ইতিহাস

গুলজারিলাল নন্দ

গুলজারিলাল নন্দ (Gulzarilal Nanda) ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতিবিদ যিনি দুবার অল্প সময়ের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক পুরস্কার ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

১৮৯৮ সালের ৪ জুলাই অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোটে এক পাঞ্জাবি হিন্দু পরিবারে গুলজারিলাল নন্দর জন্ম হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই জায়গাটি পাকিস্তানের আওতাধীন হয়েছে। গুলজারিলাল নন্দের শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয় লাহোর, আগ্রা ও এলাহাবাদে। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ স্কলার হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘শ্রম সমস্যা’। ১৯২০ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত তিনি এই বিষয়ে গবেষণা করেন। পরবর্তীকালে অর্থাৎ ১৯২১ সালে মুম্বাইয়ের জাতীয় মহাবিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন। আবার ঐ বছরই জড়িয়ে পড়েন অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে। ১৯২২ সালে আমেদাবাদ টেক্সটাইল লেবার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক নিযুক্ত হন তিনি। ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঐ পদে আসীন ছিলেন। ১৯৩২ সালে সত্যাগ্রহ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অপরাধে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৪২ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তাঁকে আবার কারাগারে বন্দি থাকতে হয়। গুলজারিলাল নন্দ ১৯৩৭ সালে তৎকালীন বোম্বাই (বর্তমানে মুম্বাই) বিধানসভায় নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালীন বোম্বাই সরকারের সংসদীয় সচিব (শ্রম ও অন্তঃশুল্ক) হিসেবে কাজ করেন। ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তিনি বোম্বাই সরকারের শ্রম মন্ত্রী ছিলেন। এই সময় রাজ্য বিধানসভায় শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি বিল পেশ করার পেছনে তাঁর যথেষ্ট অবদান ছিল। এছাড়াও তিনি বহু সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যেমন কস্তুরবা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অছি, হিন্দুস্তান মজদুর সেবক সঙ্ঘের সম্পাদক এবং বোম্বাই আবাসন পর্ষদের সভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তিনি ছিলেন জাতীয় পরিকল্পনা কমিটির একজন সদস্য। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের (আই.এন.টি.ইউ.সি.) সাংগঠনিক দিকটির সঙ্গেও তিনি বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীকালে এর সভাপতিও হয়েছিলেন।

১৯৪৭ সালে একজন সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে জেনেভায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এর ফলে তাঁকে কাজ করতে হয় ‘দ্য ফ্রিডম অফ অ্যাসোসিয়েশন কমিটি’র ওপর। এই কাজের সুবাদে তাঁকে সফর করতে হয় সুইডেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশগুলোতে। ঐ সমস্ত দেশের শ্রম ব্যবস্থা এবং আবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হওয়াই ছিল তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

শ্রী গুলজারিলাল নন্দ ১৯৫০ সালের মার্চ মাসে যোজনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। পরের বছর সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের যোজনা দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এছাড়াও, সেচ ও বিদ্যুৎ-এই দুটি দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বও তাঁকে দেওয়া হয়। ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচনে বোম্বাই থেকে তিনি সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন। এর ফলে পুনরায় তিনি সেচ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত প্ল্যান কনসালটেটিভ কমিটির বৈঠকে তিনি ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৯ সালে জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনেও তিনি ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৫৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি লোকসভার সাংসদ হিসেবে নিযুক্ত হন ও কেন্দ্রীয় শ্রম, কর্মসংস্থান ও পরিকল্পনা দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী পর্যায়ে যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান পদেও তিনি কিছুদিন কাজ করেছিলেন। ১৯৫৯ সালে তিনি জার্মানি, যুগোস্লাভিয়া ও অস্ট্রিয়া-এই তিনটি দেশ সফর করেন।

১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় লোকসভার সাংসদ নিযুক্ত হন গুজরাটের সবরকান্থা কেন্দ্র থেকে। একই বছরে তিনি সূচনা করেন কংগ্রেস ফোরাম ফর সোশ্যালিস্ট অ্যাকশন (Congress forum for socialist action)। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত তিনি কাজ করেন কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী হিসেবে। ১৯৬৩-১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। ১৯৬৭ এবং ১৯৭১ সালে পরপর দুবার তিনি হরিয়ানার কাইথল কেন্দ্র থেকে পুনরায় লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ সালের ২৭ মে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। পরে,১৯৬৬ সালে তাসখন্দে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর পর ১৯৬৬ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে তিনি মাত্র ১৩ দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও এই দুটি সময় ছিল যথেষ্ট সংকটপূর্ণ। প্রথমবার ভারত ও চীনের যুদ্ধের ঠিক পরেই এবং দ্বিতীয় বার ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের ঠিক পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

১৯৯৭ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কারে সম্মানিত করে।

১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি ৯৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।