সববাংলায়

দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ভ্রমণ | হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট ভ্রমণ

বিভাগঃ ,

দার্জিলিং শহরে অবস্থিত দার্জিলিং চিড়িয়াখানা স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় একটি জায়গা। এখানে হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন বিরল প্রজাতি যেমন স্নো লেপার্ড, রেড পাণ্ডার সংরক্ষণ ও প্রজনন করানো হয়। এটি বিশ্বের একমাত্র চিড়িয়াখানা যেখানে হিমালয় নেকড়েদের প্রজনন করা হয় এবং ভারতের প্রথম হিমায়িত চিড়িয়াখানা যেখানে হিমালয় অঞ্চলের বিপন্ন প্রজাতির ডিএনএ সংরক্ষণ করা হয়। চিড়িয়াখানার সাথেই রয়েছে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট, যেটি দেশের শীর্ষস্থানীয় পর্বতারোহণে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রাচীনতম পর্বতারোহণ জাদুঘরটি এখানে অবস্থিত। দার্জিলিং ঘুরতে গিয়ে এই দুই জায়গায় না গেলে দার্জিলিং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ হয় না।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানা কোথায়

দার্জিলিং চিড়িয়াখানার পোশাকি নাম পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক (Padmaja Naidu Himalayan Zoological Park)। দার্জিলিং চৌরাস্তা থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে এবং রাজভবন থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা অবস্থিত। চিড়িয়াখানা চত্বরেই রয়েছে বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম (Bengal Natural History museum)। চিড়িয়াখানাটি প্রায় ৬৭.৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। চিড়িয়াখানা থেকেই হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং (Himalayan Mountaineering Institute) ইন্সটিটিউট যাবার রাস্তা রয়েছে।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানার ইতিহাস

পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কের ইতিহাস

১৯৫৮ সালের ১৪ আগস্ট ভারত সরকার (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (শিক্ষা বিভাগ) যৌথ উদ্যোগে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় চিড়িয়াখানার নাম ছিল হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক। দার্জিলিং চিড়িয়াখানার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম পরিচালক ছিলেন দিলীপ কুমার দে। একদা তিনি ভারতীয় বন বিভাগে কর্মরত অবস্থায় শিক্ষা বিভাগে ডেপুটেশনে ছিলেন। তখনই তিনি হিমালয়ের উদ্ভিদ এবং প্রাণীজগত নিয়ে গবেষণা এবং বিশেষ প্রজাতির সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯৬০ সালে সোভিয়েত প্রিমিয়ার নিকিতা ক্রুশ্চেভ ভারত সরকারকে একজোড়া সাইবেরিয়ান বাঘ উপহার দিয়েছিলেন, যাদের এখানে রাখা হয়েছিল।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানা
দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় রেড পাণ্ডা। ছবি সববাংলায়

১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে পার্কটিকে রেজিস্টার্ড সোসাইটিতে রূপান্তরিত করা হয়। ১৯৯৩ সালের মে মাসে এই রেজিস্টার্ড সোসাইটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৯৭৫ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পার্কটি পরিদর্শন করেন। তিনি সরোজিনী নাইডুর কন্যা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম এবং দীর্ঘতম মেয়াদসম্পন্ন মহিলা রাজ্যপাল পদ্মজা নাইডুর নামে পার্কটির নামকরণ করেন পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির প্রাণীদের সংরক্ষণ ও প্রজনন করা হয়। এটি বিশ্বের একমাত্র চিড়িয়াখানা যেখানে হিমালয় নেকড়েদের প্রজনন করা হয়। এখানের রেড পান্ডা সংরক্ষণ প্রজনন প্রকল্পটি রেড পান্ডার নিজস্ব প্রাকৃতিক অঞ্চলে থাকা একমাত্র প্রজনন কর্মসূচী। এখানের স্নো লেপার্ড ক্যাপটিভ ব্রিডিং প্রোগ্রাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্নো লেপার্ড প্রজাতির একমাত্র প্রজনন কর্মসূচী। এছাড়াও কিছু তৃণভোজী প্রাণী (যেমন ব্লু শীপ, হিমালয়ান থর, হিমালয়ান গোরাল), স্যালামান্ডার, ফেজেন্ট-এর মতো হিমালয় অঞ্চলের বিপন্ন প্রাণীদের সফলভাবে সংরক্ষণ ও প্রজনন করা হচ্ছে। শুধু তাইই নয়, এটি ভারতের প্রথম হিমায়িত চিড়িয়াখানা (Frozen Zoo), যেখানে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপন্ন হিমালয় প্রজাতির ডিএনএ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ইতিহাস

১৯০৩ সালে ভারতের তৎকালীন গভর্নর-জেনারেলের নির্দেশে লয়েড বোটানিক্যাল গার্ডেনে একটি ছোট জাদুঘর হিসেবে বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৫ সালে জাদুঘরটি অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়। ১৯২৩ সালে জাদুঘরটি পরিচালনার জন্য বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি (তখন দার্জিলিং ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি নামে পরিচিত) গঠিত হয়। ১৯৭৬ সালে, জাদুঘরটি পশ্চিমবঙ্গ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত হয়। ২০০৭ সালে, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী জাদুঘরটিকে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা চত্বরে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল অবধি জাদুঘরটি স্থানান্তরের কাজ চলেছিল। অবশেষে ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই নতুন জাদুঘর পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের ইতিহাস

১৯৫৩ সালে তেনজিং নোরগে এবং স্যার এডমন্ড হিলারি প্রথমবার মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণ করেন। এই সাফল্যে খুশি হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু এবং পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় যুবসমাজে পর্বতারোহণ শিক্ষার কথা ভাবতে শুরু করেন। সেই ভাবনা থেকেই তাঁরা ১৯৫৪ সালের ৪ নভেম্বর হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৭ সালে এখানে দেশের প্রাচীনতম পর্বতারোহণ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা হয়। লেবং কার্ট রোডে অবস্থিত রায় ভিলায় এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি বার্চ হিলে তার বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়।

দার্জিলিং এইচ এম আই
হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের প্রবেশপথ। ছবি সববাংলায়

তেনজিং নোরগে ১৯৫৪ সালের জুন থেকে ১৯৭৬ সালের মে মাস পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের ফিল্ড ট্রেনিং ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৬ সালের মে মাসে তিনি উপদেষ্টা হিসাবে নিযুক্ত হন এবং আমৃত্যু সেই পদে ছিলেন। দুবার মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণকারী প্রথম ব্যক্তি নাওয়াং গোম্বু ১৯৭৬ সালে ফিল্ড ট্রেনিং ডিরেক্টর হিসেবে তেনজিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হন। পর্বতারোহণের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিভিন্ন মানুষ এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে থেকে এর সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। এই প্রতিষ্ঠানে পর্বতারোহণ সম্পর্কিত বিভিন্ন কোর্স রয়েছে, যেখানে আগ্রহীরা ভর্তি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, এমনকি বিদেশ থেকেও বহু ছাত্রছাত্রী এখানে কোর্স করতে আসেন। প্রতি বছর নির্ধারিত কয়েকটি কোর্স ছাড়াও রয়েছে বিশেষ কিছু কোর্স।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানা কীভাবে যাবেন

পর্যটকরা দার্জিলিং ঘুরতে গিয়ে একদিনের জন্য দার্জিলিং সাইটসিইং করতে বেরোলে একদিনের ট্যুর প্যাকেজেই চিড়িয়াখানা, হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট ইত্যাদি জায়গাগুলো থাকে। গাড়িভাড়া ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা অবধি পড়ে।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানা, হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট এবং বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ভালভাবে ঘুরে দেখতে ৩-৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগে। অর্থাৎ পুরো দিনটিই চিড়িয়াখানা ভ্রমণে চলে যায়। সেক্ষেত্রে পুরো দিনের গাড়ি বুক না করে দার্জিলিং চক বাজার থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করে চিড়িয়াখানা যাওয়া যায়। ফেরার পথে চিড়িয়াখানা থেকে নিচে নেমে লেবুং রোড থেকে চক বাজার অবধি ফেরার গাড়ি পাওয়া যেতে পারে। তবে ফেরার গাড়ি না পেলে আড়াই কিলোমিটার পথ হেঁটে ফিরতে হবে।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় কোথায় থাকবেন

দার্জিলিং শহর জুড়ে বিভিন্ন বাজেটের হোটেল, রিসোর্ট, লজ এবং হোম স্টে পাওয়া যায়। ভালো হোটেলে প্রতিরাতের ভাড়া ২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭০০০ টাকা হতে পারে। এর থেকেও অনেক বেশি দামের হোটেল আছে। তবে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য রাজভবনের কাছে কোন হোটেলে থাকলে সুবিধা হবে। সেক্ষেত্রে দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটেই চিড়িয়াখানা যাওয়া যেতে পারে। তবে বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ বা বাচ্চা সঙ্গে থাকলে এই পরিকল্পনা করা উচিত নয়।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানাতে কী দেখবেন

১১০ টাকা প্রবেশমূল্যের টিকিট কেটে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে হয়। ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করলে ক্যামেরার জন্য ১০ টাকা লাগবে। বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে প্রবেশের জন্য আলাদা কোন টিকিট লাগে না। চিড়িয়াখানা যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকে হিমালয়ান ইন্সটিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং-এর প্রবেশ পথ শুরু। এখানে প্রবেশ করতে হলে চিড়িয়াখানার টিকিটেই প্রবেশ করতে হয়।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানা

চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন ধরণের পশুপাখি, অর্কিড ইত্যাদি রয়েছে।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানা
দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় হিমালয় নেকড়ে। ছবি সববাংলায়

প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে লাল পাণ্ডা, স্নো লেপার্ড, চিতাবাঘ, ব্ল্যাক প্যান্থার, বাংলার বাঘ, এশীয় কালো ভাল্লুক, সম্বর হরিণ, পাঁজর-মুখী হরিণ, লেঙ্গুর, হিমালয় গোরাল, ব্লু শীপ এবং অন্যান্য বিরল কিছু প্রাণী। রয়েছে ফেজেন্ট গোত্রের বিভিন্ন পাখি। সরীসৃপ এবং মাছের বিভিন্ন সংগ্রহ রয়েছে।

বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম

এখানে বিভিন্ন ধরণের জীবাশ্ম এবং সংরক্ষিত স্টাফড প্রাণী রয়েছে। এই জাদুঘরে ৪০০ প্রজাতিরও বেশি পাখি, ১১০ প্রজাতির ডিম, ৩৫ প্রজাতির সাপ এবং ৫৭ প্রজাতির মাছের নমুনা রয়েছে। জাদুঘরে প্রায় ৩০০০ এর কাছাকাছি পাখির চামড়া, ৫০টির কাছাকাছি স্তন্যপায়ী প্রাণীর চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে সেগুলো প্রদর্শনীতে নেই, শুধুমাত্র গবেষণার জন্য এগুলি রাখা হয়েছে।

হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট

দার্জিলিং চিড়িয়াখানা পাশেই রয়েছে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট। এটি ভারতের প্রথম পর্বতারোহণ প্রতিষ্ঠান এবং দেশের সেরা পর্বতারোহণ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি। তাই পর্বতারোহণে আগ্রহী পর্যটকদের কাছে এটি দার্জিলিং-এর অন্যতম আকর্ষণ। এখানে পাহাড়ে চড়ার জন্য তাঁরা প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। রেগুলার কোর্সের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদী কিছু কোর্স রয়েছে, যেখানে এডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকেরা ভর্তি হতে পারেন। এছাড়া দিনের দিন রোপ ক্লাইম্বিং, ইনডোর ওয়াল ক্লাইম্বিং এইরকম বিভিন্ন এক্টিভিটিতে অংশগ্রহণ করা যায়। চিড়িয়াখানার টিকিটেই এখানে প্রবেশ করা যায়। তবে পর্বতারোহণ সম্পর্কিত বিভিন্ন শো দেখতে বা বিভিন্ন এক্টিভিটিতে অংশগ্রহণ করতে আলাদা টিকিটের প্রয়োজন। দিনের দিন যেসব এক্টিভিটি গুলো রয়েছে, সেগুলো সবকটা একসাথে অংশগ্রহণ করতে টিকিটমূল্য ২১০ টাকা।

হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট মিউজিয়াম

এই প্রতিষ্ঠানের জাদুঘর বা হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট হল দেশের প্রাচীনতম পর্বতারোহণ জাদুঘর। একতলায় রয়েছে মূল মিউজিয়াম এবং তার ওপরতলাতে রয়েছে মাউন্ট এভারেস্ট ও মাউন্ট মাকালু মিউজিয়াম। এখানে পর্বতারোহণের ওপর শিক্ষামূলক বিভিন্ন জিনিস রয়েছে। পুরনো অনেক পার্বত্য অভিযানের পাণ্ডুলিপি থেকে শুরু করে সেই অভিযানে যাত্রীরা কী পোশাক পড়েছিল বা সঙ্গে কী জিনিস ছিল, দুর্গম পাহাড়ে প্রাপ্ত বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য জিনিস রয়েছে। পর্বতারোহণ সম্বন্ধীয় মডেল, চিত্র বা ভাস্কর্য এবং অন্যান্য পর্বতারোহণের সরঞ্জামের সমৃদ্ধ সংগ্রহ রয়েছে। প্রবেশের জন্য আলাদা টিকিট নেই। এর ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানাতে কখন যাবেন

দার্জিলিং চিড়িয়াখানা যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হল মার্চ থেকে জুন মাস এবং সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস। এই সময় আবহাওয়া পরিষ্কার থাকে এবং চিড়িয়াখানার প্রাণীদের ভালভাবে দেখতে পাওয়া যায়। চিড়িয়াখানা সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটে (শীতকালে বিকাল চারটে) অবধি খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকে।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানাতে কী কিনবেন

দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় গিফটের দোকান রয়েছে। বাচ্চাদের জন্য খেলনা থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর সামগ্রী বা কাউকে গিফট দেওয়ার বিভিন্ন জিনিস বিক্রি হয় সেখানে। হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের দোকানে রয়েছে গিফটের দোকান যেখান থেকে এই প্রতিষ্ঠানের লোগো এবং ছবি দেওয়া গেঞ্জি, ব্যাচ, কফি মগ এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পাওয়া যায়।

সতর্কতা ও পরামর্শ

  • চিড়িয়াখানার প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ১১০ টাকা। ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করলে ক্যামেরার জন্য ১০ টাকা লাগবে।
  • চিড়িয়াখানা সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটে (শীতকালে বিকাল চারটে) অবধি খোলা থাকে।
  • বৃহস্পতিবার চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকে।
  • প্লাস্টিক ব্যাগ বা বোতল নিয়ে প্রবেশ করবেন না।
  • চিড়িয়াখানায় পশুদের খাবার দেওয়া বা তাদের উত্যক্ত করা থেকে বিরত থাকুন।
  • মিউজিয়ামের ভিতর ছবি তুলবেন না। অন্যথায় জরিমানা হতে পারে।
  • চিড়িয়াখানা চত্বরে কোনরকম খেলাধুলা করবেন না।
  • কুকুর, বেড়াল বা অন্য কোনও পোষ্য নিয়ে যাবেন না, তাহলে কর্তৃপক্ষ প্রবেশ করতে দেবে না।

ট্রিপ টিপস

  • পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কের নিজস্ব সাইটে আগে থেকে টিকিট কেটে রাখলে অযথা লাইনে দাঁড়াতে হবে না। টিকিটের সঙ্গে পরিচয়পত্র অবশ্যই রাখবেন।
  • দার্জিলিং চিড়িয়াখানা, হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট এবং বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ভালভাবে ঘুরে দেখতে ৩-৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগে। সেক্ষেত্রে পুরো দিনের গাড়ি বুক না করে দার্জিলিং চক বাজার থেকে ট্যাক্সি নিয়ে চিড়িয়াখানা যেতে পারেন। ফেরার পথে চিড়িয়াখানা থেকে নিচে নেমে লেবুং রোড থেকে চক বাজার অবধি ফেরার গাড়ি পেতে পারেন। তবে ফেরার গাড়ি না পেলে আড়াই কিলোমিটার পথ হেঁটে ফিরতে হতে পারে এটা মাথায় রাখবেন। যদি রাজভবনের কাছে কোন হোটেলে থাকেন তাহলে দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটেই চিড়িয়াখানা যেতে এবং হোটেলে ফিরতে পারেন। বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ বা বাচ্চা সঙ্গে থাকলে এই পরিকল্পনাটি আপনার জন্য নয়।

সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. Darjeeling, City Guide Map; Editors : Dr. R P Arya, Jitender Arya, Dr. Gayathri Arya, Anshuman Arya; Distributors: Prasad Book House,Siliguri
  3. https://darjeelingzoo.in/
  4. https://en.wikipedia.org/darjeeling_zoo
  5. https://darjeeling.gov.in/darjeeling-zoo
  6. https://www.thehindu.com/
  7. https://timesofindia.indiatimes.com/
  8. https://hmidarjeeling.com/
  9. https://www.darjeeling-tourism.com/HMI
  10. https://en.wikipedia.org/wiki/Bengal_Natural_History_Museum
  11. https://www.darjeeling-tourism.com/BNHM

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading