ভূগোল

আমতা

পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত হাওড়া জেলার আমতা একটি অন্যতম ইতিহাস প্রসিদ্ধ জনপদ।

উলুবেড়িয়া সাবডিভিশনের অন্তর্গত  আমতা বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে আমতা-১ ও আমতা-২ উন্নয়ন ব্লক এই দুটি ভাগে বিভক্ত। আমতা  রেলস্টেশনটি  আমতা-১ উন্নয়ন ব্লকের মধ্যে অবস্থিত। ভৌগলিক দিক থেকে দেখা গেলে শহরটি  ২২°৩৪′২৪″ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০′৫৮″পূর্ব দ্রাঘিমাংশ বরাবর অবস্থান করছে। শহরটিকে বেষ্টন করে আছে পশ্চিমে দামোদর নদ , পূর্বে গুজারপুর গ্রাম, উত্তরে বালিপোতা-জগন্নাথপুর গ্রাম।কিন্তু বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে যদি আমরা বিচার করি তাহলে আমতা- ১ কে বেষ্টন করে আছে উদয়নারায়ণপুর  এবং উত্তরে হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া, পূর্বে জগতবল্লভপুর, দক্ষিণে উলুবেড়িয়া-২ ও বাগনান-১ এবং পশ্চিমে আমতা-২। আমতা-২ কে বেষ্টন করে আছে উত্তরে উদয়নারায়ণপুর ও হুগলি জেলার খানাকুল-২, পূর্বে আমতা-১, দক্ষিণে বাগনান-১ ও পশ্চিমে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাশপুর। আমতা-১ উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল যথাক্রমে- আমতা, আনুলিয়া, বালিচক, বসন্তপুর, ভান্ডারগাছা, চন্দ্রপুর, কানপুর, খড়দহ, খোসালপুর, রসপুর , সিরাজবাটি, উদং-১, উদং-২। আমতা-২ উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল যথাক্রমে- অমরাগড়ি, ভাটোরা, বিনলা কৃষ্ণবাটি, গাজীপুর, ঘোড়াবেড়িয়া চিতনান, ঝামটিয়া, জয়পুর, ঝিকিরা, খালনা, কাশমোলী, কুশবেড়িয়া, নওপাড়া, তাজপুর, থালিয়া।

আমতা নিয়ে লিখতে গেলে কেবল আধুনিক আমতা শহরটি নিয়ে লিখলে আমতা ব্লকের মধ্যে অবস্থিত গ্রামগুলির অবদানের প্রতি চরম অবিচার হয়। ফলে আমতার দুইটি ব্লকের অন্তর্গত গ্রামগুলিকে নিয়ে সামগ্রিক আমতার এক বৃহত্তর ছবি এখানে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে।

প্রথমেই আসি আমতা নামকরণ বিষয়ে। কোন স্থানের নামকরণের পিছনে অবশ্যই একটি ইতিহাস কিংবা জনশ্রুতি থাকে। সুতরাং আমতাও তার ব্যতিক্রম নয়। আমতা নামকরণের ইতিহাস ঘাঁটতে গেলে দেখা যায় গৌড় রাজ  শশাঙ্কের সর্বশেষ তাম্রশাসনে বর্ণিত ঘটনা অনুসারে জীবনের শেষ ভাগে শশাঙ্ক কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হলে অযোধ্যার কাছে অবস্থিত বালিয়া পরগণা থেকে বারো জন শাকদ্বীপীয় ব্রাহ্মণ শশাঙ্কের রোগমুক্তির জন্য ভগবান শঙ্করের উপাসনা করতে থাকেন। এই ব্রাহ্মণেরা উত্তর প্রদেশের সরযূ নদীর তীরবর্তী বালিয়া জেলার খয়রাগোড় থেকে এসেছিলেন। তাই এঁদের ‘সরযূপায়ী ব্রাহ্মণ’ বলা হত। আমতা, সোনামুই, ভাণ্ডারগাছা, গড়বালিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে আজও এদের বংশধরেরা বাস করেন। এই ব্রাহ্মণদের সাথে শশাঙ্ককেও শৈব উপাসনার  উপদেশ দেন ঐ বারোজন পুরোহিত। ক্রমে শশাঙ্ক  আরোগ্য লাভ করলে সরযূ নদীর তীরবর্তী গ্রাম থেকে আগত এই বারো ব্রাহ্মণের প্রত্যেককে একটি করে গ্রাম দান করেন শশাঙ্ক। তাঁদের মধ্যে এক ব্রাহ্মণ পেলেন দামোদর নদের তীরস্থ  ‘ওঁ তৎ’ নামক গ্রামটি।

