আজকের দিনে

২৯ আগস্ট ।। পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলি মধ্যে একটি হল পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস (International Day against Nuclear Tests)

সারা বিশ্বে ২৯ আগস্ট পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করা হয় বিশ্ববাসীর মধ্যে পরমাণু অস্ত্র বিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।

২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার ৬৪তম অধিবেশনে ২৯ আগস্ট দিনটিকে পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের সকল দেশের মানুষের মধ্যে অস্ত্রবিরোধী সচেতনা তৈরির উদ্দেশ্যেই দিবসটি পালন করা হয়।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় গৃহীত এই প্রস্তাবটিতে, পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার জন্য বিস্ফোরণ বা অন্য যে কোনও পারমাণবিক বিস্ফোরণের প্রভাব এবং একই সঙ্গে পারমাণবিক-অস্ত্র-মুক্ত বিশ্ব গঠন করার উদ্দেশ্যে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ আগস্ট ‘সেমিপালাতিনস্ক নিউক্লিয়ার টেস্ট সাইট’ (Semipalatinsk Nuclear Test Site) বন্ধের স্মরণে কাজাখাস্তানে একাধিক স্পনসর এবং সহযোগী স্পনসর একত্রিত হয়ে এই প্রস্তাবটি গঠন করে।

পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস প্রতিষ্ঠার পরে ২০১০ সালের মে মাসে সমস্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের সমস্ত সদস্য দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের অপসারণ সম্পর্কিত চুক্তিতে অংশ নেয় এবং পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন বিশ্বের শান্তি ও সুরক্ষা অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

২০১৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে‌‌ পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক দিবসের কথা স্মরণ করে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, গ্রিন ক্রস ইন্টারন্যাশনাল, কানাডার দূতাবাস, এবং এটিওএম ( Arms Control Association, Green Cross International, the Embassy of Canada, and the ATOM) প্রকল্পের সহ-পৃষ্ঠপোষকতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজাখস্তানের দূতাবাসে ‘পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা: ইতিহাস, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ’- এই বিষয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ইউ.এস. ইনস্টিটিউট অফ পিস’-এ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সম্মেলনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা সংক্রান্ত নানা বিষয় এবং পারমাণবিক-অস্ত্রপরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা সুনিশ্চিত করা। মূল উপস্থাপকগণের মধ্যে ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ এনার্জি -আর্নেস্ট জে মনিজ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট আর্মড কন্ট্রোল এন্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি -রোজ ই গোট্টেমলার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি অফ এনার্জি -ফ্রাঙ্ক যে ক্লোটজ। এই সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা সকলে একজোট হয়ে পারমাণবিক অস্ত্র অপসারণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।

বিশ্বব্যাপী পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির কাছে যেমন অনেক পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রয়েছে তেমনি এইসব অস্ত্র তৈরিতে তারা যে কেবল কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে চলেছে তাই নয়, এই পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নতিকরণের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বে বর্তমানে ৯টি দেশ পারমানবিক অস্ত্রে শক্তিশালী-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ও উত্তর কোরিয়া। তবে ইজরায়েল তাদের দেশে পারমানবিক অস্ত্রের উপস্থিতি স্বীকার করেনি।

পরমাণু অস্ত্র গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এবং এর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার প্রকৃত আকার-আয়তন সম্বন্ধে অবগত ও নিশ্চিত হতে পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি। এই পরীক্ষার ফলে পরমাণু অস্ত্র বিস্ফোরণ পরবর্তী অনেক প্রতিক্রিয়ার প্ ফলাফল সম্পর্কে অবগত হন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। কিন্তু পরীক্ষার জন্য পরমাণু বোমার এই বিস্ফোরণের ফলে বায়ুবাহিত তেজস্ক্রিয় কণাসমূহের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ১০০ মাইলেরও বেশি এলাকা জুড়ে এই পরমাণু পরীক্ষার গভীর প্রভাব পড়ে। পরমাণু শক্তির তেজস্ক্রিয়তার কারণে ক্যান্সার আক্রান্তের হার এবং জন্ম বিকলাঙ্গতা বৃদ্ধি পায়। তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়া মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আবহাওয়া স্তরের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে যে কোন পারমাণবিক পরীক্ষা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মাত্র দুটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ও ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে মারা গিয়েছিল প্রায় ১২০,০০০ মানুষ। পরবর্তী সময়ে আরও অসংখ্য মানুষ এই বিকিরণের ফলে মারা যায়।

২০১০ সালে এই দিনটির প্রথম উদযাপন হয়। পরবর্তী প্রতিটি বছরে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ যেমন সিম্পোসিয়া, সম্মেলন, প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতা, প্রকাশনা, বক্তৃতা, মিডিয়া সম্প্রচার এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যম দিবসটি পালিত হয়।
বিভিন্ন দেশের সরকারের সহযোগিতায় এবং নাগরিক সমাজের বিস্তৃত আন্দোলন পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

২০২০ সালের ২৬ আগস্ট, বুধবার, সকাল দশটায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার সভাপতি এইচ ই তিজানি মুহাম্মদ-বন্দে পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস পালন ও প্রচারের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে একটি উচ্চ-স্তরের পূর্ণাঙ্গ সভা আহ্বান করেন। কোভিড -১৯ এর পরিপ্রেক্ষিতে, এই বছর, সভাটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।