ভারতীয় বিচারালয়ের ইতিহাসে কোনো কোনো মামলা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে এমনকি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে। তেমনই একটি মামলা হল সিঙ্গুর মামলা। পশ্চিমবঙ্গের বাম সরকারের কৃষিজমি অধিগ্রহণ এবং টাটা ন্যানো নামক গাড়ির কোম্পানিকে কারখানা নির্মাণের জন্য সেই জমি তুলে দেওয়া নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধে উঠেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই একটি আইনি মামলা শুরু হয়েছিল। এই জমি অধিগ্রহণের ঘটনাটি বিরোধী রাজনৈতিক দল এমনকি বুদ্ধিজীবিদের দ্বারাও সমালোচিত হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল এই মামলা। জমি অধিগ্রহণের সময় থেকে প্রায় দীর্ঘ ১০ বছর পরে এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।
২০০৬ সালে সিপিআইএম পুনরায় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে এবং মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সেই বছরের মে মাসেই ঘোষণা করেন যে, টাটা নামক গাড়ির কোম্পানি তাদের নতুন ন্যানো মডেল চালু করার জন্য গাড়ি উৎপাদনের ইউনিট স্থাপন করতে চায়, যার জন্য প্রায় ১০০০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গে বহুদিন থেকেই শিল্পাঞ্চলের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। শিল্পোন্নত রাজ্যগুলির তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে রয়েছে বলে অনেকেই সমালোচনা করছিলেন। তাছাড়াও ভূমিহীন কৃষকদের জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও সেভাবে রক্ষা করতে পারেনি পুনরায় ক্ষমতায় আসা সিপিআইএম, তার একটি কারণ ছিল ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার তুলনায় জমির অপর্যাপ্ততা। এমন অবস্থায় একটি নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে উপার্জনের পথও সুগম হতে পারে, টাটাকে জমি দেওয়ার নেপথ্যে এমনই একটি চিন্তাই হয়ত কাজ করেছিল। সেসময় আরও কয়েকটি রাজ্যও ন্যানো প্রকল্পের জন্য টাটা মোটরসকে জমি দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল।
টাটা মোটরস দাবি জানিয়েছিল যে, সিঙ্গুর একটি মিনি অটো-সিটি হয়ে উঠবে এবং কারখানা লাগোয়া প্রায় ৭০ টি অনুসারী শিল্পের কর্মশালা স্থাপন করা যাবে। এই প্রকল্পটিতে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
২০০৬ সালের ১৮ মে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং টাটা মোটরসের মালিক রতন টাটা একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। সেখানেই এক লক্ষ টাকা দামে ন্যানো গাড়ি নির্মাণের কথা এবং তার জন্য মোট ১০০০ একর জমির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন রতন টাটা। ২৫ মে তারিখে যখন টাটা কোম্পানির লোক জমি পরিদর্শনের জন্য গিয়েছিলেন, সিঙ্গুরের চাষিরা জমিতে ঢুকতে তাদের বাধা দিয়েছিল৷ ২৬ মে ক্রুদ্ধ চাষিরা বলেন নতুন এই শিল্প প্রকল্পে তাদের চাকরির নিশ্চয়তা ঘোষণা করতে হবে। ১ জুন তারিখে সিঙ্গুরের প্রায় ৩০০০ কৃষক বিডিও-এর সামনে সরকার এবং টাটা প্রোজেক্টের বিরূদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। কিন্তু সিঙ্গুরের যে জমিটুকু প্রস্তাব করা হয়েছিল টাটা মোটরসকে কারখানা নির্মাণের উদ্দেশে প্রদানের জন্য, সেইসব জমিতে অবস্থানরত মানুষদের উচ্ছেদকরণের দিকে অগ্রসর হওয়া বন্ধ করেনি রাজ্য সরকার। ১৮৯৪ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইনের বিধি উদ্ধৃত করে রাজ্য সরকার প্রায় ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ পরিচালনা করেছিল এবং বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছিল। ২০০৬ সালের ২৮ আগস্ট এই জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু ২৫ সেপ্টেম্বর একরকম জোর করেই রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ করে। প্রায় ১০০ জন মহিলা ও শিশু এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রশাসন দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং ৭৮জন প্রতিবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
প্রতিবাদ উঠতে থাকে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনৈতিক দল এমনকি বু্দ্ধিজীবিদের মধ্যে থেকেও। একটি বেসরকারি উদ্যোগের জন্য উর্বর কৃষি জমির রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ প্রথম থেকেই বিতর্ক তৈরি করেছিল। এমতাবস্থায় বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার মধ্যে প্রবেশ করে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন। এছাড়াও মেধা পাটেকর, অরুন্ধতী রায়, মহাশ্বেতা দেবী, শাঁওলি মিত্র, অপর্ণা সেন প্রমুখ বুদ্ধিজীবিরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে প্রতিবাদে সামিল হন। অমর্ত্য সেন কারখানা গঠনকে সমর্থন করলেও জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন।
