ভ্রমণ

সোমনাথ ভ্রমণ

সোমনাথ মন্দির
সোমনাথ মন্দির। চিত্র ইন্টারনেট

গুজরাটের সোমনাথ মন্দির দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ। হিন্দুদের কাছে তাই এই মন্দির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জন্যই এই মন্দির বারবার বিভিন্ন সুলতান বাদশাহের দ্বারা ধ্বংস হলেও বারবারই একে গড়ে তোলা হয়েছে। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে ভগবান চন্দ্রদেব প্রথম মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন এবং সেটি ছিল সোনার তৈরি। পরে রাবণ রূপো দিয়ে এবং তারও পরে কৃষ্ণ চন্দনকাঠ দিয়ে মন্দিরটি পুনর্নিমাণ করেছিলেন। মন্দিরের বর্তমান রূপটি সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের উদ্যোগে নির্মিত হয় এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদের হাতে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।

সোমনাথ মন্দির গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের গির সোমনাথ জেলায় আরব সাগরের তীরে অবস্থিত। মন্দিরের নিকটস্থ শহর হল ভেরাভাল যেখান থেকে মন্দিরটি মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হিন্দুদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তীর্থ যেমন সতীপীঠ প্রভাস, ত্রিবেণী সঙ্গম, ভাল্কা তীর্থ মন্দিরের এক থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত।

স্কন্দ পুরাণ অনুসারে সত্যযুগে চন্দ্র প্রজাপতি দক্ষের ২৭ জন কন্যাকে বিবাহ করলেও শুধুমাত্র রোহিনীর প্রতিই আকৃষ্ট ছিলেন বেশি। ফলে তাঁর বাকি ২৬ জন স্ত্রী অবহেলিত ও অপমানিত বোধ করে তাঁদের বাবা দক্ষকে নালিশ করেন। ক্ষুব্ধ দক্ষ চন্দ্রকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তিনি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাবেন। তখন চন্দ্র শাপমোচনের জন্য শিবের আরাধনা করেন। তবে শিব তাঁর অভিশাপ আংশিক নির্মূল করেন এবং তাঁকে বর দেন প্রতিমাসে তিনি পূর্ণিমা পর্যন্ত পনের দিন আকার এবং রূপে বাড়বেন এবং পরের পনের দিন ক্ষয়প্রাপ্ত হবেন। সেই আরাধনাস্থলেই চন্দ্র সোনা দিয়ে সোমনাথ মন্দির নির্মাণ করেন। এরপর ত্রেতাযুগে রাবণ রূপা দিয়ে এবং তারও পরে দ্বাপর যুগে কৃষ্ণ চন্দনকাঠ দিয়ে মন্দিরটি পুনর্নিমাণ করেছিলেন।

সোমনাথ মন্দির
সৈকত থেকে দেখা সোমনাথ মন্দির। চিত্র ইন্টারনেট

ইতিহাস বলছে প্রথম সোমনাথ মন্দির কে নির্মান করেছিলেন সে বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। ধরে নেওয়া হয় সময় ও প্রকৃতির কোপে প্রথম সোমনাথ মন্দির সম্ভবত ৬০০ সালের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তারপর গুজরাটের সেউনার রাজা বল্লভী ৬৪৯ সালে পুরাতন সোমনাথ মন্দিরের জায়গায় দ্বিতীয়বার নতুন করে সোমনাথ মন্দির গড়ে তোলেন। এরপর বিভিন্ন সুলতান ও বাদশাহরা এই মন্দির ধ্বংস করে গেছেন এবং বিভিন্ন রাজারা মন্দিরটি গড়ে গেছেন। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে ১০২৪ সালে গজনভী চতুর্থবারের গড়া মন্দিরটি ধ্বংসের পাশাপাশি শিবলিঙ্গটিও ধ্বংস করেছিলেন। এরপরে আবার ভাঙ্গা গড়া চলতে থাকে। এই ধ্বংসলীলায় সর্বশেষ আঘাত আনেন মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব। তাঁর নির্দেশে ১৬৬৫ সালে মন্দিরটিকে সম্পূর্নরূপে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয় এবং মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপরে কিছুটা স্থান জুড়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া হয়। ১৭৮৩ সালে পুনের পেশোয়া, নাগপুরের রাজা ভোঁসলে, কোলাপুরের ছত্রপতি ভোঁসলে, ইন্দোরের রানী অহল্যা বাঈ ও গোয়ালিয়রের শ্রীমন্ত পাটিলবুয়া শিন্ডের যৌথ উদ্যোগে সপ্তমবারের জন্য মন্দিরটি গড়ে ওঠে। তারপরে বহুদিন সোমনাথ মন্দির কেবলমাত্র একটি ধ্বংসাবশেষ রূপেই পড়ে ছিল। ভারতের স্বাধীনতা লাভের পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বল্লভ ভাই প্যাটেলের উদ্যোগে মন্দিরটি পুনরায় নির্মানের কাজ শুরু হয়। ১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদের হাতে বর্তমান সোমনাথ মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। মন্দির উদ্বোধনে তিনি বলেন, “ধ্বংসের চেয়ে যে সৃষ্টি যে মহৎ, সোমনাথ মন্দির তারই প্রতীক।” বারবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েও বারবার গড়ে ওঠার জন্য মন্দিরটি ‘চিরন্তন পীঠ’ নামেও পরিচিত।

