানে বেশ কিছু হোম স্টেও আছে ভাড়া মোটামুটি খাওয়া থাকা নিয়ে প্রতিদিন প্রতি ব্যক্তির জন্য ৮৫০ – ১০০০ টাকার মধ্যে।
লালিগুরাস ভিউ পয়েন্ট – রকি আইল্যান্ড থেকে স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত এই নয়নাভিরাম চা বাগান ও পাহাড়ি উপত্যকাটি। এর অপূর্ব প্রাকৃতিক রূপ আপনার মনকে মুগ্ধ করবেই।
সুন্তালেখোলা – ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে সুন্তালেখোলা একটি জনপ্রিয় নাম। মূর্তি নদী থেকে ২৮ কিমি দূরত্বে গরুবাথান সিডি ব্লকের অন্তর্গত এই অঞ্চলটি মূলত ন্যাওরা ভ্যালি জাতীয় উদ্যানের গা ঘেঁষে অবস্থিত। একটি পায়ে হাঁটা ঝুলন্ত ব্রিজ, বয়ে যাওয়া খরস্রোতা পাহাড়ি নদী এবং অজস্র চেনা অচেনা পাখির ভিড় এখানকার মূল আকর্ষণ। এখানে থাকতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের দুটি রিসোর্ট ছাড়া আর কোন থাকবার ব্যবস্থা নেই। সুন্তালেখোলা ভ্রমণের খুঁটিনাটি পড়ুন এখানে।
ঝালং – মূর্তি থেকে ৩৭ কিমি দূরে অবস্থিত ঝালং খোলা আর রঙ্গখোলা এই দুই পাহাড়ি নদীর মিলন স্থল ঝালং গ্রাম। এই দুই নদী মিশেছে জলঢাকা নদীর বুকে যেখানে একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। এটিও এখানকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এখানে সরকারি বেসরকারি বেশ কিছু থাকার জায়গা আছে।
বিন্দু – পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত ভারত ভুটান সীমান্তের শেষ গ্রাম। এখান থেকে ভুটান সীমান্ত দেখা যায়।
৩) মালবাজার ভ্রমণ কেন্দ্রের অন্তর্গত ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থানগুলি হল –
মালবাজার ভ্রমণ কেন্দ্রটি জলপাইগুড়ি জেলার মাল সাবডিভিশন এবং দার্জিলিং জেলার কালিম্পং সাবডিভিশনের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। মূলত অসংখ্য নয়নাভিরাম চা বাগানের জন্যই এই অঞ্চলটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এই পর্যটন কেন্দ্রের অন্তর্গত বিশেষ দ্রষ্টব্যগুলি হল চুইখিম গ্রাম, গরুবাথান গ্রাম, ওদলাবাড়ি, কাথামবাড়ি অরণ্য, ফাগু ইত্যাদি।
পশ্চিম ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থান
পশ্চিম ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থানগুলো মূলত তিনভাগে বিভক্ত যথা – ১) শিলিগুড়ি ভ্রমণ কেন্দ্র ২) তরাই ডুয়ার্স ভ্রমণ কেন্দ্র এবং ৩) মহানন্দা অভয়ারণ্য ভ্রমণ কেন্দ্র। পূর্ব ও কেন্দ্রীয় ডুয়ার্সের মত এত সুবিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত না হলেও এই অঞ্চলটি মূলত কার্শিয়াং , কালিম্পং , দার্জিলিং ও সিকিম সহ নেপাল,ভুটান প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সীমানাগুলির প্রবেশদ্বার হিসেবে বিখ্যাত।
১) শিলিগুড়ি ভ্রমণ কেন্দ্রের কেন্দ্রের অন্তর্গত ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থানগুলি হল –
বাঘপুল বা করোনেশন ব্রিজ – শিলিগুড়ি ও ডুয়ার্সের মধ্যে সংযোগকারী ব্রিটিশ আমলের এক ঐতিহ্যবাহী ব্রিজ হল এই করোনেশন ব্রিজ। তিস্তা নদীর ওপর তৈরি এই ব্রিজের নাম রাজা ষষ্ঠ জর্জের রাজ্যাভিষেককে স্মরণ করে রাখা হয়। ব্রিজের সামনে দুটি বাঘের মূর্তি থাকার কারণে স্থানীয়রা এই ব্রিজকে বাঘপুল বলেও সম্বোধন করে।
নর্থ বেঙ্গল সায়েন্স সেন্টার – শিলিগুড়ি শহর থেকে চার কিমি দূরে মাটিগাড়ায় অবস্থিত এই বিজ্ঞান কেন্দ্রটি আসলে জনসাধারণের মধ্যে বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানোর জন্য গঠিত একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক বিনোদন কেন্দ্র। হোলি এবং দীপাবলি বাদ দিয়ে সপ্তাহের সাতদিনই সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যে ৬.৩০ অবধি খোলা থাকে এই কেন্দ্রটি। সাধারন দর্শকের জন্য টিকিট মূল্য ৩০ টাকা। তবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা আছে।
ড্রিমল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক – শিলিগুড়িতে অবস্থিত একমাত্র বিনোদন পার্ক এটি। এখানে ছয় ধরণের রাইড ২ টি ব্যাঙ্কোয়েট হল ও একটি ফুড কোর্টের ব্যবস্থা আছে। সারা সপ্তাহ খোলা থাকে এটি সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যে ৬.৩০ অবধি। এন্ট্রি ফি ১৩০ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন মূল্যের প্যাকেজের ব্যবস্থাও আছে। তবে বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের জন্য পার্কটি বন্ধ আছে।
গজলডোবা – জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের ওদলাবাড়ির কাছে অবস্থিত একটি ছোট গ্রাম গজলডোবা। একে ঘিরে রয়েছে অপালচাঁদ অরণ্য এবং বৈকুন্ঠপুর অরণ্য। কাছেই তিস্তা নদী বাঁধ অবস্থিত। শিলিগুড়ি থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ২৫ কিমি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি রিসর্টও রয়েছে এখানে।
এছাড়াও অন্যান্য জায়গাগুলো হল রোহিনী লেক, হংকং বাজার, ইস্কন মন্দির, মধুবন পার্ক, দুধিয়া, সাভিন কিংডম, সালুগাড়া গুম্ফা, সিপাইধুরা চা বাগান, সেবকেশ্বরী কালী মন্দির ইত্যাদি।
২) তরাই ডুয়ার্স ভ্রমণ কেন্দ্রের অন্তর্গত ডুয়ার্সের দর্শনীয় স্থানগুলি হল –
ভারত নেপাল সীমান্ত, নক্সালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, শিবখোলা অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প ইত্যাদি।
৩) মহানন্দা অভয়ারণ্য ভ্রমণ কেন্দ্র – মহানন্দা অভয়ারণ্য পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় অবস্থিত একটি অভয়ারণ্য। এই অভয়ারণ্য হাতি, গন্ডা, একশৃঙ্গী গন্ডা, চিতাবাঘ, বন্য বিড়াল, হরিণ, বানর এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জন্য পরিচিত।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- নিজস্ব প্রতিনিধি
- https://en.wikipedia.org/
- https://coochbehar.gov.in/
- https://alipurduar.gov.in/
- https://jalpaiguri.gov.in/


আপনার মতামত জানান