ভ্রমণ

জয়চন্ডী পাহাড় ভ্রমণ

জয়চন্ডী পাহাড়। ছবিঃ সববাংলায়

পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর মহকুমার সদর শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জয়চন্ডী পাহাড়। এখানেই ১৯৭৮ সালে সত্যজিত রায় তাঁর হীরক রাজার দেশে চলচ্চিত্রটির একটা বড় অংশের শুটিং করেন। তারপর কেটে যেতে চলেছে চার দশক কিন্তু জয়চন্ডী পাহাড়ের পরিবেশ এবং সৌন্দর্য এখনও একই রকম। পাহাড়ের সামনে গেলেই চোখের সামনে আজও ভেসে উঠবে গুপি বাঘার ভোজন দৃশ্য অথবা উদয়ন পন্ডিতের সঙ্গে গুপি বাঘার প্রথম দেখা হওয়ার দৃশ্যটি। স্থানীয় অনেকের স্মৃতিতে আজও অমলিন বিশ্ববরেন্য পরিচালকের সঙ্গে সেই শুটিং এর দিনগুলি। সত্যজিতের স্মৃতিতে পাহাড়ের পাদদেশে তৈরী হয়েছে একটি স্থায়ী মঞ্চ। ডিসেম্বরের শেষে পর্যটন সমারোহ হয় এখানে, এছাড়াও ফেব্রুয়ারীতে মেলা বসে এখানে। এই দুই সময় বাদে এ চত্বরে নির্জনতাই বিরাজ করে। পাহাড়ের ঠিক নিচেই একটি গ্রাম, নাম নন্দুয়ারা।

কলকাতা থেকে ভলভো বাস এ করে আসানসোল পৌঁছে  যাবেন ঘন্টা তিনেকের মধ্যে , সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে বরাকর হয়ে গড়পঞ্চকোট আরো ৪৫ মিনিট। বরাকর-বেগুনিয়া মোড় থেকে বামদিকে ঢুকে যাচ্ছে দিশেরগড় রোড। এই রাস্তা ধরে পৌঁছতে হবে গড়পঞ্চকোটে। পাহাড়ের গা ঘেঁষে সবুজ বনানী চিরে চলে গেছে পিচ রাস্তা। বাঁ দিকে পঞ্চকোট পাহাড় ক্রমশ মাথা তুলেছে। ডান দিকে ধানক্ষেত। রেল পথে গড়পঞ্চকোটের নিকটবর্তী স্টেশন হলো বরাকর। সেখান থেকে সরাসরি গড়পঞ্চকোটে যাওয়ার গাড়ি পেয়ে যাবেন। গড়পঞ্চকোট থেকে গাড়িতে জয়চন্ডী পাহাড় যেতে লাগে ঘন্টা পাঁচেক।

জয়চন্ডী পাহাড়ের উপর থেকে। ছবিঃ সববাংলায়

বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বড়ো বড়ো পাথর বা বোল্ডার। তারই মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে প্রধান তিনটি পাহাড়। জয়চন্ডী, দক্ষিনাকালী বা কালী পাহাড়, এবং যুগঢাল। জয়চন্ডী পাহাড়েই ওঠার রাস্তা রয়েছে। সম্প্রতি বানানো হয়েছে কংক্রিটের সিড়ি। পাহাড়ের মাথায় উঠে একবারটি নিচে তাকান, বাজি রেখে বলতে পারি সিড়ি ভাঙার কষ্টটুকু এক লহমায় গায়েব হয়ে যাবে । সে এক অসাধারণ দৃশ্য, একদিকে শহরের ব্যস্ত নাগরিক জীবন, অন্যদিকে দূর আদিবাসী পল্লীর নিজস্ব ছবি। আরো দূরে ধু ধু মাঠ, মাঝে বিক্ষিপ্ত সবুজ আপনার শহুরে চোখে এনে দেবে এক মায়াবী পরশ। বসুন না দু দন্ড সামনের উচু কালো পাথরটায়, কেউ তো বাধা দেওয়ার নেই। পাহাড় চূড়াতেই দেখা মিলবে মা চন্ডী মাতার মন্দিরের। ভক্তিভরে পুজো দেওয়ার সুযোগও মিলবে। পাহাড়ের উপরে রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার, এখন ধ্বংসাবশেষটুকুই অবশিষ্ট। শোনা যায় কাশিপুরের রাজার সৈন্যরা এখান থেকে নজর রাখতেন বহুদূর পর্যন্ত।

 ট্রিপ টিপস


কিভাবে যাবেন :  সড়ক পথ – কলকাতা থেকে ভলভো বাস এ করে আসানসোল। সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে বরাকর হয়ে গড়পঞ্চকোট । বরাকর-বেগুনিয়া মোড় থেকে বামদিকে ঢুকে যাচ্ছে দিশেরগড় রোড। এই রাস্তা ধরে পৌঁছতে হবে গড়পঞ্চকোটে।

রেল পথ – রেল পথে গড়পঞ্চকোট নিকটবর্তী স্টেশন হলো বরাকর। সেখান থেকে সরাসরি গড়পঞ্চকোটে যাওয়ার গাড়ি পেয়ে যাবেন। গড়পঞ্চকোট থেকে গাড়িতে জয়চন্ডী পাহাড় যেতে লাগে ঘন্টা পাঁচেক।

কোথায় থাকবেন : আপনি গড়পঞ্চকোটে হোটেলে থেকে জয়চন্ডী পাহাড় দেখতে আসতে পারেন। গড়পঞ্চকোটে সরকারি ও বেসরকারি লজ দুইই পাবেন গড়পঞ্চকোটে । উল্লেখযোগ্য সরকারি লজ গুলি হল WBFDC গড়পঞ্চকোট নেচার রিসোর্ট, PHE গেস্ট হাউস, পাঞ্চেত রেসিডেন্সি, গড়পঞ্চকোট ইকো টুরিজম |

কি দেখবেন : বিরিঞ্চিনাথের মন্দির, গড়পঞ্চকোটের গড়, বড়ন্তিতে মুরাডি লেক, কল্যাণেশ্বরী মন্দির

কখন যাবেন : গরমকালে এই অঞ্চলে অত্যধিক গরম থাকে, সেই সময়ে না যাওয়ায় ভালো । বহু সংখ্যক টুরিস্ট এই অঞ্চলে শীতকালে এসে থাকে এই অঞ্চলের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে । আমরা সববাংলার পক্ষ থেকে অনুরোধ করবো শীতকালে তো বটেই একবার বর্ষাকালে বেরিয়ে আসুন এই অঞ্চল থেকে । তুলনামূলক পর্যটকদের কম ভিড় সঙ্গে চারিদিকের ঘন সবুজ বর্ষাকালে জয়চন্ডী পাহাড় এলাকাকে  আরো মোহময়ী করে তোলে । আমাদের মতে জয়চন্ডী পাহাড়ে আসার সেরা সময় হলো – নভেম্বর – মার্চ ও জুলাই – সেপ্টেম্বর ।

সতর্কতা : স্থানীয় বাসিন্দারা সন্ধ্যের পরে লজের বাইরে বেরোতে নিষেধ করে কারণ এই অঞ্চলে রাতের পর নানা প্রকার দুর্বৃত্তকারীদের উৎপাত আছে বলে শোনা যায় ।


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি

১ Comment

1 Comment

  1. Pingback: বিহারীনাথ ভ্রমণ | সববাংলায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!