বাণস্তম্ভচিত্র ইন্টারনেট

সোমনাথ শব্দটির অর্থ চন্দ্রের রক্ষাকর্তা। এই মন্দিরে শিব সোমেশ্বর নামে পরিচিত যার অর্থ চন্দ্রের ঈশ্বর বা প্রভু। চন্দ্রকে অভিশাপ থেকে রক্ষা করার জন্য শিবের এই নাম। বিশ্বাস করা হয় চন্দ্র শিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি কার্তিক মাসে পূর্ণচন্দ্র রূপে মন্দিরের মাথায় অবস্থান করে। তাই কার্ত্তিক পূর্ণিমা এখানের গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। এই সময় মেলা বসে এখানে। তাছাড়া দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ হওয়ায় হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এই মন্দির। শিবরাত্রিতে এখানে বিশাল ভিড় হয়। তবে অন্যান্য উৎসব যেমন দীপাবলি, নবরাত্রি সহ অন্যান্য পূজাগুলোতেও যথেষ্ট ভিড় হয়। বর্তমান মন্দিরের নকশা তৈরি করেছিলেন গুজরাটের সোমপুরা পরিবার। তাঁরা কয়েক প্রজন্ম ধরেই এই কাজ করছেন এবং তাঁদের বিশ্বাস স্বয়ং বিশ্বকর্মার কাছেই তাঁদের পূর্বপুরুষের হাতেখড়ি। মন্দির চত্বর পরিষ্কার এবং পাণ্ডা বা পুরোহিতদের উৎপাত এখানে নেই।

প্লেনে করে এলে কাছাকাছি বিমানবন্দর হল দিউ। মন্দির থেকে এর দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার। সেখান থেকে গাড়ি ধরে সোমনাথ মন্দির। গাড়ি করে এলে আমেদাবাদ থেকে রাজকোট, জুনাগড় হয়ে সোমনাথ আসতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা লাগে। রাস্তার অবস্থা খুব ভালো এবং যাত্রাটি বেশ উপভোগ্য। আমেদাবাদ থেকে ট্রেনে করে এলে ভেরাভাল বা সোমনাথ স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে গাড়িতে কিছুক্ষণের মধ্যেই মন্দিরের কাছের হোটেল। সুবিধার জন্য আমেদাবাদ স্টেশন থেকে কয়েকটি ট্রেনের উল্লেখ করা হল।

ট্রেন নাম্বারট্রেনের নামকখন ছাড়বেকোন স্টেশন পৌঁছবেকখন পৌঁছবেকোন দিন চলে
০৬৩৩৪তিরুবনন্তপুরম সেন্ট্রাল - ভেরাভাল কোভিড - ১৯ স্পেশালসকাল ৭টা ২৫ মিনিটভেরাভালদুপুর ৩টে ৪৫ মিনিটবুধবার
০১০৮৮পুনে ভেরাভাল স্পেশালসকাল ৭টা ৪৫ মিনিটভেরাভালবিকেল ৪টে ২৫
মিনিট
শুক্রবার
০১৪৬৪জবলপুর সোমনাথ কোভিড - ১৯ স্পেশাল সকাল ৮টা ৩০ মিনিটসোমনাথবিকেল ৬টা ৫৫
মিনিট
মঙ্গল ও শুক্রবার বাদে সবদিন
০১৪৬৬জবলপুর সোমনাথ কোভিড - ১৯ স্পেশাল সকাল ৮টা ৩০ মিনিটসোমনাথবিকেল ৬টা ৫৫
মিনিট
মঙ্গল ও শুক্রবার
০৯২১৭সৌরাষ্ট্র জনতা স্পেশালরাত ১০টা ২০ মিনিটবেরাবলসকাল ৭টা ২০ মিনিটসবদিন

এখানে থাকার জন্য বহু হোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস রয়েছে। সোমনাথ ট্রাস্টের পক্ষ থেকেও থাকার জন্য একাধিক গেস্ট হাউস রয়েছে। ২০২১ সালের কোভিড পরবর্তী পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই গেস্ট হাউসের প্রতিরাতের ভাড়া ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০০০ টাকা অবধি।

সোমেশ্বর শিবলিঙ্গ। চিত্র ইন্টারনেট

মন্দির এবং শিবলিঙ্গমন্দির স্থাপত্যের চালুক্য রীতিতে এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। মন্দিরে রয়েছে গর্ভগৃহ, সভামণ্ডপ এবং নৃত্যমণ্ডপ। গর্ভগৃহে রয়েছে শিবলিঙ্গ, যা নিয়ে অনেক জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। সেইরকমই একটি জনশ্রুতি অনুসারে মন্দিরের ওপর যখনই হামলা হত, পুরোহিতেরা শিবলিঙ্গ নিয়ে স্যমন্তক মণির মধ্যে লুকিয়ে রাখত। তারপর পরবর্তীতে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হলে আবার সেই শিবলিঙ্গ মন্দিরে ফিরে আসত। আরেকটি জনশ্রুতি অনুসারে সুলতানের সৈন্যরা শিবলিঙ্গ খুলতে গিয়ে দেখে তা শূন্যে ভাসছে। বিষয়টি প্রাথমিক ভাবে অবাক করলেও পরে তারা বুঝতে পারে শিবলিঙ্গটি লোহার ছিল এবং স্থাপত্যের মধ্যে চুম্বকের অত্যাশ্চর্য ব্যবহারের কারণেই সেটি শূন্যে ভাসছিল। তবে বলা হয় মাহমুদ গজনভী যখন মন্দির আক্রমণ করেছিলেন, তখন তিনি শিবলিঙ্গটি ভেঙে দিয়েছিলেন। প্রাচীর দিয়ে ঘেরা মন্দিরের প্রাচীরের বাইরে আরব সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ে। মন্দির চত্বরে মূল মন্দির ছাড়াও রয়েছে সমস্ত জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে মূর্তি এবং তাদের কাহিনী। মন্দির চত্বরে প্রাচীরের ভেতরে দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দর বসার জায়গা করা আছে। সপ্তম শতাব্দী থেকেই মন্দিরে আছে একটি বাণস্তম্ভ, যাতে লেখা আছে সোমনাথ মন্দির থেকে অ্যান্টার্কটিকা অবধি যদি একটি সরলরেখা আঁকা যায়, সেই রেখায় কোন স্থলের অস্তিত্ব নেই, শুধুই জল। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে মন্দির খোলা থাকে। মন্দিরে সকালে ৭ টায় আরতি হয়, তারপর দুপুর ১২টায়। সন্ধ্যারতি হয় ৭ টায়। তবে মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাবার আগে হোটেলে বা স্থানীয় লোকের কাছে জেনে নেবেন এই নিয়মে কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা।

সোমনাথ সৈকত

সোমনাথ সৈকত – মন্দির চত্বরে সুন্দর বসার জায়গা থেকেই দেখা যায় সমুদ্র। আর সমুদ্রের কাছে যেতে হলে মন্দিরের পেছন দিয়ে সৈকতে যাবার রাস্তা আছে। মনোরম এই সৈকতে সমুদ্রের পাড়ে বসে অনেকক্ষণ সময় কেটে যায়। চাইলে এখানে ঘোড়ায় চড়তে পারেন। তবে সন্ধ্যের পর এখানে না আসা ভালো। এখান থেকে মন্দিরের খুব সুন্দর ভিউ দেখা যায়। চাইলে মোবাইল বা ক্যামেরা এনে এখান থেকে মন্দিরের ছবি তুলতে পারেন।

লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো – প্রতিদিন মন্দিরে সন্ধ্যারতি হওয়ার পর মন্দিরে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো হয়। এই শো’তে প্রজেক্টারের সাহায্যে মন্দিরের গায়ে দেখানো হয় মন্দিরের বিভিন্ন তথ্য এবং ইতিহাস। অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠে ব্যাখা করা হয় মন্দিরের পৌরাণিক এবং ঐতিহাসিক কাহিনী। মন্দির চত্বরে থাকলে টিকিট তখনই কেটে নিতে পারেন। শো শুরু হয় ৮ টায় এবং ৯ টায় শেষ হয়।

এছাড়াও মন্দিরের কাছাকাছি ৪ কিলোমিটারের মধ্যে ঘুরে আসতে পারেন সতীপীঠ প্রভাস, রামমন্দির, ত্রিবেণী সঙ্গম, ভাল্কা তীর্থ, ভেরাভাল সৈকত ইত্যাদি জায়গা। হিন্দুদের চারধামের এক ধাম দ্বারকা মন্দির থেকে গাড়িতে ৪-৫ ঘণ্টার রাস্তা। চাইলে সোমনাথ থেকে দিউ বা গির জাতীয় উদ্যানও ঘুরে আসতে পারেন।

সারা বছর ধরেই এখানে আসা যায়। তবে গুজরাটে যেহেতু গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম থাকে, তখন না আসাই ভালো। তাছাড়া বিভিন্ন উৎসবে প্রচুর ভিড় হয়। সেসময় আসতে চাইলে দেখে আসবেন। সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির সময়টা এখানে আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে। তখন আসলেই সবচেয়ে ভালো।

মন্দির চত্বর থেকে প্রসাদ কিনতে পারেন। প্যাকেটে করে এখানে প্রসাদ বিক্রি হয়। মন্দির চত্বরের বাইরের মার্কেটে বিক্রি হয় হরেকরকম জিনিস। শিবলিঙ্গ, রুদ্রাক্ষের মালা, মন্দিরের ছবি থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাতের কাজের জিনিস, বাসনপত্র, খেলনা বা শো পিস অনেক কিছু পাওয়া যায়। মন্দিরের সাথে ছবি তোলার জন্য এখানে কিছু ফটোগ্রাফাররা ঘোরাঘুরি করে। তবে তাদের থেকে ছবি তুললে পেছনে মন্দিরের ছবি তারা এডিট করে দেয়। যার ফলে মূল ছবির মাধুর্য নষ্ট হয়। যদি আপনাদের এডিট ছবি ভালো না লাগে, সেটা আগেই জানিয়ে দেবেন।


ট্রিপ টিপস

  • কিভাবে যাবেন – প্লেনে করে এলে কাছাকাছি বিমানবন্দর হল দিউ, মন্দির থেকে যার দুরত্ব ৬৫ কিলোমিটার। গাড়ি করে এলে আমেদাবাদ থেকে রাজকোট, জুনাগড় হয়ে সোমনাথ আসতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা লাগে। রাস্তার অবস্থা খুব ভালো এবং যাত্রাটি বেশ উপভোগ্য। আমেদাবাদ থেকে ট্রেনে করে এলে ভেরাভাল বা সোমনাথ স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে গাড়িতে কিছুক্ষণের মধ্যেই মন্দিরের কাছের হোটেল।
  • কোথায় থাকবেন – থাকার জন্য বহু হোটেল, রিসর্ট, গেস্ট হাউস রয়েছে। সোমনাথ ট্রাস্টের পক্ষ থেকেও থাকার জন্য একাধিক গেস্ট হাউস রয়েছে।
  • কি দেখবেন – সোমনাথ মন্দির, শিবলিঙ্গ দর্শন, বাণস্তম্ভ, সোমনাথ সৈকত। কাছাকাছি ৪ কিলোমিটারের মধ্যে ঘুরে আসতে পারেন সতীপীঠ প্রভাস, রামমন্দির, ত্রিবেণী সঙ্গম, ভাল্কা তীর্থ, ভেরাভাল সৈকত ইত্যাদি।
  • কখন যাবেন – সারা বছর ধরেই এখানে আসা যায়। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির সময়টা এখানে আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে।
  • সতর্কতা
    • মন্দির চত্বরের ভিতরে জুতো পরে প্রবেশ নিষেধ, মোবাইল ও ব্যাগ নিয়ে যাওয়াও নিষেধ। এগুলো রাখার জন্য মন্দিরের বাইরে ব্যবস্থা আছে। যদি প্রসাদ কিনতে চান, তাহলে কিছু পয়সা সঙ্গে রাখুন।
    • পার্কিং থেকে মন্দির অনেকটা রাস্তা। বয়স্ক মানুষদের জন্য এতটা রাস্তা হেঁটে চলা কষ্টকর বটে। মন্দির কর্তৃপক্ষ থেকে গাড়ির ব্যবস্থা থাকলেও তা কখন আসবে ঠিক নেই।
    • সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে মন্দির খোলা থাকে।
    • মন্দিরে সকালে ৭ টায় আরতি হয়, তারপর দুপুর ১২টায়। সন্ধ্যারতি হয় ৭টায়।
    • লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো ৮ টায় শুরু হয় এবং ৯ টায় শেষ হয়।
    • মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাবার আগে হোটেলে বা স্থানীয় লোকের কাছে জেনে নেবেন উপরে বর্ণিত সময়সূচীতে কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা।
  • বিশেষ পরামর্শ
    • বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভিড় বাড়তে থাকে। কাছ থেকে শিবলিঙ্গ দর্শন করতে চাইলে একেবারে ৬ টার আগে থেকে উপস্থিত থাকুন এবং মন্দির খুললেই দর্শন করুন।
    • ফটোগ্রাফারদের থেকে মন্দিরের সাথে ছবি তুললে পেছনের মন্দিরের ছবি তারা এডিট করে দেয়। যার ফলে মূল ছবির মাধুর্য নষ্ট হয়। যদি আপনাদের এডিট ছবি ভালো না লাগে, সেটা আগেই জানিয়ে দেবেন।

এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।