মনে করা হয় এই ‘ওঁ তৎ’ শব্দই পরবর্তিকালে ইংরেজ শাসনে ‘AMPTA’ রূপ লাভ করে যা কালক্রমে OMPTAT> OMPTA> OMPTAH> AMPTA তে এসে শেষ হয়। প্রাচীন দলিল দস্তাবেজ বা গ্রন্থে Amta শব্দকে Ampta লেখা হত যার প্রমাণ স্বয়ং রেনেল সেহেব তাঁর গ্রন্থে ‘Ampta’র উল্লেখ করেছেন। এই Ampta শব্দটি পরবর্তিকালে আরো পরিশিলীত হয়ে AMTA রূপ ধারণ করে যেখানে মাঝখানের P বর্নটি অনুচ্চারিত থাকে। বর্তমানে আমতা-Amta শব্দটি-ই সরকারি নথিপত্রে ব্যবহার হয়। সুকুমার সেন   তাঁর ‘বাংলার স্থান নাম’-এ (পৃঃ ৪৮) বলেছেন : আমতা (আমোতা) -১.-আন্রপত্র; <২. আম্রপুত্রক (পুত্রক- চারা) ৩. আম্রবর্তক (আমসত্ব); ৪. আম্রউপ্তক(উপ্ত আজানো) অম্লপত্রক ইত্যাদি। আমতার প্রাচীন ইংরেজী বানানের রূপটি কিন্তু আবার অন্যরকম। Amta > Amptah > Ampta > Omptah > Oomptah । এর সঙ্গে উমতা > প্রসঙ্গে  ‘ওঁ তৎ’ শব্দের রূপান্তরটা লক্ষণীয়।

নামকরণের প্রসঙ্গই যখন এল তখন আরও একটু আলোচনা করা যাক। আমতা- ১ ব্লকের তিনটি গ্রাম ছোটমহরা, বড় মহরা এবং সড়িয়ালা। সড়িয়ালা গ্রামটির নামকরণও বেশ অর্থপূর্ণ। প্রাচীনকালে মল্ল যুদ্ধের পাশাপাশি সড়কি বা লাঠি যুদ্ধেরও প্রচলন ছিল। শত্রুকে কাছ থেকে আক্রমণ করার জন্য এই ধরণের অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক ছিল। এই সড়কি প্রশিক্ষণ শিবির বা কেন্দ্র থেকেই গ্রামের নাম সড়িয়ালা । সড়কিওয়ালা > সড়িকআলা > সড়িকালা > সড়িয়ালা । এভাবেই সড়িয়ালা নামটির উৎপত্তি।

‘মহরা’ শব্দটি মহড়ারই অপভ্রংশ রূপ। ছোটমহরা ও বড়মহরা।  ‘মহড়া’র অভিধানগত অর্থ – যুদ্ধে বিপক্ষের দিকে এগিয়ে আসা সেনাদল বা বিপক্ষের সম্মুখবর্তী স্থান। লড়াইয়ে বিপক্ষের সম্মুখে অবস্থান করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাকেই ‘মহড়া নেওয়া’  বলে। তাহলে ছোটমহরা যদি যুদ্ধকালীন প্রশিক্ষণের ছোট বা প্রাথমিক পর্যায় হয়; বড় মহরা তাহলে প্রশিক্ষণের বড় বা চূড়ান্ত পর্যায়। অর্থাৎ ছোটমহরা ও বড় মহরা যুদ্ধকালীন মহড়া বা প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট দুটি স্থান বা কেন্দ্র।

হাওড়া জেলা জুড়ে যে বিশাল গ্রামীণ এলাকা রয়েছে, তার মধ্যে ইংরেজদের সময় থেকেই আমতাকে একমাত্র শহরে বলে গণ্য করা হত। প্রিন্স দ্বারকানাথ রানিগঞ্জ থেকে দামোদর হয়ে আমতায় কয়লার ব্যবসা করতেন।

প্রাচীন আমতার ইতিহাস ঘাঁটলে আমরা জানতে পারি আমতাকে একমাত্র শহরে বলে গণ্য করার কারণ। বর্ধিষ্ণু জনপদ হিসেবে আমতার উল্লেখ কিন্তু আমরা রাজা শশাঙ্কের আমল থেকেই পাই। আমতা বন্দর একসময়ে তৎকালীন বাংলার অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এবং ব্যস্ত বন্দর ছিল। বড় বড় নৌকো বোঝাই করে নানা ধরনের পালকি, ময়ূরপঙ্খী নৌকা, খড়ম-সহ নানা কুটির শিল্প-সামগ্রী  আসত আমতা বন্দরে। নদীপথে বর্ধমান, হুগলি, চাঁপাডাঙা থেকে ধান, আলু, কুমড়ো, পেঁয়াজ আসত। একটা সময় ছিল যখন আমতা বন্দর পরিবহনের ক্ষেত্র হিসেবে বেশ নাম করেছিল। মহারাজ শশাঙ্কের পরবর্তী সময়ে ব্যবসা বাণিজ্য ও পরিবহনের ক্ষেত্রে আমতা বন্দর অন্য মাত্রা পায়।

আমতা বন্দর তথা নৌ-পরিবহনকে কেন্দ্র করে দামোদরের পূর্ব তীর সংলগ্ন জায়গায় কিছু সরকারী অফিস কাছারী বা কার্যালয় গড়ে উঠেছিল। যেমন, ‘বানহাঁকখানা’। এই ‘বানহাঁকখানা’ নামকরণ নিয়েও একটি গল্প আছে।  দামোদরে জোয়ার আসত যখন তখন বন্দরে থাকা নৌকাগুলি যাতে নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারে এবং জনসাধারণকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে–নিয়মিত বানহাঁক হত। অর্থাৎ বান বা বন্যা বা জোয়ার আসার আগে হাঁক বা চিৎকার করে (চোঙার সাহায্যে) জনগণকে সতর্ক করার প্রাচীন পদ্ধতিই বানহাক। আর যে জায়গা বা কার্যালয় থেকে এই প্রক্রিয়া চালানো হত তার নাম ছিল বানহাঁকখানা। বর্তমানে যেখানে ইরিগেশন বাংলা (ডাকবাংলা), তারই কাছাকাছি জায়গায় ছিল এই বানহাঁকখানা। এখন অবশ্য অপভ্রংশ হয়ে বর্তমানে ‘বানকখানা’ এই স্থাননামটি শোনা যায়।।এই বানহাকখানার কাছেই ছিল আকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র যেখান থেকে সরকারী পর্যবেক্ষকগণ আকাশের চরিত্র বা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে জনগণের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিত। কালক্রমে আকাশ পর্যবেক্ষণ ক্ষেত্রটি ‘গগন নামে পরিচিত হয়। আমতা কলেজের বাসষ্টপ থেকে আমতা কলাতলার মধ্যবর্তী কিছু জায়গা ‘গগন নামে পরিচিত।

প্রাচীন আমতার উল্লেখ কিন্তু আমরা বাংলা ভাষায় রচিত বিভিন্ন সাহিত্যেও পাই। ১৫৫৫-৫৬ খ্রীষ্টাব্দে কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী লিখছেন ; ‘আমতার মেলাইয়ের চরণ বন্দিয়া।’কিংবা

“রাজবলহাটেতে মায়ের আদ্যস্থান।
উদয়নারনে বন্দো বড় কৃপাবান ।।..
ডোমজুরের ভগবতী আমতার মেলাই।
পুরাসের ঘাঁটু বন্দো খেপুতে খেপাই ।। “

এতো গেল আমতার প্রাচীনত্বের ইতিহাস। এবার আসি এই অঞ্চলের মানুষের কথ্যভাষার বৈশিষ্ট্য বিষয়ে। প্রতিটি জেলার যেমন কথ্যভাষার একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে, তেমনি জেলার মধ্যে অবস্থিত গ্রাম থেকে গ্রামেও গ্রামীণ কথ্যভাষার বিভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। আমতাও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। আমতার বিভিন্ন গ্রামগুলিতে ‘না বাচক ‘ শব্দ হিসেবে ‘না’  এর স্থলে  ‘নে’ দেখা যায়। যেমন – ‘ ও বলল ও যাবেনে’। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দুইভাবেই ‘নে’ ব্যবহার করা যায়। উত্তম বা প্রথম দুই পুরুষেই এমন ব্যবহার দেখা যায়। যথা – ‘আমার পড়া হয়নে তাই ইস্কুলে যাব না’। এভাবেই ‘পড়া পারেনে’, ‘ভাত খায়নে’ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আমাদের সাইটে লেখা পাঠানোর নিয়মাবলী বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন

এ তো গেল কথ্যভাষার বৈশিষ্ট্য। এবার আসা যাক আমতার কিছু দর্শনীয় স্থানের বিবরণে যার কারণে আমতা হাওড়া জেলায় স্বতন্ত্র এক স্থান অধিকার করে আছে। প্রতিটি জায়গারই নিজস্ব কিছু সম্পদ থাকে যা তার স্বকীয়তাকে ফুটিয়ে তোলে। প্রতিটি দর্শনীয় স্থানেরই কিছু সোচ্চার ইতিহাস থাকে যেমন, তেমনি তার পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে কিছু না বলা গল্পও। আমতাও এমন কিছু সম্পদকে বুকে আগলে দাঁড়িয়ে আছে। আমতার কিছু উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হল-

মেলাইচণ্ডীর মন্দিরঃ আমতার সবথেকে বড় এবং সর্বোপরি প্রধান আকর্ষণ হল এই মন্দির। এই মন্দিরকে নিয়ে জনশ্রুতি আছে যে বাহান্নটি সতীপীঠের অন্যতম একটি পীঠস্থান এই মেলাইচণ্ডীর মন্দির। মেলাই চণ্ডী মন্দিরের উৎকীর্ণ সময়কাল থেকে জানা যায় ১০৫৬ বঙ্গাব্দে এই মন্দির নির্মিত হয়েছে। এই মন্দির ‘মেলাইবাড়ি’ নামে খ্যাত এলাকার মানুষের কাছে।

ক্রমদীশ্বর মন্দিরঃ  আমতা শিবতলায় অবস্থিত এই মন্দিরটি। লোকমুখে এটি কুমুদেশ্বর নামে পরিচিত।

সিরাজবাটি মসজিদঃ  জনশ্রুতি অনুযায়ী  বাংলায় বর্গী আক্রমণের ফলে ভাস্কর পণ্ডিতের নেতৃত্বে বর্গীরা কাটোয়া দখল করলে রাজধানী মুর্শিদাবাদ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে তৎকালীন নবাব আলিবর্দি  দৌহিত্র সিরাজকে সৈন্য সামন্ত ও রাজকর্মচারী সমেত আমতায়  রেখে আসেন।  ১৭৫০ সালে জলপথে সুদৃশ্য বজরা করে  সিরাজের আমতা প্রবেশ এবং বর্তমান সিরাজবাটি গ্রামে অবস্থান করেন। সৈন্যসামন্ত ও রাজকর্মচারীদের বসবাসের জন্য সিরাজ বেশকিছু অস্থায়ী বাড়ি নির্মাণ করে দেন। এখানকারই একটি মসজিদে সিরাজ নিয়মিত নামাজ পড়তেন যা আজ পরিচিত সিরাজবাটি মসজিদ নামে। সংস্কারের অভাবে এই মসজিদটি  ক্রমশই বিলুপ্তির পথে।

অমরাগড়ি দধিমাধবের মন্দিরঃ পোড়ামাটির অলংকরণ সমৃদ্ধ হাওড়া জেলার উল্লেখযোগ্য মন্দিরগুলির অন্যতম তথা সর্বশ্রেষ্ঠ হল জয়পুর থানার (আমতা-২নং ব্লক) অমরাগড়ি দধিমাধবের মন্দির। মনে করা হয় পোড়ামাটির- কাজে এটি  হাওড়া জেলার সর্বশ্রেষ্ঠ মন্দির ।

ফতেপুর পিকনিক স্পটঃ নিম্ন দামোদরের পাড়ে উঁচু বাঁধে মোড়াম পাতা রাস্তায় গায়ে একদিকে উন্মুক্ত ধানি জমি ও অপর দিকে খড়িবন নিয়ে অধুনা গড়ে ওঠা এই পিকনিক স্পটটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অল্পদিনের মধ্যেই।

উদং কালীমাতা আশ্রমঃ আমতা থানার উদং গ্রামে দামোদরের তীরে শতবর্ষ প্রাচীন একটি কালী মন্দিরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই আশ্রম। এই আশ্রম কেবল হাওড়া জেলা নয় বাংলার মানচিত্রে পর্যটন কেন্দ্র ও পবিত্র ভূমি হিসাবেও স্থান করে নিয়েছে।

এই আমতাতেই আছে কিন্তু আরেকটি কলকাতা। আমতার একটি প্রসিদ্ধ জনপদ রসপুরের একটি গ্রামের নাম ‘ছোট কলকাতা’ । রসপুর প্রসঙ্গে বলি তাহলে এখানে কিন্তু পাল আমলের বেশ কিছু টালিও পাওয়া গেছে।

আমতার সঙ্গে যে স্বামী বিবেকানন্দেরও যোগসুত্র আছে তা কিন্তু অনেক আমতাবাসীই জানেন না। স্বামীজির বোন হারামণির সাথে বিয়ে হয়েছিল আমতার  খড়িয়পের জমিদার সূর্যকুমার বসুর পুত্র মাখনগোপাল বসুর।  ১৮৬৮ সালে এই বিয়ে হয়। বিয়ের সময় হারামণির বয়স ছিল মাত্র  দশ। সতেরো বছর বয়সে  এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন যাঁর নাম রাখেন ‘শিবকালী’। প্রথম সন্তান কন্যা হওয়ায়  শ্বশুরবাড়ির বিরাগভাজন হয়ে  পড়েন তিনি ।  দাম্পত্যজীবন ক্রমশ জটিল হয়ে পড়ে যখন মাখনগোপাল তাঁর শ্বশুরমশাই বিশ্বনাথের জ্ঞাতিভাই তারকনাথ দত্তের তৃতীয় কন্যা হরসুন্দরীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি হরসুন্দরীকে বিবাহের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন । হারামণি দেবী এই খবর পেয়ে প্রথমে তীব্র প্রতিবাদ জানালেও ক্রমশ প্রবল হতাশায় ডুবে যান। ১৮৮০ সালের একদিন সন্ধ্যায় তিনি ‘কলকে’  নামের একটি বিষাক্ত ফল খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

তবে অন্য একটি সূত্র অনুসারে হারামণি দেবীকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল ও তার দেহকে বসুপরিবারের নাচঘরের বাগানের কোনো স্থানে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হয়। হারামণি দেবীর মৃত্যসংবাদ পেয়ে দু’দিন পর আমতায় আসেন স্বামীজি। তিনি ভাগ্নি তথা ৫ বছরের শিবকালীকে নিয়ে কোলকাতায় নিয়ে চলে আসেন। পরবর্তীকালে সরকারি হস্তক্ষেপে  বসু পরিবার এই বেড় বাগানবাড়ি, নাচঘর, ‘রামকৃষ্ণ মিশন’-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ না করায় এখানে ১৯৯৫ সালে গড়ে ওঠে ‘শ্রী রামকৃষ্ণ প্রেমবিহার আশ্রম’। বর্তমানে সেখানে বিদ্যালয়-পাঠাগার-মন্দির গড়ে উঠেছে।

আমতা কি কেবলই ইঁট কাঠ পাথরের প্রাচীনত্বের ইতিহাস গাথা? একেবারেই না। সৃষ্টি আর কৃষ্টিও এখানে সমানভাবে সমাদর পায়।

বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী প্রভাত মোহন বন্দোপাধ্যায় আমতা থানার ভাণ্ডারগাছা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রবাদ প্রতিম নন্দলাল বসুর শিষ্য ছিলেন।১৯৩০ সালে গান্ধীজির আহ্বানে তিনি দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এই সময়ে তিনি ছবি এঁকে মাসে ৫০০ টাকারও বেশী উপার্জন করতেন। তিনি সতীশ চন্দ্র দাশগুপ্তের নেতৃত্বে চব্বিশ পরগনা জেলার মহিষবাথানে লবণ আইন অমান্য করে কারাবরণ করেন। কারামুক্তির পরে তিনি ওই অঞ্চলে থেকেই কংগ্রেসের কাজ করতে থাকেন এবং কৃষ্ণপুর গ্রামে “পল্লীভারতী” নামে একটি জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন করে তার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। তাঁর ছবি আঁকার উপার্জন দিয়েই সেই স্কুলটির ব্যয় নির্বাহ হতো।এসময়ে তিনি আরও চার বার কারাবরণ করেন। ১৯২৩ সালের উত্তর বঙ্গের বন্যায়, ১৯৩৪ সালের মজঃফরপুর ভূমিকম্পে এবং ১৯৩৫ সালের বর্ধমানের দামোদর নদের বন্যায় তাঁর ত্রাণকার্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা হল —  কারায় শরৎ, মঞ্জীর, গাধার কামড়, নিদ্রাবীর, ছারপোকা, পুঁটিমাছ, নাটোর, পরিচয়, ফাগুনে বাদল, হালুয়াচরণ ইত্যাদি।

আমতা থেকে প্রকাশ পাওয়া পত্র পত্রিকার মধ্যে ‘যাত্রী’ হল সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য। এটিই হল আমতা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা। সম্পূর্ণ হাতে লেখা পত্রিকা যে এমন একনিষ্ঠ ও সর্বাঙ্গসুন্দর হতে পারে – ‘যাত্রী’ না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। ১৩৬০ বঙ্গাব্দে মদন মোহন সাহা ও ব্যোমকেশ লাহার সম্পাদনায় বাণীমন্দিরের পরিচালনায় লেখা পত্রিকা যাত্রী পত্রিকার  অলংকরণের দায়িত্বে ছিলেন খ্যাতিমান শিল্পী গোপাল মণ্ডল। আমতা পাবলিক লাইব্রেরীতে সযত্নে সংরক্ষিত যাত্রী’র দুটি সংখ্যা আজও সংরক্ষিত আছে।

এরপর অন্যতম উল্লেখযোগ্য পত্রিকা হল- ‘সাহিত্যিকা’। এটির’ নামকরণ করেছিলেন বিখ্যাত  সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

আমতা পাবলিক লাইব্রেরী হল এখানকার শিক্ষা সাধনার প্রাণকেন্দ্র। ১৯০৭ সালে প্রথম যখন পুলিশ কোর্টের বিখ্যাত ব্যবহারজীবি যোগেন্দ্রনাথ মিত্র, অতীশ চন্দ্র মিত্র প্রমুখের সহযোগিতায়  গড়ে উঠেছিল এই লাইব্রেরী তখন এর নাম ছিল  ‘আমতা লিটারারি ক্লাব’ ।  এই লাইব্রেরীর বিকাশে  পীতাম্বর হাই স্কুলের সর্বজন বরেণ্য প্রধান শিক্ষক রণধীর চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের অবদান অনস্বীকার্য। এখন ভাবলে  অবাক লাগে স্থানাভাবে একসময় এই লাইব্রেরী স্থানান্তরিত হয়েছিল পীতাম্বর হাই স্কুলের টিচার্স কমনরুমে।  একসময় বিপ্লবী কাজ কর্মের অন্যতম আস্তানা ছিল এই লাইব্রেরী। ফলে ব্রিটিশ পুলিশের কড়া নির্দেশে তালাবন্ধ রইল পাঠাগারের দরজা সুদীর্ঘ আট বছর।

অনেকেই জানেন না এই আমতার কানপুর গ্রামেই ছিল মহিষাসুরমর্দিনীর রচয়িতা বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য ওরফে বানীকুমারের মামারবাড়ি। এখানেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

‘আমতা পরিচয়’ হল আমতার একটি নামী থিয়েটার গ্রুপ।‘নান্দীমুখ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ২০১৯’ – এ ভারত, ইরান, স্পেন ও বাংলাদেশের আটটি নাট্যদল নিজেদের প্রযোজনা মঞ্চস্থ করেছে। যার মধ্যে ‘আমতা পরিচয়’-এর নাটক ‘সাবিত্রীবাঈ ফুলে’ অন্যতম।

আমতায় অবস্থিত বিদ্যালয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – আমতা পীতাম্বর উচ্চতর বিদ্যালয় যেটি আমতার সবথেকে প্রাচীন বিদ্যালয়। ১৮৫৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও, জয়পুর ফকিরদাস ইন্সটিটিউশন, আমতা বালিকা বিদ্যালয়, সোনামুই ফতেসিং নাহার উচ্চ বিদ্যালয়, এখানকার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।আমতায় একটি কলেজও আছে। আমতা রামসদয় কলেজ।

আমতার বিস্ময় বালিকা বলা হয় সইফা খাতুনকে। সইফা খাতুন কোনো স্কুলে না পড়েও মাত্র ১১ বছর বয়সে মাধ্যমিক পাশ করে রাজ্যের ইতিহাসে এক অনন্য নজির গড়েছে।  মাত্র ছয় বছর বয়সে তার মাধ্যমিকের সমস্ত সিলেবাস শেষ হয়ে যায় । কিন্তু বোর্ডের অনুমতি না থাকায় পরীক্ষায় বসতে পারেনি সে। অবশেষে ১১ বছর বয়সে মাধ্যমিকে বসার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হলে  মাধ্যমিকে বসার ছাড়পত্র দেওয়া হয় পর্ষদের পক্ষ থেকে।

এবার এমন এক অসামান্য মানুষের কথা আপনাদের শোনাব যিনি আমতা তথা বাংলা, বলা ভাল দেশেরও গর্ব। তিনি সেখ গুলজার হোসেন। জন্ম থেকেই দুটি হাত সরু ও দুর্বল এর মধ্যে আবার ডান হাতটি কনুই থেকে ভাঁজ হয় না। অভাবের সংসারে বাবা পেশায় দর্জি মা বিড়ি বাঁধেন। সেই ছেলেই রবীন্দ্রনাথের ১৫০ রকমের ছবি এঁকে রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছেন। আজ তিনি ইতিহাস। অমরাগড়ী যুব সঙ্ঘে প্রথম আর্ট গ্যালারি তৈরি করেন। রসপুরে অগ্রগতি গণসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সমাজ সচেতনতার জন্য হাজার-হাজার পোষ্টার এঁকেছেন। এখন আঁকা শেখান খড়িয়প গ্রামে। এই অনমনীয় মানসিকতার মানুষটির আঁকা বাউল জার্মানি পর্যন্ত পৌঁছেছে। এছাড়া বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডেও তাঁর চিত্রকলা যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে। তাঁর আঁকা প্রচ্ছদ প্রায় দু’শোর মতো পত্রিকায় স্থান পেয়েছে।

শিক্ষার প্রসঙ্গই উঠল যখন তখন বলতেই হয় ‘স্টুডেন্টস হেলথ হোম’-এর কথা।  কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর ১৯৫২ সালে তাঁর  বন্ধুদের উদ্যোগে ছাত্র ছাত্রীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্য গঠনের উদ্দেশ্যে  ‘স্টুডেন্টস হেলথ হোম’ নামক এই সংগঠন গড়ে তোলেন।মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে পড়ুয়ারা সুচিকিৎসা পেয়ে থাকেন এই সংস্থার পক্ষ থেকে।সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে সারাবছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রে নৃত্য, সংগীত,ক্যুইজ, বিতর্কের মতো একাধিক ইভেন্টের আয়োজন করে এই সংগঠন।মূলত তারই ভিত্তিতে বাছাই করা প্রতিযোগীদের নিয়েই প্রতিবছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজ্য উৎসব আয়োজিত

আমতা-১ ব্লকের সোনামুই ফতে সিং নাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের যত্নে গড়ে উঠেছে স্কুলের মধ্যেই বাগান যেখানে প্রায় ১৫০ টি টবে বিভিন্ন প্রজাতির গাঁদা,চন্দ্রমল্লিকা,ডালিয়া,পিটুনিয়া সহ শীতকালীন বিভিন্ন বর্ণময় ফুল শোভাবর্ধন করে।

আমতার শতাব্দী প্রাচীন সংগঠন আমতা বাণী সংঘের উদ্যোগে বেশ কিছুদিন ধরে নিয়মিতভাবে চলছে ক্যারাটে প্রশিক্ষণ শিবির।প্রশিক্ষক হিসাবে রয়েছেন কালীপদ রায়(ব্ল্যাকবেল্ট-২ ডান)।

শুধু জুডো ক্যারাটে কেন দেবান্দি গ্রামের মঠে লাঠি খেলা, রনপা শেখানো হত একটা সময় ।

শুধু শিক্ষাই নয়, পরিবেশ রক্ষার্থেও আমতা অগ্রণী ভুমিকা গ্রহণ করেছে।একথা অনেক আমতাবাসীই জানেননা এই আমতাতেই গড়ে উঠেছে  আস্ত একটি ‘ট্রি-ব্যাঙ্ক’। উদ্যোক্তা হল  আমতা-১ ব্লকের ফতেপুর জনসেবা সমিতি। এটি মুলত একটি পরিবেশপ্রেমী সংগঠন। এই সংগঠনের সদস্যরা বাড়িতে জন্মানো আগাছা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সংগ্রহ করে ‘ট্রি-ব্যাঙ্ক’-এ নিয়ে আসেন ও তা যত্ন সহকারে বড়ো করে তোলেন।শুধু তাই নয়, ট্রি-ব্যাঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গাছ ও বিতরণ করা হয় গ্রামবাসীদের মধ্যে। কেবল গাছ বিতরণ করেই সদস্যরা থেমে থাকেন না,  গাছ দেওয়ার পর  নিয়ম করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে বসানো গাছ ও তার বৃদ্ধি পরিদর্শন করেন সংগঠনের সদস্যরা।

এবার আসি উৎসবের কথায়। পড়াশোনা কেবল নয়, আমতা বিখ্যাত বেশ কিছু উৎসবের জন্য যা আমতাবাসীর একান্ত নিজস্ব উদযাপন।আমতার এই পুণ্যভূমিতে ধর্মের কোন ভেদাভেদ নেই। দামোদরের তীরে কেবল দখিনা হাওয়াই বয় না, বয় সম্প্রীতির এবং ঐক্যের মৌসুমি বায়ুও।

এরকমই একটি উৎসব হল ‘মাদার শাহের মেলা’। এটি পরিচিত ‘আমতা মাদ্রাসা মেলা’ নামেও। প্রতিবছর মাঘ মাসের পয়লা তারিখে এই মেলা বসে। হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মিলন তীর্থ এই মেলা।আমতার গুজারপুরের মাঠ থেকে ছোট পোল এবং তারপর জালালসী,পানপুর, দাদপুর যাওয়ার প্রারম্ভে মাঠ পর্যন্ত বিস্তৃত এই মেলা। কিংবদন্তি  যত বড় বন্যাই হোক না কেন বাবার মাজারে নাকি জল উঠে না। এখানকার চাটরা হরিশপুরের ফকির পাড়ার লোকেরাই এই শরীফের সেবাইত। পালা করে সকলে এই মাজারের কাজে সহযোগিতা করে থাকেন।

কুরিট গ্রামের আঠারো হাতের কাত্যায়নী দুর্গা’র পূজা এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। অবশ্য এই পূজা হয় সরস্বতী পূজার সময়। এখানে পাঁচ দিন ধরে দেবী সরস্বতীর সঙ্গে পূজা পান দেবী দুর্গাও। এ উপলক্ষে একটি মেলাও বসে এখানে।

আমতা ২ নং ব্লকের খালনা গ্রামের লক্ষ্মীর পূজার খ্যাতি রয়েছে রাজ্য জুড়ে। বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা দেব দেবীর পূজা হলেও কোজাগরীর আরাধনাই খালনা গ্রামের অন্যতম প্রধান পুজো।

আমতার রসপুরের দামোদর মেলা এখানকার অন্যতম বিখ্যাত মেলা।

আমতার তাজপুরে এমন সম্প্রীতির নজিরই গড়ে উঠেছে। এখানকার রায় পরিবারের শতাব্দীপ্রাচীন রথযাত্রায় সপরিবারে সামিল হয়ে যান  এই পরিবারের দারোয়ান সাকু কাজির পরিবার। রথের দিন রাস্তার ভিড় ফাঁকা করতে লাঠি হাতে হাজির থাকেন তাঁরাই।

উৎসবের এই আবহে আমতার পান্তুয়াই বা বাদ যায় কি করে। পান্তুয়া তৈরিতে আমতার নাম বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে আছে । নারায়ণ চরিত এবং বিকাশ চরিত হলেন এই পান্তুয়া তৈরিতে এখানকার সবথেকে বিখ্যাত দোকানদার। আমতার এই পান্তুয়া তৈরিতে প্রসিদ্ধি ১৬৬ বছরেরও বেশি প্রাচীন। পূর্ব আফ্রিকার জাম্বিয়াতেও এই পান্তুয়া পৌঁছে গেছে।

আমতা বেড়ে চলেছে আড়ে। বেড়ে চলেছে বহরে। সভ্যতা যত এগিয়েছে আমতা তত নিজেকে ধীরে ধীরে খাপ খাইয়ে নিয়েছে পরিবর্তিত সময়, পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে। শহর জুড়ে উড়ালপুল হয়েছে, আগের মন্থর গতি এখন দ্রুততর হয়ে উঠেছে। কিন্তু তারই সাথে সাথে অনেক ইতিহাস নীরবে মরে যাচ্ছে গতির সাথে পাল্লা দিতে না পেরে।সভ্যতার এই জোয়ার ভাঁটা বুকে নিয়ে আমতা এগিয়ে চলেছে যেভাবে দামোদর এগিয়ে চলেছে অনাদি কাল ধরে।