ভারতবর্ষের রাজনীতি ব্রিটিশ আগমনের পর থেকে অনেকখানি বদলে গিয়েছিল। স্বৈরাচারী ইংরেজ শাসনের অত্যাচারে জর্জরিত ভারতবাসীর একটা সময় প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল এমন এক অবলম্বন যাকে শক্ত করে ধরে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায়। এই প্রয়োজনীয়তা তখন সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়ের মতো রাজনীতির সমঝদাররা অনুভব করছিলেন এবং তারই ফলস্বরূপ ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (Indian National Congress) গড়ে উঠেছিল। ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে ব্রিটিশের বিপক্ষে দাঁড়াবার মতো এই একটা রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠায় পরবর্তীকালের স্বরাজের জন্য সংগ্রামের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছিল। আরও পরে মহাত্মা গান্ধীর মতো মানুষদের অংশগ্রহণে এবং সক্রিয়তায় জাতীয় কংগ্রেস হয়ে উঠেছিল ভারতবর্ষের প্রধান রাজনৈতিক দল। নানা উত্থান-পতন, তর্ক-বিবাদের পথ ধরে জাতীয় কংগ্রেসের এগিয়ে চলা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সূচনার কথা বলতে গেলে আরও কয়েকটি বছর পিছিয়ে যেতে হবে। ১৮৭৫ সাল। সেবছরই ‘ইন্ডিয়ান লীগ’ তৈরি হয়েছিল। এর নেপথ্যে ছিলেন শিশিরকুমার ঘোষ, হেমন্তকুমার ঘোষ, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। এই লীগের সংগঠকদের মতে এটি হল ভারতীয়দের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। ঠিক এর পরের বছর ১৮৭৬ সালের ২৬ জুলাই কলকাতার অ্যালবার্ট হলে একটা বিরাট জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে। সেখানেই ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’ বা ‘ভারত সভা’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সারা দেশে শক্তিশালী জনমত গঠন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচারী ইংরেজের বিরুদ্ধে একটা বিরাট গণ-আন্দোলনে সামিল করা, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ঐক্যবোধ গড়ে তোলা ইত্যাদিই ছিল ভারত সভার উদ্দেশ্য। সুরেন্দ্রনাথ এইসবের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই এমন একটি সভা গড়ে তুলেছিলেন। মনে রাখতে হবে এই সভার সভ্যদের মধ্যে কিন্তু ইউরোপীয় কেউ ছিল না। এই সভা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সংস্কার, ইলবার্ট বিল আন্দোলন ইত্যাদি ভারতবাসীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আন্দোলনে, সংস্কারের কাজে অবতীর্ণ হয়েছিল।
এই ভারত সভা ভারতীয়দের জীবনে এক নতুন আশা ও চেতনার সঞ্চার করেছিল। তবে পাশাপাশি সুরেন্দ্রনাথ এও উপলব্ধি করেছিলেন যে, ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়তে একটি সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, নচেৎ কোন সংগ্রামই সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যাবে না। এই উদ্দেশ্য নিয়ে পুনরায় অ্যালবার্ট হলে জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে প্রায় শতাধিক প্রতিনিধিকে নিয়ে আয়োজন করা হয় ‘সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলন’। এই জাতীয় সম্মেলন থেকেই ১৮৮৫ সালে গড়ে ওঠা জাতীয় কংগ্রেসের অনুপ্রেরণা এসেছিল বলে মনে করেন অনেকে। তবে জাতীয় কংগ্রেসের সূচনা কীভাবে হল তা নিয়ে নানা মত প্রচলিত রয়েছে।
কারও মতে, লর্ড রিপনের সম্বর্ধনা সভায় ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের নেতৃমন্ডলীর সমাবেশ থেকেই একটি সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চিন্তা এসেছিল। আবার অ্যানি বেসান্তের মতে, ১৮৮৪ সালে থিওসফিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক অধিবেশন থেকে মাতৃভূমি রক্ষার জন্য একটি জাতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেরণা আসে এবং সেখানেই জাতীয় কংগ্রেসের বীজ নিহিত ছিল। নন্দলাল চট্টোপাধ্যায়ের মতে আবার সম্ভাব্য রুশ আক্রমণ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যেই জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল। কংগ্রেসের অন্যতম সভাপতি অম্বিকাচরণ মজুমদার, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদারেরা কিন্তু মনে করেন সুরেন্দ্রনাথের জাতীয় সম্মেলন থেকেই আসলে জাতীয় কংগ্রেসের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এও মনে রাখতে হবে যে, ১৮৮৫ সালে জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পরদিনই জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
অনেকেই দাদাভাই নওরোজিকে জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতার কৃতিত্ব দিতে চাইলেও সকলে এবিষয়ে একমত হন না। অনেকেই অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজ রাজকর্মচারী অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউমকেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জনক বলে অভিহিত করে থাকেন। হিউমের জীবনীকার উইলিয়াম ওয়েডবার্নের বই থেকে জানা যায় যে, ভারত সরকারের সচিব পদে থাকার সময় হিউম সিমলাতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কিছু গোপন কাগজপত্র দেখবার সুযোগ পান এবং বুঝতে পারেন সরকারী দমননীতি ভারতীয়দের মধ্যে এক অসন্তোষ তৈরি করেছে ও নিম্নশ্রেণীর মানুষেরা যেকোন সময় বিদ্রোহ করতে পারে। সেইজন্য দেশের শিক্ষিত মানুষদের বিদ্রোহ থেকে দূরে রাখবার জন্য এবং ভারত থেকে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব সরানোর জন্য তৎপর হন তিনি। এই কারণেই ব্রিটিশ সরকারের স্বার্থেই কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন হিউম। এমনকি উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় হিউম ও বড়লাট ডাফরিনের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, হিউম ভারতের সামাজিক সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য একটি সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কথা বললে বড়লাট তাঁকে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরামর্শ দেন ও তারই ফলস্বরূপ নাকি জাতীয় কংগ্রেস গড়ে ওঠে।
আধুনিককালের বহু নামজাদা ঐতিহাসিক হিউম সংক্রান্ত পূর্বোক্ত মন্তব্যগুলির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের মতে, হিউম বাণিজ্য, কৃষি ও রাজস্ব বিভাগের সচিব ছিলেন, তাঁর পক্ষে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের গোপন নথি দেখতে পাওয়া কি সম্ভব? তাছাড়া হিউম ছিলেন সিমলায় এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নথি থাকত দিল্লিতে। এছাড়াও হিউম ও ডাফরিনের ব্যক্তিগত চিঠিপত্র থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কংগ্রেস সম্পর্কে আসলে ডাফরিন বিরক্তিই প্রকাশ করেছিলেন। হিউমকে প্রতিষ্ঠাতা বলবার তত্ত্ব তাই একরকম খারিজ করেই সুমিত সরকারের মতো ইতিহাসবিদ বলেছেন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে হিউমের ভূমিকাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আসলে ভারতীয় নেতারা অনেক আগে থেকেই একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কথা চিন্তা করছিলেন, হিউম সেই অবস্থার সুযোগ নিয়েছিলেন মাত্র। হিউম সব অঞ্চলের নেতাদের কাছেই বেশ গ্রহণযোগ্য ছিলেন। এছাড়াও ভারতীয় নেতারা তাঁদের এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনাতেই সরকারের রোষানলে পড়তে চাননি বলে হিউমের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। গোপালকৃষ্ণ গোখলের মন্তব্যও এই যুক্তিকে সমর্থন করেন। তিনি স্পষ্টতই জানিয়েছিলেন কোন ভারতীয়ের পক্ষেই তখন জাতীয় কংগ্রেস গড়ে তোলা সহজ ছিল না, কারণ সরকার তাহলে অবশ্যই রুখে দাঁড়াত। একজন সম্ভ্রান্ত ইংরেজ কর্মচারীর তাই প্রয়োজন ছিল।
১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিশিষ্ট আইনজীবী উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে বোম্বাইয়ের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজ হলে মোট ৭২জন প্রতিনিধি নিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন হয়েছিল।
এরপর নানা উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে জাতীয় কংগ্রেস। প্রথম অধিবেশনেই কংগ্রেসের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘ ভাষণ দেন উমেশচন্দ্র। অধিবেশনে বেশ কিছু সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়েছিল। ১৮৮৫ সাল থেকে ১৯০৫ সাল — এই প্রথম কুড়ি বছর মূলত সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা ও রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন সংস্কার সাধনের প্রস্তাবাবলী মধ্যেই কংগ্রেস কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ ছিল। মূলত আবেদন-নিবেদন নীতিই ছিল কংগ্রেসের কার্যাবলীর প্রাথমিক পর্যায়। তাদের অনুসৃত এই নীতিকে বলা হত ‘পলিসি অব থ্রি’পি’স’ (Policy of three P’s)। এই তিনটি পি হল প্রে, প্লিজ এবং প্রটেস্ট। অনেকেই কংগ্রেসের এই নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
কংগ্রেসের এমনই নরম স্বভাবের (নরমপন্থী) প্রতিবাদ করে কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই ‘চরমপন্থী’ নামক নতুন দলের জন্ম হয়। এই দুই দলের বিরোধ ক্রমে চরমে পৌঁছয় এবং ১৯০৭ সালে সুরাট অধিবেশনে এই দুই দল সম্পূ্র্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু যিনি কিনা কংগ্রেসের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন, তিনিও অনেক পরে ১৯৩৯ সাল নাগাদ মতবিরোধের কারণে কংগ্রেস ত্যাগ করেছিলেন।
১৯১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে মহাত্মা গান্ধী যখন কংগ্রেসে যোগদান করেন তখন থেকে জাতীয় কংগ্রেসের এক নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত হয়েছিল। ১৯১৭ এবং ১৯১৮ সালে চম্পারণ সত্যাগ্রহ, আহমেদাবাদে মিল ধর্মঘট ও খেদা সত্যাগ্রহ আন্দোলন দিয়ে গান্ধীজী দেশের মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যান। এরপর ১৯২০ সালে গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের ঢেউ ইংরেজকে নড়চড়ে বসতে বাধ্য করে। ১৯২৪ সালে গান্ধীজী গোখলের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী দলের সহায়তায় ১৯২৪ সালে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন৷ অসহযোগ ছাড়াও গান্ধী জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরেই আইন অমান্য আন্দোলন ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মতো আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনআন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন যা ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত আছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ক্ষমতা হস্তান্তর করে দিলে দেশ স্বাধীন হয় এবং স্বাধীনতার পরে জাতীয় কংগ্রেস দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল হয়ে ওঠে। জওহরলাল নেহেরু ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৬৪ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত দলের প্রধান ছিলেন। ১৯৫১-৫২, ১৯৫৭ এবং ১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে ক্ষমতা অর্জন করে। নেহেরু ধর্মনিরপেক্ষতা, রাষ্ট্র-চালিত শিল্পায়নের উপর ভিত্তি করে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক অনুশীলন এবং একটি জোট-নিরপেক্ষ ও অ-সংঘাতমূলক পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করেন যা আধুনিক কংগ্রেস পার্টির আদর্শ হয়ে ওঠে। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস তথা দেশের দায়িত্ব সামলেছেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। তারপরেই ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু হয় নেহেরুকন্যা ইন্দিরা গান্ধীর যুগ। ১৯৬৯ সালের নভেম্বর মাসে কংগ্রেসের তৎকালীন সভাপতি এস. নিজালিঙ্গাপ্পা শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য ইন্দিরাকে দল থেকে বহিষ্কার করে দেন। তখন ইন্দিরা নিজ উদ্যোগে নিজস্ব দল গঠন করেন যা কংগ্রেস (আর) নামে পরিচিত ছিল। অন্যদিকে মূল দলটি তখন কংগ্রেস (ও) নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৯ সালে এইভাবে কংগ্রেসে বিভাজন তৈরি হয়। কংগ্রেস (আর) নামে তাঁর দলটি বেশিরভাগ কংগ্রেস সাংসদ দ্বারা সমর্থিত ছিল, যেখানে মূল দলে মাত্র ৬৫ জন সাংসদের সমর্থন ছিল। সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটিতে ৭০৫ জন সদস্যের মধ্যে ৪৪৬ জন ইন্দিরার পক্ষে যান। ১৯৭১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ইন্দিরার দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ১৯৭৫ সালের ১২ জুন এলাহাবাদের হাইকোর্ট ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনকে নির্বাচনী অনিয়মের কারণে বাতিল ঘোষণা করে। এরপর ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলা ও অনাচারের প্রতিক্রিয়ায় ইন্দিরা গান্ধীর মন্ত্রীসভা রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদকে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করার সুপারিশ করে। সেই ১৯৭৫ সাল ভারতবর্ষের এক অন্ধকার সময়।
১৯৭৮ সালে ইন্দিরা এবং তাঁর অনুসারীরা আলাদা হয়ে কংগ্রেস (আই) নামে একটি নতুন বিরোধী দল গঠন করেছিলেন। ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস (আই) জয়লাভ করলে ইন্দিরা আবার প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর দেহরক্ষীরাই তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। সেবছরই ইন্দিরাপুত্র রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীও আততায়ীদের ষড়যন্ত্রে নিহত হয়েছিলেন। রাজীব গান্ধীর পরে পিভি নরসিমা রাও হয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সময়তেই মনমোহন সিং অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এই নয়ের দশক থেকেই বিশ্বায়নের সূত্রপাত।
১৯৯৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস মাত্র ১৪১টি আসন জেতে যা তখনও পর্যন্ত তাদের প্রাপ্ত সর্বনিম্ন আসন সংখ্যা। সেসময় রাজীব গান্ধীর স্ত্রী সোনিয়া গান্ধীকে কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। ২০০৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করার পর দলের ভিতর থেকে ব্যাপক সমর্থন থাকা সত্ত্বেও সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর পদ প্রত্যাখ্যান করেন এবং মনমোহন সিং-কে সেই পদে নিয়োগ করেন। এরপর ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ২০৬টি আসন জিতেছিল। তবে পাঁচবছরের মধ্যেই দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া বদলাতে থাকে, নরেন্দ্র মোদীর উত্থান ঘটতে শুরু করে এবং ২০১৪ সালে কংগ্রেস জনসমর্থন হারায় ও ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসে। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হন। বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় কংগ্রেস তার ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করছে। কংগ্রেসের প্রধান মুখ হিসেবে রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তাও এখন ক্রমবর্ধমান এবং দলের বর্তমান সভাপতি হলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ৯৯টি আসন জিতে রাহুল গান্ধীর জাতীয় কংগ্রেস পুনরায় যেন আশার আলো দেখতে পেয়েছে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- ‘স্বদেশ, সভ্যতা ও বিশ্ব’, জীবন মুখোপাধ্যায়, শ্রীধর পাবলিশার্স, কলকাতা, পুনর্মুদ্রণ, জানুয়ারি, ২০২১
- https://en.m.wikipedia.org/
- https://www.neversuchinnocence.com/
- https://sachinkundu.com//
- https://inc.in/
- https://timesofindia.indiatimes.com/


আপনার মতামত জানান