রাজ্য সরকার প্রথমে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল এবং তার মেয়াদ বাড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট তা বেআইনি ঘোষণা করে। ২০০৬ সালেরই ১ ডিসেম্বর জমিতে সীমানা সুরক্ষার বেড়া দেওয়া এবং গাছ লাগানোর কাজ শুরু করে টাটা মোটরস।
২০০৬ সালের ৪ ডিসেম্বর সিঙ্গুর ঘটনার প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনশন শুরু করেছিলেন যা ২৬ দিন ধরে চলে। সেই বছরই ১৮ ডিসেম্বর এক প্রতিবাদী কিশোরী তাপসী মালিককে মারা এবং ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় শাসকের বিরূদ্ধে।
অবশেষে ২০০৭ সালের ৯ মার্চ টাটা মোটরস সিঙ্গুরের নির্দিষ্ট পরিমাণ অধিগৃহীত জমি হস্তগত করে। মার্চ মাসেই প্রতিবাদীরা হামলা চালায় প্রকল্পের ওপর। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। ২৭ মার্চ রাজ্য সরকারের তরফে জমির বদলে প্রদত্ত ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয় হাইকোর্টে। যদিও সেই ক্ষতিপূরণ পত্র দেখে বোঝা গিয়েছিল অধিকাংশ কৃষকেরই তাতে সম্মতি ছিল না। ২ মে হাইকোর্ট আবার জানিয়েছিল, যে, জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতির যে হলফনামা জমা দেওয়া হয় সরকারের তরফে, তা অসম্পূর্ণ। ৭ জুন সরকার হাইকোর্টে স্বীকার করেছিল যে, ৩২৬ একর জমির অধিগ্রহণ এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং বাকি জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছেন। ২০০৮ সালের ১০ জানুয়ারি দিল্লিতে অটো শো-তে ন্যানো উন্মোচন করা হয় এবং এরপর ১৮ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের পক্ষেই জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছিল ফলে, কৃষকরা এই আদেশটিকে চ্যালেঞ্জ করবার জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল।
আন্দোলন কিন্তু থেমে থাকেনি। ২৭ জুন ন্যানো কারখানার গেট ভেঙে দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা৷ ১৯ আগস্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে অনিচ্ছুক কৃষকদের চারশো একর জমি ফিরিয়ে দিতে হবে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখন মমতাকে আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন কিন্তু সেই আলোচনা থেকে সদর্থক কিছু হয়নি। ২৪ আগস্ট মমতা সিঙ্গুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্না শুরু করেছিলেন। টাটা কোম্পানি একবার বলেছে এর আগেই, যে, এরকম আন্দোলন চলতে থাকলে তারা এই প্রকল্প সিঙ্গুর থেকে সরিয়ে নিয়ে চলে যাবে। অবশেষে, টাটা মোটরস সিঙ্গুরের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয় এবং ৩ অক্টোবর প্রকল্প সরে যায় সেখান থেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আন্দোলন ২০১১ সালে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জয়লাভ করবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সোপান ছিল।
ক্ষমতালাভের পর মমতা সিঙ্গুরের জমিদানে অনিচ্ছুক এবং ক্ষতিপূরণ না নেওয়া চাষীদের মোট ৪০০ একর জমি টাটা মোটরসের হাত থেকে ফেরত নেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকেন। এখানে উল্লেখ্য যে, বাম সরকার হাইকোর্টে জানিয়েছিল ৬৭১ একর জমির মালিক ক্ষতিপূরণ নিয়েছিল। কিন্তু মমতা সেক্ষেত্রে দাবি করেছিলেন ৯৯৭ একরের মধ্যে প্রায় ৪০০ একর জমির মালিক ক্ষতিপূরণ নেয়নি, যা বাম সরকারের হিসেবের সঙ্গে মেলে না। আবার ভূমি সংস্কার মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাকের মতে, ৩২৬ একর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, সেই জমিগুলির মালিকেরা কেউ সম্মতি দেয়নি বা উপযুক্ত মালিক খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ক্ষতিপূরণও নেয়নি।
মমতা সরকার ১৪ জুন ইচ্ছুক ও অনিচ্ছুক কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ভিত্তিতে সিঙ্গুর ল্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিল নিয়ে আসেন, রাজ্যপাল তাতে স্বাক্ষরও করে দেন। কিন্তু ২২ জুন এই বিলটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে টাটা মোটরস হাইকোর্টে পাল্টা মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট টাটা মোটরসের আর্জি খারিজ করে দিলে টাটারা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২৯ জুন সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সিঙ্গুরের চাষিদের জমি ফেরত না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আবার ২৮ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের আইপি মুখার্জির সিঙ্গেল বেঞ্চ সিঙ্গুর বিলটিকে বহাল রাখলে ২৯ অক্টোবর টাটা মোটরস পুনরায় তাকে চ্যালেঞ্জ করে। ২০১২ সালের ২২ জুন টাটার করা চ্যালেঞ্জের ফলস্বরূপ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বিলটিকে বাতিল করে দেন। সেবছর ৬ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকার হাইকোর্টের এই আদেশের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন জমা করে। তখন প্রাথমিকভাবে কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশকে অব্যাহত রেখে সুপ্রিম কোর্ট টাটাকে সিঙ্গুরে তাদের অধিকৃত জমি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ভাবতে বলে, কারণ যেহেতু তারা সেখান থেকে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু টাটা জানায় পুনরায় সেখানে প্রকল্প চালু করার জন্য সেই জমি তারা ধরে রাখতে চায়।
এই মামলা তবুও থেমে থাকেনি। ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট ১০ বছর পর অবশেষে এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণকে বেআইনি এবং বাতিল বলে ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এই রায় দিয়েছিল বিচারপতি ভি. গোপাল গৌড়া এবং অরুণ মিশ্রের একটি বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ ১৮৯৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের অনেকগুলি বিধি স্পষ্টত মেনে চলেনি। অবশ্য বিচারপতি গৌড়া এবং অরুণ মিশ্রের মতামতের মধ্যে ভেদ ছিল। গৌড়ার বক্তব্য ছিল, উক্ত আইনে ‘জনগণের উদ্দেশ্যে’ অর্থাৎ মানুষের প্রয়োজনে বা উপকারে জমি অধিগ্রহণের প্রসঙ্গ রয়েছে কিন্তু সিঙ্গুরের জমি কেবলমাত্র টাটা মোটরস কোম্পানির জন্য নেওয়া হয়েছিল। যদিও বিচারপতি মিশ্র বলেছিলেন টাটা কোম্পানির দ্বারা শিল্পায়ন হলে মানুষের উপকার হতে পারত, কর্মসংস্থানও হত। তবে এই দুই বিচারপতিই যে একটি জায়গায় একমত ছিলেন, তা হল, দুজনেই ভূমি অধিগ্রহণ আইনের লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করেন। তাঁরা জানিয়েছেন যে, অধিগ্রহণের জন্য ১৮৯৪-এর আইনের ৫(এ) ধারা অনুযায়ী রাজ্য সরকারের যে পূর্ব তদন্ত প্রক্রিয়া ছিল, তা নিতান্তই প্রহসন মাত্র। আরও বলা হয় যে, অধিগ্রহণ বিষয়ে অধিকাংশ কৃষককে তাদের মতামত আপত্তি বা অভিযোগ উত্থাপনের কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি, ক্ষতিগ্রস্তদের অধিগ্রহণের পূর্বে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি এমনকি জমির বাজার মূল্য বিবেচনা না করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল। এসব কিছু বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট এই অধিগ্রহণকে অবৈধ ও বাতিল বলে ঘোষণা করে, এবং ১২ সপ্তাহের মধ্যে টাটাকে কৃষকদের (ক্ষতিপূরণ নেওয়া এবং না নেওয়া) জমি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। যেসব কৃষকরা ক্ষতিপূরণ নিয়েছিলেন তাদের তা ফিরিয়ে না দেওয়ারই নির্দেশ দেয় আদালত, কারণ সেই কৃষকরা ১০ বছর তাদের জমি ভোগ করতে পারেনি। এই মামলার পর ১৮৯৪ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইনের পরিবর্তে ২০১৩ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইনকে মান্যতা দেওয়া হয়। এই আইনে ক্ষতিপূরণের দিকটিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল, যা পূর্বতন ১৮৯৪ সালের আইনটিতে ছিল না। এই আইনে যথোপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের ফলে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সঠিক পরিমাণ ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা করবার কথা বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে তফশিলি জাতি ও উপজাতিরা আরও বাড়তি কিছু সুবিধা পাবে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে জমির দামের তারতম্য হওয়ায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দিষ্ট কোন মানদন্ড নেই। আইনে আরও বলা হয় যে, বহু ফসলী জমি অধিগ্রহণের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। এমনকি বেসরকারি কোনো কোম্পানির জন্য অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে অন্তত ৮০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতির কথা বলা হয় এই নতুন আইনে।
সিঙ্গুর আন্দোলন ও পরবর্তীকালে সিঙ্গুর জমি বিল নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই আন্দোলনের ফলে শিল্পায়নের পালে যেটুকু হাওয়া লেগেছিল সেটুকুও কমে যায়। পরবর্তীকালে এই বিলের প্রভাবে শিল্পের প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে আবার পাশাপাশি শিল্পের নামেজোর করে উর্বর জমি অধিগ্রহণেও রাশ টানা সম্ভব হয়। আপাতত ভবিষ্যৎ বলবে যে এই আন্দোলন ও জমি বিলের ফলে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের কতটা উপকার হয়েছে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান