ফুটবল

ফুটবল

সমগ্র বিশ্বে একেক দেশে একেক রকমের খেলা বিখ্যাত। দেশবাসীর সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং প্রাণের আনন্দ দুইই লুকিয়ে থাকে সেই খেলার মধ্যে। প্রত্যেক দেশের আবার কিছু জাতীয় খেলাও থাকে। যেমন ইংল্যাণ্ডের জাতীয় খেলা ক্রিকেট, স্পেনের জাতীয় খেলা ষাঁড়ের লড়াই। প্রতিটি খেলার কিছু বিশেষ নিয়ম-কানুন থাকে, খেলা পরিচালনা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সংগঠনও গড়ে ওঠে। আর সবথেকে বড় কথা প্রত্যেক খেলার সৃষ্টির পিছনে জড়িয়ে থাকে এক বিরাট ইতিহাস। ফুটবলও (Football) এর ব্যতিক্রম নয়। অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের একাংশে, জিম্বাবোয়ে, পর্তুগাল, বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশে ফুটবল জাতীয় খেলার মর্যাদা পেয়েছে। দলগত এই খেলা আউটডোর গেমসগুলির মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয়।

প্রায় বেশিরভাগ ঐতিহাসিকই মনে করেন যে, গ্রিক ও রোমানরাই প্রথম পা দিয়ে বল খেলার মধ্য দিয়েই মোটামুটিভাবে ৩৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ ফুটবল খেলার সৃষ্টি করেছে। তারও আগে জানা যায় অ্যাজটেক সভ্যতায় বলের গুরুত্ব ছিল খুবই বেশি। কারণ এই সভ্যতায় বলকে সূর্যদেবের প্রতীক মনে করে পূজা করা হত। সূর্যদেবের উপাসনার অঙ্গ হিসেবে দুই দলের মধ্যে বল খেলা হত। এই বল প্রথমে পাথরের তৈরি হলেও, পরে অ্যাজটেকবাসী রাবারের বল তৈরি করতে সক্ষম হয় বলে দাবি করেছেন বহু ঐতিহাসিক। একেবারে প্রাথমিক পর্বে ‘এপিসকাইরোস’ নামের এই খেলার উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন গ্রিক নাট্যকার অ্যারিস্টোফেনিসের নাটকেও। এই খেলা থেকেই রোমানদের ‘হারপাস্তাম’ নামের সমগোত্রীয় খেলার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রিকরা এই এপিসকাইরোস খেলাটি নিজের অনের আনন্দেই খেলতো, তখনো পর্যন্ত খেলার কোন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে চিনের সামরিক প্রশিক্ষণের সময় এক বিশেষ প্রকারের খেলার প্রতিযোগিতার কথা জানা যায় যার নাম ‘সুজু’। এই খেলায় একটি চামড়ার তৈরি বলে লাথি মারা হত। ক্রমে চীন থেকে এই খেলা কোরিয়ায় ‘কেমারি’ নামে এবং জাপানে ‘চুক-গুক’ নামে ছড়িয়ে পড়ে। কেমারিতে নিয়ম ছিল একটা বৃত্তাকার মাঠের মধ্যে কয়েকজন একটা বলকে লাথি মেরে বলটিকে কোনোভাবেই মাটিতে পড়তে দিত না। বহু প্রাচীনকাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসীরা এই ফুটবল খেলায় অভ্যস্ত বলে দাবি করেছেন ঐতিহাসিকরা। অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি নিউজিল্যাণ্ডের মাওরি উপজাতিদের মধ্যেও ফুটবল আসলে ‘কি-ও-রাহী’ নামে পরিচিত ছিল যেখানে একটা গোল মাঠকে কয়েকটা ভাগে বিভক্ত করে প্রতি ভাগে একটা করে দল রাখা হত আর মাঠের মাঝে থাকত একটা গোল সীমানা। নিয়ম ছিল এইরকম যে একটি দল পা দিয়ে বল মেরে অপর দলের সীমানা পার করতে পারলে বা মাঝ-মাঠের সীমানা স্পর্শ করতে পারলে পয়েন্ট পেত। প্রতিটি দলের সদস্য সংখ্যা থাকত সাত জন। তবে এ অনেক অনেক বছর আগের কথা এবং এই খেলাগুলির নিয়ম-নীতির সঙ্গে আজকের ফুটবলের নিয়ম-নীতি একেবারেই মেলে না। ঐতিহাসিকরা বলেন আধুনিক ফুটবলের জন্ম হয়েছে ইংল্যাণ্ডে। জনৈক ইংরেজ ক্রীড়াবিদ্‌ জে. সি. থ্রিং প্রথম এই ফুটবল খেলার একটি নিয়মবিধি তৈরি করেন। ‘মব ফুটবল’ নামে একপ্রকার ফুটবল সদৃশ খেলায় ইংল্যাণ্ডে খেলোয়াড়দের দুই দলের প্রচুর সদস্য একে অপরের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে বলটিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতেন। মোটামুটিভাবে ১২০০ শতাব্দীতে ইংল্যাণ্ডে ফুটবল খেলার নিদর্শন পাওয়া যাচ্ছে। শোনা যায় নাকি, ইংল্যাণ্ডের কোন এক রাজা এই ফুটবল খেলার জন্য বাড়ি-ঘর ইত্যাদি সম্পত্তি ভাঙচুর হত বলে খেলাটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ফুটবল থেমে থাকেনি। রাজা সপ্তম হেনরি ফুটবল খেলার অনুরাগী ছিলেন বলে জানা যায়। ১৩০৮ সালে জন ম্যাকক্রোকান নামের এক ভদ্রলোক আয়ারল্যাণ্ড শহরে প্রথম ফুটবল খেলা দেখার অভিজ্ঞতার কথা লেখেন। চতুর্দশ শতাব্দী পেরিয়ে ষোড়শ শতাব্দীতে এসে ইতালির ফ্লোরেন্সে দেখা যায় ‘কালসিও স্টোরিকো’ নামের একটি খেলায় দুই দলে মোট ২৭ জন করে খেলোয়াড় থাকত এবং গোল বাঁচানোর জন্য মোট ৫ জন খেলোয়াড় মাঠে উপস্থিত থাকতেন। ঐতিহাসিকেরা মনে করেন এই ফ্লোরেন্সের খেলাটিই আধুনিক ফুটবলের আদিমরূপ।

ইংল্যাণ্ডে খেলার তো জন্ম হলো ঠিকই, কিন্তু নিয়ম-কানুন ঠিক হবে কীভাবে? তার জন্য ইংল্যাণ্ডের বিভিন্ন ছোটো ছোটো ফুটবল স্কুলগুলি একত্রিত হয়ে প্রথম কিছু নিয়মাবলী পেশ করেন যা কিনা ‘কেমব্রিজ রুলস’ নামে পরিচিত। তারপর এই নিয়ম বদলে লাগু হয় ‘শেফার্ড রুলস’। ১৮৬৩ সাল নাগাদ ইংল্যাণ্ডে তৈরি হয় প্রথম ‘ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’। এরপরে ১৮৮৬ সালে ম্যাঞ্চেস্টার শহরে গড়ে ওঠে ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’। এটিই পরে রূপ নেয় ‘ফেডারেশন ফর ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’-এর যাকে সংক্ষেপে ‘ফিফা’ বলা হয়। ১৯০৪ সালে স্থাপিত ‘ফিফা’-র প্রধান কাজ হল আন্তর্জাতিক স্তরে ফুটবলের প্রশাসনিক ও নিয়মতান্ত্রিক দিকগুলি পর্যবেক্ষণ করা এবং নানাবিধ আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যার মধ্যে ফুটবল বিশ্বকাপ হল অন্যতম। এছাড়াও নানাভাবে ফুটবল খেলার প্রচার ও প্রসারের কাজে নিযুক্ত এই ফিফা। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৮৭২ সালে স্কটল্যাণ্ড ও ইংল্যাণ্ডের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়েই আধুনিক ফুটবলের সূত্রপাত ঘটে। এরপরে ধীরে ধীরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় পৃথক পৃথক ফুটবল প্রতিষ্ঠান ও ক্লাব গড়ে ওঠে, নিয়মবিধিও বদলায় কিছু কিছু। আজও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ফুটবল এগিয়ে চলেছে।

ফুটবল খেলার সাধারণ নিয়মগুলির মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় এগারো জন খেলোয়াড় নিয়ে দুটি দল তৈরি হবে যারা একটি নির্দিষ্ট আকারের মাঠে খেলতে নামবে। মাঠের দুই প্রান্তে মাঝামাঝি অবস্থানে একটি করে গোলপোস্ট থাকে যার মধ্যে বল প্রবেশ করালে তবেই কোন দল স্কোর করতে পারে। ফুটবলের প্রতিটি দল তার বিপক্ষ দলের গোলপোস্টে বল মারার চেষ্টা করে। গোলপোস্টের তিনদিকে থাকে বার, বারে বল লাগলে গোল হয় না। বল গোলপোস্টের সঙ্গে লাগানো জালের মধ্যে স্পর্শ করাতে হয়। প্রত্যেক দলের খেলোয়াড়রা নির্দিষ্ট বিন্যাসে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা যাতে গোল করতে না পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হল বলে কোনভাবেই হাত লাগানো যাবে না, হাত বাদে দেহের অন্য যে কোন অংশে বল লাগলে কোন অসুবিধে নেই। মাঠের চারদিকে নির্দিষ্ট দূরত্বে সীমানা অঙ্কিত থাকে যাকে সাইডলাইন বলা হয়। এই সাইডলাইনের বাইরে বল চলে গেলে যে দলের খেলোয়াড়ের পা লেগে বল বেরিয়ে যাবে, তার বিপক্ষ দল পাবে একটি ‘থ্রো’ অর্থাৎ হাত দিয়ে দূরে নিজের দলের খেলোয়াড়কে বল ছুঁড়ে দেবে সে। এছাড়া রয়েছে ফাউলের নিয়মবিধি। কোন খেলোয়াড় বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়কে যদি অযথা আঘাত করে তবে তাকে ‘ফাউল’ বলে। এই ফাউলের মাত্রা ও পুনরাবৃত্তির উপর সতর্কীকরণ হিসেবে হলুদ কার্ড এবং অন্তিমে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করা হয়। প্রত্যেক দলের খেলোয়াড় নিজেদের সদস্যদের মধ্যে বল ‘পাস’ করতে পারেন। সমগ্র খেলায় নিয়মবিধি খেলোয়াড়রা ঠিকঠাক পালন করছেন কিনা তা দেখা ও খেলা পরিচালনা করার দায়িত্বে থাকেন একজন রেফারি। যে দল সবথেকে বেশি গোল করতে পারে, সেই দলই বিজয়ী হয়। সমগ্র বিশ্বে এই ফুটবল খেলার নিয়মকানুন তৈরি ও স্থিরীকরণ করে ‘ফিফা’ অর্থাৎ ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। শুধু যে খেলোয়াড়দের নিয়মবিধি মেনেই ফুটবল খেলতে হয় তা কিন্তু নয়। আন্তর্জাতিক স্তরে এই নিয়মগুলি ছাড়াও মাঠের আকার ও বলের ওজন এক বিশেষ নিয়ম মেনে প্রস্তুত করতে হয়। ফুটবল খেলার জন্য আদর্শ মাঠের দৈর্ঘ্য হওয়া উচিত ১০০-১২০ গজ এবং প্রস্থ হওয়া উচিত ৫০-৬০ গজ। গোলবারের দৈর্ঘ্য হওয়া দরকার ৮ ফুট এবং একটি বার থেকে অপর বারের দূরত্ব ৮ গজ রাখা উচিত। সবশেষে ফুটবলের ওজন হতে হয় ৮১০-৮৫০ গ্রাম। রেফারির সঙ্গে সঙ্গে দুজন লাইন্সম্যানও ফুটবল খেলায় প্রয়োজন হয়। প্রতিটি দলের খেলোয়াড়দের কিছু নির্দিষ্ট বিন্যাসে মাঠে অবস্থান নিতে হয়। মাঝ মাঠের কাছাকাছি অবস্থানে যারা খেলেন তাদের ফরোয়ার্ড বলে। ফরোয়ার্ডদের পিছনের দিকে থাকে মিডফিল্ডার। তাদের পিছনের দিকে থাকে ডিফেণ্ডার। সব শেষে গোলপোস্টে থাকে একজন গোলরক্ষক। মোট ৯০ মিনিট সময়ের মধ্যে এই খেলাটি চলে।

তবে নিয়ম যে আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত একরকমভাবেই চলে এসেছে তা নয়। ‘ফিফা’ সংস্থা প্রয়োজনে নানা সময় এই খেলার কিছু কিছু নিয়মে বদল এনেছে। অতি সম্প্রতি ২০২১ সালে ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবলে পাঁচটি নিয়ম বদল করার প্রস্তাব এনেছে। বেশ কিছু প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে অন্যতম হল –

· খেলার সময়সীমা কমিয়ে ৬০ মিনিট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সেহেতু বিরতির সময় ধার্য হয়েছে ৩০ মিনিটের মাথায়।

· প্রস্তাবিত নিয়মে প্রত্যেক দল যতবার খুশি খেলোয়াড় বদল করতে পারে।

· হলুদ কার্ড দেখিয়ে খেলোয়াড়কে পাঁচ মিনিট মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখার নিয়ম প্রস্তাবিত হয়েছে। সেই সময় একজন খেলোয়াড় কম নিয়েই দলটি খেলবে মাঠে।

· ফুটবল খেলার মধ্যে কোনরকম হাতের ব্যবহার কমাতে থ্রো-ইনের বদলে কিক-ইনের নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে ফিফা। এতে হাতের বদলে পা দিয়ে বল মাঠের ভিতরে আনতে হবে।

· সবশেষে, কর্ণার শটের ক্ষেত্রে যে কর্ণার শট মারবে সে নিজের দলের খেলোয়াড়ের সঙ্গে একাধিক টাচে বল মারতে পারবে।

তবে এই নতুন প্রস্তাবিত নিয়ম এখনও পর্যবেক্ষণাধীন। কবে থেকে এ নিয়ম চালু হবে সে ব্যাপারে ফিফা কোন বিবৃতি এখনও দেয়নি।

ফুটবল খেলার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা হল ফুটবল বিশ্বকাপ। ১৯৩০ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় প্রথম আন্তর্জাতিক স্তরে। প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত ফিফা পরিচালিত এই প্রতিযোগিতায় বর্তমানে মোট ৩২টি জাতীয় দল যোগ দেয়। সবথেকে সফল বিশ্বকাপজয়ী দেশ হল ব্রাজিল। ৫ বার বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দল। ব্রাজিলের রোনাল্ডো, পেলে, আর্জেন্তিনার বাতিস্তা, লিওনেল মেসি, জার্মানির গার্ড মুলার প্রমুখ বিশ্বকাপের সবথেকে বেশি গোলদাতাদের মধ্যে অন্যতম। তবে বিশ্বকাপ ছাড়াও কোপা আমেরিকা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান কাপ ইত্যাদি ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলিও আন্তর্জাতিক স্তরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে জাতীয় ফুটবল দল থাকলেও এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের দরজায় পা রাখতে পারেনি ভারত। ভারতের ফুটবল খেলা পরিচালনা করে ‘অল ইণ্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন’। পশ্চিমবঙ্গের ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান কিংবা মহামেডান স্পোর্টিং ইত্যাদি ক্লাবগুলির বহু খেলোয়াড় ভারতীয় ফুটবলের গর্ব। শৈলেন মান্না, চুনী গোস্বামী, পি. কে ব্যানার্জি প্রমুখ ব্যক্তিরা এখনও ভারতীয় ফুটবলের অগ্রণী মুখ হয়ে আছেন। সবশেষে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত সৈয়দ আবদুস সামাদের নাম এবং ভারতীয় ফুটবলের জনক হিসেবে নগেন্দ্র প্রসাদ সর্বাধিকারীর উল্লেখ না করে থাকা যায় না।

2 comments

আপনার মতামত জানান