ভূগোল

কৃষ্ণনগর

পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত নদীয়া জেলার একটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ইতিহাস বিজড়িত জনপদ হল কৃষ্ণনগর । নদীয়া জেলার সদর শহর ও পৌরসভা এলাকা এই কৃষ্ণনগর (Krishnanagar)।

কৃষ্ণনগর জনপদটি ভৌগোলিক অবস্থানের বিচারে ২৩.৪০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৫০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। সমুদ্রতল থেকে এই জনপদ মোটামুটিভাবে ১৪ মিটার উঁচু। জলঙ্গি নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত সুপ্রাচীন এই জনপদের উপর দিয়েই চলে গেছে কর্কটক্রান্তি রেখা। কৃষ্ণনগরের অনতিদূরেই পূর্বদিকে শান্তিপুর, নবদ্বীপ এবং দক্ষিণদিকে চাকদা, রাণাঘাট প্রভৃতি বিখ্যাত সব জনপদ রয়েছে।

কৃষ্ণনগরের নামকরণ করেছিলেন নদীয়ার রাজা রুদ্র রায়। কৃষ্ণনগর মানেই তো ইতিহাস বিখ্যাত রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কথা উঠে আসে। জনপদটির নামকরণ হয়েছিল তাঁর নামেই। ইতিহাসে বলে, সপ্তদশ শতাব্দী নাগাদ ভবানন্দ মজুমদার নামে একজন বারো ভুইঁয়াদের আধিপত্য দমন করতে উদ্যোগী হন এবং রাজা মানসিংহকে বাংলার দখল নিতে সাহায্য করেন। মানসিংহ ছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের সেনাপতি। এই কাজে সহায়তার জন্য পুরস্কারস্বরূপ ভবানন্দ মজুমদার পেয়েছিলেন নদীয়া, সুলতানপুর, কাশিমপুরের মতো মোট চোদ্দোটি পরগণার মালিকানা। নদীয়ার বিখ্যাত রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ সেই ভবানন্দ মজুমদার। বংশপরম্পরা চলতে থাকে ক্রমশ। তখন নদীয়ার রাজধানী ছিল বাগোয়ান গ্রামে আর তার পরে সেই রাজধানী চলে যায় মাটিয়ারিতে। ভবানন্দ মজুমদারের নাতি রাঘব রায় সেই রাজধানীকে আবার পরিবর্তিত করে নিয়ে আসেন রেবতী নামক এক স্থানে। শোনা যায় যে কৃষ্ণের অগ্রজ বলরামের স্ত্রী রেবতীর নামানুসারেই ঐ গ্রামের তদনুরূপ নাম হয়েছে। এই রেবতী গ্রামের নাম ক্রমশ মুখে মুখে বদলে বদলে অবশেষে ‘রেউই’ নামে পরিণত হয়। রাঘব রায়ের পুত্র রুদ্র রায়ই এই রেউই গ্রামের নামকরণ করেন কৃষ্ণনগর বলে জানা যায়। কৃষ্ণভক্ত রুদ্র রায় তাঁর আরাধ্য দেবতার নামেই গ্রামের নাম দেন কৃষ্ণনগর। তবে এর পাশাপাশি অন্য অনেকের মতে, নদীয়ার বিখ্যাত রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নামানুসারেই এই জনপদের নামকরণ হয়েছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণচন্দ্র রায় ভবানন্দ মজুমদারেরই বংশধর এবং তিনি রুদ্র রায়ের প্রপৌত্র। তাঁর আমলেই কৃষ্ণনগরের বিপুল সমৃদ্ধি সূচিত হয় এবং শুধু বাংলা নয়, সমগ্র ভারত জুড়ে এই জনপদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

কৃষ্ণনগর বলতেই চোখে ভাসে নবাবি আমলের আহার-বিহার, মৃৎশিল্পের বিস্তৃতি, কড়াপাকের মিষ্টি আর নলেন গুড়ের সুমিষ্ট ঘ্রাণ। কিন্তু রোম তো একদিনে তৈরি হয়নি। কৃষ্ণনগরের ইতিহাসও অনেক পুরনো। নদীয়ার সামগ্রিক ইতিহাসে কৃষ্ণনগরের একটা বিরাট গুরুত্ব আছে। ইতিহাসের সূত্র অনুযায়ী রুদ্র রায়ই এই জনপদে চকবাড়ি, কাছারিখানা, হাতিশালা, ঘোড়াশালা, নহবত এবং বিশাল ঠাকুরদালান নির্মাণ করান। এজন্য তিনি ঢাকা থেকে নিয়ে এসেছিলেন কারিগর আলাল বক্সকে। মোটামুটিভাবে যখন নদীয়ার রাজা হন কৃষ্ণচন্দ্র, সময়টা ১৭২৮ সাল। নদীয়ার স্বর্ণযুগে তখন কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ি সিরাজের বাবুয়ানিতে বিরূপ হয়ে ইংরেজ সৈন্যদের সাহায্য করেছিল বলে জানা যায়। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির কিছুদূরেই যে পরিত্যক্ত পুকুর, এখনো দেবী দুর্গার ভাসান হয় তাতে। নহবতখানা, নাটমন্দির, চকবাড়ি, ঠাকুরদালানে সজ্জিত এই রাজবাড়িতে একসময় দুর্গাপূজা আর জগদ্ধাত্রী পূজা দেখতে জনসমাগম হতো প্রচুর। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির বনেদি দুর্গাপুজো যথেষ্ট ঐতিহ্যবাহী। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র স্বয়ং এই পুজো চালু করেছিলেন। কৃষ্ণনগরের দেবী রাজরাজেশ্বরী হিসেবেই যোদ্ধৃবেশে পূজিতা হন। বেদেনি ডাকের সাজে সজ্জিত দেবীর পূজা শুরু হল কীভাবে তা নিয়ে জনশ্রুতিতে ছড়িয়ে আছে নানা কাহিনি। তবে বেশিরভাগের মতে সে সময় মুর্শিদাবাদের নবাব ছিলেন আলিবর্দি খাঁ। তাঁকে সঠিক সময়ে কর না পাঠানোয় বন্দি হন কৃষ্ণচন্দ্র আর বিজয়া দশমীর সময় কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে নৌকায় আসার পথে তিনি স্বপ্নাদেশ পান যে কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী পুজো করার। সেই মতোই চালু হয়ে যায় কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজো। এই জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন হওয়ার পরে পরেই দুর্গাপুজোও চালু হয়ে যায় সকলের জন্য। আগে রাজবাড়িতে পূজা চলাকালীন বাইরের মানুষ ঢুকতে পারতেন না, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রই প্রথম রাজবাড়ির পূজায় সকল মানুষের প্রবেশাধিকার চালু করেন। এই মধুর স্বপ্নিল ইতিহাসের আড়ালে এক রক্তক্ষয়ী অতীত চাপা পড়ে আছে। দেশভাগের করাল গ্রাসে বাংলা ভেঙে দু-টুকরো হল যখন শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে ভাগাভাগি হয়েছিল জেলা-মহকুমা-সদর সবই। নদীয়াও এই বিভাজনে বাদ যায়নি, নদীয়া ভেঙে দু-খান হল। প্রথমে নদীয়া জেলা চলে গিয়েছিল পাকিস্তানের মানচিত্রে। কিন্তু এখানকার মেহেরপুর, কুষ্টিয়া আর চুয়াডাঙায় মুসলমান সংখ্যাগুরু হলেও একমাত্র কৃষ্ণনগর আর রাণাঘাটে হিন্দুদের বসবাস ছিল। তাই কৃষ্ণনগর আর রানাঘাটের হিন্দু রাজারা কখনোই নিজেদের পাকিস্তানের অন্তভুর্ক্ত করতে চায়নি। সেই উত্তাল সময় কৃষ্ণনগরের রাজা সৌরীশচন্দ্র রায় নিজে লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং তার ফলেই দেশভাগের পরিবর্তিত সিদ্ধান্তে রানাঘাট এবং কৃষ্ণনগর ভারতের মানচিত্রে অক্ষত রয়ে যায়।

বিখ্যাত সাহিত্যিক ও গীতিকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, বিজ্ঞানী জগদানন্দ রায়, সমাজসংস্কারক রামতনু লাহিড়ী, অভিনেতা শ্রী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বাংলার বীর বিপ্লবী বাঘাযতীন, বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও হেমন্ত কুমার সরকার, হরিপদ চট্টোপাধ্যায়, দিলীপ কুমার রায়, সুভাষ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ বিখ্যাত সব মানুষদের জন্মস্থান এই কৃষ্ণনগর। এই জনপদে একসময় থাকতেন ভারতীয় জাতীয় সেনার সদস্য প্রমোদরঞ্জন সেনগুপ্ত, অধ্যাপক ড. ক্ষুদিরাম দাশ, লালমোহন ঘোষ, বিপ্লবী বীণা দাস, আধ্যাত্মিক গুরু ধীরেন্দ্রনাথ সরকার প্রমুখ নানা দিকপাল ব্যক্তিবর্গ।

রাজ্য শিক্ষা পর্ষদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা পর্ষদের অধীনে এখানে বহু ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যম স্কুল রয়েছে। এই জনপদের সাক্ষরতার হার অনেকটাই বেশি প্রায় ৮৮.০৯ শতাংশ। ১৮৪৬ সালে ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষের বাড়িতে স্থাপিত হয় কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল, এছাড়া রয়েছে কৃষ্ণনগর দেবনাথ হাই স্কুল, কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল, ১৮৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণনগর এ.ভি হাই স্কুল, কৃষ্ণনগর লেডি কারমাইকেল গার্লস হায়ার সেকেণ্ডারি স্কুল, শক্তিনগর হাই স্কুল, কৃষ্ণনগর অনাথেশ্বর আদর্শ বিদ্যাপীঠ সহ আরো অনেক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের স্কুল যেগুলি সবই রাজ্য শিক্ষা পর্ষদের অধীনে এবং বাংলা মাধ্যমের স্কুল। তাছাড়া কৃষ্ণনগরের সবথেকে পুরনো স্কুল হল ১৮৩৪ সালে স্থাপিত সি.এম.এস সেন্ট জন’স হাই স্কুল। অনেকগুলি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল এখানে চালু আছে যেগুলিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা পর্ষদের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়। একেবারে শিশুদের পঠনপাঠনের জন্য এখানে বিখ্যাত জগবন্ধু শিশু নিকেতন, কৃষ্ণনগর অ্যাকাডেমি এবং মূক-বধিরদের জন্য বিশেষ শিক্ষার সুবাদে এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে হেলেন কেলার স্মৃতি বিদ্যামন্দির। ঐতিহ্যের বিচারে কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজে একসময় অধ্যাপনা করতেন প্রেসিডেন্সি কলেজের বিখ্যাত শেক্সপিয়ার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ক্যাপ্টেন ডি.এল.রিচার্ডসন এবং পরবর্তীকালে রামতনু লাহিড়ী, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, বিষ্ণু দে, সুধীর চক্রবর্তী প্রমুখ খ্যাতনামা ব্যক্তিরা শিক্ষক হিসেবে পড়িয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানে। এছাড়াও শিক্ষার সহায়ক হিসেবে ১৮৫৬ সালে কৃষ্ণনগর সাধারণ গ্রন্থাগার স্থাপিত হয় যা আজও সমান ঐতিহ্যসহ উৎসাহী পাঠকের চাহিদা মেটাতে সহায়ক।

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির বনেদি দুর্গাপূজা তো এখানকার সবথেকে বড়ো আকর্ষণ। সেই কোন আমলে রুদ্র রায়ের হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই দুর্গাপূজা, তারপর কৃষ্ণচন্দ্র এসে তো পুজোর ভোলবদল করে দেন। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে এই পুজোর নামডাক। রাজবাড়ির পুজোয় এমন সাধারণের কাছে উপভোগ্য করে তুলেছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র যা আজও চলছে। এছাড়াও চন্দননগরের মতোই আড়ম্বরপূর্ণ সমারোহে এখানে অনুষ্ঠিত হয় জগদ্ধাত্রী পুজো। রাজবাড়ি ছাড়া চাষাপাড়া, কাঁঠালপোতা, তাঁতিপাড়া, বালকেশ্বরী বারোয়ারি, মালোপাড়া বারোয়ারিতে অত্যন্ত বিখ্যাত সব জগদ্ধাত্রী পুজো হয়ে থাকে। এখানকার দেবী কোথাও বড়ো মা, ছোটো মা নামে পূজিতা হন। চৈতন্য সমাগমে ঋদ্ধ নিকটবর্তী নবদ্বীপ বা শান্তিপুরের ছোঁয়ায় এখানেও কিছু কিছু জায়গায় রাস উৎসব, ঝুলন ইত্যাদি পালিত হয়, তবে তা অত জনপ্রিয় নয়।

কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল আর সরভাজা-সরপুরিয়া সারা বাংলায় একটা কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছে। কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি অঞ্চলে প্রথম মৃৎশিল্পীরা এসে বসবাস শুরু করেন এবং এই এলাকার মাটির শিল্পই অত্যন্ত বিখ্যাত হয়ে ওঠে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আমলে। তখন সময় ১৯৭১ সাল। পরে ঘূর্ণির পাশাপাশি কুমোরপাড়া, ষষ্ঠিতলা, নতুনবাজার ইত্যাদি জায়গাতেও মৃৎশিল্পীদের বিস্তার ঘটে। ঘূর্ণির মাটির পুতুল, কুমোরপাড়া বা ষষ্ঠীতলার ছোটো ছাঁচের পুতুল আর নতুনবাজারের মূর্তিশিল্প অত্যন্ত বিখ্যাত। আজও ঘূর্ণিতে গেলে দেখা যাবে পুতুলপট্টি।

কৃষ্ণনগরের আকাশে-বাতাসে-মাটিতে অতীত ইতিহাসের গন্ধ। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি কিংবা ঘূর্ণির পুতুলপট্টি এই জনপদের অবশ্য-দ্রষ্টব্য স্থানের মধ্যে পড়ে। ভ্রমণে এলে এখানকার বেথুয়াডহরী অরণ্য বা বাহাদুরপুর অরণ্যও ঘুরে দেখা যায়। তবে বেথুয়াডহরীতে ঘন জঙ্গল পেলেও বাহাদুরপুর প্রায় পুরোটাই জলাশয়-সম্বলিত। শীতকালে এখানে প্রচুর পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা আছে। আনন্দময়ীতলা কালীবাড়ি, রোমান ক্যাথলিক গির্জাটিও এখানে দেখে নেওয়া যায়।

সবমিলিয়ে ইতিহাসের স্বাদ আর সংস্কৃতির মিশেলে কৃষ্ণনগর আজও নিজ স্বাতন্ত্র্যে সমুজ্জ্বল এক জনপদ। বাংলার সাংস্কৃতিক পীঠস্থান হয়ে উঠেছিল একসময় এই কৃষ্ণনগরই। কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে জমজমাট নবরত্নের আসর বসতো কৃষ্ণচন্দ্রের সভায়। গোপাল ভাঁড় সেখানকার এক কিংবদন্তী। কৃষ্ণনগরের প্রাচীন পথে-ঘাটে তার পদচারণা আজও মানুষের বিশ্বাসে সাড়া জাগায়। কৃষ্ণনগর তাই এক হেরিটেজ হয়ে ওঠা জনপদের নাম।

  • সববাংলায় সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আজই যোগাযোগ করুন
    contact@sobbanglay.com

  • এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

    আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com

1 Comment

1 Comment

  1. Pingback: কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পুজো | সববাংলায়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

শুধুমাত্র খাঁটি মধুই উপকারী, তাই বাংলার খাঁটি মধু খান


ফুড হাউস মধু

হোয়াটস্যাপের অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন